শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৭ এম
মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশনের এক ব্যতিক্রমী ইমাম। স্থানীয়দের কাছে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির নাম মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।
তিনি চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে ভূঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা শুরু করেন। তার লাগানো শত শত গাছ এখন বড় হয়ে পথিকদের ছায়া দিচ্ছে।
গণমাধ্যমে তার এই উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পান বাবুল মিয়া।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইমামের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।"
রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে তার নিজ হাতে লাগানো শত শত তালগাছ এখন সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজে ঘেরা এক প্রাকৃতিক পথ।
অনুভূতি প্রকাশ করে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী আমার এই কাজকে মূল্যায়ন করায় আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি।"
তিনি আরও বলেন, "এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজারই তালগাছের বীজ ও চারা। এই কাজকে আমি সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করি। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন গাছ লাগিয়ে যেতে চাই।"
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, "গাছ লাগানো নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ ধারাবাহিক কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী তার পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়ায় আমরাও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিসান্দ্রো মার্তিনেস ক্লাবের পরিচালকদের সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও শাস্তি থেকে রেহাই পাননি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে জরিমানা করার খবর জানিয়েছে বিবিসি।
বর্তমান মৌসুমে ইউনাইটেড মাঠে খুব একটা ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারছে না। সব প্রতিযোগিতায় তাদের শেষ পাঁচ ম্যাচে জয়হীন অবস্থায় রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মার্তিনেস দলের ব্যর্থতার জন্য ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গ্রীষ্মকালীন দলবদলে স্কোয়াডকে শক্তিশালী করতে যথেষ্ট উদ্যোগ ও অর্থ ব্যয় করেনি কর্তৃপক্ষ।
এমন মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে হয় মার্তিনেসকে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান। তিনি জানান, হারের হতাশা থেকেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এমন মন্তব্য করেছিলেন।
ক্লাবের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, ধর্মীয় চর্চা ও মানবিক বিকাশে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়া এবং হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ উদ্যোগে ছাত্রদল সবসময় সহায়তা করবে।
বিশ্ব সাদাছড়ি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডেমরা এলাকার মদিনাতুল উলুম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এতিমখানায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কোরআনের হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল পদ্ধতির কোরআন শরীফ ও সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। পরে তাদের সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত বলেন, "এই প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পৃথিবীর আলো দেখতে পান না। কিন্তু তাদের প্রতিভা, অধ্যবসায় ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ অনন্য। তাদের উৎসাহ ও সাহস জোগাতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সমাজে ভূমিকা রাখতে পারেন।"
ছাত্ররাজনীতির মানবিক দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "দেশপ্রেম ও মানবিকতার শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে চায় ছাত্রদল। আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহায়তা করে।"
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ছাত্রদলের এই নেতা জানান, এখান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া হাফেজরা ব্রেইল কোরআনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোরআন তিলাওয়াত ও আয়াত লেখার দক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্ব দিচ্ছে ছাত্রদল। এ সময় তিনি মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিম্বার্লি গিলফয়েলের বিদায়ের ঘটনা ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে তিনি গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারির প্রথম সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচারকালে তার বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে গিলফয়েলের এই বাধ্যতামূলক পদত্যাগ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই নারী—তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন অথবা তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছর শীর্ষপদ থেকে বিদায় নেওয়া সর্বশেষ নারী গিলফয়েল। এর আগে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন আট নারী কর্মকর্তার মধ্যে চারজন পদত্যাগ করেন অথবা বরখাস্ত হন। তারা হলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, শ্রমমন্ত্রী লরি শাভেজ-দেরেমার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি এল. নোয়েম এবং জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড। তাদের প্রত্যেকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পুরুষ কর্মকর্তা।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগের অনুমোদন নিয়ে ভোটাভুটির আগে নিজের এক লাখ ডলারের আমেরিকান এক্সপ্রেস বিল পরিশোধ করতে এক দাতাকে অনুরোধ করেছিলেন গিলফয়েল। এরপর তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, গিলফয়েল ‘ভালো কাজ করলেও’ প্রতিবেদনে যা পড়েছেন তা তার ‘পছন্দ হয়নি’।
গিলফয়েল ট্রাম্পের অন্যতম একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। একসময় তার বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে গিলফয়েলের বাগ্দানও হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গিলফয়েলের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে যান ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি আমার পরিবারের সদস্য ছিলেন না।’ এরপর যোগ করেন, ‘আমার মনে হয়, অনেক আগে তিনি আমার ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা নারী কর্মকর্তারা পুরুষদের তুলনায় বেশি বিতর্কে জড়ান—এমন কোনো চিত্র নেই। বরং তার মনোনীত পুরুষ কর্মকর্তারাও বারবার সমালোচনা ও তাদের অপসারণের দাবির মুখে পড়েছেন।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলকে তার আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপান, বান্ধবীর নিরাপত্তায় সোয়াট দল নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত কাজে সরকারি বিমান ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও বিচার বিভাগের প্রকাশ করা নথিতে উঠে এসেছে। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের মালিকানাধীন ব্যক্তিগত দ্বীপে যারা গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে লুটনিকের নাম রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপে কথোপকথনের সময় গোপন যুদ্ধপরিকল্পনা প্রকাশ করে ফেলেছিলেন। ওই কথোপকথনে অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন দ্য আটলান্টিক সাময়িকীর সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গ।
ওই ঘটনার পর ট্রাম্প একজন পুরুষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ, যিনি ওই কথোপকথনে সাংবাদিককে যুক্ত করেছিলেন। তবে ওয়াল্টজের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব কঠোর ছিল না। তাকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ট্রাম্প এ পদে কংগ্রেসে তার দীর্ঘদিনের নারী মিত্র এলিস স্টেফানিককে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নিজেকে ‘আল্ট্রা মাগা’ যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেওয়া স্টেফানিক শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন।
প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের শীর্ষ পদ থেকে একই লিঙ্গের এতজনের বিদায় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক।
রিগ্যানের আমল থেকে মার্কিন প্রশাসনে বৈচিত্র্যের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অনাবাসিক ফেলো ক্যাথরিন ডান টেনপাস। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি, যেখানে মন্ত্রিসভা থেকে প্রথম দফায় বিদায় নেওয়া সবাই একই লিঙ্গের—সবাই নারী।’
শীর্ষ পর্যায়ে নারী
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প যখন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিচ্ছিলেন, তখন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও ছিলেন। তিনি সুসি ওয়াইলসকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ নিয়োগ করেন। মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনিই প্রথম নারী। ক্যারোলিন লেভিটও ছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি। দুই ছোট সন্তানের লালন-পালনের জন্য গত আগস্টে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন আরেক নারী কেটি জাকারিয়া।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসন গঠন করেছেন। তার অসাধারণ দলের প্রত্যেক সদস্যকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয়কেই মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে—তারা মার্কিন জনগণের জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিতে আচ্ছন্ন ডেমোক্র্যাটদের মতো নন প্রেসিডেন্ট। তিনি মানুষের অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন।’
গত বছর নারী ইতিহাস মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে রিপাবলিকান দলের কোনো প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভার তুলনায় আমার মন্ত্রিসভায় নারীর সংখ্যা বেশি।’
এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে মন্ত্রিসভার মর্যাদাসম্পন্ন পদগুলোতে মাত্র চারজন নারী দায়িত্বে রয়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন ছেড়ে যাওয়া নারী কর্মকর্তারা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে মনে হয়েছে।
এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের বিষয়টি সামাল দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় পাম বন্ডি সমালোচনার মুখে পড়েন। কংগ্রেসের শুনানি ও টেলিভিশনেও তার ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না ট্রাম্প।
কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যও ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে, ট্রাম্পের অনুমোদনে সরকারের কয়েক কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল বলে তার দেওয়া বক্তব্যটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই বিজ্ঞাপনগুলোতে নোয়েমকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে নোয়েমের এই বক্তব্য অস্বীকার করেন ট্রাম্প।
তুলসি গ্যাবার্ড অসুস্থ স্বামীর দেখাশোনার জন্য পদত্যাগ করলেও তার এ ঘোষণা এমন এক সময়ে আসে, যখন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আসন্ন হুমকি তৈরি করেছিল—ট্রাম্পের এমন দাবির পক্ষে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ট্রাম্প ওই দাবি করেছিলেন। এ বিষয়ে গ্যাবার্ডের অবস্থান নিজের তুলনায় ‘অনেক বেশি নমনীয়’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
লরি শাভেজ-দেরেমার পদত্যাগ করেন একাধিক অভিযোগের জেরে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে। অভিযোগ ছিল, তার দপ্তরে বিষাক্ত কর্মপরিবেশ ও চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছিল। এ ছাড়া এক কর্মীর সঙ্গে অনুচিত সম্পর্কে জড়ানো এবং ব্যক্তিগত কাজে সরকারি অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
তবে নারী মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিদায়ে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকদের কেউ কেউ সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিষয়টিতে স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড দেখেছেন বলে সমালোচনা করেছেন।
পাম বন্ডি ও ক্রিস্টি নোয়েমের বিদায়ের পর প্রেসিডেন্টের পরবর্তী লক্ষ্য কে হতে পারেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, ‘তাহলে কি তার কাছে আর কোনো নারী নেই?’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পকে দেখে মনে হয়, নারী মন্ত্রীদের বরখাস্ত করার সামর্থ্যই শুধু তার আছে।’
টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেসমিন ক্রকেটও পিট হেগসেথকে পরবর্তী বিদায়ী কর্মকর্তা হিসেবে দেখতে চান বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন। প্রেসিডেন্টের বিদ্রূপের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু এই আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের আচরণ প্রসঙ্গে লেখেন, ‘আমি একটা ধরন দেখতে পাচ্ছি। অযোগ্য নারীদের তিনি অযোগ্য পুরুষদের তুলনায় অনেক দ্রুতই বিপাকে ফেলে দেন।’
গত এপ্রিলে কংগ্রেসের এক শুনানিতে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মেডেলিন ডিন নারী-পুরুষের এই দ্বিমুখী নীতি নিয়ে বাণিজ্য সচিব লুটনিককে তুলাধোনা করেন এবং যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।
ডিন জানতে চান, ‘এপস্টিনের সঙ্গে আপনার যে সম্পর্ক ছিল, তা এখনো অব্যাহত থাকায় প্রেসিডেন্ট কি উদ্বিগ্ন?’ জবাবে লুটনিক বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার যেসব কথোপকথন হয়, সেগুলো নিয়ে আমি আলোচনা করব না।’
এরপর ডিন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্যকে বরখাস্ত করেছেন—তিনজনই নারী। জেফরি এপস্টিনকে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যদি সামান্যতম উদ্বেগও থাকে, তাহলে আপনাকেও বরখাস্ত করা উচিত।’
ইন্ডিপেনডেন্ট উইমেনস ল সেন্টারের পরিচালক মে মেইলম্যান অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অনেক প্রভাবশালী নারী দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ট্রাম্পের দুই মেয়াদেই হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সুসি ওয়াইলসের পাশাপাশি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এরিকা শোয়ার্টজ এবং বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত ধিলনের কথা উল্লেখ করেন।
মেইলম্যান বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনে কনজার্ভেটিভ নারীদের নিঃসঙ্গতা নেই, বরং এখানে তাদের ক্ষমতায়ন হচ্ছে। নারী হিসেবে নয়, নিজের যোগ্যতায়ই আপনি দলের অপরিহার্য সদস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণার পর বিশেষ সাত দিনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সম্পন্ন হওয়ার পর হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে বিভিন্ন হাসপাতালে গড়ে ১৩ দশমিক ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এটি কমে ১০ দশমিক ৭৯ জনে নেমে এসেছে। রোগী ভর্তির এই নিম্নমুখী প্রবণতায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই অবস্থায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে নতুন করে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স জানিয়েছেন, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তখন দৈনিক গড় ভর্তি ছিল ১৩ দশমিক ৭৬ জন। অপরদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্র্যাশ প্রোগ্রামের পর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন ভর্তি হয়েছেন ২০৫ জন, যেখানে দৈনিক গড় ১০ দশমিক ৭৯ জন। অর্থাৎ, দুই সময়ের হিসাব অনুযায়ী হাসপাতালে রোগী ভর্তির দৈনিক গড় প্রায় তিনজন কমেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক ফখরুল ইসলাম জানান, ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কও দূর হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ হলেও ঝুঁকি এড়াতে পৌর এলাকায় আবারও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ফগার ও স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো হবে।”
গত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো সীতাকুণ্ডকে 'হটস্পট' হিসেবে ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ২৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্র্যাশ কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে উপজেলায় ৫১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাতটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু হয়।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের নালা-নর্দমা, ড্রেন, ডোবা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে লার্ভিসাইড প্রয়োগের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক ও যুব সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক মাইকিং পরিচালনা করা হয়।
চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তনয় মজুমদার বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি জানান, আগে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কলেজ রোড ও লোকনাথ মন্দির এলাকার মতো স্থানগুলোতে এখন নতুন করে রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে কেবল হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমাকে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত কমার হার ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ হলেও বেসরকারি ল্যাব ও হাসপাতালের তথ্যে এই হার ৮ শতাংশ। তবে উভয় পরিসংখ্যানের সময়সীমা ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনা করার সুযোগ সীমিত।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, হাসপাতালে ভর্তি রোগী কমলেও এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রজননস্থল ধ্বংসের অভিযান অব্যাহত রাখা জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, উঠান, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পেতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন ওষুধের স্প্রের পাশাপাশি আক্রান্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ ও রেড জোনগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ