মোঃ তুহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৮:০৮ পি.এম
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহবুবা ফেরদৌস শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন। 'রুখব দুর্নীতি, গড়ব দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ'—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্লাব (টাউন ক্লাব) মিলনায়তনে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহী এবং জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো. ইব্রাহিম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো. তানভির আহমেদ সিদ্দিক, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল করিম বাবু, মাসুদুল হক ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক রোকসানা খাতুন, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. রওশনয়ারা, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুবিনা আনিস এবং নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন এবং হেফজুল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজুর রহমান। চ্যাম্পিয়ন নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দলের সদস্য ছিলেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়িশা আনজুম, দশম শ্রেণির সাফিয়া আনজুম ও দশম শ্রেণির মাহবুবা ফেরদৌস। দলের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. শফিউল আজম। একই দলের মাহবুবা ফেরদৌস শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার অর্জন করে।
তারুণ্যের উদ্দীপনায় মুখর এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিতার্কিকরা যুক্তি, তথ্য ও উপাত্তের মাধ্যমে দুর্নীতির কুফল এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা তুলে ধরেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কের মতো সৃজনশীল ও যুক্তিনির্ভর আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উক্ত অনুষ্ঠানে দুদকের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুপেয় পানির কষ্ট লাঘবে উপকূলের প্রতিটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে।
আজ রোববার, উপজেলার দিগরাজ এলাকায় বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসীদের মাঝে ট্যাংক বিতরণ কালে তিনি এই সব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তীব্র লবণাক্ততা অধ্যুষিত উপকূলীয় মোংলাসহ আশপাশ এলাকায় সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট বিদ্যমান। এই সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে চাহিদা পূরণে উপকূলের জনগোষ্ঠীর মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উপকূলের কোন মানুষ যেন সুপেয় পানির জন্য কষ্ট না পায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উপকূলের প্রত্যেকটি ঘরে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সুপেয় পানির উৎস উন্নয়নে সরকারী পুকুরগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চিলা, চাঁদপাই, সোনাইলতলা, মিঠাখালী ও সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে ট্যাংক বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এদিন ৬টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোংলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহান আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম নুর জনি, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান জনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি গ্রীষ্মে ফ্রান্সে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার সংখ্যা ৩০০ জনের বেশি। এ বিষয়টি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রোববার দেশটির ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী মারিনা ফেরারি এ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, ইউরোপজুড়ে বিদ্যমান তাপপ্রবাহের সঙ্গে এ মৃত্যুর বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।
মারিনা ফেরারি ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে বলেন, ১৯ জুন থেকে এ পর্যন্ত ৩০১ জন পানির মধ্যে ডুবে মারা গেছেন। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের তুলনায় এই সংখ্যা ১৪ শতাংশ বেশি। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানাচ্ছে।
তিনি এটিকে একটি ‘দুঃখজনক পরিসংখ্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হচ্ছে, ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক মানুষ পানিতে নামতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করেছেন।’ এসময় তিনি বলেন, ‘সাঁতারের জন্য অনুমোদিত বা তত্ত্বাবধানে নেই, এমন জায়গায় অনেক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
বিশেষ উল্লেখযোগ্য হল, ১৫ জুলাই ফেরারি জানিয়েছিলেন, চলতি গ্রীষ্মে পানিতে ডুবে প্রাথমিকভাবে ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ শুরু হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের (নতুন) দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
এই ম্যাচে গোমস্তাপুর উপজেলা ফুটবল দল ৪-০ গোলে ভোলাহাট উপজেলা দলকে হারিয়ে জয়ী হয়। জেলা প্রশাসন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ আয়োজনে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে, যা এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে।
তৃতীয় ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা আবু জাফর মাহমুদুজ্জামান। এছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মশিউর রহমান মিঠু, সদস্য মো. তৌফিকুল ইসলাম তোফা, শেখ মোহম্মহ ফরিদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গোমস্তাপুর উপজেলা দল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। প্রতিপক্ষ ভোলাহাট উপজেলা দল পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও গোমস্তাপুর দলের দাপটের সামনে তারা সুবিধা করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের খেলায় গোমস্তাপুর ৪-০ গোলে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে বড় ব্যবধানে তাদের জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য গোমস্তাপুর উপজেলার ১২ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আবু বাক্কার ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।
গ্যালারিতে খেলা দেখতে দর্শক এবং ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন পর জেলার ক্রীড়াঙ্গনে এ ধরনের বড় আয়োজনের ফলে তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ এবং উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এবং তরুণ প্রজন্ম, যুবক, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ এবং সুন্দর ধারার খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুতরাং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে, বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আধিকারিক পদক্ষেপ হিসেবে ''সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ'' নামে নতুন একটি চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। এই নতুন চার্জ আরোপ হলে, আমদানি করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে অতিরিক্ত ব্যয় হবে বাংলাদেশের।
এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) থেকে পৃথকভাবে যুক্ত হবে। এই চার্জ গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয়। ইতিমধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এই চুক্তি করার বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভারতInitially প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ১ ভারতীয় পয়সা হারে এই চার্জ দাবি করেছিলো। তবে পরে বিপিডিবি দরকষাকষির মাধ্যমে চার্জের হার প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি বা আধা পয়সায় নির্ধারণ করেছে। ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বিদ্যুৎ বিষয়ক আইন অনুযায়ী এই চুক্তি স্বাক্ষর করা জরুরি। চুক্তি স্বাক্ষরে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মতে, এসএনএ চুক্তির আওতায় প্রতিটি ইউনিটের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি এসএনএ চার্জ প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপিডিবির লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) কাছে এই চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত চার্জ আপনাদের কাছে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বর্তমানে প্রযোজ্য চার্জের হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরো সক্ষমতায় নিরবচ্ছিন্নভাবে আমদানি করা হলে, এক ঘণ্টায় আমদানি হবে ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। আর প্রতি ইউনিটের ০.০০৫ রুপি হিসাবে, প্রতি ঘণ্টায় ভারতকে এসএনএ চার্জ দিতে হবে ৫ হাজার ৮০০ রুপি। এসএনএ চার্জ মূলত বিদ্যুতের দাম নয়; এটি আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের গ্রিড-অপারেশন ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ। বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জের নিষ্পত্তি সহজ করতে এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছেবি ভারতের সিইআরসি।
সিইআরসি’এর বিধিমালা অনুযায়ী, এসএনএ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ লেনদেনের সময়সূচি সমন্বয়, গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ, নির্ধারিত সরবরাহের তুলনায় কম বেড়েশ্বাস বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডেভিয়েশন চার্জ, রিঅ্যাক্টিভ এনার্জি চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি আলাদা কন্ট্রোল এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির জন্য মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং ও সেটেলমেন্টের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ক্রয়ের মূল মূল্য বা ট্যারিফের বাইরে গ্রিড ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ ধরনের চার্জকে এসএনএ চার্জ হিসেবে গণ্য করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এই এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে।
এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বিপিডিবির। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে এই চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে আলাদা করে চুক্তি করার প্রয়োজন নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ