সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক চুক্তি অর্জনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক চুক্তিটি হয়তো নাও হতে পারে। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চুক্তির পরিবর্তে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর পথ বেছে নিতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়ে ইরানের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে ‘এবিসি দিস উইক’ অনুষ্ঠানে রাইট বলেন, এর অর্থ কেবল তাদের সেই সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়াও হতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এমন সব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেছে। তবে ইরান বরাবরই বলছে, তারা কেবল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিই গড়ে তুলছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
অনুষ্ঠানের সহ-উপস্থাপক মার্থা র্যাডাটজ যখন জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কি কূটনীতির পরিবর্তে ক্রমাগত বোমা হামলার পথ বেছে নেবে কি না, তখন রাইট তেহরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাদের আর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই। আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনছি এবং শেষ পর্যন্ত, যদি তারা তা তৈরি করেও ফেলে, তবে তা নিক্ষেপ বা প্রয়োগ করার সক্ষমতাও নষ্ট করছি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদের তদারককারী সংস্থার প্রধান ও সাবেক এই তেল-শিল্প নির্বাহী কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশটির সাথে একটি চুক্তি হওয়া সম্ভব হতে পারে। তিনি বলেন, ইরানের পরবর্তী প্রশাসনের জন্য হয়তো কোনো চুক্তি অপেক্ষা করছে। বিষয়টি আসলে আমাদের জানা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তার মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং তা আরও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটি ভেস্তে যাওয়ার পর হামলাগুলো প্রথমে থেমে গিয়েছিল, কিন্তু পরে তা আবার শুরু হয়। পাশাপাশি ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের ঘটনাও ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক তীব্র গোলাগুলির ঘটনা সত্ত্বেও, হোয়াইট হাউস তাদের প্রকাশ্য মন্তব্যে এই সংঘাতকে খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান সংঘাতকে ‘সামান্য বিষয়’ বলে এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন, সংঘাতের তীব্রতা কমে এসেছে। এ সময় তিনি দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হামলার বিষয়টিও হালকাভাবে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে।
এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স সংঘাত সম্পর্কে বলেন, তিনি এটিকে ‘যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করবেন না এবং বর্তমানে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি চলছে না। সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ না দিয়েই রাইট রবিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কাজটি সম্পন্ন করবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অন্যান্য দেশও সহায়তা করবে।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মিত্রদের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করব। আমার মনে হয়, আপনারা দেখবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশও এই প্রচেষ্টায় শামিল হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও শোয়ারি ঘাটে পৃথক অভিযানের মাধ্যমে কোস্টগার্ড ভারতীয় পণ্য এবং নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে, যা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছিল।
সোমবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানাধীন ধলেশ্বরী টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টায় কোস্টগার্ড স্টেশন পাগলা ও কম্পোজিট স্টেশন পদ্মার সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন, সন্দেহজনক একটি কভার্ড ভ্যানের তল্লাশি করে প্রায় ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৩০ টাকা মূল্যের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া ভারতীয় পণ্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।
এ সময় প্রকৃত মালিক না পাওয়ায় কভার্ড ভ্যানের চালক ও হেল্পারকে মুচলেকা নিয়ে কভার্ড ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ঢাকার চকবাজার থানাধীন শোয়ারিঘাট সংলগ্ন এলাকায় একইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় কোস্টগার্ড স্টেশন পাগলা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন, উক্ত এলাকায় ২টি নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরির কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৬৩৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন এবং ৪ হাজার ৮৬৫ কেজি পলিথিন তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়।
এ সময়, কারখানার মালিকরা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত পলিথিনের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, জব্দকৃত ভারতীয় পণ্যের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় বাউন্ডারির কাছ থেকে দীর্ঘ রানআপ নিয়ে ছুটে আসছিলেন তিনি। ক্রিজের দিকে যতই এগোচ্ছেন, ততই বেড়ে যাচ্ছে তার গতি। মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে চাপা গোঙানির শব্দ। বাতাসে উড়ছে লম্বা, এলোমেলো চুল। মুহূর্তের মধ্যে হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে বজ্রপাতের মতো একেকটি বল। তাকে এভাবে ছুটে এসে বল করতে দেখা ছিল এক অপূর্ব দৃশ্য।
পাকিস্তানের ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’খ্যাত শোয়েব আখতারকে নিয়ে এমনই বর্ণনা করেছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ব্যাটার কুমারা সাঙ্গাকারা। তার মতে, শোয়েবের বোলিং ছিল একেকটি বজ্রপাতের (থান্ডারভোল্ট) মতো, শোয়েব যেন শুধুমাত্র খেলোয়াড়ের চেয়েও বড় কিছু।
সাঙ্গাকারার দৃষ্টিতে শোয়েবের সবচেয়ে ভয়ংকর সময় ছিল ইনিংসের শুরুর কয়েক ওভার। বিশেষ করে প্রথম তিন ওভার। ওই সময়টুকু পার করাই ছিল ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা।
সাঙ্গাকারা বলেন, ‘প্রথম তিন ওভার ছিল দুর্দান্ত এবং ভীতিকর। আমাদের কৌশল ছিল কোনোভাবে ওই সময়টা পার করে দেওয়া। আমরা জানতাম, যদি অলআউট না হই এবং শোয়েবও কোনো উইকেট না পায়, তাহলে সে ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তার গতি কমে আসবে। আর যখন নিজের ইচ্ছামতো উইকেট নিতে পারত না, তখন মাঝে মাঝে তাকে কিছুটা উদাসীনও মনে হতো।’
‘জাম্বো জেট’
সাঙ্গাকারার বর্ণনায় শোয়েব ভারী ও চওড়া পেশিবহুল গড়নের অধিকারী। তার শরীর ছিল যেন ছোটোখাটো একটি ট্যাংক। কিন্তু সেই শক্তির পুরোটাই তিনি কাজে লাগাতেন একটি লক্ষ্যেই, যত দ্রুত সম্ভব বল করা। শোয়েবের দীর্ঘ রানআপ নিয়েও রয়েছে মজার একটি গল্প। একবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এত লম্বা রানআপের প্রয়োজন কেন। শোয়েবের উত্তর ছিল আরও চমকপ্রদ। তিনি বলেছিলেন, জাম্বো জেটকে যেমন আকাশে উঠতে দীর্ঘ রানওয়ে লাগে, তেমনি তারও দ্রুত বল করতে লম্বা রানআপ প্রয়োজন।
ভয়টা শুধু গতির?
তবে সেই ভীতিতে দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না লঙ্কান এই ব্যাটার। সাঙ্গাকারার বিশ্বাস, ভয়কে জয় করে টিকে থাকাটাই আসল বীরত্ব। শোয়েবের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার গতি। কিন্তু সাঙ্গাকারার মতে, তাকে ভয়ংকর করে তুলেছিল শুধু ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতির বল নয়। আরও একটি বিষয় ছিল তার অস্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশন। সাঙ্গাকারা মনে করেন, ব্রেট লি কিংবা ডেল স্টেইনের মতো দ্রুতগতির বোলারদের বল হাত থেকে বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটা ব্যাটার সহজে দেখতে পেতেন। তাদের বোলিং অ্যাকশন ছিল ছন্দময়, পরিপাটি এবং অনেকটা একই ধরনের।
কিন্তু শোয়েব ছিলেন আলাদা। তার রানআপ, বল ধরার ধরন, শেষ মুহূর্তের প্রচণ্ড জোর এবং শরীরের ভঙ্গি মিলিয়ে ছিল এক আনকোরা বোলিং অ্যাকশন। যেখানে বল ডেলিভারি দেওয়ার মুহূর্তটা ব্যাটার অনেক সময় ঠিকঠাক ধরতে পারতেন না। কারণ, বল করার সময় তার হাত শরীরের প্রায় পুরোপুরি পেছনে চলে যেত। ফলে ব্যাটার বলটি দেখতে পেতেন দেরিতে। সাঙ্গাকারার ভাষায়, ‘মাঝে মাঝে ব্যাপারটা ভীতিকর ছিল।’
ভয় জয়ে সাঙ্গাকারার কৌশল
তবে শোয়েবের বিপক্ষে ব্যাট করার সময় ভয় পেয়ে গেলে তো চলত না। সাঙ্গাকারার মতে, আসল বিষয় ছিল সেই ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করে তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। শোয়েবের বিপক্ষে নিজের একটি কৌশলের কথাও জানিয়েছেন সাঙ্গাকারা। তিনি ক্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে না থেকে কিছুটা সামনে এগিয়ে ব্যাট করতেন। কারণ শোয়েবের গতি যতটা না তাকে সমস্যায় ফেলত, তার চেয়ে বেশি বিরক্ত করত শোয়েবের সুইং। সাঙ্গাকারা বলেন, ‘গতির কথা বাদ দিন, তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তার সুইংটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলত। তাই ক্রিজের বাইরে এসে ব্যাট করাটা ছিল তাকে মোকাবিলার একটি উপায়। চ্যালেঞ্জটা ছিল অসাধারণ, শুধু আমার জন্য নয়, পুরো ড্রেসিংরুমের জন্যই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল সোমবার ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে জাতীয় শোক পালন করছে। গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার ১৩তম দিনে এই শোক পালন করা হচ্ছে। সর্বশেষ পুলিশি হিসাবে, দুর্যোগে ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯৯২ জন।
নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে নেপালের সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রবিবারের হিসাবে প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, একই ব্যক্তির নামে থাকা একাধিক তালিকা বাদ দেওয়া এবং নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ার কারণে সংখ্যায় পরিবর্তন হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার সরকারি দপ্তর এবং বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনকে শোক ও প্রয়াতদের স্মরণের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর দীর্ঘ সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলও বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। মালয়েশিয়া থেকে ১১ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দলও নয়টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন নিয়ে নেপালে পৌঁছেছে।
এদিকে কয়েকটি সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও আশার সঞ্চার করেছে। আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে ১০ দিন পর চীনা নাগরিক লু হাইতাওকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল।
নুয়াকোটের বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরিবার তাকে মৃত ভেবে শোকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। পরে উদ্ধারকারীরা তাঁর ডাক শুনে প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে তাঁকে বের করে হাসপাতালে পাঠান।
বন্যায় প্রায় ৭ হাজার ৫৭০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৯৩৩। এছাড়া ৫৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩৭টি সেতু ও ৬৮টি ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও দুটি সঞ্চালন লাইন। এতে প্রায় ৭৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রভাবিত হয়েছে।
রাসুয়াসহ দুর্গত অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পুরো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানতে নেপাল সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেক্সিকোর একটি গ্রামে ধর্মীয় উৎসব চলাকালীন সময়ে আতশবাজির বিস্ফোরণের ফলে দেয়াল ধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে মধ্য মেক্সিকোর তেমাসকালসিংগো পৌরসভার সান্তা মারিয়া কানচেসদা এলাকার দে লা লুজ গির্জার পাশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উৎসবটি স্থানীয় রীতি অনুযায়ী এক ধর্মীয় সন্ত (প্যাট্রন সেন্ট) এর সম্মানে আয়োজন করা হয়েছিল। আতশবাজির প্রদর্শনী দেখার জন্য সেখানে শত শত মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে দেয়াল ধসে পড়া কাঠামোর নিচে বেশ কিছু মানুষ আটকা পড়ে যান। এই দুর্ঘটনায় অনেকের প্রাণহানি ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে বহু মানুষ জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছেন। পৌরসভার ডায়োসিস (ধর্মপ্রদেশ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, "যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবার ও প্রিয়জন এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের সবার জন্য আমরা প্রার্থনায় শামিল হচ্ছি।" মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মেক্সিকোতে অতীতে আতশবাজি সংক্রান্ত দুর্ঘটনা প্রাণঘাতী ঘটনার সৃষ্টি করেছে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে মেক্সিকো সিটির উত্তরে তুলতেপেক শহরের একটি আতশবাজির কারখানায় বিস্ফোরণে ২৪ জন নিহত হন। এর দুই বছর আগে একই শহরের একটি বাজারে আতশবাজির আরেকটি বিস্ফোরণে ৪২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
সূত্র: আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ