বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৯ পি.এম
আধুনিক যুগে প্রেমের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। ডেটিং অ্যাপের প্রভাবে পছন্দের মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু এর সঙ্গে বিভ্রান্তির পরিমাণও বেড়েছে। অভিনেত্রী ঐশ্বর্য লক্ষ্মীর মতে, বর্তমানে মনের মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রেম, ডেটিং অ্যাপ এবং আধুনিক সম্পর্ক নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তার মতে, মানুষের সামনে এখন অনেক বেশি বিকল্প থাকলেও সঠিক মানুষটিকে বেছে নেওয়া সহজ নয়।
ঐশ্বর্য মন্তব্য করেন, ডেটিং অ্যাপে অসংখ্য বিকল্প থাকার কারণে অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারেন না কোন পথে এগোবেন। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকেই এমন একজন মানুষকে খোঁজেন, যাকে নিজের মানুষ বলে মনে হবে। আর সেই খোঁজ এখন আগের চেয়ে বেশি বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠেছে।
আধুনিক সম্পর্কের নতুন শব্দগুলো নিয়েও মজা করেন অভিনেত্রী। ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘ন্যানোশিপ’সহ সম্পর্কের নানা নতুন সংজ্ঞা নিয়ে তার মন্তব্য, প্রেমের বিষয়টি এখন অনেক বেশি জটিল হয়ে গেছে। এমনকি ‘বিঞ্জিং’ শব্দটিও সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, জেনে তিনি অবাক হয়েছেন বলে জানান।
তবে সময়ের সাথে প্রেম সম্পর্কে তার ধারণাও পরিবর্তিত হয়েছে ঐশ্বর্যর। তার কাছে প্রেম এখন মানে স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং অন্য একজন মানুষের সামনে নিজের মতো করে থাকতে পারা।
অভিনেত্রী বলেন, সঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি প্রথমে ‘কম্প্যাটিবিলিটি’ বা মানসিক সামঞ্জস্যকে গুরুত্ব দেন। প্রথম কথোপকথন থেকেই এমন একটি স্বস্তি থাকা প্রয়োজন, যেখানে নিজের কথা নির্ভয়ে বলা যায় এবং অন্যজন সেটিকে বিচার না করে গ্রহণ করেন।
ঐশ্বর্যর কাছে সম্পর্কের মধ্যে বন্ধুত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, স্বামী-স্ত্রীর আগে দুজনের ভালো বন্ধু হওয়া জরুরি। আশপাশের অনেক দম্পতিকে তিনি দেখেছেন, যাদের সম্পর্কের ভিত্তি বন্ধুত্ব এবং সেই কারণেই তাদের দাম্পত্য ভালো চলছে।
প্রেমের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানান অভিনেত্রী। পর্দায় তিনি অনেক সময় তীব্র ও আবেগঘন প্রেমের গল্পে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে এমন সম্পর্ক তার পছন্দ নয়।
নিজের অভিনীত ‘মায়ানাদি’ ছবির কথা উল্লেখ করে ঐশ্বর্য জানান, ছবিটি একজন অভিনেতা হিসেবে তার ভাবনাকে অনেকটাই প্রভাবিত করেছে। বাস্তব আবেগনির্ভর প্রেমের গল্পে কাজ করতে তিনি এখনও আগ্রহী। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি সহজ, স্বস্তিদায়ক ও সুখী প্রেমের গল্পই পছন্দ করেন।
ঐশ্বর্যর ভাষায়, তীব্র ও কষ্টভরা প্রেমের গল্প পর্দায় যতই স্মরণীয় হোক, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এমন সম্পর্ক থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে চান। তার পছন্দের প্রেমের গল্পের শেষটা বরং হোক সুখের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মো. হোসেন নামক এক মালবাহী ট্রাকের চালককে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি আগামী ২৬ অক্টোবরের জন্য পুনঃনির্ধারণ করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এই তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন।
তিনি জানান, মামলার দুই আসামী সাজ্জাদ হোসেন এবং নাইমুল হাসান রাসেল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এই কারণে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এদিন আদালতে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ পলকসহ ৮ জনকে উপস্থিত করা হয়। শুনানি শেষে, লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও আদালতের সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় এজলাসে উঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ জানান পলক।
তিনি বলেন, মাননীয় আদালত, "এটা কী ধরনের সিস্টেম, লিফট চালু দেখলাম তার পরেও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।"
বিচারক পরে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "এটা তো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।" পলক জবাব দেন, "এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অথরিটি। আপনার না হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।" এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপিকে বলেন, "পিপির মনে রাখা দরকার, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।"
শুনানি শেষে তাকে আদালত থেকে নামানোর সময় সিঁড়ি দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পলক সাংবাদিকদের বলেন, "লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।"
এ সময় পলকের পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি, তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন কারাগারে থাকা ৮ জনকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। মামলায় ৩৪ জন আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছে, বাকি ২০ জন পলাতক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন এবং সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। নিহতের মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল। আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনকালে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন যে, গুণগত শিক্ষা প্রদানের পরিবর্তে কেবল পাসের হার (৯০-৯৫ শতাংশ) দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছিল। এমনকি, খাতায় না লিখলেও শিক্ষকদের এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়ে পাস করানোর জন্য বাধ্য করা হতো।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হলে, পুরো শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। অতীতের সরকারগুলোর অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণে আমাদের শিক্ষার গুণগত মান অনেক নিচে নেমে গেছে। বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখার প্রাধান্য থাকলেও নৈতিক শিক্ষার স্থান ছিল না।’
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে রিজভী আহ্বান জানান যে, আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।
তিনি বলেন, দাবি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
বিএনপির প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের অসাধারণ সমন্বয় করে এসেছে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবিদাওয়ার বিষয়ে দল সচেতন। আমাদের দলের যে ভিশন ও পরিকল্পনা রয়েছে, তাতে শিক্ষক সমাজ কখনো তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হবে না।
এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। সমাবেশে দেশজুড়ে আগত শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদও বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ