১০:৫৬ এম
ইংল্যান্ডে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের দশা হয়ে পড়েছে লেজেগোবরে। এখনও পর্যন্ত তারা ৬টি ম্যাচ খেলে একটিতেও জিততে পারেনি। ভারতের হার হয়েছে ৫ ম্যাচে এবং এক ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে ভারত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্বকাপ জয়ী হয়ে ইতিবাচক হয়েছিল।
এর আগে ২০২৪ সালের আসরে এই ফরম্যাটে আবার বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়া। টানা দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা দল হিসেবে ভারত ইতিহাস তৈরি করেছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ করে ভারতীয় দলের এমন কী হলো? ইংল্যান্ডের কাছে টানা তিন ম্যাচের হার মেনে নেওয়া গেলেও আয়ারল্যান্ডের কাছে টানা দুই ম্যাচ হারানো এবং সিরিজ হারা ভারতের জন্য নিতান্তই বিব্রতকর বিষয়।
বিশ্বকাপ জয়ী দল থেকে কিছু পরিবর্তন যদিও হয়েছে, কিন্তু আধুনিক দলের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীকে অভিষেক করানো হয়েছে। তবে তিনি এখনও তার প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারেননি। তাছাড়া, আগের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়কত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং স্কোয়াড থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার দায়িত্ব নিতে এসে এখনও জয়ের দেখা পাননি। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ জেতা ভারতীয় দল বর্তমানে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩
বর্তমানে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিত সাইকিয়া আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে স্কটল্যান্ডে রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি জানান, ইংল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে দলের রিভিউ মিটিং করা হবে। সাইকিয়া উল্লেখ করেছেন, ‘দলের মূল সদস্যদের নিয়ে আমরা রিভিউ মিটিং করব, জানার জন্য যে, ইংল্যান্ডে কী ভুল হয়েছে আমাদের। বিসিসিআই ইংল্যান্ড সিরিজে ভারতের পারফরম্যান্স যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যেখানে আমরা প্রত্যাশামাফিক ভালো ফলাফল করতে পারিনি। তবে এটি অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন ঘটতে পারে। আমরা এটাকে সম্পূর্ণ খারাপ সময় হিসেবে দেখছি।’
বিসিসিআই সচিব আরও বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, ‘রিভিউ মিটিং দলের পারফরম্যান্স এবং কীভাবে ভুলগুলো শুধরে নেওয়া যায় এসব নিয়েই হবে। অন্য কোনো বিষয় আলাপ হবে না। ওয়ানডে সিরিজ সামনে রয়েছে, আমরা আশা করছি আমাদের দল ঘুরে দাঁড়াবে এবং ভালো ফর্মে ফিরবে। ১৯ জুলাই ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর এবং দল দেশে ফেরার পর আমাদের রিভিউ মিটিং হবে।’
গৌতম গম্ভীর ভারতের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের পারফরম্যান্সে কিছুটা ওঠানামার ঘটনা ঘটেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে কিছুটা টালমাটাল হলে, টুর্নামেন্টে ভারতের পারফরম্যান্স ভালো লাভ করেছে। ভারত ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার আগে ২০২৫ সালে এশিয়া কাপের শিরোপা অর্জন করেছে।
কিন্তু টেস্ট ফরম্যাটে ভারতের পারফরম্যান্স নাজুক। ২০২৩-২৫ চক্রের আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল তারা মিস করেছে এবং ২০২৫-২৭ চক্রেও ফাইনালের সম্ভাবনা জটিল হয়ে গেছে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারার পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
গম্ভীরের অধীনে দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অধিনায়ক বদল হয়েছে তিন ফরম্যাটে। এছাড়া, টেস্টের দলের নির্বাচনে ঘরোয়া লম্বা দৈর্ঘ্যের টুর্নামেন্টের চেয়ে আইপিএলকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে নানা সমালোচনা ও আলোচনা রয়েছে। তবে দিনশেষে আইসিসির বড় ইভেন্টে দলের জন্য ট্রফি জিতিয়ে নিন্দকদের মুখ বন্ধ করেছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। সামনে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসছে। গম্ভীরের এই যাত্রাতে কেমন করে তা দেখা যাবে।
১১ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে ইংল্যান্ড এবং ভারতের মধ্যে পঞ্চম এবং শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এরপর দুই দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন