ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাল্লায় বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই কিশোরের করুণ মৃত্যু


শাল্লায় বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই কিশোরের করুণ মৃত্যু

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৪ নং শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের শান্তির নগর পাড়ায় tragically বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

১. শাকিল মিয়া (১৫), পিতা: মোখলেছ মিয়া।

২. ছিল্লো মিয়া (১৪), পিতা: শিপুল মিয়া।

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বানর, সংখ্যা কমছে

ওঁরা উভয়েই শান্তির নগর পাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাকিল ও ছিল্লো একসাথে গোসল করতে বের হয়।

গোসল করতে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক খুঁটির টানা তারের (সাপোর্টিং তার) সাথে তাদের হাত লেগে যায়। এর ফলে তারা ঘটনাস্থলে মারাত্মকভাবে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। একই গ্রামের দুই কিশোরের এই আচমকা এবং মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কান্দিগাঁও ও শান্তির নগর পাড়া এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আজম গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শ‌হিদুল ইসলাম, প্রতি‌বেদক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আজম গ্রেপ্তার

ফটিকছড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. নুরুল আজম (৪২)-কে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলায় অভিযোগ রয়েছে শত শত সশস্ত্র ব্যক্তি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বছরের ১৮ জুলাই ও ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচিতে নুরুল আজম নেতৃত্ব, পরিকল্পনা, উসকানি ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত।

পুলিশের ভাষ্য অনুসারে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে চলমান আন্দোলন দমনে হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র ব্যক্তিদের ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার সময় আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার ফলে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখিত হয়েছে যে, ঘটনার পর নুরুল আজম আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাজার এলাকা থেকে গত ২ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, সাক্ষীদের প্রভাবিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

এছাড়াও, অভিযুক্ত নুরুল আজমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে নাছির উদ্দিন ও কামাল উদ্দিনের দায়ের করা ৪ টি মামলা, তার আপন বড় ভাই নুরুল আলম নুরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা, শহীদুল্লাহ চৌধুরীর চেক প্রতারণার মামলা, বিবিরহাট বাজারে দোকান দখল সংক্রান্ত মামলা এবং নুসরাত জাহানের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলা উল্লেখযোগ্য।

তবে নুরুল আজম বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত মামলার অভিযোগ বিষয়ে কোনো মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবিপ্রবিতে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


নোবিপ্রবিতে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে ২ ও ৩ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রপ্রেমীদের অংশগ্রহণে প্রদর্শনী প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে যেন ওঠে। এবারের প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় ১ হাজার ১০০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেখান থেকে ৬৪টি সেরা ছবি প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়।

নির্বাচিত ছবিগুলোতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য, সমসাময়িক বাস্তবতা ও মানবিক নানা গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘জুলাই কর্নার’ ও একটি ফটোবুথ স্থাপন করা হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ফটোগ্রাফি একটি শিল্পমাধ্যম বলছিনা, এটি সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির নান্দনিক দলিল। একটি ছবির মাধ্যমে মানব জীবনের সংগ্রাম, প্রকৃতির সৌন্দর্য ও সমাজের বাস্তবতা একেবারেই এমনভাবে তুলে ধরা সম্ভব, যা অনেক সময় হাজার শব্দেও প্রকাশ করা যায় না।

তরুণ আলোকচিত্রীদের প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সমাজের ইতিবাচক ও বাস্তব চিত্র ক্যামেরায় বন্দী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এতে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বাড়বে। ভবিষ্যতেও ফটোগ্রাফি ক্লাবের এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং ফটোগ্রাফি ক্লাবের উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিফাত-ই-মান্নান। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আলোকচিত্রী আশরাফুল ইসলাম শিমুল।

দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে নোবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও আলোকচিত্রপ্রেমীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আয়োজকরা জানান, ‘বাংলা দর্পণ’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবমুখী প্রকল্পের তাগিদ ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবমুখী প্রকল্পের তাগিদ ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সময়ের বাস্তবসম্মত এবং জনকল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেছেন, কৃষি, সুপেয় পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীবান্ধব অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

সোমবার, রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান এবং ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের চাষাবাদ ও দৈনন্দিন জীবনে পানির সংকট একটি বড় সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন, রাঙামাটির দুর্গম এলাকায় স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে নারীদের ১২০০ ফুট নিচে নেমে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, এই কষ্টের বিষয়টি জানার পর রাঙামাটির মুখ্য নির্বাহীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ লাঘব সম্ভব হয়েছে।

তিনি অতীতে প্রকল্প গ্রহণ করেও কাজ না করার সমালোচনা করেন এবং বলেন, অহেতুক অতিরিক্ত প্রকল্প না নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

এ সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রতিমন্ত্রী কৃষি ও ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, অর্গানিক ফলের বাগান সম্প্রসারণ, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিংয়ের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তার মতামত করেন যে, এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

এ ছাড়া, প্রতিমন্ত্রী নারীদের জন্য ওয়াশরুম সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেন এবং বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি মডেল পাড়াকেন্দ্র তৈরির প্রকল্প গ্রহণের উপরও জোর দেন।

আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে, প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও রেকর্ড করা ক্লাস ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা আছে, যা দুর্গম এলাকায় গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষকের অভাব শেষ করতে সক্ষম। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য জেলাভিত্তিক স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং উপজেলা পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ বা স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা সম্পর্কেও তিনি আলোচনা করেন।

সভায় চলমান ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে ‘সবুজ পাতা’য় নির্বাচিত ২১টি প্রকল্পের মধ্যে সরকারের বর্তমান ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১৬টি প্রকল্প পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, অতুল সরকার, কাজী তোফায়েল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, পার্বত্য তিন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাত্র ১০ মাসে কোরআন হিফজ করে বিস্ময় জাগাল ৯ বছরের আরহাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ পি.এম


মাত্র ১০ মাসে কোরআন হিফজ করে বিস্ময় জাগাল ৯ বছরের আরহাম

পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করতে সাধারণত যেখানে কয়েক বছর সময় লাগে, সেখানে মাত্র ১০ মাসে এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৯ বছর বয়সী শিশু আরহাম ভূঁইয়া।

আরহাম মিরসরাই উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মায়ানী গ্রামের গণি ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা। সে হলেন ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার একমাত্র সন্তান। স্থানীয় দারুন নাজাত আইডিয়াল মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় সে এই হিফজ সংগ্রহ সম্পন্ন করে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর হিফজ শিক্ষা শুরু করে ২০২৬ সালের ৩০ জুন—মাত্র ১০ মাসের মধ্যে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করার সৌভাগ্য অর্জন করে আরহাম। যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১ থেকে ২ পৃষ্ঠা সবক প্রস্তুত করত, সেখানে আরহাম নিয়মিত ৪ থেকে ৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সবক প্রস্তুত করে শোনাত।

শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, আরহামের অসাধারণ মেধা, একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের কারণে এত অল্প সময়ে এই কৃতিত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

দারুন নাজাত আইডিয়াল মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব বলেছেন, “আরহামের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাব্যবস্থারও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে হিফজ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উত্তম চরিত্র গঠন, শুদ্ধ তিলাওয়াত, ইসলামী আদর্শ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়ার লক্ষ্য ছিল একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা। সেই লক্ষ্যেই ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক ও পর্দানশীন পরিবেশে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখানে অধ্যয়ন করছে। চলতি বছর আরও ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি ডা. গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সফলতার সঙ্গে আমরা দুই বছর অতিক্রম করে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছি। অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠানের যে অর্জন ও অগ্রগতি হয়েছে, তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার সহযোগিতা ও দোয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে।”

হাফেজ আরহাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, “আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে অল্প সময়ে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে একজন হাক্কানি আলেম হতে চাই এবং সারাজীবন কোরআনের খেদমত করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

আরহামের বাবা ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, “ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে কোরআনের পথে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমাদের সেই আশা পূরণ করেছেন। মাদ্রাসার পরিচালক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার প্রত্যাশা, ছেলে বড় হয়ে একজন যোগ্য আলেম হবে এবং কোরআন-সুন্নাহর আলো সমাজে ছড়িয়ে দেবে।”

আরহামের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ বলেছেন, “আরহাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শুরু থেকেই সে অন্যদের তুলনায় বেশি সবক প্রস্তুত করত। প্রতিদিন ৪ থেকে ৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মুখস্থ করে শুনাত। তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আল্লাহর রহমতেই মাত্র ১০ মাসে হেফজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%