ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারা ও মাদক অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো


কারা ও মাদক অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো

দুর্নীতি, অসদাচরণ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কারা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। এই দুই কর্মকর্তা হলেন কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক দুটিপ্রজ্ঞাপনে তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন দুটিতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল ফাত্তাহ কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সাময়িক বরখাস্ত জেলার। পঞ্চগড় জেলা কারাগারে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সরকারি অর্থ তছরুপ ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, বাবা মায়ের দোয়া, নুর স্টোর ও শুভ সি মিলের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এই কাজে জেলা সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী ও কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের সঙ্গে পারস্পরিক যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৪০ লাখ টাকা ৯টি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে। তিনি চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেল সুপারকে বাইপাস করে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিল প্রস্তুত ও হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তিনি অভিযোগের লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: বেতাগীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের পর শেষ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের সনদ জাল করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করেছেন।

আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েও ভুয়া বিল দাখিল করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়াই ভ্রমণবিবরণী ও বিল অতিরিক্ত মহাপরিচালক, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা এবং প্রত্যয়নপত্রের স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুলাল কৃষ্ণ সাহা ২০০০ সালের ২৮ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে রাসায়নিক পরীক্ষক পদে যোগ দেন। ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই গ্রেডে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে বিমানযোগে ভ্রমণের প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও ২৩ বছরে শতাধিকবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিমান ভ্রমণের বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি লিখিত জবাব এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রথমে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ পর্যালোচনার পর ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

প্রজ্ঞাপনে দুলাল কৃষ্ণ সাহার বর্তমান কর্মস্থল হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার, সিলেটের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তিনি সংযুক্ত থাকার পাশাপাশি রাসায়নিক পরীক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দুই কর্মকর্তাকেই গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভূরুঙ্গামারীতে আটক হলেন ভুয়া ডিবি সদস্য মমিনুল ইসলাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফারুক মেহেদী পেলেন ‘মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


ফারুক মেহেদী পেলেন ‘মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড’

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও অহিংসার দর্শন প্রচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, সাংবাদিক ও লেখক ফারুক মেহেদী। আজ রবিবার, মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত আলোচনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট।

বিশ্বজুড়ে সহিংসতা, সংঘাত ও বিভাজনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের দর্শন নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আজও শান্তিকামী মানুষের পথপ্রদর্শক। এ অনুষ্ঠানটি তার জীবন ও আদর্শের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী শান্তি ও সম্প্রীতির অগ্রদূত। তার আদর্শ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা আমাদের কাছে অনেক বেশি। দেশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চর্চা বাড়াতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে অবস্থিত। তিনি ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে আশ্রমের পাহারাদার মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘গান্ধী আশ্রমকে ঘিরে ভবিষ্যতে আমরা একটি পর্যটন বলয় গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দিতে চাই। তিনি চিরঞ্জীব। তাঁর অহিংসার আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার বাধে মন্তব্য করেন, বিভেদ ও সংঘাতের বিপরীতে শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চাই মানবিক সমাজ নির্মাণের অন্যতম শর্ত। মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম সেই চিরন্তন সত্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

সম্মাননা গ্রহণের সময় ফারুক মেহেদী বলেন, ‘পুরস্কার সব সময়ই আনন্দের। মহাত্মা গান্ধীর মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি সারা জীবন অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রচার ও প্রসারে কাজ করেছেন, তার নামে আমাকে মহাত্মা গান্ধী গুডউইল অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এটিকে আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় দিন বলে মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজনেস সাংবাদিকতার পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণ করে কাজ করার চেষ্টা করছি। গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার আদর্শ প্রচারেও কাজ করেছি। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত আমার প্রামাণ্যচিত্র ‘শান্তির অগ্রদূত’ এ ক্ষেত্রে অন্যতম কাজ। আমাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার এ বি এম হামিদুল মেজবাহ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সিইও ও পরিচালক রাহা নবকুমার।

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ২ অক্টোবর। এ দিনটি জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব অহিংসা দিবস হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পালিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানা পাটেকারের মৃত্যুর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে করোনারি আর্টারি ডিজিজের কথা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


নানা পাটেকারের মৃত্যুর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে করোনারি আর্টারি ডিজিজের কথা জানা গেল

বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা নানা পাটেকারের আকস্মিক মৃত্যুতে ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া এখনও বিরাজমান। গত ৮ অক্টোবর, ৭৫ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে অনুরাগীরা অপেক্ষা করছিলেন। এবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে মৃত্যুর কারণ।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তার মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা গেছে, নানা পাটেকার করোনারি আর্টারি ডিজিজে ভুগছিলেন। হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন এবং এর ফলস্বরূপ তার মৃত্যু ঘটে। গোয়া মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের একটি দল প্রতিবেদনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর সকালে গোয়ায় তার নিজ বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় অভিনেতাকে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।

এদিকে গোয়া পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে নানা পাটেকার শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বুকে ব্যথা ও শরীর খারাপ লাগার কথা জানিয়ে তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমেয় নায়েককে বার্তা পাঠান। পরে অভিনেতা বন্ধুকে ফোনও করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে আমেয় নানার পাঠানো বার্তাটি দেখেন। এরপর দেরি না করে তিনি ডোনা পাওলায় অভিনেতার বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, নানা সোফায় ঘামভেজা অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে আছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেলেও, প্রিয় অভিনেতাকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশ্নের সুযোগ না পেয়ে খুলনায় ডিআইজির সভা বর্জন সাংবাদিকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


প্রশ্নের সুযোগ না পেয়ে খুলনায় ডিআইজির সভা বর্জন সাংবাদিকদের

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না, ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। বক্তব্য দিতে গেলেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে খুলনা রেঞ্জের নবনিযুক্ত ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা বর্জন করেছেন খুলনার সাংবাদিকরা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ডিআইজি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, পুলিশের অপরাধ পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও সদস্যদের অনিয়ম সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর জানতে গিয়ে তারা উল্টো উপদেশ শুনেছেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. রেজাউল করিম। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সভায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের অভিযোগ, মতবিনিময়ের কথা বলা হলেও তাদের পরিচয়পর্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে বলা হয়। ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে কিংবা বক্তব্য তুলে ধরতে চাইলে তাদের থামিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের কথা শোনার পরিবর্তে ডিআইজি উপদেশ দিতে থাকেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন, যে সভার উদ্দেশ্য পারস্পরিক মতবিনিময়, সেখানে তাদের কথা বলার সুযোগ না থাকলে এমন আয়োজনের প্রয়োজন কী? পুলিশের কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। সেই সুযোগ সীমিত করে প্রকৃত অর্থে মতবিনিময় সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।

সভা বর্জনের সময় এক সাংবাদিক বলেন, খুলনায় পুলিশের কার্যক্রম, অপরাধ পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার প্রত্যাশা নিয়ে তারা সভায় গিয়েছিলেন। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানার পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজেদের প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের বিষয়গুলো তুলে ধরাও ছিল তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই সুযোগ না পাওয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন।

একুশে টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরোপ্রধান আশরাফুল ইসলাম নুর বলেন, তারা ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ে কথা বলতে যাননি। খুলনার মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানাই ছিল তাদের লক্ষ্য। প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে মতবিনিময় বলা যায় না।

খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে, অথচ প্রশ্ন করা যাবে না—এটি কোনো যৌক্তিক কথা হতে পারে না। সাংবাদিকরা কোন সভায় যোগ দেবেন, কী প্রশ্ন করবেন বা কী কথা বলবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়া কিংবা ক্যামেরার সামনে একজন সরকারি কর্মকর্তার কথা বলতে না পারার মতো পরিস্থিতি নতুন সৃষ্টি হলো। এ কারণে আমিসহ সাংবাদিকরা সভা বর্জন করে ফিরে গেছি।’

এ বিষয়ে জানতে ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের সরকারি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য দপ্তরের অভিযান: ৫ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


কাউখালীতে মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য দপ্তরের অভিযান: ৫ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস

পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬-এর অংশ হিসেবে কঁচা নদীতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে কঁচা নদী থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব কারেন্ট জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নদীপথের এই অভিযানে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তায় ছিল নৌ পুলিশ। মা ইলিশ রক্ষায় টানা অভিযানের অংশ হিসেবে গত দুই দিনে উপজেলা মৎস্য দপ্তর কঁচা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা।
অভিযান শেষে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন,
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ ডিম ছাড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কঁচা নদী কাউখালীর অন্যতম প্রধান ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র। অসাধু জেলেরা যেন কোনোভাবেই এই সময়ে জাল ফেলতে না পারে, সে জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি। মা ইলিশ রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধিতে মৎস্য দপ্তরের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান নিয়মিত চলবে।
তিনি আরও জানান, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্থানীয় জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%