শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০০ পি.এম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা পতাকা মিছিলের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) এই কর্মসূচির জন্য নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এবং রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বিক্ষোভ প্রতিরোধে নিষেধাজ্ঞাও জারি রয়েছে। খবর এনডিটিভির।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই মিছিলের আয়োজন করেছে সিজেপি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতেও এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে আর নির্ধারিত না রাখায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরা এবং আম আদমি পার্টির (আপ) সদস্যদেরও এতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মিছিলের আগে সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েত না করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, নয়াদিল্লি পৌর পরিষদ (এনডিএমসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে শুক্রবার ও শনিবার পার্কটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। পরিকল্পিত বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও নয়াদিল্লি জেলার উপকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত মেট্রো পরিষেবা বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিকে শেষ বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপকমিশনার নেহা যাদব জানান, শান্তি বজায় রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ও মানুষের জীবন রক্ষায় কনট প্লেসসহ আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য নির্বাচিত কয়েকজনকে উপযুক্ত কোনো স্থানে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, আগে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকা সেন্ট্রাল পার্কের প্রবেশপথে নতুন ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের ১ ও ৩ নম্বর গেটেও অতিরিক্ত ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইউক্রেন সামরিক দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সিএনএনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রটির মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ছোড়া অধিকাংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হয়। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় কিয়েভে চারজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।
প্যাট্রিয়ট ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। এটি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চমূল্য এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা মজুত গড়ে তোলার কাজকে কঠিন করে তুলেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের স্বল্পতা নিয়ে কয়েক মাস ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। গত আগস্টে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনের তুলনায় ইউক্রেনের হাতে তখন খুব অল্পসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তিনি ঘাটতি পূরণে মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে হচ্ছে বলেও জানান।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি না দেওয়ায় উদ্যোগটি আর এগোয়নি।
বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছেন। তিনি বলেন, "শক্তি প্রয়োগ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আগ্রাসী পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।"
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিরোধ আরও জোরালো হয়েছে। জেলেনস্কির যুক্তি, "রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ বন্ধ করার দাবি ন্যায্য হতে পারে না।"
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনকে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে হবে।
এদিকে, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র কেনার ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউরোপের দুই কর্মকর্তা। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ হয়নি।
ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারশিল্ড নিয়েও সমস্যায় পড়েছে ইউক্রেন। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স পরিচালিত এই স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতার কারণে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান, রসদ পরিবহন এবং ড্রোন পরিচালনার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার স্টারশিল্ডের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্বাভাবিক হলেও সব সমস্যা মেটেনি। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন স্টারশিল্ডের ব্যবহার বা গতি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
সিএনএনকে ইউক্রেনের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্টারলিংকের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বুধবার তাঁদের ইউনিটের কিছু আক্রমণকারী ড্রোন নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা—এই সব মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : কৃষি উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টিকর খাবারে সকলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দিয়ে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস।
এ বছরের জন্য দিবসটির বৈশ্বিক থিম নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘ইনোভেইট টুডে, নারিশ টুমরো’ (আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি)।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, প্রথাগত জ্ঞানের সঙ্গে উদ্ভাবনী সমাধানের সমন্বয় ঘটিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব, পাশাপাশি পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা যায়।
দিবসটি উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়, এফএও এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
সেমিনারে খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টির উন্নয়নে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, কৃষক প্রতিনিধি এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
দেশে খাদ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে চলমান চাপের মধ্যেই এবারের দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এফএও’র সেপ্টেম্বরের কান্ট্রি ব্রিফে, ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) এক বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ চরম বা তার চেয়েও ভয়াবহ মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে।
পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কিছু এলাকায় বন্যার কারণে জীবিকার ওপর সৃষ্ট ক্ষতিকে পরিস্থিতির অবনতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ওই মূল্যায়নে।
এদিকে, বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না।
খাদ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ব্যবহারের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারকে আরও সহজলভ্য করতে বৃহত্তর বিনিয়োগ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত আয় এবং পণ্য রপ্তানির ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এই দুইটি সুসংবাদের ভিত্তিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে পুনরায় চাঙ্গা ভাব ফিরে এসেছে। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৮২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনশেষে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে, বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন (৩ হাজার ১৫০ কোটি ১৫ লাখ) ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধিত মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এই হালনাগাদ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ১১ অক্টোবর নিজস্ব হিসাবে ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার ছিল।
চলতি অক্টোবর মাসের শুরু থেকেই রিজার্ভে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৪ বিলিয়ন), ৭ অক্টোবর ছিল ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩১ বিলিয়ন) এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.২৯ বিলিয়ন)।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ২০ সেপ্টেম্বর নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ১৬ সেপ্টেম্বর নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৪৬ বিলিয়ন), ১০ সেপ্টেম্বর ছিল ৩৬ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৬ বিলিয়ন) এবং ৮ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৫২ বিলিয়ন)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় ১৫ বছর আগে শিরিনা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার। বিয়ের অন্তত ১২বছর পর দুটি মেয়ে সন্তান জন্ম হয় তাদের। সন্তান জন্মের কিছু দিন পর পরিবারের সুখের আশায় লিবিয়া হয়ে সাগড় পথে ইতালি যান রমজান মিয়া।
কিন্তু এই সুযোগে স্ত্রী শিরিনা আক্তার একাধিক যুবক ছেলেদের টার্গেট করে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ স্বামী রমজান মিয়ার।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শহরের আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগে শিরিনা আক্তারের নিজ বাসায় পরকীয়া প্রেমিক মাদকের ডিলারখ্যাত মোবারক হোসেন নয়নসহ তাদের দুজনকে আটক করে সাধারণ জনতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবারক হোসেন নয়ন কালিকাপ্রসাদ এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি। মাদক মামলায় গাজীপুরসহ সে একাধিকবার কিশোরগঞ্জ কারাগারে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
পরে ৯৯৯-এ কল করলে ভৈরব থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন ও এসআই শক্তি পদ মৃধা পুলিশ ফোর্স নিয়ে এসে নয়ন ও শিরিনাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচশতাধিক স্থানীয় নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। নয়ন ও শিরিনাকে পুলিশ হেফাজতে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হলে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান।
পরকীয়ায় অভিযুক্তরা হলেন, ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামের তাফালী বাড়ির সাত্তার মিয়ার ছেলে মাদকের ডিলারখ্যাত মোবারক হোসেন নয়ন এবং কালিকাপ্রসাদের এমাদ মিয়ার কন্যা ও আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার স্ত্রী শিরিনা আক্তার।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার পিতা ওয়াজ মিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় সময়ই বাড়ির ভেতর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যুবকদের নিয়ে আসে শিরিনা আক্তার। তাকে জিজ্ঞেস করলে আত্মীয় পরিচয় দেয়। কিন্তু আমাদের সন্দেহ ছিলো দীর্ঘদিন ধরে সে পরকীয়ায় লিপ্ত। আরও কয়েকটি পরকীয়ার ঘটনাও সে ঘটিয়েছে, দরবারও হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে কালিকাপ্রসাদের মাদক ব্যবসায়ী নয়ন নামে একজনকে তাঁর মামাতো ভাই পরিচয়ে (আত্নীয় সাজিয়ে) বাসায় নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজন এসে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করার পর তারা ফোন করে পুলিশ নিয়ে আসে। পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। এঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত শিরিনা আক্তারের দাবি, আমরা সবাই একসঙ্গে বিয়ে খেতে যায়। রাতে আমার ভাই নয়ন কালিকাপ্রসাদ থেকে মোটরসাইকেলে করে আমাকে বাসায় নামিয়ে দেয়। পরে আমি তাকে বলি ভেতর এসে অন্তত পানিটা খেয়ে যেতে। কিন্তু আমার ভাই ঘরে আসতে চাইনি। তখন একজন যুবক এসে আমার ভাইকে মাথায় থাপ্পড় মারে। আমার উকিল শ্বশুর দ্বীন ইসলাম সহ ভেতরে রেখে বাহিরে তালা মারে। আমরা তখন রুমের ভেতরে চলে আসি। শিরিনা আরও বলেন, ১০ লাখ টাকা এনে আমি আমার স্বামীকে ইতালি পাঠাইছি। কিন্তু সে আমার সঙ্গে পলটি নিয়ে কোন টাকা পয়সা দেয়না আমাকে। নাদিম নামে এলাকার এক ছেলেকে নিয়ে আমাকে আকথা কুকথা বলে। নয়নের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি তাঁর।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন নয়নের দাবি, সকালে উঠে আমরা কটিয়াদিতে যায় বিয়ে খেতে। সঙ্গে আমার স্ত্রী, শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাই ছিলো। সেখানে আপাকে নিয়ে আমরা স্পীড খাই, সেলফি তুলি। রাতে শিরিন আপাকে নিয়ে তার বাসা আমলাপাড়ায় মোটরসাইকেলে নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে আটক করে। আপা আমার আপন চাচাতো বোন হয়। আপার সঙ্গে পরকীয়া হলে আল্লাহর গজব পড়বো। বাসার বাহির থেকে আমাদেরকে ভেতরে আটকে রেখে মারধর ও গালিগালাজ করে।
মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি ইন্টারনেট ব্যবসা করি কালিকাপ্রসাদ চকবাজারে। আমি মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়া ম্যাসেঞ্জারে জানান, তাঁর স্ত্রী একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে। ভিডিও করেও বলেছে আমাকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করবে। এর আগেও এক ছেলেকে নিয়ে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে ঘুরতে গিয়ে সেলফি তুলেছে। তিনি প্রশাসনের নিকট এসব অনৈতিক ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ৯৯৯-এ সংবাদ পাই আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়া সংক্রান্ত ঘটনায় আটক করা হয়েছে। মব সৃষ্টি করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে আমি পুলিশ পাঠায় ঘটনাস্থলে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ