মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,
০৬:০৫ পি.এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে পরোয়ানাভুক্ত মো. হারুনুর রশিদ (২৬) নামে এক আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দীঘিনালার বোয়ালখালী কাঁচা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীঘিনালা থানার এসআই (নিঃ) রাজিব শেখ এবং এএসআই (নিঃ) সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম বোয়ালখালী কাঁচা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় দায়রা-১৯৯১/১৫, চান্দগাঁও-৩(৯)১৫ ও জিআর-২৯৭/১৫ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হারুনুর রশিদকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া হারুনুর রশিদ মেরুং ইউনিয়নের বেলছড়ি এলাকার মমতাজ সওদাগরের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মোন্তাজ আলী, যিনি মো. মমতাজ আলী সওদাগরের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২২(গ) ধারায় মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
দীঘিনালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিতভাবে অভিযান অব্যাহত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ট্রাভিস হেডের একটি বিরল কাণ্ডে অবাক হয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। হেড যা করেছেন, সেটি নিজের দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কখনোই দেখেননি বলে জানালেন তিনি।
শনিবার, ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান মাহমুদের বলে আউট হন হেড। গুড লেংথের বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। কাট করতে গিয়ে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পে। ১৭ রান করে বোল্ড হন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ওপেনার।
উইকেট হারানোর পর কিছুক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন হেড। এরপর ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটার আগে মাটিতে পড়ে থাকা স্টাম্পের বেল নিজ হাতে তুলে আবার স্টাম্পের ওপর বসিয়ে দেন। ক্রিকেট মাঠে সচরাচর এমন দৃশ্য দেখা যায় না বললেই চলে।
এই বিষয়টি দেখে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় থাকা গিলক্রিস্ট বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার পুরো ক্রিকেট জীবনে এমনটা কখনো দেখিনি। একজন ব্যাটার এতটাই হতাশ, যে সে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার স্টাম্পগুলো ঠিক করে দিচ্ছেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই বৃক্ষরোপণ ও বিনামূল্যে চারা বিতরণ কর্মসূচিটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ মোড় বাজারে পালিত হয়।
সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’-এর কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা এই উদ্যোগটি পরিচালনা করেছে। কর্মসূচিটি অত্যন্ত উদ্দীপনা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। চারা বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় নানা সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলোর নিরসনে সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এসময় বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শামসুল আলম তৌফিকের সভাপতিত্বে এবং হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি সাংবাদিক এম. এ বাতেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক নূরে আলম ভূইয়া (ফারুক), জাফরাবাদ বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের সহ-সভাপতি এবং বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. ছমির উদ্দিন, গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও পল্লী চিকিৎসক মো. আকরাম হোসেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. সজীব মিয়া ও মো. রতন মিয়া।
এছাড়া, হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মোছা. নিলুফা আক্তার নীলা।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও সমাজকে সুন্দর রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।"
সভা শেষে উপস্থিত সকলের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া, এলাকার যেকোনো সামাজিক সমস্যা নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আদালতের সাজা পরোয়ানাভুক্ত সুব্রত ত্রিপুরা (৪৩) নামক এক আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চাপ্পাপাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীঘিনালা থানার এসআই (নিঃ) মোস্তাক আহম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চাপ্পাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় এসটি-১০৫/২২, সিআর-৩০৩/২২ মামলায় Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় সাজা পরোয়ানাভুক্ত সুব্রত ত্রিপুরাকে তার বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সুব্রত ত্রিপুরা চাপ্পাপাড়া এলাকার ধনীপূর্ন ত্রিপুরার ছেলে। তিনি দীঘিনালা উপজেলার ৩১ নম্বর বোয়ালখালী মৌজার স্থায়ী বাসিন্দা।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, "আদালতের সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে সুব্রত ত্রিপুরাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সুব্রত ত্রিপুরাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা হলো, বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটেছে। তবে, এর বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার দুর্ঘটনাকবলিত শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসবিআর) এর পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিল্প সচিব বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং বিএসবিআর এর পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, এর সঙ্গে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না- তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তাদের বলা হয়েছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরাপদে অপসারণ করা হবে। আব্দুন নাসের খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
এদিকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরীক্ষার বরাত দিয়ে শিল্প সচিব জানান, জাহাজটিতে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা। আমাদের সমন্বিত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাহাজ থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড অপসারণ করা হবে।’
বিষাক্ত গ্যাস অপসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত পানিতে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পানি দিয়ে জাহাজের ভেতরের অংশ ধুয়ে গ্যাস অপসারণ করা হবে।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ কাটার সময় জাহাজের বদ্ধ অংশে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ইয়ার্ডে ৩৪ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে থাকা দুই শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধারে অন্য শ্রমিকেরা এগিয়ে গেলে তারাও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে একে একে নয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই মনসুর আহমেদ ও নাসির উদ্দিন রয়েছেন। অন্যরা হলেন সানি দাস, পলাশ দাস, রানা মিয়া, হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, আব্দুল আলিম সুজন ও ১৭ বছর বয়সি মতিউর রহমান সাজ্জাদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ