বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩০ পি.এম
কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক পেসার ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার রাজনৈতিক বিষয়গুলো একপাশে রেখে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াসিম আকরাম বলেন, ইমরান তার বন্ধু এবং মেন্টর। দীর্ঘ সময় ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় তিনি তাকে ভীষণভাবে মিস করছেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।
ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান ও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
ওয়াসিম বলেন, রাজনৈতিকভাবে ইমরানের সঙ্গে যা ঘটছে, সেটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও আদালতের বিষয় আদালতের নিয়মেই চলবে। তবে একজন মানুষ ও বন্ধু হিসেবে ইমরানের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আলাদা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে দেশটির ২২ জন সাবেক অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের আরও কয়েকজন তারকা। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা এবং পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, মঈন খান ও রামিজ রাজা বিভিন্ন সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ইমরানের দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খানও বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট চলাকালে স্কাই স্পোর্টসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কার কথা জানান।
ওয়াসিম ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তিনি জানান, ইমরান তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন ওয়াসিম। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আদালতের নির্দেশে তাকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
সূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ থেকে প্রথমবারের মতো পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ইন্দোনেশিয়ায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিনারির একটি চালান পাঠানোর মাধ্যমে।
অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর প্রথম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কম্পানি লিমিটেড ৩ সেপ্টেম্বর বেপজার কাছ থেকে রপ্তানির অনুমতি লাভ করে। এরপর গতকাল প্রতিষ্ঠানটি ইন্দোনেশিয়ায় যন্ত্রপাতির চালান পাঠায়।
এই রপ্তানির মাধ্যমে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এর ফলে বেপজার অধীনে মোট আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) এবং দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ চালু শিল্পাঞ্চলের সংখ্যা ১০টিতে পৌঁছেছে।
বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর নির্বাহী পরিচালক মো. ওহিদুজ্জামান মন্তব্য করেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম। এই প্রেক্ষাপটে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ থেকে দেশটিতে রপ্তানি শুরু হওয়া বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
লিজ টোব্যাকো মেশিনারি, যা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত, সম্পূর্ণরূপে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি তামাকজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উৎপাদন করে।
বেপজা ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন দেয়। এতে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ৩.৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
মীরসরাইয়ে এক হাজার ১৩৮.৫৫ একর জমির ওপর বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রশাসনিক ও পরিচালন কার্যক্রম আরো কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে পরে অঞ্চলটিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ নামে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
অর্থনৈতিক অঞ্চল-১-এ ৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এ ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে লিজ টোব্যাকো মেশিনারি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। বেপজা আশা করছে শিগগিরই আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু হবে। বাকি ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কারখানা নির্মাণকাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর যৌথ টাস্কফোর্স কর্তৃক টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন মাদকপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনরত অবস্থায় ০৩ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ।গ্রেফতারকৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ১১:৩০ টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইল কর্তৃক টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অপর এক অভিযানে ১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জনস্বার্থে পুরো জেলায় মাদকবিরোধী এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং চলমান থাকবে বলে জেলা প্রশাসন কর্তৃক জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’-এর আলোচনায় তিনি এই শঙ্কার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সরকার ডেঙ্গু নিয়ে তিন মাসের একটি ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুহার কমানো। ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য ৩০০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বেড, স্যালাইন এবং টেস্ট কিট মজুদ রাখা হয়েছে।
এসময় আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে এম এ মুহিত মন্তব্য করেন যে, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আত্মহত্যা কমানোর জন্য সরকার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের কারণে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন এবং ধোঁয়া দ্রুত আশপাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এবং বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্তও গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে প্রকল্পে কর্মরতরা আন্তযোগাযোগে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনমাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সার্ভার রুমের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এবং সার্ভার রুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ