বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:১৮ পি.এম
তারকাদের জীবনে আলো, ক্যামেরা এবং ব্যস্ততার অভাব কখনোই থাকে না। কিন্তু দিনশেষে সকলেই প্রশান্তির স্থান খুঁজে থাকেন। সম্প্রতি নিজের ভালো থাকার রহস্য জানালেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে কাশবনে ঘুরতে গিয়ে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান। সেই মুহূর্তের ছবিগুলো প্রকাশ করে নিজের মতো করে সুখের সংজ্ঞা তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন পরীমনি। ছবিগুলোতে কখনো তাকে কাশবনের পাশে দাঁড়িয়ে, কখনো আবার বসে সময় কাটাতে দেখা গেছে। বিভিন্ন মুহূর্তে একা এবং সন্তানদের সঙ্গে তার স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি ফুটে উঠেছে।
ছবিগুলোর ক্যাপশনে পরীমনি লিখেছেন, ‘মাই হ্যাপিনেস’। এই সংক্ষিপ্ত কথার মাধ্যমে তিনি সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সময়ের প্রতি তার ভালো লাগার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।
শরতের স্নিগ্ধ পরিবেশে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘোরাঘুরি, খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানো- সব মিলিয়ে দিনটি উপভোগ করেছেন এই অভিনেত্রী।
ব্যক্তিগত জীবনে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পরীমনিকে। চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে সম্পর্কের পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় ছেলে শাহীম মুহাম্মদ পূণ্য। তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর পরীমনি ছেলেকে নিজের কাছে রেখে তার দেখাশোনা ও বেড়ে ওঠার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
পরে তার পরিবারে যুক্ত হয় আরেক সদস্য। কন্যাসন্তান সাফিরা সুলতানা প্রিয়মকে দত্তক নেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত জীবনের বড় একটি অংশ দুই সন্তানকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া এবং বিভিন্ন আনন্দঘন মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিতে দেখা যায় পরীমনিকে।
কাশবনে কাটানো সময়ের ছবিগুলোতে সেই পরিচিত দিকটি আবারও সামনে এসেছে। তার কাছে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সাধারণ মুহূর্তগুলোই যে বিশেষ আনন্দের, ‘মাই হ্যাপিনেস’ ক্যাপশনে সেটিই যেন প্রকাশ পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, এমনটি জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর সবুজবাগ সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব উল্লেখ করেন, "শিক্ষিত ও মানবিক জনশক্তিই রাষ্ট্রের উন্নয়নের চালিকাশক্তি।" তিনি বলেন, শিক্ষাকে জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
তিনি আরও জানান, সবুজবাগ সরকারি কলেজকে একটি মেধাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশের কাছে মেধার আপস করা হবে না। যেসব শিক্ষার্থী মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তারাই ভর্তির সুযোগ পাবে।
কলেজের উন্নয়নের জন্য আগামী দুমাসের মধ্যে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করা হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে একটি মাইক্রোবাস দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। এছাড়া, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অনার্স-মাস্টার্স চালুর বিষয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হাবিবুর রশিদ বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের বিষয় নয়; বরং যোগ্য, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মাধ্যম। জীবনে সফল হতে হলে কঠোর পরিশ্রম, সততা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মাদক ও সন্ত্রাসসহ সব ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের ব্যয় সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কলেজের ওপর আর্থিক চাপ না ফেলতে ওই অর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন তিনি।
সবুজবাগ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নূর আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের সর্বাধিক শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে। বৃহস্পতিবার সিএনএন-এর প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’, যা সাধারণত 'মাদার অব অল বোম্বস' (এমওএবি) নামে পরিচিত, ব্যবহার করা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন, তবে এটি মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো এবং 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন'-এ অবস্থিত সন্দেহভাজন পারমাণবিক কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধের সমাপ্তির উপায় খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন, তবে কোনো নিকটবর্তী কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত না পাওয়ার মধ্যেই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না, তবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য তিনি নানামুখী চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, ট্রাম্প "প্রচুর জ্বালানি অবকাঠামো" কভার করে অতিরিক্ত হামলার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে 'এমওএবি' বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্বিতীয় একটি সূত্র জানায়, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আক্রমণের পরিকল্পনায় সরাসরি এই বোমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই ধরনের পরিকল্পনা থাকা মানে আক্রমণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এমন নয়। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেছেন যে, প্রশাসন সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে না, যা বাস্তবায়ন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, "ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন।" পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্ট এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরণের সামরিক পরিস্থিতির পরিকল্পনা করে থাকে।
'মাদার অব অল বোম্বস' আসলে কী?
'জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট' বা 'এমওএবি' মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। এর ওজন ২১,৬০০ পাউন্ড (প্রায় ৯.৮ টন) এবং এটি একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এটি মাটির গভীরে থাকা বাংকার ধ্বংসকারী বোমার মতো নয়; বরং মাটির সংস্পর্শে আসার আগেই বাতাসে বিস্ফোরিত হয়ে চারপাশে ভয়াবহ ধাক্কা বা বিস্ফোরণ সৃষ্টি করে। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় নয়টি সিটি ব্লকের সমপরিমাণ এলাকা ধ্বংস করতে সক্ষম। ফলে ভূগর্ভস্থ স্থাপনার চেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী।
ইরাক যুদ্ধের সময় অস্ত্রটি তৈরি হয়েছিল এবং এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলা। বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে শত্রু বাহিনীকে ভীতসন্ত্রস্ত করা এবং তাদের আত্মসমর্পণ বা যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা ছিল এর মূল লক্ষ্য। প্রধানত বিপুলসংখ্যক সৈন্য, সামরিক সরঞ্জাম এবং ভূপৃষ্ঠের শক্ত অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এটি ডিজাইন করা হয়।
ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে এই বোমা ফেলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওই হামলায় ৩৬ জন আইএস জঙ্গি নিহত হয় এবং তাদের সুড়ঙ্গ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়ে যায়। মার্কিন ও আফগান কর্মকর্তারা জানান, ওই হামলায় কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়নি।
ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কি এটি আঘাত হানতে পারবে?
ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে 'এমওএবি'-এর কার্যকারিতা খুবই সীমিত হতে পারে।
সিএনএন জানায়, পরিকল্পনা সংক্রান্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে যে, বোমাটি গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরে সুরক্ষিত 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' বা ভূগর্ভের গভীরে থাকা অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করার মতো গভীরে ভেদ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একটি সূত্র অস্ত্রটিকে একটি বিশাল এলাকা ধ্বংস করার জন্য কার্যকর হিসেবে বর্ণনা করলেও বলেছে, "এটি নিশ্চিতভাবেই ভূগর্ভের গভীরে প্রবেশের জন্য তৈরি কোনো ওয়ারহেড নয়।"
এছাড়া লোকালয় বা অসামরিক কোনো জ্বালানি অবকাঠামোর কাছে এটি ব্যবহার করা হলে, এর বিশাল ধ্বংসাত্মক ব্যাপ্তির কারণে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়। তা সত্ত্বেও, সামরিক পরিকল্পনাকারীরা তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে এই বোমার কথা বিবেচনা করেছেন। এক কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানান, ইরানকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে না পারলেও বা চূড়ান্ত সামরিক বিজয় নিশ্চিত না করলেও, চলতি সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে এটি ব্যবহার করা হতে পারে।
সংঘাত বৃদ্ধির তীব্র আশঙ্কা
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে 'এমওএবি' ব্যবহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক চরম সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে। সিএনএন জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নতুন কোনো হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, তিনি আবার সামরিক হামলার অনুমোদন দিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে 'এমওএবি' মোতায়েনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সামরিক পরিকল্পনায় এর অন্তর্ভুক্তি নির্দেশ করে যে এই বিকল্পটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে, তবে এটি ব্যবহার করা হবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নির্ভরযোগ্য নীতি কৌশল তৈরির পরামর্শ দিয়েছে।
দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে স্থবিরতার মধ্যেও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জনজীবনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের চতুর্থ দিনে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আউটলুক প্রকাশনার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য করণীয় সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পরামর্শ দেয়। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী শক্তিশালীকরণের জন্য নির্ভরযোগ্য নীতি কৌশল তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করে সংস্থাটি।
এর কিছুক্ষণ পর, আইএমএফের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চলমান আর্থিক সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করেন।
এর পরপরই, সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বৈঠকে যোগ দেয়।
বৈঠক শেষে, আমির খসরু জানান, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বিশ্বাসযোগ্য সংস্কারে আস্থা রাখছে।
তিনি বলেন, ‘তবে ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাতসহ কিছু বিষয়ে সংস্থাটির যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেটা থাকা স্বাভাবিক। বাংলাদেশেরও কিছু বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এরইমধ্যে অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয় সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে।’
আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রেখে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সংরক্ষণবাদী’ বাণিজ্যনীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এ পদক্ষেপের কথা জানান।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বাণিজ্য বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই উদ্যোগের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করবে অটোয়া। তবে, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কানাডা।
নয়াদিল্লিতে কানাডার হাইকমিশনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা আনন্দ বলেন, ভারতের সঙ্গে একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি তাদের বাণিজ্য বহুমুখীকরণ কৌশলের একটি অংশ। চুক্তিটি বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সহযোগিতা আলোচনার কথা রয়েছে। এ উদ্যোগটি বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে, যা ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির (সিইটিএ) আওতায় রয়েছে।
এদিকে, গত বছর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে কানাডা। ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গেও চুক্তি করতে চায় কানাডা। আনন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডা ইতিমধ্যে ৫১টি দেশের ১৫০ কোটি ভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন ১৫টি বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করেছে।
তিনি বলেন, “এটি মূলত আমাদের জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকা চলবে না।”
চুক্তির অগ্রগতি
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। তার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য আলোচকেরা কানাডা সফর করেছেন। অন্যদিকে, কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধু একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়ে বর্তমানে ভারতে রয়েছেন।
আনন্দ বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে মোদির কানাডা সফরের কথা রয়েছে।
কানাডার হিসাব অনুযায়ী, চুক্তি হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও সেবাবাণিজ্য বছরে ৭ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ হাজার ৪০ কোটি ডলার। ওই বছর ভারতের সঙ্গে কানাডার পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালের তুলনায় ভারতে কানাডার রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ, আর আমদানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
দুই দেশের সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে কানাডার কোম্পানি কামেকো ও ভারতের মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত ২৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন আনন্দ।
এ ছাড়া কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যানশিয়াল হোল্ডিংস ভারতের আইডিবিআই ব্যাংকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা কেনার চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি রুপির এ চুক্তি ভারতের সবচেয়ে বড় আন্ত সীমান্ত ব্যাংক অধিগ্রহণ হতে যাচ্ছে।
২০২৩ সালে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ধীরে এগোচ্ছে বলে জানান আনন্দ। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ