মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪৩ এম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে চলতি বছর ও আগামী বছরের জন্য এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার থেকে এ অঞ্চলের অধিকাংশ দেশ তেমন সুবিধা লাভ করছে না। অথচ এআই খাতে বিনিয়োগ ও এর ব্যবহার বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের অর্থনীতিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের ধাক্কা মোকাবেলা করতে সহায়তা করছে। মঙ্গলবার সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে আইএমএফ এই তথ্য প্রদান করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। গত জুলাইয়ে আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল, যা এখন কমানো হয়েছে।
২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা বৃদ্ধি করেছে আইএমএফ। চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে।
আইএমএফের মতে, জ্বালানি সরবরাহের পথ পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিভিন্ন সংকটের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করছে। তবে সব দেশ সমানভাবে এই সুবিধা পাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পূর্বের তুলনায় অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।
জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের কারণে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে ঋণ নেওয়ার খরচও বেড়ে গেছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করে বাড়তি আয় করা দেশগুলো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষতি কতটা পুষিয়ে দিতে পারবে।
এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নেওয়া পদক্ষেপের ওপর মানুষের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আইএমএফের ভাষ্য, এ অঞ্চলের অধিকাংশ দেশ প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে না। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে আইএমএফ।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। ২০২৬ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। গত জুলাইয়ে চলতি বছরের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল আইএমএফ।
২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি কমতে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনায় মূল্যস্ফীতি ছিল ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।
ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে আইএমএফ। ২০২৬ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের পূর্বাভাস ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে আইএমএফ আশা করেছিল, চলতি বছর ব্রাজিলের অর্থনীতি ভালো অবস্থানে থাকবে। তবে নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী বছর দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও ধীর হতে পারে।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে সংস্থাটি। মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনতে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি সরকার আর্থিক সহায়তা কমিয়ে আনছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তাও দেশটির প্রবৃদ্ধিতে চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। ২০২৬ সালের জন্য দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আইএমএফ জানিয়েছে, মেক্সিকোর রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা এ পূর্বাভাসে ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পণ্যও রয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে।
তবে ২০২৭ সালের জন্য মেক্সিকোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে। আইএমএফ বলেছে, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে থাকতে পারে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে চিলি ও বলিভিয়ার অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিলির অর্থনীতি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৬ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বলিভিয়ার অর্থনীতি ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি আরো ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
ভেনেজুয়েলায় মূল্যস্ফীতি আরো বাড়তে পারে। ২০২৫ সালে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ২৫২ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৪৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে এসব দেশের সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হবে এবং দেশের ভেতরে ঋণ পাওয়া আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আইএমএফের মতে, জ্বালানির বাড়তি দাম, মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা সামলাতে দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ একাধিক দেশে ভোটের লড়াইয়ে উগ্র ডানপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে। জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য, প্রতিরক্ষা, অভিবাসননীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
ইউরোপে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলাফল ইউরোপের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে। বিশেষ করে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডে উগ্র ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী দলগুলো ক্ষমতায় এলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
ইউরোপের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও দেশগুলোর রাজনীতি মূলত নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলে সদস্যদেশগুলোর সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে পরিচালিত হলে ইইউর অভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগামী নির্বাচনী চক্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে ডানপন্থী শক্তির সাফল্য ইউরোপের রাজনৈতিক গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
স্পেনে আগাম নির্বাচন, শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক পরীক্ষা। ইউরোপের আসন্ন নির্বাচনী পরিস্থিতির প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে স্পেনে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সম্প্রতি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। পার্লামেন্টে তার সরকারের আবাসন সংস্কার প্রস্তাব আটকে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি), উগ্র ডানপন্থী ভক্স এবং কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী দল জুন্টসের বিরোধিতায় প্রস্তাবটি বাধার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমর্থন নতুন করে যাচাই করার পথে হাঁটছেন সানচেজ।
আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক সরকারের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে। জনমত জরিপে রক্ষণশীল পিপি ও তাদের সম্ভাব্য মিত্র ভক্স এগিয়ে রয়েছে।
নির্বাচনে সানচেজ পরাজিত হলে স্পেনে রক্ষণশীল ও উগ্র ডানপন্থীদের সমন্বয়ে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমন ঘটনা ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে দেবে।
সানচেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রগতিশীল রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তার সরকারের পতন হলে ইউরোপের মধ্যপন্থী ও বামপন্থী শক্তিগুলোর জন্যও তা বড় ধাক্কা হতে পারে।
ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডেও গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। স্পেনের পাশাপাশি আগামী এক বছরে ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, এস্তোনিয়া ও স্লোভাকিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনের মধ্যে ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডের ফলাফল ইউরোপীয় রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্রান্সে উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের নেতা মেরিন লে পেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। মূলধারার বিরোধী দলগুলো ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কতটা সফল হয়, তার ওপরও নির্বাচনের গতিপথ নির্ভর করবে।
ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার আবারও ক্ষমতায় আসতে পারে। তবে তার রাজনৈতিক জোটে আরও কট্টর ডানপন্থী শক্তির অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
পোল্যান্ডেও জাতীয়তাবাদী ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (পিআইএস) আবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করবে। দলটি ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটি শাসন করেছে। বর্তমানে দলটির সমর্থনভিত্তিতে পরিবর্তন ঘটছে এবং আরও কট্টর ডানপন্থী কয়েকটি দল তাদের ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছে।
এই দেশগুলোতে ডানপন্থী দলগুলোর সাফল্য শুধু জাতীয় সরকারের পরিবর্তন ঘটাবে না; ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারণেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
ইউরোপে ডানপন্থীদের উত্থান কেন?
ইউরোপে ডানপন্থী রাজনীতির বিস্তার নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশে অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে রেখে এসব দলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
একই সময়ে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের আস্থায় পরিবর্তন এসেছে। অনেক দেশে পুরোনো দলগুলোর প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য কমছে, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন দল প্রবেশ করছে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভাজন বাড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হলেও ভিন্নমত ও আদর্শের মধ্যে মেরুকরণ বাড়ছে। জটিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সহজ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডানপন্থী দলগুলো ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন আদায় করতে পারছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি অর্থের ওপর চাপ এবং অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে না পারলে মধ্যপন্থী দলগুলোর সমর্থন আরও কমতে পারে।
তবে ইউরোপের সব দেশেই যে ডানপন্থীদের সমর্থন বাড়ছে, বিষয়টি এমন নয়। নেদারল্যান্ডস, হাঙ্গেরি ও সুইডেনের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ঘটনাপ্রবাহে তাদের অগ্রযাত্রা বাধার মুখে পড়ার নজিরও রয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল একদিকে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
ইইউর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৈরি হতে পারে অচলাবস্থা। উগ্র ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী দলগুলো একাধিক বড় দেশে সরকার গঠন করতে পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইইউতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। সব বিষয়ে একই ধরনের ভোটের নিয়ম প্রযোজ্য না হলেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর সম্মতি বা বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অপরিহার্য।
স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে জাতীয়তাবাদী সরকার একযোগে ক্ষমতায় এলে তারা ইইউর নীতিগত পরিবর্তন ঠেকানোর মতো একটি বাধাদানকারী জোট গড়ে তুলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের আর্থিক সহযোগিতা, জ্বালানি নীতি, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে আরো গভীর একীভূতকরণের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সম্মিলিত অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউক্রেনকে সহায়তা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, জাতীয় সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ভিন্ন হলেও অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে কীভাবে সমঝোতা বজায় রাখা যায়।
মেলোনির রাজনৈতিক অবস্থান কি বদলে যেতে পারে? ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে প্রায়ই এমন একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি ক্ষমতায় এসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন।
ইতালির অর্থনৈতিক নীতি, ইইউর আর্থিক নিয়ম এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের মতো বিষয়ে তার সরকারের অবস্থান ইউরোপের অন্য নেতাদের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে মেলোনির রাজনৈতিক অবস্থানের এই ধরন ইউরোপের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের ওপরও নির্ভরশীল। তার চারপাশে যদি আরও কট্টর জাতীয়তাবাদী নেতাদের প্রভাব বাড়ে, তাহলে ইতালির সরকারের নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ফ্রান্সে লে পেন, পোল্যান্ডে জারোস্লাভ কাচিনস্কির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি এবং স্পেনে ভক্সের প্রভাব বাড়লে মেলোনির ওপরও ডানপন্থী অবস্থান আরও জোরালো করার চাপ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি ডানপন্থী দল মেলোনির বর্তমান নীতিকে অতিরিক্ত সমঝোতামূলক বলে সমালোচনা করে। তাদের চাপ সামাল দিতে গিয়ে তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেবেন কি না, সেটিও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ইউরোপের ঐক্য কি ভাঙনের মুখে?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অভিন্ন বাজার এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান এই কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
যদি একাধিক বড় দেশে একই সময়ে জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে, তাহলে ইইউর নীতিগত অগ্রগতি ধীর হয়ে যেতে পারে। সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বাড়লে ইউনিয়নের কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এমন পরিবর্তন শুধু ইইউর সম্প্রসারণ বা নতুন নীতি গ্রহণের গতি কমাবে না; বরং ইউনিয়নটির মূল উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে আগামী সাত বছরের বাজেট নিয়ে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে নির্বাচনে ডানপন্থীদের সাফল্য মানেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবসান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং নির্বাচনী ফলাফল, দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের বাস্তব নীতির ওপর নির্ভর করবে ইউরোপের ভবিষ্যৎ।
ব্রেক্সিটের পর ইউরোপের দিকে ফিরছে যুক্তরাজ্য? ইউরোপের রাজনৈতিক ঐক্য যখন নতুন চাপের মুখে, তখন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আলোচনা নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে। ২০১৬ সালের গণভোটের পর যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু গত এক দশকে ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে এখন ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্রেক্সিটের ক্ষতিকর দিকগুলো স্বীকার করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছেন।
তবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিবন্ধে বলা হয়নি। আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা।
এখানে একটি বড় বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ঐক্যকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের একাংশ আবার সেই ঐক্যের মূল্য উপলব্ধি করছে।
আগামী এক বছরই হতে পারে ইউরোপের জন্য নির্ধারক। আসন্ন নির্বাচনগুলো ইউরোপের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। স্পেনের আগাম ভোট দিয়ে শুরু হওয়া এই নির্বাচনী পর্বে ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডের ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।
ডানপন্থী দলগুলো ক্ষমতা ধরে রাখতে বা নতুন দেশে সরকার গঠন করতে পারলে অভিবাসন, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ইউরোপের নীতিগত অবস্থান বদলে যেতে পারে। বিপরীতে, মধ্যপন্থী ও বামপন্থী দলগুলো সমর্থন ধরে রাখতে পারলে সেই পরিবর্তনের গতি সীমিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে ইউরোপের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—একদিকে জাতীয় পর্যায়ে ভোটারদের অসন্তোষ ও রাজনৈতিক মেরুকরণ মোকাবিলা, অন্যদিকে মহাদেশীয় পর্যায়ে ঐক্য ও সহযোগিতা বজায় রাখা। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে, ইউরোপ আরও সমন্বিত রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোবে, নাকি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির চাপে তার অভিন্ন নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ জনগণ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানে একাধিক বঞ্চনার শিকার। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) অনুযায়ী, ভারতে এই হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে, বিভিন্ন বছরের পারিবারিক জরিপের ভিত্তিতে দেশগুলোর হিসাব তৈরি হওয়ায় এ তুলনা একই সময়ের পরিস্থিতির পুরোপুরি প্রতিফলন নয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত ইউএনডিপির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পাকিস্তানে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের মধ্যে বঞ্চনার গড় তীব্রতা ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশটির আরও ১২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ এ ধরনের দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকের পরিধি আয়ভিত্তিক দারিদ্র্য পরিমাপের চেয়ে বিস্তৃত। এতে পুষ্টি, শিশুমৃত্যু, শিক্ষাবর্ষ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, স্যানিটেশন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, বাসস্থান ও পরিবারের সম্পদের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। একাধিক বঞ্চনা একসঙ্গে থাকলে একজন ব্যক্তি বা পরিবারকে বহুমাত্রিক দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিশ্বজুড়েও বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ইউএনডিপির ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সূচক অনুযায়ী, ১০৮টি দেশের ১২০ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন। গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ সংখ্যা বেড়েছে। মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
বিশ্বজুড়ে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার মানুষের অর্ধেকেরও বেশি শিশু। এ ধরনের দারিদ্র্যে থাকা শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬১ কোটি ৭০ লাখ। এ ছাড়া, দারিদ্র্যের শিকার মানুষের ৮৩ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় পুষ্টি, বাসস্থান ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বঞ্চনার বড় একটি অংশ কেন্দ্রীভূত। অঞ্চলটিতে প্রায় ১৫ কোটি দরিদ্র মানুষ এমন পরিবারে বসবাস করেন, যেখানে স্কুলে যাওয়ার বয়সী কোনো শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। সামগ্রিক উন্নয়নের অগ্রগতি সত্ত্বেও এ অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাধা রয়ে গেছে।
ইউএনডিপির আঞ্চলিক হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া, আরও ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এ ধরনের দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছেন। আঞ্চলিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে জীবনযাত্রার মানের অবদান ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ, শিক্ষার ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যের ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানের ঘাটতি পরস্পরকে আরও জটিল করে তোলে। অসুস্থতা, অপর্যাপ্ত শিক্ষা এবং নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও মানসম্মত বাসস্থানের অভাব পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্যের চক্রে আটকে রাখতে পারে।
ইউএনডিপির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, "দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঘটনা বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।" তাঁর ভাষায়, "১২০ কোটি মানুষ এমন দুর্ভোগের মুখে রয়েছেন, যেখানে ক্ষুধা, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং নিরাপদ পানি ও বিদ্যুতের অভাব একে অপরের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।" তিনি এ পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তথ্যসূত্র: দ্য ডন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। গত জুলাই থেকে তিনি দলের প্রার্থীদের সহায়তায় ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান প্রদান করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ ৩ হাজার ৪০৩ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকার সমান। এই বিপুল অর্থের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে। নির্বাচনী প্রচারে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে দলটি মাস্কের এই অনুদানের মাধ্যমে।
মাস্কের রাজনৈতিক অনুদানের এই পরিমাণ আগে প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমার আগে তার প্রতিনিধিরা এই তথ্য দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন। প্রকাশ্যে জানা অনুদানের হিসাব অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্ক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দাতা।
এ গ্রীষ্মে রিপাবলিকানদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে তিনি সিনেট লিডারশিপ ফান্ডকে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিয়েছেন। এই সুপার প্যাক সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করে। একক কোনো দাতার কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের হিসাবে এটি সংগঠনটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সময়ে সংগঠনটির ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী সব দাতার কাছ থেকে মিলিয়েও এর চেয়ে কম অর্থ সংগ্রহ করেছে।
ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে মাস্কের প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা প্যাকও বড় কর্মসূচি নিয়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সুপার প্যাককে তিনি এ গ্রীষ্মে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছেন। সংগঠনটি প্রায় পুরো অর্থ ব্যয় করেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কাজে। সংগঠনটির লক্ষ্য হলো, যেসব রিপাবলিকান ভোটার সাধারণত কম ভোট দেন, তাদের কেন্দ্রে আনা। সিনেটের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি।
২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিকে মাস্ক ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি ব্যয় করেছিলেন প্রায় ২৯ কোটি ডলার। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের আবার ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। তবে উভয় নির্বাচনেই এমন কিছু অনুদান দিয়েছেন, যেগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মাস্কের এই বিপুল অর্থ ব্যয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে। নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের শক্তিশালী সুপার প্যাকসহ অর্থবিত্তশালী বিভিন্ন সংগঠন বিজ্ঞাপন প্রচারে বিপুল অর্থ ঢালছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মাস্কের কাছাকাছি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন—এমন কোনো ধনকুবের নেই। রাজনৈতিক পরিবেশে কিছু সুবিধাজনক অবস্থান থাকলেও অর্থের সংকট দলটির জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে মাস্ক বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেবেন। কিন্তু এবার ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের সহায়তায় তিনি আবারও বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। এতে ডানপন্থি রাজনীতিতে তার সমর্থন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তার সুপার প্যাক সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সিনেট লিডারশিপ ফান্ড ও আমেরিকা প্যাকের বাইরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাস্ক আরো কয়েকটি রক্ষণশীল সংগঠনকে অর্থ দিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের প্রধান সুপার প্যাক কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ডকে ২ কোটি ডলার দিয়েছেন। টেক্সাসে সিনেটের রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১ কোটি ডলার। রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশন পেয়েছে ১ কোটি ডলার এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশন পেয়েছে ২০ লাখ ডলার।
আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু রোমিও বলেছেন, নভেম্বরে ডেমোক্র্যাটরা ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ জিতে নিলে যুক্তরাষ্ট্র ‘সমাজতান্ত্রিক, ওক ও সীমান্তহীন’ দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তার দাবি, এই বিনিয়োগ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সংগঠনকে নিজেদের বক্তব্য ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করছে।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনেও মাস্কের অর্থের বড় অংশ যাচ্ছে। ভোটারদের বাড়ির দরজায় ঝোলানো প্রচারপত্রে বলা হচ্ছে, ‘উগ্র ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নির্বাচনে জিতছে। টেক্সাসও কি পরবর্তী লক্ষ্য?’ আমেরিকা প্যাকের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার বেতনভুক্ত কর্মী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গেছেন। এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৬৫ লাখ বাড়ির দরজায় পৌঁছেছেন বলে সংগঠনটির দাবি।
একজন প্রচারকর্মী দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, টেক্সাসে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়ার জন্য তাকে দেড় থেকে ৩ ডলার দেওয়া হতো। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমেরিকা প্যাকের ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয়ের অধিকাংশই এই কর্মসূচিতে খরচ হয়েছে। বিজ্ঞাপন, ডাকযোগে প্রচারপত্র, ফোনকল ও খুদে বার্তায় ব্যয় তুলনামূলক কম। প্রচারের বড় অংশে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বক্তব্য বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত।
টেক্সাসের সিনেট প্রার্থী প্যাক্সটনের পক্ষে মাস্কের ১ কোটি ডলারের অনুদান আসে এমন সময়ে, যখন রিপাবলিকান এই প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় প্রচারে অনেক কম অর্থ ব্যয় করছিলেন। মাস্কের ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের অনুদানের পর সিনেট লিডারশিপ ফান্ডও প্যাক্সটনের পক্ষে বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপন প্রচারে নামে। আগস্টের শেষ দিকে সংগঠনটি তার পক্ষে ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন দক্ষিণ ডাকোটার সিনেটর ও সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুনের মিত্ররা।
মাস্কের প্রচারের আরেকটি বড় লক্ষ্য ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু। ২০২৪ সালের মতো এবারও তার সংগঠন দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয়ের চেয়ে রক্ষণশীল ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে যারা সাধারণত কম ভোট দেন, তাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব ভোটারকে কেন্দ্রে আনা রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দেখা আমেরিকা প্যাকের প্রচার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের গভর্নর প্রার্থী জিনা হিনোজোসাকে তার ট্রান্সজেন্ডার-সংক্রান্ত অবস্থানের জন্য লক্ষ্য করতে হবে। সিনেটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে ‘উগ্র ট্রান্সজেন্ডার এজেন্ডা’ থাকার অভিযোগ তুলেও প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে আমেরিকা প্যাকের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত বিজ্ঞাপনটিতে টালারিকোর অতীতের একটি বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর নন-বাইনারি।’ আইওয়াতে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট প্রার্থী জশ টুরেকসহ অন্য প্রার্থীদেরও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে লক্ষ্য করছে সংগঠনটি। ফেসবুকে তাদের বহুল প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে সাজসজ্জা করা এক পুরুষকে দেখিয়ে বলা হয়েছে, ‘সে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আপনি কি করেছেন? উন্মাদরা যাতে উগ্রপন্থীদের নির্বাচিত করতে না পারে, সে জন্য ঘরে বসে থাকবেন না।’
ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুর পাশাপাশি সমাজতন্ত্রবিরোধী প্রচারও তাদের কৌশলের কেন্দ্রীয় বিষয়। মেইল-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান মিন্টের সঙ্গে ভাগ করা ৪৮টি প্রচারপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাস্কের সুপার প্যাক নিয়মিত ডেমোক্র্যাটদের সমাজতন্ত্রী বলে আক্রমণ করছে। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।
অনলাইন প্রচারে ভোটারদের নাম ধরে বার্তাও পাঠানো হচ্ছে। হাস্যোজ্জ্বল কয়েকজন ডেমোক্র্যাটকে দেখানো একটি ভিডিওতে বলা হয়েছে, ‘তারা হাসছে কেন? কারণ, ক্রিস্টোফার এখনো ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেনি।’ প্রচারের অংশ হিসেবে ভোটারদের আমেরিকা প্যাকের ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে রক্ষণশীল ভোটারদের নিবন্ধনের তথ্য দেওয়া হয়। এ ছাড়া ‘আমেরিকা পাস’ নামের একটি ডিজিটাল কার্ড প্রচার করছে সংগঠনটি। এটি অ্যাপল বা গুগলের ডিজিটাল ওয়ালেটে রাখা যায়। এতে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের তারিখ ও সময়সীমা থাকে।
এবার বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও মাস্ক নিজে প্রচারে আগের মতো সরব নন। ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক আবার ভালো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাকে ‘আমাদের সময়ের আধুনিক থমাস এডিসন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে মাস্ক এবার অনেকটা আড়ালে থেকে কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তার সঙ্গে কথা বলেছেন—এমন ব্যক্তিদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মাস্ক মধ্যবর্তী নির্বাচন বা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। তাদের মতে, তিনি এখন নিজের ব্যবসায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। আমেরিকা প্যাকের কার্যক্রমেও তিনি ও তার ব্যবসায়িক সহযোগীরা তুলনামূলক কম ভূমিকা রাখছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দায়িত্ব দিয়েছেন তার শীর্ষ উপদেষ্টা ক্রিস ইয়ংকে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এ বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে এক্সে মাস্ক সরাসরি মাত্র সাতটি পোস্ট দিয়েছেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে নির্বাচিত করতে তার ধারাবাহিক প্রচারের তুলনায় এটি অনেক কম। সাতটি পোস্টের মধ্যে পাঁচটিই ছিল টালারিকোকে নিয়ে। আরেকটি পোস্টে মেইনের ঝুঁকিতে থাকা রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের সমালোচনা করা হয়েছিল বলে মনে হয়েছে।
এবার মাস্কের নির্বাচনী প্রচারের সফরও নেই। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পেনসিলভানিয়ায় এবং ২০২৫ সালের বসন্তে উইসকনসিনের একটি বিচার বিভাগীয় নির্বাচনে তিনি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারীদের কাউকে কাউকে ১০ লাখ ডলারের বড় চেক দেওয়ার প্রতিযোগিতাও চালিয়েছিলেন তিনি। উদ্যোগটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।
এবার কোনো প্রার্থীর প্রতি মাস্কের আগের মতো ব্যক্তিগত অনুরাগও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এর কাছাকাছি উদাহরণ হলো, কেনটাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এক রিপাবলিকান প্রার্থীকে তার ১ কোটি ডলারের অনুদান। তবে ওই বিনিয়োগ ভালো ফল দেয়নি।
মাস্কের ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের হিসাবটি কেবল প্রকাশ্যে জানা অনুদানের পরিমাণ। এ বিষয়ে অবহিত এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রার্থীদের সহায়তায় এমন কিছু সংগঠনের মাধ্যমেও মাস্ক কয়েক দফায় ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি অর্থ দিয়েছেন, যেসব সংগঠনকে দাতাদের নাম প্রকাশ করতে হয় না। ফলে নির্বাচনে তার মোট ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন না যে চীন বা রাশিয়া ইরানকে ‘বিন্দুমাত্রও’ সহায়তা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তেহরানকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিলে মস্কো এবং বেইজিংয়ের জন্য অনেক কিছু হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার রাজনৈতিক বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে চীন ও রাশিয়া ইরানকে সমর্থন দিচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, ‘যদি তারা সাহায্য করে থাকে, তবে তা অত্যন্ত সামান্য। তবে আমি তা মোটেও বিশ্বাস করি না। কারণ তাদের হারানোর মতো অনেক কিছু আছে। তারা যদি সত্যিই সহায়তা করত, তবে আমরা তা দ্রুত জানতাম।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করছেন। গত মাসে শি চিনপিংয়ের মার্কিন সফরের সময় চীন ইরানকে কোনো সহায়তা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও জানান যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন কর্মকর্তারা।
যদিও মস্কো এবং বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরান চীনের সহায়তায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি করছে এবং মার্কিন ঘাঁটির স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করছে—যদিও এসব প্রতিবেদনকে ট্রাম্প আগেও অস্বীকার করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ