শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:০৫ এম
সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।
তিনি বলেন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।
তিনি বলেন, বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।
জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তাঁর সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়-এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।
বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।
বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনায় রুনু বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। নিহতের মৃত্যুকে ঘিরে শ্বাসরোধের অভিযোগ উঠলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুনু বেগম আটহাজার গ্রামের খলিল পেশকারের স্ত্রী। আটক ফাতেমা বেগম তার ছেলে রেদওয়ান পেশকারের স্ত্রী। ফাতেমার বাবার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রুনু বেগম ও ফাতেমা বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতাহাতির সময় রুনু বেগম ফাতেমার একটি আঙুলে কামড় দেন। পরে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর রুনু বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুনু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থল থেকেই ফাতেমা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে রুনু বেগমের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের পারিবারিক বিরোধ, হাতাহাতির প্রকৃত পরিস্থিতি এবং রুনু বেগমের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে—এটি নিছক পারিবারিক বিরোধের মধ্যে ঘটে যাওয়া মৃত্যু, নাকি এর পেছনে আরও কোনো ঘটনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জিনেদিন জিদানের অধীনে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচে জয়লাভ করেছে। শুক্রবার উয়েফা নেশনস লিগের খেলায় তুরস্কের মাঠে ১-০ গোলে জয়ী হয় ফ্রান্স। ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে গোল করার পর হাঁটুর চোটে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা খেলোয়াড়কে নতুন কোচ জিদান বাঁ প্রান্তে খেলান। সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে সাবেক কোচ দিদিয়ে দেশমের অধীনে তিনি মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ চালাতেন। ওই বিশ্বকাপে ১০ গোল করে এমবাপ্পে সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব অর্জন করেন।
বাঁ প্রান্ত থেকে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬৭তম গোলটি করেন ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে। মিশেল অলিসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে এনে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ান তিনি।
ইস্তাম্বুল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ইজমিতের কোজায়েলি স্টেডিয়ামে গোল উদযাপনের সময় সতীর্থরা তার কাছে এলেও এমবাপ্পে ব্যথায় কুঁচকে যান।
চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষে মাটিতে বসে পড়েন এবং বাঁ হাঁটুর বাইরের অংশে হাত দিয়ে চিন্তিত মুখে মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে।
এমবাপ্পের চোটের মাত্রা কতটা, তা জানার জন্য ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদ উভয় পক্ষেই অপেক্ষা থাকবে। ক্লাব মৌসুম আবার শুরুর আগে আগামী ১০ দিনে ফ্রান্স আরও তিনটি ম্যাচ খেলবে।
জিদান জানান, এমবাপ্পেকে সম্ভবত চিকিৎসার জন্য ক্লাবে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
সম্প্রচারকারী টিএফ১-কে জিদান বলেন, ‘পরিস্থিতি ভালো না। দুর্ভাগ্যবশত মনে হচ্ছে তাকে বাড়ি ফিরতে হবে। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শট নেওয়ার সময় সে হাঁটু বেশি প্রসারিত করে ফেলেছিল। এটা খুব একটা আশাব্যঞ্জক না।’
দলের অধিনায়ক ও তারকা খেলোয়াড়ের এভাবে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য জিদানের কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচে ছায়া ফেলেছে। গত জুলাইয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে ফ্রান্সের কোচ হন জিদান। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রথম বড় পর্যায়ে কোচিংয়ে ফিরলেন তিনি।
জিদান বলেন, ‘এটা সত্যিই আবেগঘন একটা রাত ছিল। তবে কঠিন পরিবেশে এটা একটা সফল অভিষেক। আমার মনে হয়েছে আমরা মোটামুটি ভালো খেলেছি। মাত্র সাড়ে তিনটা অনুশীলন সেশন একসঙ্গে করার পরও অনেক আকর্ষণীয় জিনিস দেখেছি আমি। এটা বেশ আশাব্যঞ্জক।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরেছিল ফ্রান্স। শিরোপা জিতে নিয়েছিল স্পেন। এবারের নেশনস লিগে ফ্রান্স এ১ গ্রুপে রয়েছে। সোমবার তারা ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে। শুক্রবার ইতালির মাঠে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছে বেলজিয়াম।
২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ছিল জিদানের খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ম্যাচ। আগামী শুক্রবার স্তাদ দ্য ফ্রান্সে কোচ হিসেবে নিজের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবেন তিনি।
জিদানের একাদশ বিশ্বকাপের নিয়মিত একাদশ থেকে খুব একটা বদলায়নি। তবে বোর্নমাউথের আদ্রিয়েন ত্রুফের বাঁ ব্যাক ছিলেন এবং ম্যানচেস্টার সিটির রায়ান শেরকি শুরুর একাদশে ছিলেন।
বায়ার্ন মিউনিখের তারকা অলিসে প্রথমার্ধের শেষদিকে দারুণ একটি শট নেন, তবে তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরজান চাকির তা ঠেকিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁ তুরস্কের আবদুলকেরিম বারদাকচির শট ঠেকিয়ে দেন। বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপে সবার নিচে থেকে শেষ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয়ী হয়েছিল তুরস্ক।
এরপর এমবাপ্পে গোল করেন। এরপর জুল কুন্দের একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফেরত আসে। ম্যাচের শেষদিকে একজন খেলোয়াড় কমে যায় তুরস্কের।
তুরস্কের গোলরক্ষক চাকির নিজের বক্সের বাইরে এসে ফ্রান্সের বদলি খেলোয়াড় ব্রাডলি বারকোলাকে থামিয়ে দেন। জার্মান রেফারি ফেলিক্স জোয়ায়ার প্রথমে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সংকেত দেন। পরে ভিএআরের সাহায্যে পর্যালোচনার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, গোলরক্ষক হাত দিয়ে বল ধরেছিলেন। তাই তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
সাবেক ইতালিয়ান খেলোয়াড় ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লার কোচিংয়ে থাকা তুরস্ক সোমবার নিজেদের মাঠে ইতালির মুখোমুখি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উয়েফা নেশনস লিগে আজ আছে একাধিক ম্যাচ।
ক্রিকেট
এশিয়ান গেমস
জাপান-নেপাল
সরাসরি, সকাল ৬টা,
মালয়েশিয়া-ওমান
সরাসরি, সকাল ১১টা,
সনি স্পোর্টস ১
এশিয়ান গেমস
সরাসরি, সকাল ৬টা থেকে,
সনি স্পোর্টস ২ ও ৫
ফিফা আসিয়ান কাপ
পাকিস্তান-থাইল্যান্ড
সরাসরি, দুপুর ৩টা,
ভিয়েতনাম-ফিলিপাইন
সরাসরি, সন্ধ্যা ৬-৩০ মি.,
টি স্পোর্টস
ফুটবল
উয়েফা নেশনস লিগ
স্লোভেনিয়া-স্কটল্যান্ড
সরাসরি, সন্ধ্যা ৭টা,
সনি স্পোর্টস ১
চেক প্রজাতন্ত্র-ক্রোয়েশিয়া
সরাসরি, রাত ১২-৪৫ মি.,
সনি স্পোর্টস ১
ইংল্যান্ড-স্পেন
সরাসরি, রাত ১২-৪৫ মি.,
সনি স্পোর্টস ২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এরপর প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।’
তিনি বলেন, তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আমরা নতুন পর্যায়ে নিতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
মাহদী বলেন, বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
মাহদী আমিন বলেন, এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন বলে তিনি জানান।
চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ