ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্যের মামলায় খালাস পেলেন রাহুল গান্ধী


অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্যের মামলায় খালাস পেলেন রাহুল গান্ধী

ভারতের উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে মানহানির একটি মামলায় খালাস প্রদান করেছেন। এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে কথিত আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) আদালতের বিচারক শুভম বর্মা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় রাহুল গান্ধী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির গণমাধ্যম বিভাগের চেয়ারম্যান কুনওয়ার সিং নিষাদ রাহুলের খালাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগকারী বিজয় মিশ্রের আইনজীবী সন্তোষ কুমার পাণ্ডেও আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালত তাদের জমা দেওয়া সিডি ও তাতে থাকা বক্তব্য গ্রহণ করেছে। তবে আদালত ওই বক্তব্যকে মানহানিকর বলে মনে করেনি।

আরও পড়ুন: জামায়াতের আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ

২০১৮ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের সময় বেঙ্গালুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে নিয়ে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন। ওই মন্তব্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে রাহুল গান্ধীর কনভয়ের কয়েকটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে সুলতানপুর জেলার হালিয়াপুর থানা এলাকার ৯০ কিলোমিটার পয়েন্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চারটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্স জড়িত ছিল। তবে দুর্ঘটনাটি সামান্য ছিল এবং কেউ গুরুতর আহত হননি।

হালিয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতুল কুমার শ্রীবাস্তব জানান, রাহুল গান্ধীর গাড়ির পেছনে থাকা চারটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্ট মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানালেন মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসায় শিশু সুরক্ষায় কঠোর নীতিমালা ও নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা জরুরি: আজহারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


মাদরাসায় শিশু সুরক্ষায় কঠোর নীতিমালা ও নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা জরুরি: আজহারী

মাদরাসা শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিশুদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। "কোনো শিক্ষার্থী যেন ভয়, নির্যাতন কিংবা অনিরাপদ পরিবেশের শিকার না হয়," সে জন্য সুস্পষ্ট শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী।

শিশু সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন আজহারী। তিনি বলেন, মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে প্রতিটি মাদরাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা চালু করা এবং নির্যাতনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন আজহারী। তিনি উল্লেখ করেন, "ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে মাদরাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।" তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পাঠদানের মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও জরুরি।

আজহারীর মতে, মাদরাসায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং আত্মসমালোচনার সুযোগ থাকা উচিত। তিনি বলেন, "নিজেদের উদ্যোগে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ সমাধানের ব্যবস্থা না নিলে বাইরের পক্ষগুলো এসব বিষয়কে কাজে লাগাতে পারে।" এর ফলে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি মনে করেন, সমস্যা আড়াল করার পরিবর্তে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাও শক্তিশালী হবে।

আজহারী মাদরাসার অবকাঠামো, পাঠদানের মান, শিক্ষক নিয়োগ এবং তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কার্যকর নজরদারি এবং অভিযোগ জানানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখার কথা বলেন তিনি।

পাশাপাশি, শিক্ষকদের শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করলেই চলবে না; শিশু মনস্তত্ত্ব, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, একজন শিক্ষকের আচরণ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

আজহারী শিশুদের শারীরিক শাস্তি, মারধর, নির্যাতন কিংবা অনুপযুক্ত স্পর্শের মতো আচরণকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তিনি বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।" বরং শাসন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং শিশুর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে।

তিনি প্রতিটি মাদরাসায় কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেন। এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভয়ভীতি ছাড়াই এবং নিজেদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যথাযথ সুরক্ষা বজায় রেখে অভিযোগ জানাতে পারে। অভিযোগ জানানোর পর শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ বা হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

আজহারী মনে করেন, কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্বে নিয়োগের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে হবে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি— দুটিই জোরদার হবে।

আজহারী মাদরাসার অনুমোদন ও নিবন্ধন, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, অভিভাবক, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তার মতে, শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমিত সম্পদের কারণে যেসব মাদরাসা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

আজহারীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়। বরং শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদরাসার প্রতি মানুষের আস্থা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাই তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য।

মাদরাসা শিক্ষার ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি একটি নৈতিক, মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বও। মাদরাসায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ, নিরপেক্ষ তদন্ত, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, কার্যকর তদারকি এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা— এসবের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা।

মাদরাসার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আড়াল না করে সেগুলোর ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা গেলে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা আরও দায়িত্বশীল, আস্থাশীল ও মানসম্মত হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও সংস্কারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ১৪ বছরে, স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ১৪ বছরে, স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের অপেক্ষা

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, দেশের সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি এবং সামুদ্রিক খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত, ১৩ বছর পূর্ণ করে ১৪তম বছরে প্রবেশ করেছে। বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অর্জন এবং মেরিটাইম খাতে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে দীর্ঘ অপেক্ষা করা।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য চট্টগ্রামের হামিদচরে ১০৬ দশমিক ৬৬ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হয়ে গেলেও ঢাকার মিরপুর-১২-এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ এগিয়ে গেলেও নির্ধারিত সময়ে স্থানান্তর সম্ভব না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বিলম্ব ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টারে চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্নাতক পর্যায়ের পাঠদান শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে। তবে এর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, শ্রেণিকক্ষ, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, জনবল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থানান্তরের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রথম বিশেষায়িত মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো সামুদ্রিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং দেশের মেরিটাইম খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের হামিদচরে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ২০২৪ সালের ৪ মার্চ ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের প্রত্যাশা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন সময়ে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে উপাচার্যের নির্মাণকাজ পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা সেই প্রচেষ্টার অংশ।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থানান্তর সম্ভব না হওয়ায় নতুন করে অপেক্ষায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টার থেকে স্নাতক পর্যায়ের পাঠদান চট্টগ্রামে শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ক্যাম্পাস স্থানান্তর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জনবল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ঠিকানা নয়; এটি একাডেমিক ও গবেষণাগত সক্ষমতা বাড়ানোরও গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, আবাসন, গ্রন্থাগার, সহশিক্ষা কার্যক্রমের জায়গা এবং মেরিটাইম খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী বিস্তৃত জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে উঠলে এসব সুবিধা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন, মানসম্মত গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, পরিবহন, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা ১৭ দফা দাবি উত্থাপন করে আন্দোলনে নামেন। স্থায়ী ক্যাম্পাসে দ্রুত স্থানান্তরের পাশাপাশি ফি কাঠামো পুনর্বিবেচনা, আবাসন সুবিধা, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের মতো বিষয়ও ছিল তাদের দাবিতে।

আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন ও ফি কাঠামো সংশোধনের মতো কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি আসে। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’ করা হয়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফি কাঠামো নিয়েও সংশোধিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সব দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর, পর্যাপ্ত আবাসন এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জায়গা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রগতি মূল্যায়নে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অবকাঠামোগত নির্মাণকাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এবং সমস্যার সমাধানকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষায়িত শিক্ষায় অগ্রগতি ও সম্ভাবনা

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মেরিটাইম বিষয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্ব রয়েছে। সমুদ্রবিজ্ঞান, নৌযান নির্মাণ ও অফশোর প্রকৌশল, মেরিন ফিশারিজ, মেরিটাইম স্টাডিজ এবং সমুদ্র আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে এখানে। বন্দর ও শিপিং ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং নীল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রেও এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও একাডেমিক ও পেশাগত সহযোগিতার বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির সুযোগ, গবেষণাসংশ্লিষ্ট আয়োজন এবং জাতীয় পর্যায়ের মেরিটাইম মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

২০২৬ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়টির চার শিক্ষার্থী কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কেওআইসিএ) বৃত্তি অর্জন করেন। একই মাসে জাতীয় মেরিটাইম মুট কোর্ট প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ ছাড়া সামুদ্রিক ও নৌপরিবহন খাতে একাডেমিক ও পেশাগত সহযোগিতা বাড়াতে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও পেশাগত পরিসর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ এবং কর্মজীবনে প্রবেশের সহায়তা কতটা নিশ্চিত করা যায়, তার ওপর।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম বছরে পদার্পণের প্রাক্কালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে স্থায়ী ক্যাম্পাস। পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজহারুল হাবিব বলেন, “বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু দীর্ঘদিন অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চলায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, আবাসন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা অনুভব করতে হয়। আমরা চাই, স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের ঘোষণা যেন আরেকটি প্রতিশ্রুতি হয়ে না থাকে; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হোক।”

অন্যদিকে, ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেরদৌস রানা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জন আমাদের জন্য গর্বের। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বৃত্তি ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে। তবে এসব অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত শিক্ষক, গবেষণাগার ও আবাসন সুবিধার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস চাই, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেরও পর্যাপ্ত সুযোগ থাকবে।”

সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। প্রথমত, চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্থানান্তরের আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের আবাসন, যাতায়াত এবং একাডেমিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখতে শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণাগার উন্নয়ন, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং দেশি-বিদেশি মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ, প্রশাসনিক সেবার মান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর সাফল্য শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি বা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের সমুদ্রসম্পদের টেকসই ব্যবহার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্দর ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন এবং নীল অর্থনীতিতে দক্ষ জনবল তৈরিতেও অবদান রাখতে হবে।

প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর শেষে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি একদিকে সম্ভাবনাময় বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দীর্ঘ অপেক্ষা তার অগ্রযাত্রার বড় অপূর্ণতা হয়ে রয়েছে।

১৪তম বছরে প্রতিষ্ঠানটির সামনে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ অবকাঠামোগত প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব সুযোগ-সুবিধায় রূপান্তর করা। ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টারে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে শুধু নতুন ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরুর মাধ্যমে নয়, বরং সেখানে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করা যায়, তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে টাকা-স্বর্ণালংকার দাবি, ৩ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে টাকা-স্বর্ণালংকার দাবি, ৩ গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে এক নারীর গোসলের আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে, তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ অভিযানে ভিডিও ধারণের জন্য ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালী এলাকার ফাহিম মোল্লা (২১), রবিন মোল্লা (২২) এবং জিসান দেওয়ান (২০)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রনছ হাওলাদার পাড়া এলাকায় এক নারী কাপড় পরিবর্তন করার সময় তার অজান্তে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর ফেসবুকের একটি আইডি থেকে ওই নারীর সঙ্গে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ধারণকৃত ভিডিওটি পাঠানো হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদাহানির ভয় দেখিয়ে তার কাছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের কাছ থেকে ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তা বদলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৭ পি.এম


পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তা বদলি

পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি সংক্রান্ত আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ৯ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বদলির নির্দেশনা জারি করে।

বদলির নির্দেশ অনুযায়ী, এনসিটিবির সহযোগী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান) ড. মোহাম্মদ কামরুল হক ভূঞাকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সহযোগী অধ্যাপক (বিশেষজ্ঞ-গণিত) মোহাম্মদ হুমায়ন কবীরকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে এবং সহযোগী অধ্যাপক (বিশেষজ্ঞ-শিক্ষা) মো. আহসানুল আরেফিন চৌধুরীকে যশোর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া, সহযোগী অধ্যাপক (ইসলামিক আদর্শ) ড. মো. আবু হানিফকে রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে, অধ্যাপক (ইতিহাস) রেজাউল করিমকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে এবং সহযোগী অধ্যাপক (প্রাণিবিদ্যা) ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন মজুমদারকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সহকারী অধ্যাপক (সমাজকল্যাণ/সমাজকর্ম) মাহমুদ বিন আমিনকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) ও বিশেষজ্ঞ আফসানা আইয়ুবকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে এবং সহকারী অধ্যাপক এস এম আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হন, তবে ওই দিন থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%