১০:০৯ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরে একটি নতুন ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এটি শক্তি বৃদ্ধি করে সপ্তাহান্তে দেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় উপকূল এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপসাগরে ‘ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন নাইন’ নামে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়। মেক্সিকোর উষ্ণ সমুদ্রের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় এটি বুধবারের (৭ অক্টোবর) শুরুতে ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপ নিতে পারে। এরপর বৃহস্পতিবার এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র।
যদি ঝড়টি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে এর নাম হবে ‘ইসাইয়াস’। আবহাওয়ার বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেল এখন প্রায় একমত যে, ঝড়টি উত্তর দিকে এগিয়ে এ সপ্তাহের শেষ দিকে মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া দফতরের নতুন পূর্বাভাস
তবে ঝড়টির নাম যাই হোক বা এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হোক বা না হোক, এ সপ্তাহের শেষ থেকে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে উপসাগরীয় উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি কিছু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই ঝড়ের আর্দ্রতা আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ওহাইও উপত্যকা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পৌঁছাতে পারে।
তবে ঝড়টি কখন উপকূলে পৌঁছাবে, কতটা শক্তিশালী হবে এবং স্থলভাগে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হবে—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কিছু পূর্বাভাসে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই প্রভাব শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও অন্যগুলোতে সপ্তাহান্তের পরবর্তী সময়ের কথা বলা হয়েছে।
ঝড়ের আশঙ্কায় ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ২৫টি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, "এই সিদ্ধান্তের ফলে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল ও বিগ বেন্ড অঞ্চলে সম্ভাব্য ভয়াবহ আবহাওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সম্পদ পাওয়া যাবে।"
আরও পড়ুন: ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, গরম বাড়তে পারে
এদিকে চলতি ২০২৬ সালের আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শেষ হতে আর দুই মাসেরও কম সময় বাকি। ১ জুন মৌসুম শুরুর পর এখন পর্যন্ত আটটি নামযুক্ত ঝড় তৈরি হয়েছে। চলতি মৌসুম ৩০ নভেম্বর শেষ হবে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবার তুলনামূলক বেশি ঝড়ের তৎপরতার পেছনে এল নিনোর প্রভাব থাকলেও আটলান্টিক অঞ্চলে এখন পর্যন্ত তেমন সক্রিয়তা দেখা যায়নি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, নামযুক্ত ঝড়ের তালিকায় ‘আই’ দিয়ে শুরু হওয়া ঝড়গুলো আটলান্টিক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ হয়ে থাকে এবং এ ধরনের অনেক ঝড়ের নাম পরবর্তী সময়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ২০২২ সালের ইয়ান, ২০২১ সালের আইডা, ২০১৭ সালের ইরমা ও ২০১১ সালের আইরিন উল্লেখযোগ্য। ২০০৮ সালে আইকে নামটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর তার পরিবর্তে ‘ইসাইয়াস’ নামটি যুক্ত করা হয়। আটলান্টিকের ঝড়ের নামের তালিকা প্রতি ছয় বছর পরপর পরিবর্তন করা হয়।
আরও পড়ুন: শীত নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন