ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাইমা রহমান জাতিসংঘে মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন: মাহ্দী আমিন


জাইমা রহমান জাতিসংঘে মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই পি-৩ পজিশনে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে এই পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ের সময় মাহ্দী আমিন বলেন, "আপনারা নিজেরাই তো বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।" তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেয়া হয়নি, এমনকি জাতিসংঘের বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। তিনি চাকরি পেয়েছেন সরাসরি জাতিসংঘের সদরদপ্তরে, ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়মকানুন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার অধীনে তাদের নির্বাহী কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্সেস টিম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগটি সম্পন্ন করেছে। তার নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে, যেখানে সরকারের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখলেই এই পদের যাবতীয় তথ্য ও নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন।"

মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে পি-১ হলো নতুন স্নাতকদের জন্য, পি-২ এর জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগে এবং পি-৩ পদের জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা। এর ওপরে পি-৪, পি-৫ বা ডিরেক্টর লেভেলের উচ্চপদ রয়েছে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এই পি-৩ পজিশনে নিযুক্ত হয়েছেন। তার পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে এই পদটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, অতীতে আমরা যে ধরনের রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়ন কিংবা প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্তির সংস্কৃতি দেখেছি, তিনি কিন্তু সেভাবে যাননি। তিনি বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলেরও কোথাও সম্পৃক্ত হননি। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব পেশাগত সক্ষমতা ও যোগ্যতায় বিশ্বদরবারে জাতিসংঘের মতো সংস্থায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে আমাদের বরং সাধুবাদ জানানো উচিত। এই ধরনের সফলতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের একটি ঐতিহাসিক সফর শেষে সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি বহরে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সফর করেন। তিনি জানান, "আমরা টার্কিশ এয়ারওয়েজে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাই এবং ফেরার সময় এমিরেটস এয়ারলাইন্সে দেশে ফিরে আসি।" আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ জন, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এর বাইরে সাধারণত যে ধরনের অত্যাবশ্যকীয় নিরাপত্তা কর্মী, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা থাকেন, কেবল তারাই উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও পুরো সফরজুড়ে এই চার দিনে প্রায় ৫০টির মতো পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮০টিরও অধিক বিভিন্ন ধরনের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আমাদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ততার কারণে প্রতিনিধিদলের বড় একটি অংশ নিয়ে দেশে ফিরে এলেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি টিম ক্যালিফোর্নিয়ায় গেছেন। সেখানে টেকনোলজি, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে জাতিসংঘের বাইরে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁদের ধারাবাহিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও জাতিসংঘে অত্যন্ত ব্যস্ত ও কার্যকর সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি ৮টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ৩টিতে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘ উইমেন লিডার্স প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ করে তিনি বিশ্ব নারী নেতৃত্বের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। ওয়ার্ল্ড ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডিদের উপস্থিতিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দর্শনের কথা উপস্থাপন করেন। এছাড়া মিডওয়াইফারি সাইড ইভেন্টে একজন চিকিৎসক হিসেবে তার মূল্যবান সমাপনী বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশ্বের শীর্ষ ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ে নির্বাচিত একটি সরকারের সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যা গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক বিশাল ও বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে তিনি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন, সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে দেশকে উজ্জ্বল করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে প্রতিটি দেশের সঙ্গে আমরা সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব চাই, বিনিয়োগ চাই এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ চাই; যার মাধ্যমে আমরা দেশের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে পারব, স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে পারব এবং প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই সফরটি ছিল আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার এক দৃঢ় প্রত্যয় উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের হাত ধরে শুধু বাংলাদেশের ভেতরেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বড় ভূমিকা পালন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা দেখেছি বিশ্বসভায় বাংলাদেশ কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদা, আত্মপ্রত্যয় এবং আত্মপরিচয় প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রা।

আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপের পর্যটন খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের নতুন বাজার অনুসন্ধানের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


মালদ্বীপের পর্যটন খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের নতুন বাজার অনুসন্ধানের আহ্বান

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মালদ্বীপের সম্প্রসারিত পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে নতুন বাজার এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম, যিনি দেশটিতে নিযুক্ত আছেন।

আজ মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, মালদ্বীপ এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স সার্ভিসেস (এমইসিএস)-এর আয়োজনে হুলহুমালের সিনথেটিক ট্র্যাকে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীয় ‘হোটেল এশিয়া ও ইন্টারন্যাশনাল কুলিনারি চ্যালেঞ্জ’ পরিদর্শনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে ২৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কুলিনারি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই বৈশ্বিক প্রদর্শনী আজ শেষ হচ্ছে।

হাইকমিশনার প্রদর্শনীটির বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী, হোটেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রায় ৪৬ হাজার প্রবাসীকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কল্যাণমূলক সেবা সরাসরি প্রদান করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে ৫৫০টিরও বেশি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-মালদ্বীপ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীদের অবদানে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৩৭৯.৫ কোটি টাকা) এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৪১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৭৩৭.৯ কোটি টাকা) রেমিট্যান্স এসেছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে বর্তমান সরকারের দূরদর্শি কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই দেশের বাণিজ্য কূটনীতির অংশ হিসেবে গত এক বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় দেড় থেকে দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি বেড়েছে। এই বাণিজ্য বৃদ্ধিতে গতি আনতে ইতোমধ্যে ২০টি বাণিজ্য-সহায়ক বৈঠক এবং ৩০টি বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাইকমিশনার বলেন, ‘মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পের বিকাশ কেবল বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থানই তৈরি করছে না; বরং আমাদের দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক, উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে মালদ্বীপের পর্যটন চাহিদার সমন্বয় ঘটানো গেলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নতুন মাত্রা পাবে।’

তিনি বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয়, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, আতিথেয়তা সরঞ্জাম, রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল, হস্তশিল্প এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবা খাতে সম্ভাবনা অনুসন্ধানের জন্য প্রবাসী ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান।

পেশাগত কাজের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশ হাইকমিশন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করা ‘হোটেল এশিয়া’ বর্তমানে মালদ্বীপের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজীব আহসান বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


রাজীব আহসান বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আকস্মিকভাবে বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এমপি।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি বন্দর পরিদর্শনে এসে বন্দরের ওজন স্কেল, শেড/ইয়ার্ড, স্ক্যানার, যাত্রীসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রমসহ বন্দর কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এই সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও জিরো পয়েন্ট এলাকার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এরপর বন্দরের প্রশাসনিক ভবনে বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে বেনাপোল স্থলবন্দর অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ইতোমধ্যে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

পরে প্রতিমন্ত্রী বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্ট, ইমিগ্রেশন এলাকা এবং বন্দরের বিভিন্ন শেড পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বন্দরের কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

এই পরিদর্শনের সময় বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক মো. রুহুল আমিন, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জকসুর উদ্যোগে জবিতে রক্তদাতা খুঁজতে ‘JnURedDrop’ অ্যাপ চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


জকসুর উদ্যোগে জবিতে রক্তদাতা খুঁজতে ‘JnURedDrop’ অ্যাপ চালু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনের সময় দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে দেওয়ার জন্য ‘JnURedDrop’ নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তুষার শেখ এতে সহযোগিতা করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম।

‘JnURedDrop’ অ্যাপের মাধ্যমে রক্তের গ্রুপ এবং অবস্থান অনুযায়ী রক্তদাতার তথ্য খোঁজার পাশাপাশি বর্তমানে রক্তদানে প্রস্তুত দাতাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, জবি শিক্ষার্থীরা অ্যাপটিতে নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করে রক্তের গ্রুপসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন।

নিবন্ধিত রক্তদাতাদের মধ্যে থেকে রক্তের গ্রুপ এবং এলাকার ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় দাতার তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, কোনো দাতা বর্তমানে রক্তদানে প্রস্তুত আছেন কি না, সেটিও জানা যাবে।

জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীদের জরুরি সময়ে রক্তদাতা খোঁজার প্রক্রিয়া সহজ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যাপটিতে রক্তের গ্রুপ ও এলাকা অনুযায়ী দাতা খোঁজার সুবিধা রাখা হয়েছে। জরুরি রক্তের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা এবং ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।"

অ্যাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবিব মোহাম্মদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আকিব হাসান এবং আব্দুল্লাহ আল ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁচতে চান চবি শিক্ষার্থী মোশারফ, প্রয়োজন সবার সহযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


বাঁচতে চান চবি শিক্ষার্থী মোশারফ, প্রয়োজন সবার সহযোগিতা

মোশারফ হুছাইন, বয়স ২৬ বছর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে তিনি প্রায় এক বছর ধরে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তার পরিবারের প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি ছয় ডোজ কেমোথেরাপিও গ্রহণ করেছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল এখনও মেলেনি। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থসংকটের কারণে তা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কারণে মোশারফ ও তার পরিবার সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

মোশারফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর (এমএ) পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছেন। তার শিক্ষার্থী আইডি নম্বর ১৯১০৭০৩৯।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোশারফ সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত। গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে তিনি ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে মোট ছয় ডোজ কেমোথেরাপি নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় তার পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই এবং চিকিৎসার বিপুল ব্যয় মিলিয়ে মোশারফের পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। আর্থিক সংকট এতটাই প্রকট হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, মোশারফের উন্নত চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে আরও অর্থের প্রয়োজন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এতদিন চিকিৎসার খরচ বহনের চেষ্টা করলেও এখন তাদের একার পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।

এর আগে, দীর্ঘ তিন বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনিক দাস (২৪)। তিনি গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চাঁদপুরে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

অর্থের অভাবে মোশারফের চিকিৎসা যেন থেমে না যায়, এ প্রত্যাশায় তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পরিবার। সামর্থ্য অনুযায়ী সবার ছোট-বড় সহযোগিতাই তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করতে পারে।

আর্থিক সহযোগিতা তথ্য—

বিকাশ / নগদ: +880 1869-561939 (পার্সোনাল)— রোগী

A/N: 20507770232337809, Islami Bank, Ilishia Branch.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%