০৭:৫১ পি.এম
ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবারের পর শনিবারও চরম বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই দুই দিনের মধ্যে পরপর হুমকি বার্তা মেলায় বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার দুপুরে থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে আসা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি আন্তর্জাতিক বিমানের শৌচাগারের আয়নায় বিমানে বোমা রাখা আছে মর্মে একটি হুমকি বার্তা দেখা যায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দীর্ঘ এবং ব্যাপক তল্লাশির পর সন্দেহজনক কোনো বিস্ফোরক বা বস্তুর সন্ধান মেলেনি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি এবং চরম বিভ্রান্তি ছড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যেই কেউ এই ভুয়া হুমকি বার্তাটি রেখে গেছে।
বিমানবন্দর এবং নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, দুপুর ৩টার কিছু সময় পর ফুকেত থেকে আসা ইন্ডিগোর ফ্লাইটটি কলকাতায় অবতরণ করে। সব যাত্রী নিরাপদে নেমে যাওয়ার পর বিমানটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কেবিন পরিষ্কার করতে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় শৌচাগারের আয়নায় উদ্বেগজনক বার্তা—‘বম্ব ইনসাইড এয়ারক্র্যাফ্ট’ (বিমানের ভেতরে বোমা রয়েছে)—চোখে পড়ে।
আরও পড়ুন: ৯ মাসে মালয়েশিয়ার রপ্তানি ৩৮৪.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে
বার্তাটি নজরে আসার সাথে সাথে বিমানবন্দরজুড়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়। কালবিলম্ব না করে বিমানটিকে রানওয়ে থেকে দ্রুত একটি নিরাপদ ‘আইসোলেশন বে’-তে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানবন্দরে মোতায়েন কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) বিশেষ দল এবং বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডকে জরুরি তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিমানের প্রতিটি কোণায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তল্লাশি চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের বিস্ফোরক মেলেনি।
এর আগে শুক্রবারও একই কায়দায় এই বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল। সেদিন টার্মিনালের একটি নারী শৌচাগার থেকে একটি হুমকি-চিরকুট উদ্ধার করা হয়, যেখানে বোমা রাখার দাবি তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটিও ভুয়া তথ্য হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায়।
পরপর দুদিন একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে শৌচাগারে হুমকি বার্তা ছড়ানোর ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন ভারতীয় গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, এই বিভ্রান্তি সৃষ্টির পেছনে কোনো সুসংগঠিত চক্রের হাত থাকতে পারে। কে বা কারা বিমানটিতে এই বার্তা লিখেছে, তা শনাক্ত করতে যাত্রীদের সম্পূর্ণ তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিমানবন্দরের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
আরও পড়ুন: হুথি হামলার ভয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন