০৯:৫৯ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক শিথিল করার পর সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিশ্ববাজারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলার ৯৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমে ১০৭ ডলার ৯২ সেন্টে নেমে আসে। এর আগে শুক্রবার লেনদেন শেষে, গত ১৯ মে’র পর এ তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও কমেছে। সোমবার ব্যারেলপ্রতি এ তেলের দাম ৮৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ১০০ ডলার ৫৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার লেনদেন শেষে, এর দাম গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল।
আরও পড়ুন: আলবার্টায় কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত
গত শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এই আদেশের মাধ্যমে গ্রাহাম আইনের আওতায় আরোপিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক শিথিল করা হয়। গত মাসে তিনি এই আইনে সই করেছিলেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ চলমান থাকার কারণে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে কয়েকজন আইনপ্রণেতার উদ্যোগে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে, তা মূল্যায়ন করতে ট্রাম্প সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় নেবেন।
এর আগে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির আওতায়, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করবে। ট্রাম্পের ঘোষণার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হবে। পরে প্রতি মাসে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৭৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ ইউক্রেনের ক্ষতি করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছায়। গত মে মাসের পর এই প্রথম তেলের দাম এতটা বেড়েছিল। জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এর অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন: সৌদির জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করায় এবং সাম্প্রতিক দর বৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ার কারণে স্বল্প মেয়াদে তেলের দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা কমেছে।
তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় দেশটি থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী বার্তা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওয়াটারার বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিস্তারিত তথ্য ও এর মেয়াদ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে বলে নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহে সাত দিনের গড় হিসাবে প্রতিদিন তেল সরবরাহের পরিমাণ কমে প্রায় ৮৫ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন সরবরাহের পরিমাণ ছিল দুই কোটি ব্যারেলের বেশি।
কেপলার আরো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি হামলার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে মিসর জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চেন্নাই রুটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট সপ্তাহে ৫ দিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন