১১:১৭ পি.এম
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, বিজেপি ‘চুরি করে বাংলা দখল করেছে। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে এবং খুব শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাখিবন্ধন ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরেকটি ‘পরিবর্তন’ আসন্ন।
মমতা বলেন, চুরি করে বাংলা দখল করেছে। কিন্তু চিন্তা করবেন না। বাংলায় আবার পরিবর্তন আসবে। খুব শিগগিরই তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে। আর বিজেপির লোকেরাই বিজেপির জবাব দেবে।
আরও পড়ুন: ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ৮ বছরের পুরোনো মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
বিজেপির বিরুদ্ধে পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করার অভিযোগও করেন তিনি। মমতার দাবি, দলটির সঙ্গে যুক্ত ‘লুম্পেন’ বা উচ্ছৃঙ্খল লোকজন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছে।
তিনি বলেন, ঈশ্বর বলে একটা জিনিসও আছে। ওরা বলেছিল, আমাকে বের হতে দেওয়া হবে না। দেখি ওদের কতটা সাহস আছে। শুধু পেশিশক্তি দিয়ে সবকিছু চালানো যায় না।
মধ্য কলকাতায় টিএমসিপির প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি কর্মসূচির আয়োজনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই মমতার এসব মন্তব্য আসে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, সড়কের এক পাশে সভা আয়োজনের কথা ছিল এবং পাশের লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে জনসমাগমের কারণে যান চলাচলের লেনে যানজট তৈরি হলে মমতা ব্যানার্জী তার সভা থামিয়ে পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আলবেনিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ: সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন
পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, অনুষ্ঠানটি ব্যাহত করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
টিএমসিপির কালিঘাটপন্থি অংশের মূল কর্মসূচি আয়োজন করা হয় ক্যাথেড্রাল রোডে। অন্যদিকে, ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশ তাদের কর্মসূচি করে এসপ্ল্যানেডের রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে, দুই পক্ষের কাউকেই মায়ো রোডে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থাপনা নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা ব্যানার্জী। তিনি বলেন, তার এলাকার সড়কগুলো একটি গাড়িবহরের চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। মূল প্রতিবেদনে ওই গাড়িবহরকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত
মমতা বলেন, বাবু বের হয়েছেন, তাই রাস্তা বন্ধ। ৪০টি গাড়ির কনভয় চলছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে আমার পাড়ার সব রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। বাবু কখন যাবেন? আমরা কি তাকে স্যালুট করবো? স্যালুট করতে হলে নবান্নে গিয়ে করুন।
তিনি আরও বলেন, নবান্ন তার সরকারের আমলেই তৈরি করা হয়েছিল। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কাজও তাদের সরকারের সময়ে শুরু হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া সতর্কবার্তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জী।
কুণাল ঘোষের করা মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে অভিষেক বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা।
আরও পড়ুন: উত্তরায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের ওপর হামলা, ৭ পুলিশ আহত
অভিষেক ব্যানার্জী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সুবিধা নিয়েছেন ও শেষ সময়ে নিজেদের রক্ষা করতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘বিসি’ বা ‘বালিশ-চাটা’ গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন