শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৬ পি.এম
সাতক্ষীরা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলা প্রশাসন এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আজ ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে র্যালি ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে, যা জেলা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে সহায়ক হবে।
শনিবার সকালে শহরের ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ প্রাঙ্গণ থেকে সচেতনতামূলক একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।
এছাড়া সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন তালুকদার, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, উপ সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রবিউল আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ পৌরসভার সহযোগিতায় রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের সাথে নিয়ে শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে পথচারী, সাধারণ নাগরিক ও যানবাহন চালকদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সংবলিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ এসময় বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।" তিনি উল্লেখ করেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে আমাদের নিজ নিজ আঙিনা ও চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন যেন কোথাও পানি জমে না থাকে। জেলা প্রশাসক বলেন, "আমাদের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে সাতক্ষীরা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় বিস্ফোরণের ফলে একটি আবাসিক ভবন ধসে গিয়ে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার দেশটির ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় এথেন্সের প্লাকা এলাকায় দুই তলা ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে, যার পর ভবনটি ধসে পড়ে। এটি একটি জনপ্রিয় এলাকা, যেখানে অ্যাক্রোপলিস ও জিউসের মন্দিরের নিকটবর্তী অবস্থান রয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে তিনজন আহত হয়েছেন এবং আশপাশের বেশ কিছু বাড়ি, দোকান ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর থেকে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন
ইসলাম মানুষকে স্বপ্ন বড় দেখতে শেখায়
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের কারণে ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পেঁচানো ধাতব অংশ, ভাঙা বারান্দা এবং ঝুলে থাকা কংক্রিটের টুকরা পড়ে রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা একটি ফ্ল্যাটে থাকা এক বয়স্ক দম্পতি এবং অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকা চার পর্যটককে খুঁজছেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিখোঁজ চার পর্যটকের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় এথেন্স বিমানবন্দর থেকে ওই চার পর্যটকের একটি ফ্লাইট ধরার কথা ছিল। সেজন্য তাদের ওই দিন থাকার জায়গা ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর তাদের নিখোঁজ হিসেবে ধরে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন
মিরপুরে ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
প্লাকা এথেন্সের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া বাসা রয়েছে। এই কারণে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস শুক্রবার মন্তব্য করেছেন, বিস্ফোরণের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং কোনো একটি জায়গায় বড় ধরনের ভুল হয়ে থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ শহরের পুরনো ডিসি কোর্টের সামনে থেকে পুলিশ দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে, পুরনো ডিসি কোর্টের সামনের এলাকা থেকে এই বস্তু দুটি উদ্ধার করা হয়।
আরো পড়ুন
গ্রিসে বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১, নিখোঁজ ৫
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা দুটি বস্তু ককটেল কিনা তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কার্যক্রম শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রেলপথ অবরুদ্ধ থাকার পর রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন, ফলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রেলপথ অবরোধের কারণে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ‘রকেট মেইল’ ট্রেনটি চিলাহাটি স্টেশনে আটকে ছিল। অন্যদিকে খুলনা থেকে আসা ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিকে ডোমার স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। একাধিক ট্রেনের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘদিন অকার্যকর ও চালু না থাকায় সার্বিক যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসানের নেতৃত্বে রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করেন। এ সময় উত্থাপিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তারা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের অবরোধ তুলে নেন। এ সময় ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ডোমার থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুপুরের দিকে নীলফামারী রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয় এবং বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়া ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা আগাছা, লতাপাতা ও জঙ্গল পরিষ্কারের জন্য একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে।
সড়কের পরিবেশ সুন্দর রাখার পাশাপাশি পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রায়গঞ্জ পৌরসভার লক্ষ্মীকোলা ব্রিজ এলাকা থেকে ভাতারিয়া সড়কের দু’পাশে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ভিপি আইনুল হক।
উদ্বোধনের পর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সড়কে নেমে আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে অংশগ্রহণ করেন।
এই কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সামছুল ইসলাম, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব দুলাল হোসেন খান, রায়গঞ্জ উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি লেলিন খান, সাধারণ সম্পাদক মো. প্যারিস খান, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ বিএনপি, যুবদল ও কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক মন্তব্য করেন, "একটি সড়ক কেবল যানবাহন চলাচলের মাধ্যম নয়, এর চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের পাশে ঝোপঝাড় বেড়ে উঠলে যেমন সৌন্দর্য নষ্ট হয়, তেমনি পথচারী ও চালকদের দৃষ্টিসীমা ব্যাহত হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। জনস্বার্থেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লক্ষ্মীকোলা ব্রিজ থেকে ভাতারিয়া সড়কের দু’পাশে দীর্ঘদিন ধরে আগাছা ও ঝোপঝাড় জমায় হাঁটাচলা ও যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছিল। এই উদ্যোগের ফলে সড়কের পাশের অংশ দৃশ্যমান ও পরিষ্কার হওয়ায় তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তবে একদিনের কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ না রেখে এটি নিয়মিত বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এলাকাবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ