ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল শতবর্ষী বটগাছ


প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল শতবর্ষী বটগাছ

শেরপুরের সদরের ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন যে প্রাচীন বটগাছটি বিক্রির উদ্যোগ ছিল, তা এখনো বন্ধ হয়েছে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে। পরিবেশকর্মী, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিবাদের কারণে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে গাছটি সংরক্ষণে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরের সময় সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের ছোট ঝাউয়ের চর নামাপাড়া এলাকার পুরোনো ঈদগাহ মাঠে এখানে অবস্থিত শতবর্ষী বটগাছটি।

সূত্র জানায়, মাঠের পাশের গাছটির বিক্রি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল সংস্কারের অংশ হিসেবে। ঈদগাহ কমিটির সদস্য শাহরিয়ার শামীম তার ফেসবুক পেইজে বিষয়টির উপর একটি পোস্ট দিলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর বিভিন্ন মহল থেকে গাছটি বিক্রি না করার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

পরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। নির্দেশনার ভিত্তিতে ইউএনও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাছ বিক্রি এবং কাটার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করেন। উল্লেখ্য যে, ঈদগাহ মাঠ এবং বটগাছটি প্রায় আট শতক জমির ওপর অবস্থিত এবং এটি ওয়াক্ফ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত।

সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান) এর সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক মনি বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপ্রধান তারেক রহমান তার উদ্যোগে সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তাই শতবর্ষী একটি গাছ বিক্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।’

তিনি বলেন, ‘এটি পরিবেশ সংরক্ষণের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ায় আমরা তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন একইভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যেকোনো অবস্থাতেই বটগাছটি কাটা যাবে না। কমিটির সদস্যরাও গাছটি সংরক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছটির বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি রাখা হবে।’

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘যখন বিষয়টি আমার নজরে আসে, তখন দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয় এবং গাছটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি নেই, আলভারেজ ও লাউতারোকে নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ এম


মেসি নেই, আলভারেজ ও লাউতারোকে নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি একাদশ নিয়ে বড় চমক দিয়েছেন। মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বিশ্রামে রাখার এই ম্যাচে আক্রমণভাগে কোনো রকম ছাড় দিতে রাজি নন আলবিসেলেস্তে মাস্টারমাইন্ড।

জর্ডানের বিপক্ষে একাদশে জুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজকে একসঙ্গে সুযোগ দিয়েছেন। সাধারণত এই দুই স্ট্রাইকারের যেকোনো একজনকে মাঠে হাজির রাখা হলেও, আজ ডালাসের মাঠে ‘ডাবল অ্যাটাক’ রণকৌশল নিয়ে আসছেন স্কালোনি।

বিশ্বকাপের এই ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনার অফিশিয়াল শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছেন কোচ। পোস্টের নিচে অবশ্যই অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

রক্ষণভাগে ওটামেন্ডির অভিজ্ঞতার সাথে থাকছেন তাগলিয়াফিকো, সেনেসি এবং সিমিওনে। মাঝমাঠের দখল ধরে রাখার দায়িত্ব পড়েছে লো চেলসো, পারেদেস এবং পালাসিওসের ওপর। তাদের সাথে মাঝমাঠে তরুণ রক্তের অংশ হিসেবে জাদুকরী পাসিংয়ের জন্য নিকো পাজ রয়েছেন। আর সবার নজর কেড়ে নেওয়া আক্রমণভাগের দুই ফলার দ্বায়িত্বে থাকছেন জুলিয়ান আলভারেজ এবং ইন্টার মিলান অধিনায়ক লাউতারো মার্টিনেজ।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, মার্কোস সেনসি, নিকোলাস ওতামেন্ডি, সিমিওনে, জিওভানি লো সেলসো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এক্সেকুয়েল পালাসিওস, নিকো পাজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ এম


হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা

হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই ছাত্র।

কুমিল্লার এক নিম্ন আয়ের পরিবারে জন্মগ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পড়াশোনার খরচ মেটাতে প্রথমে টিউশনি শুরু করেন, পরে একটি অনলাইন কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম স্কুল অব এক্সিলেন্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে থাকাকালীন হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

এটাই তার রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য। তিনি সুযোগসন্ধানী, যখন যেমন প্রয়োজন তেমন আকার ধারণ করেন। নিজে ইউটিউবে কাজ করে ভিউ ভালো বোঝেন। মানুষের আকর্ষণ করার জন্য তিনি যা প্রয়োজন তাই করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সবাইকে আকৃষ্ট করতে তিনি ১০ নম্বর জার্সি পরিধান করে রাস্তায় নামেন, যাতে সবাই তাকে সহজে চিনতে পারে। এভাবেই তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান না রেখেও বড় নেতা বনে যান।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক নেতার অভিযোগ, মাঠে আন্দোলনের চেয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় এবং নেতাদের সঙ্গে দেনদরবারেই বেশি সময় কাটান হাসনাত। দুই বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্ববিরোধিতায় ভরা। আইনশৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠার কথা বললেও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মব সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন, আবার সংবাদপত্রে সমালোচনা হলে মবের ভয় দেখান।

তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন অথচ এলাকায় তার বিরুদ্ধে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। হাসনাতের রাজনীতির প্রধান উৎস মবসন্ত্রাস। প্রতিপক্ষকে হুমকি দেয়ার মাধ্যমে রাজনীতির মাঠ দখল করাই তার কৌশল। হাসনাতের মবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়, আবার নিজের স্বার্থে তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এই হলো বিতর্কিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর চরিত্র। বাইরে সাদা, ভিতরে কালা।

২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপি একটি সংবাদ প্রকাশ করে যাতে অভিযোগ করা হয় সময় টিভিতে কর্মরত পাঁচ গণমাধ্যমকর্মীর একসাথে চাকরি যাওয়ার ঘটনায় হাসনাত আবদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা ছিল। সিটি গ্রুপের ও সময় টিভির পরিচালক মোহাম্মদ হাসান বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেন যে, হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১৫ জনের একটি দল তাদের অফিসে গিয়ে কয়েকজনকে চাকরি থেকে বাদ দিতে চাপ দিয়েছিল। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ সিটি গ্রুপে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও চাপ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে হাসনাত বাহিনী সিটি গ্রুপকে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিলে তারা আর কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২৫ সালের ২১ মার্চ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী সম্পর্কে সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর অপচেষ্টা করেন। এটি একটি চরম অন্যায় এবং অপরাধ। কিন্তু ইউনূস সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত হাসনাতের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পোস্ট ঘিরে আলোচনার পর নেত্র নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মন্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, হাসনাতের বক্তব্য ‘অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার’। এভাবেই গুজব আর অপতথ্য ছড়িয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছেন হাসনাত।

হাসনাতের বিরুদ্ধে কোনো গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করতেও ভয় পায়। কারণ, হাসনাতের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেই ওই সংবাদপত্রকে আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা ভারতের দালাল ট্যাগ লাগিয়ে মবের হুমকি দেওয়া হয়।

গেল বছরের এপ্রিলে ‘বিলাসী জীবনসহ নানা প্রশ্নের মুখে হাসনাত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। এই শিরোনামের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম আলোকে ফেসবুকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন হাসনাত। তিনি বলেন, দিল্লি থেকে লিখে দেওয়া নিউজ করে যদি ভাবেন হাসনাত আবদুল্লাহকে থামাতে পারবেন তাহলে আপনারা এখনও ভুলের জগতে আছেন। হাসনাতের হুমকিতে প্রথম আলো সংবাদটি মুছে ফেলে।

এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও এখন তিনি প্রচণ্ড আওয়ামী লীগ বিরোধী। তার আন্দোলনকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে। প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করলেও গোপনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগের কথা ওপেন সিক্রেট। নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিএনপি প্রতিরোধে ‘আওয়ামী দোসর’দের সাথে সমঝোতা করছেন হাসনাত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, হাসনাতের ছত্রছায়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হচ্ছে।

নিজের প্রয়োজনে যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাল মিলাতে পারেন তার বড় উদাহরণ ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের কাট্টলি এলাকার মনজুর আলমের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাওয়া হাসনাত আবদুল্লাহ। এ খবর পাওয়ার পর জিলার যোদ্ধা পরিচয়ে কিছু মানুষ বাসার সামনে জড়ো হয়। পরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত জনতা হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করে। অনেকেই বলেন, মনজুর আলম ‘আওয়ামী লীগের দোসর’; হাসনাত আবদুল্লাহ নিজে জুলাই যোদ্ধা, যিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন, তাহলে তিনি কেন মনজুর আলমের বাসায়, সেটিও জানতে চান তারা। পরে হাসনাতের ঘনিষ্ঠরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

দুর্নীতি বিরোধিতায় হাসনাতকে সব সময় সোচ্চার দেখা যায়। গত বছরের এপ্রিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। গণমাধ্যম কর্মীদের হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা কিছু অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে এসেছি। আমাদের অভিযোগগুলো আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভেরি কনফিডেনশিয়াল’ (অতিগোপনীয়)। কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হাসনাত বলেন, ‘এটা ভেরি কনফিডেনশিয়াল। এখন কনফিডেনশিয়াল বিষয় বলে দিলে তো আর কনফিডেনশিয়াল থাকল না। তা ছাড়া অপরাধীরা সতর্ক হবে।’ পরে জানা যায়, হাসনাতের দুদক যাওয়ার পেছনে ছিল বড় চাঁদাবাজির পরিকল্পনা। একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দিয়ে তাদের আলটিমেটাম দেওয়া হয়, কিন্তু সময়ের মধ্যে শিল্পগোষ্ঠী হাসনাতদের মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে বিদেশে চলে যায়। হাসনাতের অভিযোগের কি হলো? জানতে চাইলে দুদকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক দিন পরই তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

হাসনাত মাত্র তিন মাসের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে এলাকায়।

দেবিদ্বার উপজেলার দক্ষিণ মুইঙ্গলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দাপূর্ব পাড়া বাইতুল ফালা জামে মসজিদের ঈদগাহ পাকা করার একটি টেন্ডার আসে। সেখানে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় একটি মসজিদের ঢালাই কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০ ফুট ইন্টু ৪০ ফুট পাকা কাজের একটি টেন্ডার ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা দিয়ে করা হয়েছে। স্থানীয় রাজমিস্ত্রি অভিযোগ করে বলেন, এ কাজ সর্বাধিক ৩ লাখ টাকাতেই করা সম্ভব। প্রায় ৯ লাখ কোথায় গেল? সেই সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন এলাকাবাসী।

তাদের মতে স্থানীয় এনসিপি নেতারা এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

২০২৪ সালে বন্যার ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ হিসাব দিতে পারেননি হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই সময় বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের জন্য জনগণের কাছে টাকা নেয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই টাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের প্রেমু গ্রামে কোনো সোলার লাইন না বসিয়েই খরচ দেখানো হয়েছে। প্রেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সোলার লাইটটি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা রাজীব মুন্সির বাজেটের। এটাকে হাসনাত আবদুল্লাহ তার কাজ হিসেবে দাবি করেছেন। তাহলে সোলারের টাকা কোথায় গেল? দেবিদ্বারে সোলার লাইট বসানো নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর একাধিক অভিযোগ হয়েছে।

হোসেনপুর মধ্যপাড়া মোবারক মাস্টারের বাড়ির সামনে নেই কোনো সোলার বাতি। এমনকি, নন্দীবাড়ি সংযোগস্থলে হোসেনপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে তিন রাস্তার মোড়েও নেই কোনও সোলার বাতি। ফেসবুক এবং স্থানীয় অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, হাসনাত আবদুল্লাহর ক্যাডাররা তাদের হুমকি দিচ্ছে।

সম্প্রতি বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন দুই নেতার বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকার বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারাই বৈষম্য করেছেন’। এ দুই নেতার বিরুদ্ধে মোস্তাক মিয়ার বক্তব্যটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে।

এই বক্তব্য প্রচারে অভিযোগকারী মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই সময় তাদের মধ্যে উচ্চবাচ্য বিনিময় ঘটে। সেই কথোপকথনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেছেন, ‘২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে বিএনপিসহ সারা দেশের ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। অথচ কতিপয় ছাত্রনেতা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গায়ের জোরে অনিয়ম ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন।’

এটি হলো হাসনাত আবদুল্লাহ। বাইরে তিনি স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং গণতন্ত্রের কথা বলেন, কিন্তু ভিতরে বিশ্বাস করেন পেশিশক্তি ও মবে। ভিন্নমত দমন করতে বল প্রয়োগ করেন। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে সমালোচকদের হুমকি দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসনাতের কর্মকাণ্ড একসময়ের লক্ষ্মীপুরের তাহের, ফেনীর জয়নাল হাজারীর কথা মনে করিয়ে দেয়। রাজনীতিতে তাহের এবং হাজারীর মতো গডফাদাররা বিদায় নিয়েছে, এখন নতুন গডফাদার তৈরির চেষ্টা চলছে?

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ এম


যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনার পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির সিরিক শহর, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে বিমান হামলা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা উপসাগরীয় দেশের মার্কিন একাধিক স্থাপনায় পাল্টা ড্রোন এবং মিসাইল ছুড়েছে।

সান্ধ্যকাল ২৮ জুন তারিখে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনের সূত্র মতে, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের হামলা চালিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর, এটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং এর পরবর্তিতেই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

ইরানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে রোববার ভোরে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সেন্টকম একটি বিবৃতিতে বলেছে, 'ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, নতুন হামলাগুলো হলো 'বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব'। এতে ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণ এবং মাইন স্থাপন সংক্রান্ত স্থাপনাসমূহকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'আমরা যে কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, প্রয়োজনে তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করব।'

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উপর হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসি দাবি করেছে যে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার পোর্ট সালমানে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পর পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, 'শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়া।'

এছাড়াও বিবৃতিতে আইআরজিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের হাতে রয়েছে এবং তারা বলেছেন, 'এখন থেকে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অতীতের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ এম


পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়া

পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েও কলম্বিয়া প্রত্যাশিত গোলের দেখা পেল না। অপরদিকে, কলম্বিয়ার একের পর এক আক্রমণ প্রতিরোধ করে কোনোমতে ড্র করেছে রোনালদোর পর্তুগাল।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্র হয়েছে পর্তুগাল ও কলম্বিয়ার ম্যাচ। শেষ ৩২-এ কলম্বিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে, এবং রানার্স আপ হয়ে পরের রাউন্ডে গিয়েছে পর্তুগাল।

শেষ ৩২-এ কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ঘানা। আগামী ৪ জুলাই হবে এই ম্যাচটি। অপরদিকে, রানার্স আপ হওয়ার নকআউটে ক্রোয়েশিয়াকে পেয়েছে পর্তুগাল। ৩ জুলাই সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

ম্যাচটি গোলশূন্য হলেও কলম্বিয়ার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ৫৫ শতাংশ বল দখলের পাশাপাশি, তারা প্রতিপক্ষের গোল পোস্টে ২৪টি শট নিয়েছিল। তবে, ভাগ্য তাদের সহায়ক ছিল না, ফলে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি গোলের দেখা পেল না।

আরও পড়ুন: উজবেকিস্তানকে হারিয়ে গ্রুপের তৃতীয় হলো কঙ্গো।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে একটি গোল হয়েছিল কলম্বিয়ার, কিন্তু তা ভিএআরের ফলে বাতিল হয়ে যায়। এ কারণে পর্তুগাল একটি বড় শ্বাস নিতে পেরেছে।

এদিকে, পর্তুগালও আক্রমণ করেছিল। তবে তাদের আক্রমণে অতটা ধার ছিল না। শেষের দিকে রাফায়ের লিয়াও একবারের জন্য গোল পেয়েছিল না। রোনালদো পুরো ম্যাচ খেলা সত্ত্বেও তার পারফরমেন্স বিশেষ নজরকাড়া ছিল না। ব্রুনো ফের্নান্দেজ ও ভিতিনহাও নিজেদের জাত চেনাতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%