বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৩৪ এম
জাপান ভারতীয় উপমহাদেশে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের মহড়া পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ লক্ষ্যে সামরিক কর্মকর্তাদের ভারত সফরের জন্য পাঠানো হয়েছে, জানিয়েছেন জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মাসায়োশি আরাই।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরাই উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমন্বয় সাধনের জন্য জাপানের কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। এর আগে, জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অক্টোবরের মাঝামাঝি ভারতে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র ও গোলাবর্ষণের প্রশিক্ষণক্ষেত্র পরিদর্শন করেছেন।
তবে, এখনো কোনো ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নির্বাচন করা হয়নি এবং মহড়া আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়নি। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জাপানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রধান বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর পাল্লার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে, জাপানের ভেতরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণক্ষেত্রের পাশাপাশি বিদেশের প্রশিক্ষণসুবিধাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাপানের নতুন টাইপ-২৫ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ২০২৬ সালের মার্চে কুমামোতো অঞ্চলে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, যার পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল প্রায় ২০০ কিলোমিটার।
গত ২৫ অক্টোবর, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’-এর সময়, জাপানের সেনারা টাইপ-২৫ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণব্যবস্থা স্থাপন ও প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। তবে, ওই সময় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।
জাপান এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের গোলাবর্ষণ মহড়া পরিচালনা করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বালিকাতান’ মহড়ায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেয় দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী, যেখানে টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ভারতে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে, জাপানের বিদেশে সামরিক মহড়া পরিচালনার বিকল্প বাড়বে এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও শক্তিশালী হতে পারে। ভারত ও জাপান ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই দেশ কোয়াডের সদস্য হিসেবেও কাজ করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামুদ্রিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে, আলোচনাটি এখন পর্যন্ত ভারত ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এটিকে কোয়াডের কোনো ঘোষিত সামরিক মহড়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
ছোট আকারের আক্রমণাত্মক ড্রোনের প্রশিক্ষণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বেতার তরঙ্গের ব্যবহার, প্রশিক্ষণের ধরন, উপযুক্ত স্থান, পরিচালনাপদ্ধতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এখনো সম্ভাব্য মহড়ার স্থান বা সময় ঘোষণা করা হয়নি। জাপানের অস্ত্রের পাল্লা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর কার্যকর প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে বের করা দেশটির সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৩ দিনের একটি যৌথ মিশনে অংশগ্রহণ করেছে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ সালের ‘কোয়াড-অ্যাট-সি শিপ অবজারভার মিশন’-এর আওতায় চার দেশের কর্মকর্তারা এই কার্যক্রমে অংশ নেন।
অস্ট্রেলিয়ার বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তাদের সাথে অন্যান্য তিন দেশের প্রতিনিধিরা ভারতীয় কোস্টগার্ডের একটি জাহাজে যাত্রা করেন। এই জাহাজটি ২৫ সেপ্টেম্বর চেন্নাই থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৭ অক্টোবর পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টলে পৌঁছায়।
যাত্রাপথে চার দেশের কর্মকর্তারা একত্রে প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার, সামুদ্রিক দূষণ মোকাবিলা, সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ এবং জাহাজে উঠে তল্লাশি চালানোর অনুশীলন।
এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল চার দেশের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া উন্নত করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল ব্রেট সন্টনার মন্তব্য করেন, "অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও বলেন, এই মিশনের মাধ্যমে চার দেশের কর্মকর্তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং পেশাগত সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ পেয়েছেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ সমুদ্রে বিভিন্ন ঘটনায় কার্যকরভাবে একত্রে কাজ করার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।
ভারতীয় কোস্টগার্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বর্ডার ফোর্সের মেরিটাইম বর্ডার কমান্ডের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দুই সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।
কোয়াডের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে চার দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে। এই মিশন সেই সহযোগিতাকে বাস্তব প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিহত স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার বাইতুর রব জামে মসজিদের পাশে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
মরহুমার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, পরে তার লাশ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তালতলা বেতমোর ইউনিয়নে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাদার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
এর আগে, গতকাল সকালে কক্সবাজার থেকে মুক্তার লাশ যখন আশুলিয়ায় পৌঁছায়, তখন সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে।
স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজদের বিষয়ে বারবার জানানো সত্ত্বেও যথাযথভাবে তল্লাশি না চালানোর কারণে লাশ উদ্ধারে বিলম্ব হয়েছে। তারা মনে করেন, যদি শুরু থেকেই সঠিকভাবে তল্লাশি চালানো হতো, তবে লাশটি আরো অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং মামলায় অন্তর্ভুক্ত ধারাগুলো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর ফুটবলে জয় ধরে রেখেছে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি (এসইউ)। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে তারা টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় জয় অর্জন করেছে, যা শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে এসেছে।
রাজধানীর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সোনারগাঁও ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে চলছিল সমান লড়াই।
বল দখল এবং আক্রমণ, কোন বিভাগেই কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। নির্ধারিত সময়ের পুরোটা জুড়ে চলছিল হাড্ডাহাড্ডি টক্কর, কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনো পক্ষই।
যখন ম্যাচটি নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে ম্যাচের মূল নাটকীয়তা। ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে সোনারগাঁওয়ের জন্য আসা সতীর্থের ফ্রি-কিক ফাঁকায় পেয়ে যান রাতুল শেখ।
তিনি হেডে চমৎকারভাবে বল জালে জড়িয়ে দলকে জয় এনে দেন। শেষ মুহূর্তের এই এক গোলেই ম্যাচের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে যায়।
টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাশেদের সপ্তম মিনিটের হেডে শক্তিশালী ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশকে (ইউল্যাব) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে এই রোমাঞ্চকর জয় সোনারগাঁওকে টুর্নামেন্টে টানা দুই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছে। পরপর দুই জয়ে তারা পূর্ণ ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ ‘বি’-তে নিজেদের অবস্থান আরো মজবুত করেছে। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে সমান লড়াই করেও শেষ মুহূর্তের ভুলের কারণে পয়েন্ট হারিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান ও এমআরএ’র সভাপতি ফখরুল ইসলামের মোবাইল ফোন দারুস সালাম থানা পুলিশের সদস্যদের দ্বারা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধাক্কাধাক্কি করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।
ঘটনাটি বুধবার রাতে মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল কলেজের সামনে ঘটে।
ফখরুল ইসলাম জানান, অফিসের কাজ শেষ করে গন্তব্যে যাওয়ার পথে তিনি ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান দেখতে পান ডেল্টা মেডিকেল কলেজের সামনে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে নেমে ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। তখন পুলিশের একজন সদস্য তার পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরপরই তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তিনি মোবাইল ফোনটি ফেরত দেননি। বরং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে ওই কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের কারণ কি এবং তিনি সাংবাদিকতা সম্পর্কে জানেন কি না।
ফখরুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশের গাড়ির চালক এসে তাকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন ছাড়াই ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ