শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫০ এম
মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। দেশের পূজামণ্ডপগুলো ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা ঘটে। এরপর থেকে দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেশির ভাগ মণ্ডপে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কিছু স্থানে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা তৈরির কাজ।
আজ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকালে ষষ্ঠীপূজা এবং সন্ধ্যায় দেবী দুর্গার বোধন অনুষ্ঠিত হবে। বোধন অর্থ হচ্ছে জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্তি। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, শরৎকালের দুর্গাপূজায় দেবীর বোধন করা হয়। প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রাবণবধের উদ্দেশ্যে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। অসময়ে এই পূজা করা হয়েছিল বলে এটি অকালবোধন নামে পরিচিত। বসন্তকালের পূজায় বোধনের বিধান নেই।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবারের দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। প্রতিবছর পাঁচ দিন পূজা হলেও এবারে ছয় দিন হবে। তিথির কারণে মহাসপ্তমীর পূজা শনিবার ও রবিবার দুদিন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার মহা অষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীদর্শন, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পূজার প্রস্তুতির পাশাপাশি এসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও কাজল দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পূজার আগে দেশের ৩৪টি স্থানে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় করা ১১টি মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরে চুরি এবং সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। নওগাঁয় ডাকাতির খবর পাওয়ার কথাও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বলা হয়, সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে— এটাই তাদের প্রত্যাশা। ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমাসহ সব ধর্মীয় উৎসব যেন ভয়ভীতি ছাড়াই উদযাপন করা যায়, এমন অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন।
এদিকে পূজা ঘিরে বিপণিবিতান ও স্থানীয় বাজারগুলোতেও বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনছেন ক্রেতারা। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে উৎসব উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গোৎসব বাঙালির সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনমেলার উপলক্ষ হিসেবেও পরিচিত। এবারের দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎসবে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি। সেই হিসাবে এবারে মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি। ঢাকা মহানগরে এবারে ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৬১টি।
পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন, সম্ভব হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ ৩১-এ বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, বাংলাদেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে কপ ৩১-এর কর্মপরিকল্পনা, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, কপ জলবায়ু কূটনীতির একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
তিনি ক্লাইমেট জাস্টিস এবং অ্যাকাউন্টিবিলিটি, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড, জাস্ট ট্রান্সজিশন এবং গ্রিন গ্রোথ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক আর্থিক তহবিলগুলো থেকে অনুমেয়, পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ অর্থছাড় নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, সার্কুলার ইকোনমি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। বিশেষভাবে, বাংলাদেশের টেকসই ও প্রাকৃতিক পচনশীল তন্তু পাটের সম্ভাবনা কপ ৩১-এ তুলে ধরা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞগণ কপ ৩১-এর বিভিন্ন আলোচ্যসূচিতে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে মতামত দেন।
উল্লেখ্য, আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল উচ্চপর্যায়ের সেগমেন্ট এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অংশগ্রহণ করবে।
এছাড়া, সম্মেলনে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক, পচনশীল ও টেকসই প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাটকে তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাটজাত পণ্য, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি এবং এর বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য এ সম্মেলনে একটি বিশেষ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। পূর্বে এই পরীক্ষা ১০ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে তখন পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছিল। এর ফলে হাজারো চাকরিপ্রত্যাশীকে ঢাকায় এসে ফিরে যেতে হয়েছিল।
শুক্রবার অনুষ্ঠেয় পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক রাতের বেলায় সচিবালয়ে থেকে সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করছেন।
প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সেজন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করছেন তিনি।
এছাড়া, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আশপাশের কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।
গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্থগিত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ১০ অক্টোবর ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগের লক্ষ্যে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বে প্রশ্নপত্র বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁসের বিষয়টি নজরে আসায় এই নিয়োগ পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিতকৃত এই নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ও সময় ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টায় প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় অবহিত করা হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয় তদন্তের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরেও বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেড ও ঔষধ সরবরাহ সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। তবে রোগীদের প্রতি সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের কথা জানালেন হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক। যেকোন সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি শেখ রিয়াজ এর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে বিস্তারিত ডেস্ক রিপোর্ট।
প্যাকেজ:
শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের মেডিসিন, শিশু ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। বর্তমানে শুধু ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি আছেন ৪৬ জনেরও বেশি। এছাড়া ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৬৫ জন। হামের ১৫ বেড ও ডেঙ্গুর ২৬ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই ভবনজুড়ে।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা ও ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। মেঝোজুড়ে গাদাগাদি করে চিকিৎসা চলায় ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মশারি না পেয়ে খোলামেলা বারান্দায় ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। অন্যদিকে শতাধিক ভর্তি রোগীর সেবায় নিয়োজিত মাত্র দুজন নার্স, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনেররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ডাক্তার পাই না, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বারান্দায় মশারি ছাড়া মশার কামড়ে শুয়ে থাকা লাগে, কোনো নার্সও টাইমমতো আসে না।"
ভক্সপপ : ১ হাসপাতালে ভর্তি ও তাদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই রাজধানী ঢাকা কিংবা বাহিরের জেলা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে শেরপুরে এসেছেন। তবে স্থানীয়ভাবেও বাড়ছে সংক্রমণ। চিকিৎসক ও জনবলসংকটে সেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন।
"এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে আলাদা আলাদা প্রায় শতাধিকের মতো রোগী ভর্তি আছে। হাসপাতাল থেকে সাধ্যমতো সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাইরের জেলা থেকে এলেও শেরপুরের ভেতরেও ডেঙ্গু সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।"
সট-১
ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান
তত্ত্বাবধায়ক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল।
পেঅফ:
স্বল্প লোকবল ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী নিয়ে দিশেহারা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল। দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল ও ডেঙ্গু-হাম প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা সচেতন মহলের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় দীপক সাহা নামে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশ ইজিবাইকচালক ইব্রাহিমকে আটক করেছে এই ঘটনায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ সড়কের জামান মেডিকেল হলের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দীপক সাহা (৬৮) কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কৃষি ব্যাংকের ঢাকা মতিঝিল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গত বছর তিনি অবসরে যান।
জামান মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী দীপ সাহা জানান, সন্ধ্যার পর দীপক সাহা এবং কয়েকজন তার দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে দীপক সাহা দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি বেপরোয়া গতির ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দেয়।
এ কারণে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ইজিবাইকটি তার ওপর দিয়ে চলে যায়। দুর্ঘটনার পর দীপককে দ্রুত উদ্ধার করে পাশের একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইজিবাইকচালক ইব্রাহিমকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ রাকিব জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত ইজিবাইকচালককে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নেয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ