মোঃ ওসমান গনি, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি,
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২৯ এম
সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরেও বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেড ও ঔষধ সরবরাহ সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। তবে রোগীদের প্রতি সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহের কথা জানালেন হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক। যেকোন সংকট সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি শেখ রিয়াজ এর পাঠানো তথ্য ও চিত্রে বিস্তারিত ডেস্ক রিপোর্ট।
প্যাকেজ:
শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের মেডিসিন, শিশু ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। বর্তমানে শুধু ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি আছেন ৪৬ জনেরও বেশি। এছাড়া ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৬৫ জন। হামের ১৫ বেড ও ডেঙ্গুর ২৬ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই ভবনজুড়ে।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা ও ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। মেঝোজুড়ে গাদাগাদি করে চিকিৎসা চলায় ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মশারি না পেয়ে খোলামেলা বারান্দায় ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। অন্যদিকে শতাধিক ভর্তি রোগীর সেবায় নিয়োজিত মাত্র দুজন নার্স, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনেররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ডাক্তার পাই না, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বারান্দায় মশারি ছাড়া মশার কামড়ে শুয়ে থাকা লাগে, কোনো নার্সও টাইমমতো আসে না।"
ভক্সপপ : ১ হাসপাতালে ভর্তি ও তাদের স্বজনেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই রাজধানী ঢাকা কিংবা বাহিরের জেলা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে শেরপুরে এসেছেন। তবে স্থানীয়ভাবেও বাড়ছে সংক্রমণ। চিকিৎসক ও জনবলসংকটে সেবা দিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন।
"এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে আলাদা আলাদা প্রায় শতাধিকের মতো রোগী ভর্তি আছে। হাসপাতাল থেকে সাধ্যমতো সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাইরের জেলা থেকে এলেও শেরপুরের ভেতরেও ডেঙ্গু সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।"
সট-১
ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান
তত্ত্বাবধায়ক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল।
পেঅফ:
স্বল্প লোকবল ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী নিয়ে দিশেহারা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল। দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল ও ডেঙ্গু-হাম প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা সচেতন মহলের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ধাক্কায় দীপক সাহা নামে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশ ইজিবাইকচালক ইব্রাহিমকে আটক করেছে এই ঘটনায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ সড়কের জামান মেডিকেল হলের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দীপক সাহা (৬৮) কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কৃষি ব্যাংকের ঢাকা মতিঝিল শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং গত বছর তিনি অবসরে যান।
জামান মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী দীপ সাহা জানান, সন্ধ্যার পর দীপক সাহা এবং কয়েকজন তার দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে দীপক সাহা দোকান থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি বেপরোয়া গতির ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দেয়।
এ কারণে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ইজিবাইকটি তার ওপর দিয়ে চলে যায়। দুর্ঘটনার পর দীপককে দ্রুত উদ্ধার করে পাশের একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইজিবাইকচালক ইব্রাহিমকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ রাকিব জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত ইজিবাইকচালককে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নেয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দলের ৫০ সদস্য হাইতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে (জিএসএফ) যোগ দিতে দেশ ত্যাগ করেছেন।
তারা বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা থেকে হাইতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাঁচটি কন্টিনজেন্টের অগ্রবর্তী দলের ৫০ সদস্য হাইতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে (জিএসএফ) অংশগ্রহণের জন্য রওনা দিয়েছেন।
হাইতিতে যাওয়ার আগে বৃহস্পতিবার সকালে সেনাসদরে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
এ সময় তিনি সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, সতর্কতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন, যা মিশন এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অব্যাহত অবদান এবং বিশ্বশান্তির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এই মোতায়েনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে টানা শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকায় কর্তৃপক্ষ পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ‘কাজ নাই, বেতন নাই’ নীতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক নোটিশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বন্ধ ঘোষিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো ভার্সাটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড এবং ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।
কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কিছু শ্রমিকের বিরুদ্ধে বেআইনি ধর্মঘট পালন, কাজে যোগ না দেওয়া এবং কর্মস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দক্ষিণখানের চালাবন এলাকায় অবস্থিত নাইস অ্যাপারেলসের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু শ্রমিক কারখানার মূল ফটকে বাধা সৃষ্টি করেছেন এবং অন্য শ্রমিকদের কাজে যোগদানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, ওলিও অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষ জানায়, শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর এবং সমঝোতার চেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া কারখানাগুলোর অন্যান্য কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সময় জানানো হবে।
এর আগে ১২ অক্টোবর (সোমবার) থেকে ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার দাবি জানানোর পরও সমাধান না হওয়ায় সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী, বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কোনও কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা বন্ধকালীন সময়ের মজুরি পাবেন না। তবে যেসব শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নেননি, তাঁদের মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার সুযোগ এই ধারায় নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে আইনের অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটার কারণে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীকে ঢাকায় এসে ফিরে যেতে হয়েছে।
এখন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন, যাতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর সময় পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। যদি রাতের বেলায় ঘুমানোর প্রয়োজন হয়, তবে তিনি নিজের দপ্তরে ঘুমাবেন।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শুক্রবার অনুষ্ঠেয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ অব্যাহত ছিল। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের জন্য প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছেন।
গত শনিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ