ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘এখন আমি কাকে সান্ত্বনা দেব’: কক্সবাজারে আগুনে স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন নুর আলম


‘এখন আমি কাকে সান্ত্বনা দেব’: কক্সবাজারে আগুনে স্ত্রী-সন্তানকে হারালেন নুর আলম

‘আমার পাঁচ বছরের ছেলেটাও মায়ের সঙ্গে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন আমি কাকে সান্ত্বনা দেব?’ স্ত্রী ও একমাত্র শিশুসন্তানকে হারিয়ে এভাবে আহাজারি করছিলেন নুর আলম।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী ফারিয়া কবীর (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ফায়িজান আহম্মেদের মৃত্যু ঘটেছে।

নুর আলম জানান, ‘গত ১৪ অক্টোবর আমার স্ত্রী ও পাঁচ বছরের ছেলে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে যায়। আজ সকালে খবর পাই, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমার স্ত্রী ও ছেলে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিন্তু সেই আশ্রয়ও তাঁদের বাঁচাতে পারেনি।’

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সাংবাদিক এম এ মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১

চুয়াডাঙ্গায় ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত নুর আলম, চাকরির সুবাদে গত আট বছর ধরে পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় বসবাস করছিলেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে এখন পর্যন্ত দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে ২২২ পূজামণ্ডপে এমপি জিন্নাহ কবিরের উপহার বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


মানিকগঞ্জে ২২২ পূজামণ্ডপে এমপি জিন্নাহ কবিরের উপহার বিতরণ

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মানিকগঞ্জের ২২২টি পূজামণ্ডপে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবির।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে শিবালয় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে দুটি করে ধুতি ও শাড়ি তুলে দেন তিনি। পরে ঘিওর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ৮৪টি এবং দৌলতপুরে ৪৪টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রতিটি এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী সব সময় বলে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে হিন্দু ভাইয়েরা ভালো থাকবেন না। কিন্তু অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মণ্ডপে এবার সরকারি সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সংসদ সদস্যদেরও ব্যক্তিগত অর্থায়নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

জিন্নাহ কবির বলেন, ‘আমি সব সময় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আপনারা উপহারসামগ্রীকে অর্থের অঙ্ক দিয়ে বিবেচনা করবেন না। আপনাদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আমার এখানে আসা। যেকোনো সমস্যায় দলীয় নেতাকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে জানাবেন। প্রয়োজনে আমাকে ফোন দেবেন। আমি সব সময় আপনাদের পাশে আছি।’

তিনি আরো বলেন, শারদীয় উৎসবের আগেই তার নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলায় পূজামণ্ডপগুলোর সংস্কার এবং মন্দিরে যাওয়ার রাস্তাগুলো মেরামত করা হয়েছে।

এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এ দেশ আমাদের সবার। হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা শায়লা কবির, তাঁর মেয়ে তাসছিয়া কবির উদিতা, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপজেলা সভাপতি নিখিল চন্দ্র বালোসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদন

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু, নতুন স্থানে বিক্ষোভের নির্দেশনা: যন্তর মন্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু, নতুন স্থানে বিক্ষোভের নির্দেশনা: যন্তর মন্তর

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও আন্দোলনের প্রতীক যন্তর মন্তরকে এখন থেকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে যন্তর মন্তর থেকে প্রতিবাদের তকমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের গণজমায়েত ও বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি অনুসারে, ১৭২৪ সালের দিকে জয়পুরের মহারাজা সাওয়াই দ্বিতীয় জয় সিংহ মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের নির্দেশে এই জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি প্রাচীনকালে খালি চোখে নক্ষত্র ও গ্রহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ইট ও সুরকি দিয়ে নির্মিত এই চত্বরে সম্রাট যন্ত্র, রাম যন্ত্র, জয় প্রকাশ যন্ত্র ও মিশ্র যন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো ছিল, যা মূলত সময় ও গ্রহের অবস্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হতো।

ভারতীয় রাজনীতির মানচিত্রে যন্তর মন্তর এক অনন্য স্থান দখল করে নিয়েছে। পূর্বে ইন্ডিয়া গেটের বোট ক্লাব কিংবা রামলীলা ময়দানে বড় বড় রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হত। তবে সংসদ ভবনের ৩ কিলোমিটারের কম দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এটি নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের কাছে নিজেদের দাবি আদায়ের একটি প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। কড়া নিরাপত্তার কারণে সংসদ ঘেরাও অসম্ভব হলে যন্তর মন্তরকেই প্রতীকী পথ হিসেবে বেছে নেওয়া হতো, যেখানে সংসদ চলাকালীন জনপ্রতিনিধিরাও আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে আসতেন।

এই স্থানটি ভারতের আধুনিক ইতিহাসের বহু বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের নীরব সাক্ষী। ২০১১ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারে এই যন্তর মন্তরেই ঐতিহাসিক অনশন শুরু করেছিলেন, যা তৎকালীন সরকার ও দুর্নীতি দমন আইন পাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ২০১২ সালের আলোচিত ‘নির্ভয়া’ ঘটনার পর হাজার হাজার ক্ষুব্ধ মানুষ এই স্থানে জমায়েত হয়ে কঠোর আইনের দাবি জানিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নতুন নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভের সময় বহু মানুষকে এই চত্বরেই একত্রিত হতে দেখা যায়।

সাম্প্রতিক ইতিহাসেও এর প্রভাব বজায় ছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও এপ্রিলে কুস্তি ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুস্তিগির ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক ও বাজরং পুনিয়ারা দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এমনকি ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশনও এই যন্তর মন্তরেই অনুষ্ঠিত হয়, যা ব্যাপক জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হওয়া ঐতিহাসিক এই স্থানটি এখন থেকে কেবল তার প্রাচীন স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের জন্যই পরিচিতি পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় ১৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় ১৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর

ঢাকার গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় বাউফল পৌরসভার সাবেক মেয়র জিয়াউল হক ওরফে জুয়েলসহ ১৪ জন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডে নেওয়া অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্‌দীন হলের সাবেক সভাপতি শাহ্ মোস্তফা আলমগীর, তরিকুল ইসলাম টুটুল, জুলহাস মণ্ডল সাকি, দেলোয়ার হোসেন জিসান, শেখ শহিদুল ইসলাম বাবু সরদার, রায়হান পারভেজ রুবেল, হারুন বাসার, বাবু শেখ, মো. খলিল, ফরিদ আহম্মদ কাঞ্চন, রুহুল আমিন ফারাজি, মেজবাহ উদ্দিন খান ও আরিফুল ইসলাম।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ১৪ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণ অনুসারে, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েক শ লোকের অংশগ্রহণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ওই দিনই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পুলিশে ধরার একদিনের মধ্যে ছাড়া পাইতে হুনছি, খরচ হইছে ৩০ লাখ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


‘পুলিশে ধরার একদিনের মধ্যে ছাড়া পাইতে হুনছি, খরচ হইছে ৩০ লাখ’

‘৩১ আগস্ট গ্রেফতার হয় সাকিবুল হাসান সানি, যিনি উত্তরার প্রভাবশালী গ্যাং ‘দে লাড়া’ গ্রুপের শীর্ষ নেতা। তবে একদিন পরেই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। এ সময় টিভির খবরের ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "টিভিতে এই রকম নিউজ হইছে। কিন্তু কী লাভ। পরদিনই হেই ছাড়া পাইয়া গেছে। বুঝলেন না-ট্যাকায় কথা কয়। মাত্র একদিনের মধ্যে ছাড়া পাইতে হুনছি, খরচ হইছে ৩০ লাখ। মোটা অঙ্কের ট্যাকা খাইয়া পুলিশ অরে ছাইড়া দিছে।"

যুগান্তর টিমের সঙ্গে আলাপে, গ্রুপটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য এসব তথ্য প্রদান করেছেন।

এদিন বিকাল ৪টায় উত্তরখান ৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় একটি মাঠে যান যুগান্তর টিমের সদস্যরা। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর এক নেতা সহ ৪ জন কিশোর উপস্থিত হন। নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্ত কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

একজন সদস্য জানান, ‘উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টর থেকে টঙ্গী রেলস্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ রেলপথের দুপাশে মাদকের হাট বসে। কোটি কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা হয়। গাঁজা, ইয়াবা, আইস ও ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক বিক্রি হয় প্রকাশ্যে। মাদকের এই পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে ‘দে লাড়া’ গ্রুপের পিচ্চি সানি।

‘লোকালে (স্থানীয়) এমন কেউ নাই যে সানিরে চিনে না। রায়হান নামের আরেক কিশোর গ্যাং নেতা তার ডান হাত হিসাবে পরিচিত। তবে সিন্ডিকেটের নেতাদের মধ্যে আরও আছেন পলাশ ওরফে ছিনতাই পলাশ, রনি ওরফে রনি শিকদার, ইয়াবা ডিলার মশিউর, সাইফুল, শাওন, শিপু, ফারুক, আসাদুল, ফাহিম, শহিদুল ও নাজমুল। তাদের মধ্যে একজন নারীও আছেন, যার নাম স্থানীয়রা কেউই জানে না। তিনি শুধু ‘ভাবি’ নামে পরিচিত। তার স্বামীর নাম অপু।

এভাবে মাদক ব্যবসা করলে পুলিশে ধরে না? এমন প্রশ্ন শুনে উপস্থিত কয়েকজন হাসতে হাসতে বলেন, ‘পুলিশ কেমন, আপনারা তা জানেন না। সব তো টাকার খেলা। পিচ্চি সানিকে যেদিন পুলিশ ধরেছে, সেদিনই তার গাড়িতে ক্যাশ টাকা পাইছে ১০ লাখ। তাইলে বুঝেন হ্যার কাছে কত টাকা আছে।’

একজন সদস্য নিজের মোবাইল বের করে পিচ্চি সানির ফেসবুক পেজ খুলে বলেন, ‘দ্যাখেন-এখানে হ্যার সব পোলাপানের ছবি আছে। একটি ছবিতে নৌকা প্রতীক সংবলিত পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে স্থানীয় কোনো ভোটকেন্দ্রের মাঠে সানিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার সঙ্গে রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন। আরেকটি ছবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরা এলাকার রাস্তায় লাঠিসোঁটা হাতে শোডাউন দিচ্ছে ‘দে লাড়া’ গ্রুপের সদস্যরা। এছাড়া ফেসবুকের কয়েকটি রিলসে গ্যাং সদস্যবেষ্টিত পিচ্চি সানিকে স্লো মোশনে হাঁটতে দেখা যায়। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে কোনো হিন্দি সিনেমার ভিলেনের দুর্ধর্ষ সংলাপ।

পিচ্চি সানি ছাত্রলীগ না ছাত্রদল এমন প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, আগে তার উত্তর ছাত্রলীগের পদ ছিল। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে সে নিজেকে সরকারি দলের নেতা হিসাবে পরিচয় দেয়। তবে ছাত্রদল কিংবা অন্য কোনো সংগঠনে তার কোনো পদ-পদবি আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। তবে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রীতিমতো শোডাউন দিয়ে সে এলাকায় ঢুকেছে।

এলাকায় এভাবে একের পর এক বিভিন্ন নামে কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার কারণ জানতে চাইলে একজন সদস্য বলেন, স্থানীয় স্কুল-কলেজেও শিক্ষার পরিবেশ ভালো নয়। কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল এসব নিয়ে গ্যাঞ্জাম। এসব কারণে অনেকেই সেভাবে লেখাপড়া করতে চায় না। বরং তারা মহল্লার বড়ভাইয়ের সঙ্গে থাকতে চায়। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা যেভাবে ক্ষমতা দেখায়, দলবল নিয়ে চলাফেরা করে-তারাও সেভাবে চলতে চায়। কিন্তু চাইলেই এভাবে চলা যায় না। এজন্য দরকার প্রচুর টাকা। টাকা আয়ের সহজ পথ মাদক ব্যবসা।

একজন বলেন, বড়ভাইদের গ্রুপের সঙ্গে থাকলে অনেক লাভ। এলাকায় মাস্তানি করলেও কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। কারণ সবাই জানে, ওরে কিছু বললে পোলাপান ঝামেলা করব। এলাকায় গ্যাঞ্জাম হইব। একপর্যায়ে এলাকার খালি প্লট কিংবা সরকারি জায়গা দখল কইর‌্যা অনেকে দোকান দেয়। কেউ মার্কেট কইর‌্যা ভাড়া দেয়। কেউ বা বস্তিঘর তোলে। অর্থাৎ একটা ভালো অঙ্কের টাকা রোজগারের পথ খুইল্যা যায়।

আরেকজন বলেন, এলাকায় খেলার কোনো মাঠ নাই। ফাঁকা জায়গা যা ছিল সব দখল হয়ে গেছে। ৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন উত্তরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে একটি মাত্র ফাঁকা জায়গা ছিল। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের সময় সেটি বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হলেও মাঠ খুলে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে মাঠের একাংশ দখল করে কে বা কারা মার্কেট নির্মাণ করছে।

তবে গ্রুপের এক সদস্য বিদ্যমান পরিবেশে নিজের পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার ৪ বছর বয়সি একমাত্র ছোট ভাইকে নিয়ে অনেক চিন্তা হয়। এ কারণে তাদের পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে চায়। যাতে বখাটেদের সঙ্গে মিশে ছোট ভাইয়ের জীবনও নষ্ট না হয়। সে বলেন, ‘এই যে পরিবেশ দেখতাছেন। মাদক, খুন, ছিনতাই এগুলো কি বড় হইলে সেও শিখব না। তাই আমরা এলাকা ছাইড়া অন্য জায়গায় চইল্ল্যা যামু।’

উত্তরার কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে বিগ বস গ্রুপ (ছোটন খান), সুমন ওরফে শাহিদ গ্রুপ, দেওয়ান গ্রুপ, সেক্টর ইলেভেন গ্রুপ (সিনহা রহমান), নূর খান গ্রুপ এবং হৃদয় গাজী গ্রুপ অন্যতম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%