মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
১০:২০ এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আসন্ন উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী মো. পারভেজ মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অন্যদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন একই ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী অপর পক্ষ সৌদি প্রবাসী মো. কাদির মিয়া।
গত ১৮ অক্টোবর রোববার বিকালে উপজেলার নাজিরদিঘী বাজারে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মো. পারভেজ মিয়া (৩৫) জানান, সম্প্রতি স্থানীয় বেশ কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকে "কুলিয়ারচরে ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থীতা নিয়ে দুজনের বিরোধ" "প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ঘর ছাড়া প্রবাসীর স্ত্রী, দুই শিশুর পড়াশোনা অনিশ্চিত" সহ বিভিন্ন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, "আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমি একজন মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকার নানা উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছি। নির্বাচনে প্রতিপক্ষের একটি মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আমিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাদির মিয়া নাজিরদিঘী ও খৈলাজুরি সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সঠিক কাজ না দিয়ে হয়রানি করে আসছেন। এসব অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকেসহ নাজিরদিঘী গ্রামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উছমানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিক মিয়া, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সেতু মিয়া, মো. আঙ্গুর মিয়া, মো. ফজলু মিয়া ও মোছা. আনোয়ারা বেগমসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সৌদি প্রবাসী মো. কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে কাদির মিয়া নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে ছুটিতে বাড়ি আসার পর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার পদপ্রার্থী পারভেজ মিয়ার চাচা মো. জাকির মিয়া ও তাদের এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মো. ইয়াছিন মিয়া, মো. মামুন মিয়া, মো. মহসিন মিয়া, মো. জুনাইদ মিয়া, মো. আরমান মিয়া, মো. তরিকুল, মো. কাজল মিয়া, মো. তারেক মিয়া, মো. নাছির মিয়া, মো. মুন্না মিয়া, মো. ইকবাল মিয়া, মো. ইসাদ মিয়া, মো. মোস্তাকিম ও মো. আরমানসহ অন্তত ১৫ জন লোক বিভিন্ন সময় তাঁর সাথে যোগাযোগ করে সৌদি আরব যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। পরে তাঁর সহযোগিতায় তারা ঢাকার বনানীস্থ সরকার অনুমোদিত একটি এজেন্সিতে (ফাদার ইন্টারন্যাশনাল ওভারসিজ লি:, লাইসেন্স নং-২০৫১) যোগাযোগ করেন। ওখানে গিয়ে তারা এজেন্সি কর্তৃপক্ষের সাথে নিজেরা কথা বলে নিজ নিজ দ্বায়িত্বে টাকা-পয়সার লেনদেন করে নিয়ম মেনে শর্ত সাপেক্ষে ট্রেনিং শেষ করে তিন ধাপে তারা ওই এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। পরে তিনি জানতে পারেন সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী যথাযত সময়ের মধ্যেই ফিউচার মেকার্স লি. কোম্পানির নামে আকামা নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা। এদের মধ্যে ১৪ জনের আকামার মেয়াদ শেষ হয় ১৭ অক্টোবর এবং ১ জনের আকামার মেয়াদ শেষ হবে আসছে ২৪ অক্টোবর।
কাদির মিয়ার দাবি, সৌদি আরব যাওয়ার পর আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই মো. তরিকুল, মো. কাজল মিয়া, মো. তারেক মিয়া, মো. নাছির মিয়া, মো. মুন্না মিয়া, মো. ইকবাল মিয়া, মো. ইসাদ মিয়া, মো. মোস্তাকিম ও মো. আরমান সহ ৯জন প্রবাসী বেশি আয়ের আশায় কোম্পানির কাজ ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যান। তিনি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল নন এবং কারও বেতন বা টাকা আত্মসাতের সুযোগ তাঁর নেই। টাকা দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি কেউ প্রমাণ করতে পারলে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।
অপর দিকে বিভিন্ন প্রমাণাদি উপস্থাপন করে তিনি আরো বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থী মো. পারভেজ মিয়া আমাকে প্রার্থীতা থেকে সরাতে না পেরে সৌদি আরব লোক যাওয়ার বিষয়টিকে ইস্যু করে তাঁর সহযোগিদের সহায়তায় আমার বিরুদ্ধে ও আমার পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমার দেশের বাড়ি পুরুষশূন্য থাকায় আমার পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করছে। আমার বৃদ্ধ মাকে জেল খাটিয়েছে। প্রতিনিয়ত আমার স্ত্রী সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে বাড়ি ছাড়া করেছে। বর্তমানে আমার ১৩ বছরের ছেলে ও ৯ বছরের মেয়ের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয় পারভেজ মিয়ার সহযোগী মো. কাইয়ুম মিয়া আমার বাড়িতে গিয়ে আমার মা ও স্ত্রীর নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করেছে। আমার বাড়িতে যাওয়ার ভিডিও ফুটেছ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এসব ঘটনায় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কুলিয়ারচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। আমি এসবের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
তবে ঘটনার অনুসন্ধানে পাওয়া ভুক্তভোগী প্রবাসীদের মধ্য থেকে তরিকুল ইসলাম, তারেক মিয়া, কাজল মিয়া, নাসির মিয়া, ইকবাল মিয়া ও মুন্না মিয়ার পাঠানো ভিডিও বার্তায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ভিডিও বার্তায় তারা
ফিউচার মেকার্স লি. কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করলেও প্রবাসী কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ তোলেননি। প্রবাসী মুন্না মিয়া যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাঁর নাম "রানা"-তিনি কাদির মিয়া নন। এ ছাড়া মেম্বার প্রার্থী পারভেজ মিয়ার চাচা মো. জাকির মিয়াও বর্তমানে বৈধ আকামা নিয়ে সৌদি আরবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। প্রবাসী ও স্থানীয় সূত্র বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত প্রতারণার অভিযোগের কোন সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর নূরনগর মুন্নামোড়ে একটি গরুবাহী পাওয়ার ট্রলি খাদে পড়ে ১ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় ২টি গরুরও মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম হেলাল উদ্দিন (৩৮), যিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার সবুজনগর গ্রামের নয়াল মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাওয়ার ট্রলির চালক তারাচাঁদ এবং শিপন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেলাল উদ্দিন পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মঠবাড়িয়া থেকে ১১টি গরু কিনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কের নূরনগর মুন্নামোড়ে পৌঁছালে পাওয়ার ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গরু ব্যবসায়ী হেলাল মারা যান। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এসে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
চালক তারাচাঁদ জানান, তারা ৩ জন রোববার বিকেলে ১১টি গরু নিয়ে মঠবাড়িয়া থেকে রওনা দিয়েছিলেন। ভোরে হঠাৎ তার চোখে ঘুম চলে আসলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে যায় এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজান জানান, নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুন লেগে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টানতে। কিছুদিন আগে তিনি ফাইনাল এক্সিট ভিসা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পূর্বেই তিনি এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন।
এই দুর্ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের কাছে।
নিহত শামীম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার চক খাদুলী গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন প্রামাণিকের পুত্র। তার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের মাঝামাঝি এলাকায় শামীম রেজার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরে যায়। এতে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সিমুচি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে পরিবার ও পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন শামীম রেজা। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ফাইনাল এক্সিটও নিয়েছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শামীম রেজার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কাভার্ড ভ্যানে আগুনের সূত্রপাতের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘লাল হিট জনতা পার্টি’ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে দিল্লিতে মাঠে নেমেছে। রোববার দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে সংগঠনটির প্রথম সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির প্রধান অয়ন ভাটনগর।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কনট প্লেসসহ দিল্লির বিভিন্ন স্থানে সিজেপির বিক্ষোভের সমালোচনা করেন বক্তারা। বক্তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কর্মসূচিগুলি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি করছে।
ভাটনগর মন্তব্য করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে জনগণকে রাজপথে নামতে হবে। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহ্বান জানালে আরো বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হবেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সমর্থনে সিজেপি সরকারবিরোধী আন্দোলন চালাচ্ছে।
সিইসির পদত্যাগের দাবির সমালোচনা করে ভাটনগর বলেন, এ ধরনের দাবি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা দুর্বল করতে পারে। তিনি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। তার ভাষায়, দশেরা থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ পতনের সূচনা হবে।
লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা। সংগঠনটির দাবি, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও তারা সমর্থন পাচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
আজ রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’
সংকটকালে দেশের জনগণ সব সময় দেশ রক্ষায় রাজপথে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।’
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’
দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে-এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।
রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান।
সেখানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ