মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৬ পি.এম
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গতকাল ইউনূস সেন্টারে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।
বৈঠকের সময় মিয়ানমারের পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা মানবিক সংকট, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জাপানের সম্মানিত চেয়ারের সেক্রেটারি শোতা নাকায়াসু, আন্তর্জাতিক কর্মসূচির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার ফ্রাঞ্জ কেন কুরিবায়াশি, সিনিয়র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তোরু কিমুরা, দোভাষী কিমিয়ো মাচিদা, সেন্টার ফর মিডিয়েশন সাপোর্টের পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো ও রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাওনোরি কুসাকাবে এবং ড. শিহো তানাকা বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সাসাকাওয়া জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা করেন।
তিনি প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, "সম্পদের কেন্দ্রীভবন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। কোনো একক দেশের পক্ষে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়; এজন্য বিভিন্ন দেশের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"
রোহিঙ্গা মানবিক সংকট ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। প্রফেসর ইউনূস মিয়ানমারে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং মানবিক ও শান্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে তার ব্যাপক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি শান্তি ও সংলাপ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অব্যাহতভাবে অবদান রাখতে পারবেন।
প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, "সুস্পষ্ট আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা ছাড়া বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম ক্রমেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে।"
সাসাকাওয়া জানান, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং মানবিক প্রচেষ্টায় সহায়তার উপায় খুঁজে দেখবেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের উপকূলীয় সম্ভাবনা এবং গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "উন্নত বন্দর অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
সামাজিক ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বৃহত্তর সহযোগিতার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী তৈরির পরিবর্তে উদ্যোক্তা তৈরিতে শিক্ষার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিনিধিদল ও প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সামাজিক ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক শান্তির ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তাপসী পন্নু সম্প্রতি ‘ডাঙ্কি’ ছবিতে অভিনয়ের পরেও মূলধারার হিন্দি ছবিতে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মূলধারার ছবিতে অভিনয় দক্ষতার চেয়ে যোগাযোগ, বাজারদর, পরিচিতি ও প্রভাব অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাপসী পন্নুর অভিনয়জীবন সবসময়ই ভিন্ন ধারার ও বিষয়নির্ভর ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ডাঙ্কি’-তে অভিনয় করে তিনি মূলধারার বলিউডে প্রবেশ করেছেন। ছবিটি বক্স অফিসে শাহরুখের ‘পাঠান’ বা ‘জওয়ান’-এর মতো সাড়া ফেলতে না পারলেও, তাপসীর জন্য এটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সেই সাফল্যের পরও কেন একের পর এক বড় বাজেটের মূলধারার ছবিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না? সম্প্রতি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে তাপসী বলেন, বাণিজ্যিক ছবিতে অনেক সময় অভিনেত্রীদের চরিত্র এমন হয়, যেখানে অভিনয় দক্ষতার চেয়ে অন্যান্য বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, বাজারদর, জনপ্রিয়তা, পরিচিতি, ইন্ডাস্ট্রিতে যোগাযোগ এবং প্রভাব— এই সব মিলিয়েই ঠিক হয় কোন অভিনেত্রীকে ছবিতে নেওয়া হবে।
তাপসী বলেন, “আমার মনে হয়, প্রত্যেক অভিনেতাই বদলযোগ্য। এমন নয় যে, কোনও একটি চরিত্র নির্দিষ্ট একজন ছাড়া আর কেউ করতে পারবেন না। প্রত্যেকে নিজের মতো করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারেন।” তাঁর মতে, মূলধারার ছবিতে মহিলা চরিত্রগুলির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও বেশি প্রযোজ্য।
অভিনেত্রী আরও বলেন, অনেক বাণিজ্যিক ছবিতে মহিলা চরিত্র এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয় না যে, কোন নায়িকা সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন, তা নিয়ে বিশেষ ভাবতে হবে। ফলে, অভিনেত্রীর প্রতিভার চেয়ে তাঁর বাজারদর, পরিচিতি কিংবা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে।
তাপসী স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, এই জায়গাগুলিতে তিনি অনেকটা পিছিয়ে। তিনি বলেন, “আমি যে জায়গায় এগিয়ে আছি, তা হল আমার অভিনয়ের প্রতিভা।” আর সেই কারণেই ‘ডাঙ্কি’-তে কাজের সুযোগ পাওয়ার কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে পরিচালক রাজকুমার হিরানিকে দিয়েছেন তিনি।
তাপসীর দাবি, হিরানি তাঁর আগের কাজ দেখেই তাঁকে ছবিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “রাজু স্যার আমার ব্যাপারে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।” তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন পরিচালক খুব বেশি নেই, যাঁরা কোনও অভিনেত্রীকে শুধুমাত্র তাঁর অভিনয় দক্ষতার ভিত্তিতে ছবিতে নেওয়ার ব্যাপারে এতটা নিশ্চিত থাকেন।
তাপসী আরও জানান, সাধারণত কোনও অভিনেত্রী যদি ছবির বাজেটের মধ্যে পুষিয়ে যান এবং তাঁর যথেষ্ট বাজারমূল্য থাকে, তবে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়। শুধুমাত্র প্রতিভার জোরে মূলধারার ছবিতে সুযোগ পাওয়া তাই বেশ কঠিন। আর যখন পরিচালক নির্দিষ্ট কোনও অভিনেত্রীকেই চরিত্রটির জন্য চান, তখন তেমন ঘটনা খুব বিরল।
তাপসীর শেষ ছবি ‘গান্ধারী’। মেয়েকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধার করতে এক মায়ের মরিয়া লড়াইকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবিতে প্রতিশোধ এবং আত্মত্যাগের গল্প উঠে এসেছে। তবে ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোহনা মাইতিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ‘তুই আমার হিরো’ ধারাবাহিকে। এর মধ্যে তিনি দুটি ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করেছেন। প্রায় ছ’মাস পর, তিনি আবার ছোটপর্দায় ফিরছেন নতুন চরিত্রে। নতুন ধারাবাহিকের নাম ‘আশীর্বাদ’।
ছোটপর্দায় মোহনার নতুন লুক। ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেত্রী মোহনা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে ধারাবাহিকে অভিনয় করতে করতে তিনি এখন বুঝতে পারছেন যে, কোন ধরনের অভিনয় তাঁর জন্য উপযুক্ত। নায়িকা বলেন, “আমার কাছে গল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যেটা পড়লে নিজের মনে হয় যে, আমাকে মানাবে। সে ভাবেই ভাবি এবং রাজি হই।”
মোহনার আগের ধারাবাহিকে দেখা গিয়েছিল অভিনেতা রুবেল দাসের বিপরীতে। তার আগে তিনি অভিনেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। নতুন কাহিনিতে মোহনার বিপরীতে দেখা যাবে সোহম বসুচৌধুরীকে। সোহমকে শিশুশিল্পী হিসেবে দর্শক আগেও দেখেছেন। মোহনা বলেন, “এই প্রথম নায়ক পেলাম যে, আমার থেকে মাত্র এক বছরের বড়। বাকিরা নায়কেরা তো আমার থেকে অনেক বড়। এটাতেই মজা পেয়েছি। সোহমের সঙ্গে অল্প কয়েক দিন কাজ করেছি। ভালই লাগছে।”
এক সময়ের শিশুশিল্পী সোহম এখন নতুন ধারাবাহিকের নায়ক। ছবি: সংগৃহীত।
রাজ চক্রবর্তী প্রযোজিত এই নতুন ধারাবাহিকের শুটিং ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। মোহনা নতুনভাবে দর্শকদের সামনে আসবেন, অন্যদিকে সোহমও প্রথমবার মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন। যদিও এর আগে অনেক ধারাবাহিকে কাজ করলেও, যিশু সেনগুপ্ত এবং দিতিপ্রিয়া রায়ের সঙ্গে ‘অপরাজিত’ ধারাবাহিকে সোহমের অভিনয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল দর্শকদের। এই ধারাবাহিকটি কবে থেকে সম্প্রচারিত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর, শ্রীময়ী চট্টরাজকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও, টেলিভিশনে এখনও তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়নি। শোনা যাচ্ছে, তিনি শীঘ্রই টেলিভিশনে ফিরে আসবেন। এই ফিরে আসার সঙ্গে কাঞ্চন মল্লিকও থাকবেন।
ছেলে হওয়ার বেশ কিছু মাস আগে থেকেই অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ আড়ালে রয়েছেন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর, তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও, টেলিভিশনে এখনও তাঁকে দেখা যায়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, শীঘ্রই ছোটপর্দায় শ্রীময়ীকে দেখা যাবে। তবে এবারে তিনি একা নন, কাঞ্চন মল্লিকও তাঁর সঙ্গে থাকবেন।
শোনা যাচ্ছে, বাস্তব জীবনের এই জুটিকে এবার ক্যামেরার সামনে দেখা যাবে। রান্নার ওপর একটি মজার অনুষ্ঠানে তাঁদের আসার খবর রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের খেলা থাকবে। এই ধরনের এক অনুষ্ঠানে প্রতিযোগী হিসেবে শ্রীময়ী ও কাঞ্চনকে দেখা যেতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু ঘোষণা করা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, এই অনুষ্ঠানে শ্রীময়ী-কাঞ্চন ছাড়াও আরও কিছু পরিচিত মুখ উপস্থিত থাকবেন।
নতুন অতিথির আগমনের পর শ্রীময়ী ছোটপর্দা থেকে দূরে রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত।
এই অনুষ্ঠানের পেছনে নাকি রাজ চক্রবর্তীর হাত রয়েছে। ইতিমধ্যে শুটিংও শুরু হয়ে গেছে বলে খবর। নতুন খেলার সঞ্চালক হিসেবে অঙ্কুশ হাজরাকে দেখা যাবে। এই বিষয়ে কেউ এখনও পর্যন্ত মন্তব্য করেননি। শ্রীময়ীকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ‘মিলন হবে কতদিনে’ ধারাবাহিকে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেই কাহিনি শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি নিজের পরিবারকে সময় দিতে চেয়েছিলেন।
একটি মজার খেলার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন যুগলে? ছবি: সংগৃহীত।
এর মধ্যে অভিনেত্রী দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। অন্যদিকে, কাঞ্চন ধারাবাহিকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, তাঁর বড়পর্দার কাজও রয়েছে। বর্তমানে নতুনভাবে পর্দায় ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন অভিনেত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটকের দল ঢাকা পদাতিক সম্প্রতি ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ নাটকের মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাহসী সৈনিক মাস্টারদা সূর্যসেনের হত্যাকাণ্ডের কাহিনী তুলে ধরেছে।
ঢাকার ৪১৬ বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে শিল্পকলায় চলমান ৯ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের তৃতীয় দিনে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়।
নাটকটির রচনা ও নবনির্দেশনায় দায়িত্ব পালন করেছেন নাদের চৌধুরী।
১৯৩০ সালে চট্টগ্রামে অস্ত্রাগার দখলের ঘটনা এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র সংগ্রামের বিভিন্ন বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় নাটকে ফুটে উঠেছে।
বিপ্লবী কার্যক্রমের পর মাস্টারদা সূর্যসেন ও তার সহকর্মীদের ওপর ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা চালানো অমানবিক নির্যাতন এবং আদালত নামক স্থানে একটি প্রহসনমূলক বিচার প্রক্রিয়ার চিত্রও নাটকের গল্পে স্থান পেয়েছে। নাটকে সূর্যসেন ছাড়াও কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, এবং তারাকেশ্বর দস্তিদারের মতো প্রখ্যাত বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ ও বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী উপস্থাপন করা হয়েছে। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে মাস্টারদা সূর্যসেনের অটল দেশপ্রেম, বাঙালির মুক্তির সোনালী স্বপ্ন এবং নিজের জীবনকে হাসিমুখে সঁপে দেওয়ার ইতিহাস নাটকের অন্তিম পর্বে অত্যন্ত আবেগময় ও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকা পদাতিকের নিয়মিত অভিনয় শিল্পীরা।
সন্ধ্যা ৭টায় নাটক মঞ্চায়নের পূর্বে, বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত, জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের উন্মুক্ত মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আগামীকাল বুধবার একই সময়ে একই মিলনায়তনে বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটার প্রযোজিত ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক ‘আলেয়া’ মঞ্চায়ন করা হবে।
৯ দিনের এই নাট্যোৎসব ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ