রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪২ পি.এম
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।
এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা গেছে।
সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম), যা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের অধীনে কাজ করে, এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছে যে নৌযানটি মাদক পাচারের কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার ফলে চারজন ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার একটি ঝাপসা ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সেপ্টেম্বরের শুরুতে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, লাতিন আমেরিকাভিত্তিক মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত যুদ্ধে রয়েছে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিচালিত হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত যেসব নৌযানে হামলা চালিয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলÑএমন দাবির পক্ষে চূড়ান্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর্যায়ে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শনিবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি ১০ বছর বয়সী কন্যাশিশু ও গাজার একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার পুত্রও রয়েছে বলে জানা গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শিশুটি গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরে সকালে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত হওয়ার পর মারা যায়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে ইসরাইলি বিমান হামলায় বাসির আল-বার্শ নিহত হয়েছেন। তিনি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শের ছেলে।
ছেলের জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মুনির আল-বার্শ বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ‘ইসরাইলের অপরাধেরই ধারাবাহিকতা’। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তার এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এছাড়া গাজা সিটির কাছে পৃথক দুটি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে গাজার আল-শিফা হাসপাতাল ও হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন উদ্ধারকারী বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে।
হামলার বিষয়ে এএফপি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চাইলে তারা তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে এরপরও ইসরাইলি বাহিনী গাজার আরও ভেতরে অগ্রসর হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ না করার অঙ্গীকার করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিল হামাস।
নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, হামাস তাদের সব অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে না।
ইসরাইলি সরকারি হিসাবের ভিত্তিতে এএফপির জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হয়। হামাসের যোদ্ধারা প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৪৪ জন এরই মধ্যে মারা গেছে।
এর জবাবে ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মতে, মন্ত্রণালয়টির এসব পরিসংখ্যান সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের বাহিনীর পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সুদের হার কমালেও বেসরকারি খাতে এর সুফল দেখা যাচ্ছে না। সামগ্রিক সুদের হার কমার পরও শিল্প খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসেনি। চলতি বছরের জুন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাই মাসে সামান্য বেড়ে ৪.৬২ শতাংশ হলেও, ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত ৬.৮ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের খরচ বা সুদের হার কমানোই যথেষ্ট নয় নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য। বিনিয়োগের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ লাভের সম্ভাবনা না থাকলে ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে আগ্রহী হন না। কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে নতুন কারখানা স্থাপন বা সম্প্রসারণের ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছেন না। রাজনৈতিক অস্পষ্টতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোও নতুন ঋণ দিতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির (প্রায় ৮.২৬%) কারণে সাধারণ মানুষের কেনার ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা মন্দা। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রপ্তানিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিআই)-সভাপতি তাসকিন আহমেদ জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও পরিচালনগত সক্ষমতা পুনরুদ্ধার না করে শুধুমাত্র সুদের হার কমালেই বেসরকারি খাতের ঋণগ্রহণ পুনরুজ্জীবিত হবে না। তিনি বলেন, সুদের হার কমানোর উদ্দেশ্য হলো ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করা, তবে ব্যবসায়ীরা তখনই বিনিয়োগ করবেন, যখন তারা পর্যাপ্ত চাহিদা, স্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগের ওপর যুক্তিসঙ্গত মুনাফা দেখতে পাবেন।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মতে, বিনিয়োগের গতি ফেরাতে হলে ব্যাংকঋণ সস্তা করাই যথেষ্ট নয়; বরং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা অপরিহার্য। অন্যথায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার আরো দীর্ঘ মেয়াদে মন্থর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপের মূল হোল্ডিং কম্পানি ‘টাটা সন্স’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি (আইপিও) নিয়ে গুরুতর অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানির ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ‘টাটা ট্রাস্টস’-কে অবহিত না করে পর্ষদ চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনকে পুনর্বাহাল করার সিদ্ধান্ত এবং আইপিও-তে যাওয়ার পরিকল্পনার পর এই দ্বন্দ্ব এখন আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫৮ বছরের পুরনো এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থার পেছনে দুটি প্রধান বিতর্ক রয়েছে। প্রথমত, টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদের মনোনয়ন কমিটি সম্প্রতি এন চন্দ্রশেখরনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু টাটা ট্রাস্টস এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে দাবি করেছে। ট্রাস্টসের বক্তব্য, কোম্পানির করপোরেট নীতি অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়সে কোনো নির্বাহী পদে থাকার নিয়ম নেই, এবং চন্দ্রশেখরন ২০২৮ সালে ৬৫ বছর পূর্ণ করবেন। তাছাড়া, পর্ষদের মনোনয়ন কমিটির এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, তারা কেবল সুপারিশ করতে পারে। আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) যদি টাটা ট্রাস্টস এই পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে ভোট দেয়, তাহলে সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ২০২২ সালে টাটা সন্সকে ‘উচ্চ স্তরের নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে নির্দেশ দিয়েছিল। টাটা সন্স ব্যাংক ঋণ শোধ করে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও, চলতি মাসে আরবিআই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
রতন টাটাসহ ট্রাস্টের প্রবীণ পরিচালকরা সবসময় কোম্পানিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন রাখার পক্ষে ছিলেন। তাদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ট্রাস্টের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে। এতে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক গবেষণায় ট্রাস্টের দেওয়া অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, এয়ার ইন্ডিয়ার মতো সদ্য অর্জিত প্রকল্পগুলোর ঋণের চাপ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট নাও করতে পারে।
তবে করপোরেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাটার অধীনস্থ বিভিন্ন কোম্পানির মোট বাজারমূল্য ২৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এত বড় একটি শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা কাঠামো, মূলধন ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শেয়ারবাজারে আসা প্রয়োজন।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে টাটা গ্রুপে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা করছেন করপোরেট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টের মধ্যে এই টানাপোড়েন ভারতের পুঁজিবাজার এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রোববার জার্মানির দুটি রাজ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থীদের আসন বৃদ্ধি হলে বার্লিনের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, চাপের মধ্যে থাকা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সরকারও একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ৭০ বছর বয়সী মের্ৎস নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে তার মধ্য-ডানপন্থী দল সিডিইউর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।
ক্ষমতায় আসার ১৬ মাস পর, মের্ৎস পরবর্তী কয়েক দিনের কর্মসূচি প্রায় ফাঁকা রেখেছেন। এমনকি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাওয়ার সফরও তিনি বাতিল করেছেন, যাতে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারেন।
দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে মের্ৎসের সিডিইউকে চমকে দিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করে উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ওই ফলের পর, মের্ৎসের দলের মধ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে সমর্থন কমছে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে, মের্ৎসের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেন্দ্র-বামপন্থী জোটসঙ্গী এসপিডির সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ সংস্কার এগিয়ে নিতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।
জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত করছে, রোববারের নির্বাচনে এএফডি আরও আসন পেতে পারে। তবে দুই রাজ্যের কোনোটিতেই দলটি সরকার গঠনের মতো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে স্যাক্সনি-আনহাল্টে তারা সেই অবস্থানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
চাপে থাকা মের্ৎস বুধবার তার দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে কিছু সমর্থন পেয়েছেন। আটটি রাজ্যের প্রধানরা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, জার্মানির এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন ‘স্থিতিশীলতা’, নেতৃত্বে কে থাকবে তা নিয়ে আলোচনা নয়।
তবে তারা সরাসরি মের্ৎসকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করার ঘোষণা দেননি।
দুটি রাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
রোববারের নির্বাচনে সিডিইউকে দুই রাজ্যে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় রাজ্য মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নে মূল লড়াই হচ্ছে মের্ৎসের দলের বাইরে জনপ্রিয় রাজ্য প্রধান মানুয়েলা শভেসিগের এসপিডি ও এএফডির মধ্যে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের জরিপ অনুযায়ী, এখানে এএফডির সমর্থন ৩৬ শতাংশ ও এসপিডির ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, মের্ৎসের সিডিইউর সমর্থন মাত্র ৬ শতাংশ, অর্থাৎ রাজ্য পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার খুব কাছাকাছি।
সিডিইউ যদি ৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে রাজ্যটির পার্লামেন্টে দলটির না থাকার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটবে। এতে মের্ৎসের ওপর রাজনৈতিক চাপও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, শহর-রাজ্য বার্লিনে ক্ষমতাসীন সিডিইউর সঙ্গে উগ্র বামপন্থী দল ডি লিংকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
বার্লিনের ভয়াবহ আবাসন সংকট সমাধানে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডি লিংকে। তরুণদের মধ্যেও দলটির জনপ্রিয়তা রয়েছে।
বার্লিনে সিডিইউ পরাজিত হলে মের্ৎসের জন্য সেটি আরেকটি রাজনৈতিক ধাক্কা হবে, বিশেষ করে যদি ডি লিংকের কাছে দলটিকে হারতে হয়।
দলটি করপোরেট ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ও রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল অবস্থান নেয়।
গত বছরের মে মাসে ক্ষমতায় এসে মের্ৎস দুর্বল হয়ে পড়া জার্মান অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো, রাশিয়াকে নিবৃত্ত করতে দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো ও অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তার লক্ষ্য ছিল এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্বেগ কমিয়ে তাদেরকে এএফডির প্রতি ঝুঁকে পড়া ঠেকানো।
তবে বর্তমানে দেশব্যাপী জনমত জরিপে এএফডি এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মের্ৎসের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার হারও ১০ শতাংশের সামান্য ওপরে রয়েছে।
তার মাঝে মাঝে করা সরাসরি ও কড়া মন্তব্যও তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ