শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫৭ এম
সরকারি বাসা বরাদ্দ পাওয়ার পর যারা পুরো ফ্ল্যাট বা আংশিক বাসা সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, আগামী শনিবারের (৩১ অক্টোবর) মধ্যে ভাড়াটিয়াদের অপসারণ করে বরাদ্দকৃত বাসায় অবস্থান করতে হবে। নির্দেশনা না মানলে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তারিখে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সরকারি বাসার বরাদ্দ বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের বরাদ্দ প্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে যে, সম্প্রতি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু বরাদ্দ প্রাপক তাদের বরাদ্দকৃত বাসা বা ফ্ল্যাটের এক রুম, দুই রুম বা পুরো ফ্ল্যাট বা বাসা অন্যকে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম ‘বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২’ এর পরিপন্থি।
‘এমতাবস্থায়, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীন কোনো বাসা বা ফ্ল্যাটের বরাদ্দ প্রাপক কর্তৃক তার নামে বরাদ্দকৃত বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ বা আংশিক (এক বা একাধিক রুমসহ) কোনোভাবেই সাবলেট বা ভাড়া না দেওয়ার অনুরোধ করা হলো। যারা এরইমধ্যে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট বা ভাড়াটিয়াকে আবশ্যিকভাবে অপসারণ করে যথানিয়মে বরাদ্দকৃত বাসায় অবস্থান বা বসবাস করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো।’
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার পরে কোনো বাসায় সাবলেট বা ভাড়া পাওয়া গেলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ প্রাপকের বরাদ্দ বাতিলসহ বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সঙ্গে উক্ত বিধিমালার বিধি ১৪ (৩) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ প্রাপকের অফিস প্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল ইতিহাসে লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চিরন্তন দ্বন্দ্ব নতুন এক মাত্রায় পৌঁছেছে। ব্যালন ডি'অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ ভোটাভুটিতে আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে ‘ব্যালন ডি'অর অব অলটাইম’ (বোট) খেতাবটি অর্জন করেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ব্যালন ডি'অরের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে উয়েফা এবং স্বনামধন্য ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ যৌথভাবে এই অভিনব অনলাইন ভোটের আয়োজন করেছে। গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভোটাভুটির নিয়ম ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। প্রতিটি ভোটের জন্য ফুটবলপ্রেমীদের ১ ইউরো খরচ করতে হয়েছে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৮ টাকা)। বিশেষ এই আয়োজনে ভক্তদের জন্য একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।
দীর্ঘ ভোটগ্রহণ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জানা যায়, ২০০৭-০৮ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা এবং ২০০৮ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি'অর জয় করা রোনালদোর সেই স্মরণীয় মৌসুমটি এই অনলাইন ভোটে শীর্ষস্থান দখল করেছে। অন্যদিকে, ২০১২ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে রেকর্ড ৯১ গোল করার ঐতিহাসিক মৌসুমের সুবাদে লিওনেল মেসি তালিকার দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ তালিকায় শীর্ষ ১২টি মৌসুমের সবকটিই কেবল মেসি ও রোনালদোর দখলে রয়েছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দুই ফুটবল তারকার দীর্ঘমেয়াদী আধিপত্যকেই আরও একবার জোরালোভাবে প্রমাণ করে। তবে তালিকার একটু নিচেই জায়গা পেয়েছেন অন্য এক কিংবদন্তি—ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রোনালদো নাজারিওর ২০০২ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ী মৌসুমটি রয়েছে ১৩তম অবস্থানে।
এদিকে, এই অভিনব ভোটাভুটির ফলাফল এবং বিজয়ের খবরটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করলেও, আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই বিশেষ খেতাব বা বিজয়ের জন্য আলাদা কোনো ট্রফি প্রদান করা হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া আইন ও বিধিবিধান, আবেদনকারীদের প্রস্তাব, কারিগরি মূল্যায়ন দলের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এলপিজির দাম নিয়ে গণশুনানির পর লিখিত মতামত ও প্রস্তাব আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত কমিশনে জমা দেওয়া যাবে।
আজ বিইআরসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বেসরকারিভাবে বাজারজাতকৃত এবং সরকারিভাবে সরবরাহিত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ভোক্তা পর্যায়ের দাম পুনর্নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী এ শুনানির আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুনানিতে রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস পিএলসি, বেসরকারি আবেদনকারী, অপারেটর, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং অটোগ্যাস স্টেশনের প্রতিনিধিরা তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। কমিশন গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন দলও তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পক্ষ থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দাম নির্ধারণের আইনি দিক, কমিশনের দায়িত্ব এবং দাম নির্ধারণে বিবেচ্য বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজন তাদের মতামত শুনানিতে উপস্থাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য আমুরবুনিয়া গ্রামে পাইপ লাইন ভিত্তিক সৌরশক্তিচালিত নিরাপদ পানি সরবরাহ নেটওয়ার্কের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ অক্টোবর বুধবার বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের জন্য সুপেয় পানির অভাব এবং বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলার জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘চ্যারিটি ওয়াটার’-এর অর্থায়নে, ‘হেলভেটাস বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় এবং ‘ডরপ’ এর বাস্তবায়নাধীন ‘ওডিঅবও’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাবিবুল্লাহ বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই সংকটের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ডরপের এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ উপকূলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।" তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীকে প্রকল্পের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমুরবুনিয়া গ্রামের উপকারভোগী ও ‘মা সংসদ’-এর নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, হেলভেটাস বাংলাদেশ এর প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, ডরপ এর প্রকল্প ম্যানেজার নুরেফা আরজু, উপজেলা কো-অর্ডিনেটর সওকাত চৌধুরী, মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর মো. হুমায়ুন কবির, প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার শামীম আহমেদ, পানি ব্যবহারকারী কমিটির সদস্য এবং ডরপের অন্যান্য কর্মীবৃন্দ।
উদ্যোক্তারা জানান, সৌরশক্তিচালিত পাম্পিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পুকুরের পানি পরিশোধন করে সরবরাহের এই ব্যবস্থায় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ১৬টি ট্যাপস্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই গ্রামের ২৫০টি পরিবারের প্রায় ১২শ মানুষ রান্নাবান্না, খাওয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য সহজে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারবে। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পানিজনিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এই মহৎ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত অতিথিবৃন্দরা আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি দূতাবাসের রিলিজিয়াস অ্যাটাশে অফিসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হিফজুল কোরআন চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ১৫ বছর বয়সী হাফেজ মো. খালিদ মোল্লা। তার এই অসাধারণ সাফল্যে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কাহালপুর গ্রামের মাদ্রাসায়ে আবু হুরায়রায় এক আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে খালিদ পেয়েছে দুই লাখ টাকা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় সৌদি দূতাবাসে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে সে।
ওই দিন রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসায় ফিরে আসার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। খালিদ বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কাহালপুর গ্রামের মাদ্রাসায়ে আবু হুরায়রার শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পাশের চিতলমারী উপজেলার নালুয়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের ওবায়দুল ইসলামের ছেলে। খালিদের এই সাফল্যে মাদ্রাসার শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে। গভীর রাতেও তাকে অভিনন্দন জানাতে মাদ্রাসায় উপস্থিত হন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় মুখর হয়ে ওঠে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ। পবিত্র কোরআন হিফজের প্রতিযোগিতায় দেশসেরা হওয়ার মাধ্যমে খালিদ তার পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এলাকার জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তার এই অর্জন ভবিষ্যতে অন্য শিক্ষার্থীদেরও কোরআন শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ