০২:৫৬ পি.এম
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কোর বরাতে বিবিসিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন যে, হামলার পর শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অন্তত দুটি জেলায় বহুতল আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলা এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো, যখন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলো সরকার
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, আগের প্রাণঘাতী হামলার পরে মস্কো কিয়েভে আরো বড় আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। গত বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে এবং এতে একাধিক আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়। সেইসঙ্গে কয়েকটি গুদামঘর ও একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে, রোববার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপোরিঝঝিয়া শহরে দুটি রুশ গাইডেড বোমা হামলা চালানো হয়। এই হামলায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত অ হন এবং আরও দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া দুই শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত বাড়িঘর এবং অন্তত ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন ১৪ জন: আমিনুল হক
এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর মতে, নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইউক্রেন সেটা গ্রহণ করেনি।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে একটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলা হচ্ছে। তার দাবি, খারকিভ, সুমি এবং দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
যদিও রাশিয়ার এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, কস্তিয়ানতিনিভকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন জেনারেলের বিরুদ্ধে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন