ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ট্রাম্প প্রশাসনের আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা


ট্রাম্প প্রশাসনের আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আফগান শরণার্থীদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সোমবার থেকে তাদের বহনকারী উড়োজাহাজ পাঠানো শুরু হতে পারে। তবে, পাকিস্তানে পাঠানোর পর এসব শরণার্থীকে আবার তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী এবং তাদের স্বজনরা।

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে আটক শরণার্থীদের পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ ফ্লাইট পরিচালিত হতে পারে।

কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্যাম্প আস সাইলিয়ায় থাকা আফগান শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সরকার তাদের সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়েছে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ৩১ মার্চের মধ্যে ক্যাম্পটির সব বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে এ সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। এরপর গত সেপ্টেম্বরে ক্যাম্পটি বন্ধের সময়সীমা আরো নয় মাস পিছিয়ে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি যাচাই করছে, প্রধানমন্ত্রী জানালেন নজরদারির কথা

এ বছরের শুরুতে কাতারের এই ক্যাম্প থেকে আফগান শরণার্থীদের কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) স্থানান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল মার্কিন প্রশাসন। ওই সময় দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়।

পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা সামনে আসায় শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী এবং তাদের পরিবারের আশঙ্কা, পাকিস্তানে পাঠানোর পর তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হতে পারে। আফগান শরণার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন আফগানইভ্যাক শুক্রবার প্রশাসনের এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে জনসাধারণের মনোযোগের সুযোগ নিয়ে গোপনে এই ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সংগঠনটি বলেছে, ‘এসব ফ্লাইট কোথায় অবতরণ করবে, সরকার তা জানাতে চাইছে না। কারণ, সেখানে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের পরিণতি কী হতে পারে, তা তারা জানে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘নিজেদের পদক্ষেপের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী কোনো সরকার তা গোপন করে না।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ২০ হাজার ভোট গণনা বন্ধের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

কাতারের ক্যাম্পে থাকা আফগান শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন এই পরিকল্পনার খবর সামনে এল। তবে প্রস্তাবিত ফ্লাইটের গন্তব্য ও যাত্রার সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি মার্কিন সরকার।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

এমএমআর

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ১২০ কিমি গতিতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্বধলায় এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়, তিন প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


পূর্বধলায় এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়, তিন প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

নেত্রকোনার পূর্বধলায় এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। সাধারণ শিক্ষাধারার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষায়ও দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। একটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৬ দশমিক ৮১ শতাংশে।

৩১ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষাধারার খলিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

উপজেলার সাতটি সাধারণ কলেজ থেকে এবার মোট ২ হাজার ৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৪২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৩০৫ জন। এ বিভাগে সামগ্রিক পাসের হার ৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ।

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি (বিএম) শাখার ফলাফলও উদ্বেগজনক। এ শাখার তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৩২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৪৯ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কারিগরি শাখার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ইকরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩ জন। পাসের হার ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। জটিয়াবর কলেজ থেকে ৪৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন, পাসের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর পূর্বধলা সরকারি কলেজ থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭০ জন।

তবে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার এমন হতাশাজনক ফলাফলের বিপরীতে তুলনামূলক ভালো করেছে মাদ্রাসা বিভাগ। উপজেলার তিনটি মাদ্রাসা থেকে ৫৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩১ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

একই উপজেলায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এবং কারিগরি শিক্ষায় পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষক সমাজের মতে, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি এবং যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি এ ফলাফলের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা প্রয়োজন।

শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন দিরাই উপজেলা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫০ পি.এম


হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন দিরাই উপজেলা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

হাওরের বাঁধ নির্মাণে স্থায়ী সমাধান, নদী খনন ও গবাদিপশুর চারণভূমি রক্ষার দাবি

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন দিরাই উপজেলা কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টায় সিলেটের জালাল সিটি সেন্টারে এ পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন দিরাই উপজেলা কমিটির সভাপতি বদরুজ্জামান বদরুল। সাধারণ সম্পাদক মামুন আহমদের উপস্থিতিতে এবং সম্পাদক মাসুদ আহমদের পরিচালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের স্থায়িত্ব, নদী খনন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যয় এবং হাওরের গবাদিপশুর চারণভূমি সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে হাওরাঞ্চলের মানুষ ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিবছর হাওরের ফসল রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই অনেক বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে প্রতিবছর একই বাঁধে নতুন করে কাজ করতে হয়। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি কৃষক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি

 রাজশাহীর বাঘায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রুমানা বেগম (৫৯) নামে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা এজাহার, আসামি গ্রেফতার ও পরে ছেড়ে দেওয়া এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার। বিশেষ করে ২২ বছর বয়সী এক নারীকে কিশোরী উল্লেখ করে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
গত (২০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কেশরপুর কামারপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত রুমানা বেগম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর মারা যান। তিনি ওই গ্রামের কামাল মন্ডলের স্ত্রী।
নিহতের ছোট ছেলে মোহন ইসলাম জনি (৩৫) অভিযোগ করেন, গত ২০ অক্টোবর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ মোসারফ হোসেন রেন্টু (৫৫), বেল্লাল আহমেদ বিদ্যুৎ (২৭), বিউটি (৫০) ও সাবানা খাতুন (২২) তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এ সময় লোহার রড ও ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মায়ের মাথা গুরুতরভাবে থেঁতলে যায়।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী শান্তাকেও ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে শান্তার হাতের তালু কেটে যায়। একই সময় তাঁর বড় ভাই বুলবুল এগিয়ে এলে তাঁকেও রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রুমানা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিন পর তিনি মারা যান। আহতদের মধ্যে বুলবুলের বাকশক্তি হারিয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তাঁর ছোট ভাই জনি। তিনি আরও বলেন, এজাহারে ও সাবানা খাতুনের নাম দেওয়া হলেও এসআই ও ওসি অজ্ঞাত কারনে তার নাম বাদ দিয়ে দেন বলে দাবি করেন নিহতের ছেলে মোহন ইসলাম জনি।
নিহতের পুত্রবধূ শান্তা বলেন, ঘটনার দিন সকালে রেন্টু, বিদ্যুৎ, সাবানা ও বিউটি তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় রেন্টু ও বিদ্যুৎ লোহার রড দিয়ে এবং সাবানা ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর শাশুড়ির মাথায় আঘাত করেন। শাশুড়িকে বাঁচাতে গেলে সাবানা তাঁকেও কাঁচি দিয়ে আঘাত করেন।
শান্তার অভিযোগ, হামলার পর বিউটি ও সাবানা নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় নিলে স্থানীয়রা তাঁদের অবরুদ্ধ করে পুলিশে খবর দেন। পরে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যান।
তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি সাবানাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আহত বুলবুল কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলায় সেই সুযোগে তাঁর স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশ নিজেদের মতো করে এজাহার তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবানা কিশোরী হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কারন তাঁর এজাহারে নাম ছিল না। তবেম তাঁর মা বিউটিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে সাবানা খাতুনের বয়স ২২ বছর এবং তিনি অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, এমন তথ্য তুলে ধরে তাঁকে কিশোরী হিসেবে বিবেচনার কারণ জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সিরাজুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। আপনার কিছু জানার থাকলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ারকে জিজ্ঞাসা করেন। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
সার্বিক বিষয়ে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে আসামি শুধুই একজন অভিযুক্ত, তার বয়স বেশি নাকি কম, তা মুখ্য নয়। অপরাধে জড়িত কাউকেই থানা থেকে সরাসরি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোনো আসামি শিশু বা কিশোর-কিশোরী হয়, তবে আইন অনুযায়ী তার জন্য পৃথক আইনি প্রক্রিয়া  (Child-friendly procedures) অনুসরণ করতে হবে, কিন্তু তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো বিধান আইনে নেই।
তিনি আরও বলেন, এই নির্দিষ্ট মামলার নথিপত্র বা বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। আমি বিস্তুারিত জেনে আপনাকে পরে জানাতে পারব।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পরও পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত একজন কীভাবে থানা থেকে ছাড়া পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি জনতার হাতে আটক ২২ বছর বয়সী সাবানাকে কিশোরী দেখিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং এজাহারে নাম না দিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া নিয়েও ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড়াইগ্রামে জাল দলিলে জমি দখলের অভিযোগ প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


বড়াইগ্রামে জাল দলিলে জমি দখলের অভিযোগ প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারে সংবাদ সম্মেলন
 
নাটোরের বড়াইগ্রামে জাল দলিলের মাধ্যমে এক প্রবাসীর স্ত্রী আরোজা খাতুনের (৫৫) ৪১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জমি দখলে বাধা দিলে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আরোজা খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছেলে আব্দুল আলিম। আরোজা খাতুন উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী বাদশা প্রধানের স্ত্রী।
লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের ২১ জুন আরোজা খাতুন তাঁর শ্বশুর নুর হোসেনের কাছ থেকে কচুয়া মৌজার ৭৪৩ নম্বর হাল দাগে ৪১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ, নামজারি ও খারিজ সম্পন্ন করে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালে নুর হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী আছিয়া খাতুন ও তাঁর ছেলেরা ওই জমির মালিকানা দাবি করে নাটোর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ৩১৭৩ নম্বর দলিল (তারিখ: ২৬ জুন ১৯৭৮) দেখান। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, ওই নম্বরের দলিলটি নাটোরের পির্জিপাড়া গ্রামের লালচাঁন প্রামাণিক ও ফরমান আলী প্রামাণিকের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল। আছিয়া খাতুনের নামে ওই দলিলের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।পরবর্তীতে প্রতিপক্ষরা একই তারিখ ও একই দলিল নম্বরে পাবনার ঈশ্বরদী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমিটি রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে ওই দলিলেও সাবেক ও হাল দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণে অসংগতি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সম্প্রতি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে জালিয়াতির মামলা করেছেন আব্দুল আলিম।অভিযোগকারীদের দাবি, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সম্প্রতি প্রতিপক্ষ আমির হোসেন, চাঁদ মিয়াসহ তাঁদের স্বজনেরা জোরপূর্বক জমিটি দখল করে চাষাবাদ শুরু করেছেন। এতে বাধা দিতে গেলে আরোজা খাতুন ও তাঁর সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ আমির হোসেন ও চাঁদ মিয়া জমিটি তাঁদের বলে দাবি করেন। তবে একই দলিল নম্বরে দুটি ভিন্ন স্থানে জমি রেজিস্ট্রির দাবি এবং তাঁদের দেখানো দলিল নম্বরে অন্য ব্যক্তিদের নামে দলিল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%