ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণ বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি, প্রতিমন্ত্রীসহ ১০ দপ্তরে অনুলিপি


ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণ বন্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি, প্রতিমন্ত্রীসহ ১০ দপ্তরে অনুলিপি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কিশোর কুমার ধর।
এই অভিযোগের পর আজকের পত্রিকা অনলাইনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে উঠে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
পরে আজ ৪ নভেম্বর, বুধবার হাসপাতালের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান।

চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ভৈরব কুলিয়ারচর আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম সহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা


উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হাসপাতালের জায়গা রক্ষার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় প্রতিবাদ।

সিভিল সার্জনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্বাধীনতার আগে থেকে অদ্যাবধি সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী এখান থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা পান। প্রতিষ্ঠানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভৈরবের প্রাণকেন্দ্র বাজার এলাকায় প্রায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম কেন্দ্র এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এখানে নিয়মিত পৌরসভার ইপিআই টিকাদান কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এখানে আধুনিক ২০ শয্যার একটি ডায়াবেটিস হাসপাতাল স্থাপনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের জনবলের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

চিঠিতে সিভিল সার্জন অভিযোগ করেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর একদল লোক হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা তা প্রতিহত করেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।

এতে আরও বলা হয়, হাসপাতালটি সচল থাকা অবস্থায় এর স্থাপনা বিলীন করার উদ্যোগ স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষকে মর্মাহত করেছে। জমিটি এখনো বিএস রেকর্ডে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামে রয়েছে এবং নিয়মিত সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার না করে সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্র আরও উন্নত ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা করার জন্য জেলা পরিষদ প্রশাসককে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময় হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা এবং সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে প্রায় ১০ হাজার নতুন ইট রাখা অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি দোকানের এক শাটার ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রির কথাও শোনা যায় লোকমুখে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব বাজার মৌজার খতিয়ান নং-৩৩, দাগ নং-৭৫০২ দাগে প্রায় ৩৮.২৮ শতাংশ জমি বিএস খতিয়ানে স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে। অন্যদিকে সিএস খতিয়ানে জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড। স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী জানিয়েছিলো, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সচল থাকবে, তবে বাকি জায়গায় জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ করবে। এখনো কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি। কাজের জন্য ইট আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কাউনিয়ায় পুলিশের আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনোভাবেই সচল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। বরং হাসপাতালটি আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে অচল দেখিয়ে জমিটি জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার জন্য সম্ভবত একটি রেজুলেশন পাস করা হয়েছিলো। গতকাল ৩ নভেম্বর জেলা পরিষদের লোকজন হাসপাতালের পুরোনো ভবন ভাঙা ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় মানুষ ও সুশীল সমাজের লোকজন তা প্রতিহত করে। বিষয়টি জানার পর আজ বুধবার, নির্মাণ কাজ বন্ধসহ স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা চেয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে ব‍্যবসায়ির গড়া "সামারা ভিলা’ দখলের পাঁয়তারা: মেজো ভাইয়ের তাণ্ডব, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা,মোঃসানি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


বাকেরগঞ্জে ব‍্যবসায়ির গড়া "সামারা ভিলা’ দখলের পাঁয়তারা: মেজো ভাইয়ের তাণ্ডব, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের আঙ্গারিয়া গ্রামে নিজ শ্রম, ঘাম ও অর্থায়নে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্প ‘সামারা ভিলা’ দখলের উদ্দেশ্যে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসে অর্জিত অর্থে নির্মিত এই বহুতল ভবনটি জবরদখল করার জন্য মেজো ভাই মিজানুর রহমান স্বপন স্থানীয় ও ভাড়াটে লোকজনকে নিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার পটভূমি ও আইনি মালিকানা

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলহাজ মো. তরিকুল ইসলাম তারেক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় সফল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৬ সালে তিনি নিজ অর্থায়নে আঙ্গারিয়া গ্রামে ৪৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ভাইদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও বিশ্বাসের কারণে দলিলে অন্যান্য ভাইদের নামও অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে ছোট ভাই আর্থিক সংকটে পড়লে তাঁর অংশটুকুও নিজ খরচে কিনে নেন।

সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও একক অর্থায়নে ২০২০ সালে ওই জমিতে দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি এবং ২০২৩ সালে এর দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন হয়। নিজ আদরের একমাত্র মেয়ের নামানুসারে বাড়িটির নাম রাখা হয় ‘সামারা ভিলা’ (হোল্ডিং নম্বর: ৩৫৬)। ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ছোট ভাই আরিফুর রহমান সুমন বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিচতলায় বসবাস করছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার, চাকরিচ্যুতি ও সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্যমেজো ভাই মিজানুর রহমান স্বপন দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফেরার পর তিনি আলহাজ মো. তরিকুল ইসলামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন কর্মরতও ছিলেন। একপর্যায়ে চারিত্রিক অধঃপতনের কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি ঢাকা ও বিভিন্ন স্থানে ভাসমান জীবন কাটিয়ে সুকৌশলে ছোট ভাই সুমনের সাথে যোগাযোগ করে গ্রামে প্রবেশ করেন এবং হীন উদ্দেশ্যে নিচতলায় থাকা শুরু করেন। তাঁর এ ধরনের দুরভিসন্ধি বুঝতে পেরে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ জানান মো. তরিকুল ইসলাম।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপাশা ইউনিয়নের তৎকালীন ও বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের দলিল ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করা হয়। সালিশে মিজানুর রহমানের অংশ সম্পূর্ণ আলাদা করে সীমানা পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় এবং মো. তরিকুল ইসলামের একক খরচে নির্মিত বাড়িঘর, পুকুর ও প্রবেশপথ তাঁর অনুপস্থিতিতে ও অননুমতিক্রমে ছোট ভাই আরিফুর রহমানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু কিছুদিন পরেই মিজানুর রহমান শালিসী সিদ্ধান্ত অমান্য করে পেশিশক্তির ব্যবহার করেন। তিনি ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্য মিলে বাড়ির নামফলক, পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া উপড়ে ফেলে পানিতে ফেলে দেন। তাঁদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর কাছে তাঁরা ভুল স্বীকার করেন যাহার সমস্ত নথিপত্র এবং দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার প্রমাণাদি ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি সালিশে ভুল স্বীকার করলেও তাঁদের উপস্থিতিতেই মিজানুর রহমানের ছেলেসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রকাশ্য মো. তরিকুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেন। এসব কথোপকথন ও হুমকির ভিডিও রেকর্ড দুর্গাপাশা ইউনিয়ন পরিষদে সুরক্ষিত আছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট
স্থানীয় সালিশ ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পুরো বাড়িটি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিত হামলা চালান মিজানুর রহমান। বাউফল থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী সঙ্গে নিয়ে তিনি আকস্মিক তাণ্ডব চালান। বাড়ির মূল নামফলক ভেঙে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সীমানা নির্ধারণের পিলার ও কাঁটাতারের বেড়া তুলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভবনের দ্বিতীয় তলার দুটি কক্ষের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য রক্ষিত প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার টাইলস, মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, এসি, গিজার ও স্যানিটারি সামগ্রীসহ সমস্ত আসবাবপত্র লুট করে নেওয়া হয়।জোরপূর্বক ভবনটির দোতলা দখল করে নেওয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবারের আকুতি
বর্তমানে ‘সামারা ভিলা’র তত্ত্বাবধানে থাকা আরিফুর রহমান সুমন ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে সুমনকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানিয়েছেন, বাড়ি দখল ও মালামাল লুটের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজ রক্ত ও ঘামে গড়া সম্পত্তি রক্ষার জন্য এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি ও দৃষ্টান্তমূলক হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ তুহিন(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা সার আটক, ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাচারের সময় ১৬ বস্তা রাসায়নিক সার আটক করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সার পাচারের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে উপজেলার শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থেকে ভ্যানযোগে রাসায়নিক সার গোমস্তাপুরের শিমুলতলী এলাকায় নিয়ে আসার সময় স্থানীয় লোকজন ১৬ বস্তা সার আটক করেন।

পরে বিষয়টি গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সার পরিবহনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সার পাচারের অভিযোগে মো. রশিদ (পিতা: ফারাজ, সাং: নিমতলা কাঁঠাল, গোমস্তাপুর ইউনিয়ন, থানা: গোমস্তাপুর, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ) নামের এক ব্যক্তিকে নগদ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে আটক করা ১৬ বস্তা সার পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সার যাতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে অবৈধভাবে সরবরাহ বা পাচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেলওয়ের জায়গায় ঢুকে গেল ভবন, ১০৫ জন ‘চরম মাশুল’ দিচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


রেলওয়ের জায়গায় ঢুকে গেল ভবন, ১০৫ জন ‘চরম মাশুল’ দিচ্ছেন

ময়মনসিংহে রেলওয়ের জমি দখল করে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, ভবনটির অনুমোদিত নকশা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নগরের মিন্টু কলেজ এলাকায় সরেজমিনে জমি পরিমাপ করেন ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন।

এ সময় তিনি দেখতে পান, সড়কসংলগ্ন রেলওয়ের প্রায় ১৩ ফুট জায়গা এলিট টাওয়ারের সীমানার মধ্যে রয়েছে। এরপরেই তিনি ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া নির্মাণকাজ চালু হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে নির্মাণাধীন এলিট টাওয়ারে অভিযান চালানো হয়। রেলওয়ের জমি দখল করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে —এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, "রেলওয়ের জমিতে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।" সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেলওয়ের জায়গার মধ্যে ১৮ তলা এলিট টাওয়ার নির্মাণের কাজ চলছে। তাই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালু করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভবনটির ডেভেলপার ও নগরের মুসলিম ভাই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দাবি, নিয়ম মেনেই ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এতে ১০৫ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা।

জানা গেছে, ২০২০ সালে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডেভেলপার জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক রাতেই সাবাড় কষ্টে গড়া বাগানের হাজারো কলাগাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


এক রাতেই সাবাড় কষ্টে গড়া বাগানের হাজারো কলাগাছ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া গ্রামে দুই কৃষকের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হলেন- চোমরপাথালিয়া বাজার এলাকার আবুল কালাম ফেলুর ছেলে ফরিদ এবং নজরুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান সত্তার। তারা তিন বিঘা জমিতে কলার চারা রোপণ করেছিলেন, যা ঘটনার পর প্রায় সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুসারে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাগানে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলে। সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকরা দেখতে পান, গাছগুলো কাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে।

কৃষকরা জানান, তারা কিস্তিতে টাকা তুলে চাষাবাদ করেছিলেন। মাসের পর মাস পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। একরাতের মধ্যে তাদের শ্রম ও পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে চাষ করায় এই ক্ষতি তাদের জন্য সামলে ওঠা কঠিন হবে বলে তারা জানান। কৃষকদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতা ও প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে এ ক্ষতি করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ঘটনায় এলাকার অন্যান্য কৃষকেরাও নিজেদের ফসল নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%