১২:৩০ এম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৫০ বছরের পুরোনো দিল্লির রেসকোর্স মসজিদে সাময়িকভাবে বুলডোজার চালানোর কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও, মুসলিমদের নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে দিল্লির হাইকোর্ট।
এই ঘটনার মাধ্যমে ভারতে মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লি হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে যে, রেসকোর্সের মসজিদটি নিয়ে তারা এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ল্যান্ড ও ডেভেলপমেন্ট অফিসে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য চার সপ্তাহ সময় নিয়েছে, ফলে আপাতত মসজিদটির আয়ু চার মাস বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: আনোয়ারের উদ্যোগে খুশি মালয়েশিয়ার নারীরা, মাতৃত্বকালীন ছুটির পরও মিলবে আর্থিক সহায়তা
আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং হাইকোর্ট সরকারকে ছবিসহ বর্তমান অবস্থার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে, মসজিদটি আপাতত নিরাপদ থাকলেও মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানের অজুহাত দেখিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে হাইকোর্ট মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকার একটি মন্দিরের বাইরের লোকজনের পাশাপাশি মসজিদেও বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে ছবি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে সেখানে কোনো উত্তেজনা বা সমস্যা নেই।
তবুও, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে’Ñএমন প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট ঐতিহাসিক এই মসজিদে প্রথমবারের মতো নামাজ পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ওমানের উপকূলে জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাগরিক নিহত
রেকর্ড অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অবস্থিত রেসকোর্স ক্লাব ও জয়পুর পোলো গ্রাউন্ডসংলগ্ন এই শাহী মসজিদটি প্রায় দেড় শতাব্দী পুরোনো। ১৯৭৭ সালে এটি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ২০০৯ সালে হেরিটেজ বা ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
প্রশাসন বর্তমানে এই এলাকা নিজেদের বলে দাবি করছে। সম্প্রতি বুলডোজার চালানোর উদ্দেশ্যে সরকার মসজিদের পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী পাঠিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে আবেদন করে বলা হয়েছিল যে, মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া ভারতীয় সংবিধানের ধর্ম পালনের অধিকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ। কিন্তু সরকার সেই সাংবিধানিক যুক্তিকে উপেক্ষা করেছে। তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও স্থানীয় মুসলিমরা চরম সংযমের পরিচয় দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ওই বোর্ডে এখন ক্ষমতাসীন বিজেপি সমর্থকদের আধিপত্য।
আরও পড়ুন: মস্কোর মুসলিম ভ্রাতৃত্বের উষ্ণতা ও মানবিক সম্পর্ক
সব মিলিয়ে, একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদে শুধুমাত্র নিরাপত্তার যুক্তিতে ইবাদত বন্ধ করে দেওয়ার এই ঘটনা ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলা ধারাবাহিক প্রশাসনিক বঞ্চনা ও মানসিক নির্যাতনের একটি নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন