বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৩ এম
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। কর্মকর্তাদের মতে, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের ত্রুটি এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে টলেডো প্রদেশের উর্দার কাছে দ্রুতগতির রেলপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই রেলপথটি মাদ্রিদকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সেভিলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটির মধ্যে একটি স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত এভিই দ্রুতগতির ট্রেন, যা মাদ্রিদ থেকে সেভিলের দিকে যাচ্ছিল। অপরটি ছিল বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও পরিচালিত ট্রেন।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে জানিয়েছেন, ট্রেন দুটি একই দিকে চলছিল। এ সময় একটি ট্রেন থেমে থাকা অন্য ট্রেনটির পেছনে ধাক্কা দেয়, যার ফলে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
স্পেনে চলতি বছর এটি দ্রুতগামী ট্রেনের দ্বিতীয় বড় ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। দেশটির বিশাল রেল নেটওয়ার্ক দীর্ঘকাল ধরে গর্বের বিষয় ছিল, কিন্তু এই ঘটনার পর পুরো দেশ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মন্তব্য করেছেন, 'আজ পুরো স্পেন শোকাচ্ছন্ন।'
মাত্র নয় মাস আগে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ৪৫ জন নিহত হন।
সানচেজ আরও বলেন, 'স্পেনের মতো একটি দেশে একই বছরে দুটি উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।' তিনি উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ‘ড্র’। বিজয়ী প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৬ লাখ টাকা পাবেন।
অনেকেই সারাজীবন উপার্জিত অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। কিছু মানুষ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করেন, অন্যরা সঞ্চয়পত্র বা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। তবে মধ্যবিত্তদের জন্য প্রাইজবন্ড একটি স্মার্ট সঞ্চয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’ নামের এই বন্ড চালু করেছে। এটি যে কোনো সময় কেনা এবং ভাঙানো সম্ভব। আগামী ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এর ১২৫তম ড্র।
প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কার বিজয়ী ৬ লাখ টাকা পাবেন। দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী পাবেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী ১ লাখ টাকা এবং চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী ৫০ হাজার টাকা পাবেন। পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা পাবেন। ঘোষিত সংখ্যার প্রতিটি সিরিজের বন্ড একই পুরস্কারের জন্য যোগ্য বলে গণ্য হয়।
ড্রয়ের নির্ধারিত তারিখের ৬০ দিন আগে (বিক্রির তারিখ ধরে এবং ড্রয়ের তারিখ বাদ দিয়ে) যেসব প্রাইজবন্ড বিক্রি হয়েছে, সেগুলো এই ড্রয়ের আওতাভুক্ত হবে। আয়কর আইন ২০২৩ এর ১১৮ ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে।
এছাড়া, বছরের ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর তারিখে ড্র অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত তারিখে যদি সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটি পড়ে, তবে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফসহ চারজনের রায় আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করবেন।
এর আগে, ৭ অক্টোবর এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বর্তমানে চার আসামিই পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ইংরেজি, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিচে উপস্থাপন করা হলো:
নামাজের সময়সূচি
ফজর- ৪টা ৪৭ মিনিট
জোহর- ১১টা ৪৫ মিনিট
আসর- ৩টা ৪৬ মিনিট
মাগরিব- ৫টা ২৬ মিনিট
ইশা- ৬টা ৪০ মিনিট
সূর্যোদয়- ৬টা ০৩ মিনিট
সূর্যাস্ত- ৫টা ২১ মিনিট
বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো নিম্নরূপ:
বিয়োগ করতে হবে-
চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট
সিলেট: -০৬ মিনিট
যোগ করতে হবে-
খুলনা: +০৩ মিনিট
রাজশাহী: +০৭ মিনিট
রংপুর: +০৮ মিনিট
বরিশাল: +০১ মিনিট
সূত্র- ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট আসন হারিয়েছে। তবে তার রাজনৈতিক প্রভাব এখনও শেষ হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিরোধীদের জন্য সরকার গঠন করা সহজ হবে না।
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের মূল বার্তা ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং জরুরি অবস্থা বজায় রাখা। তিনি ভোটারদের জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলের উপর হামলার জন্য তিনি দায়ী নন। তার দাবি, ওই হামলার দায় সামরিক নেতৃত্বের।
নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেছেন, সামরিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার পর তিনি পরিস্থিতি সামলেছেন। তার নেতৃত্বে ইসরায়েল আগের চেয়ে নিরাপদ হয়েছে।
তবে ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় নেতানিয়াহু এবং তার মিত্ররা ভোট হারিয়েছেন। তাদের জোটের আসন আট থেকে দশটি কমতে পারে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিরোধী দলগুলোও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। নেতানিয়াহুর জোট দুর্বল হলেও বিরোধীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারেনি। তথাকথিত ‘পরিবর্তনপন্থী’ শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
এই নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফিলিস্তিনি দলগুলোর অগ্রগতি। বিশেষ করে জয়েন্ট লিস্ট জোট এবং মানসুর আব্বাসের রাআম পার্টির ফল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।
নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুই পক্ষ একসঙ্গে ইসরাইলের ১২০ আসনের সংসদে ১৯টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে।
ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। কিন্তু দেশটির সরকার ও রাজনীতিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ ও আসন বৃদ্ধি সেই পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ফিলিস্তিনি ভোট ছাড়া সরকার গঠন কঠিন
মানসুর আব্বাস জয়েন্ট লিস্ট থেকে আলাদা হয়ে ইহুদি ইসরায়েলি দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তব সুবিধা আদায় করা। আগের নির্বাচনগুলোতে এই কৌশলে তিনি কিছু সাফল্যও পেয়েছেন।
তবে এবারের নির্বাচনে জয়েন্ট লিস্ট রাআমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছে বলে নির্বাচনী বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলের বিরোধী দলগুলো জাতীয়তাবাদী অবস্থান, অতি-ধর্মীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরোধিতা এবং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি ভোটারদের সমর্থন ছাড়া তাদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সঙ্গে তিনি ঐক্য সরকার গঠন করলেও ফিলিস্তিনি দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব থেকে যাবে। এমন সরকারে ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টর ডানপন্থী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা কঠিন হতে পারে। তবে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনও স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিনি ভোটারদের বড় অংশের অংশগ্রহণের পেছনে এই দুই নেতাকে ক্ষমতার বাইরে রাখার আকাঙ্ক্ষাও কাজ করে থাকতে পারে।
ইহুদি উদারপন্থীদের সামনে দুটি পথ
নির্বাচনের ফল ইসরাইলের ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী ইহুদি রাজনীতির সামনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ইহুদি ধর্মনিরপেক্ষ উদারপন্থীদের সামনে দুটি পথ রয়েছে। হয় তাদের চিরকাল নেতানিয়াহু বা তার মতো কারও অধীনে থাকতে হবে। নয়তো আরব দল ও ভোটারদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে।
ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমর্থন ছাড়া বিরোধী শিবিরের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সংকুচিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে ইসরাইলের উদারপন্থীরা ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে তাদের পুরোনো অবস্থান পুরোপুরি বদলে ফেলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তনের বদলে বাস্তব প্রয়োজন তাদের ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে উৎসাহিত করতে পারে। রাজনৈতিক স্বার্থ অনেক সময় দলগুলোর পুরোনো অবস্থান বদলাতে ভূমিকা রাখে।
তবে বিপরীত সম্ভাবনাও রয়েছে। ডানপন্থী দলগুলো আরব ভোটারদের রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা করতে পারে। স্মোট্রিচ, বেন-গভির এবং নেতানিয়াহুও এমন পথ খুঁজতে পারেন।
ফিলিস্তিনি ভোটারদের সামনে পরিচয় ও অধিকারের প্রশ্ন
ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যেও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
মানসুর আব্বাসের রাআম পার্টি মনে করে, ইসরায়েলি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করে নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তব সুবিধা আদায় করা জরুরি।
এই কৌশলে শিক্ষা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং বিশ্বের অন্য অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ থেকে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার কিছুটা আলাদা হয়ে যেতে পারে।
আব্বাসের রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী, অন্য অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করার ক্ষমতা তাদের সীমিত। ইসরায়েলি রাষ্ট্র অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই নিজেদের অধিকার ও জীবনযাত্রার উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া দরকার।
অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট দখলদারত্বের মধ্যে থাকা এবং দেশের বাইরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা ছেড়ে দেয়নি।
মঙ্গলবারের ভোটে ফিলিস্তিনি ভোটাররা প্রায় দুই-এক অনুপাতে জয়েন্ট লিস্টের পরিচয় ও অগ্রাধিকারের ধারণাকে সমর্থন করেছেন বলে নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
তাদের দাবি শুধু ভালো নাগরিক সেবা নয়। তারা বৈষম্য কমাতে চান। উন্নত আবাসন চান। নিরাপদ সমাজ চান। ফিলিস্তিনি এলাকায় সংগঠিত অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
তবে এসব দাবি পূরণের জন্য তারা নিজেদের ফিলিস্তিনি পরিচয় ছেড়ে দিতে চান না।
নেতানিয়াহুবিরোধী সরকারকে সমর্থনে চার শর্ত
জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসুফ জাবারিন নির্বাচনী প্রচারের সময় নেতানিয়াহুকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনে সমর্থনের জন্য চারটি শর্ত তুলে ধরেছিলেন।
প্রথমত, অপরাধ দমন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিনি জনপদের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, আরব নাগরিকদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি স্পষ্ট প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
এই শর্তগুলো দেখায়, ফিলিস্তিনি দলগুলোর কাছে সরকার গঠনের আলোচনা শুধু ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়। তাদের পরিচয়, অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিও এর সঙ্গে যুক্ত।
জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম যদি আইজেনকট কিংবা নাফতালি বেনেটের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে, তাহলে ফিলিস্তিনি পরিচয় এবং অধিকৃত অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন আলোচনার টেবিলে আসতে পারে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি কীভাবে ব্যবহার করবেন ফিলিস্তিনিরা?
ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে এই সুযোগ কাজে লাগানো সহজ হবে না। তাদের এমন দাবি তুলতে হবে, যা ইহুদি রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের পরিচয়, মৌলিক অধিকার, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের দাবি এবং দখলদারত্বের অবসানের প্রশ্নেও অবস্থান ধরে রাখতে হবে।
এই নির্বাচনের ফলে ফিলিস্তিনি দলগুলোর দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। তবে সেই ক্ষমতা কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।
ইসরাইলের ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থী দল এবং ফিলিস্তিনি নাগরিক—দুই পক্ষের জন্যই সামনে কঠিন আলোচনা অপেক্ষা করছে।
সূত্র-মিডল ইস্ট আই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ