বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:০৫ পি.এম
ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার সুযোগ দেয়, তবে সেই পদক্ষেপের জন্য কঠোর জবাব দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের জানা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়া এবং ইরানের ভূখণ্ডে হামলার সুযোগ করে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর যথাযথ জবাব দেয়া হবে।’
একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও ভয়াবহ ও ব্যাপক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, ইরান শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ প্রতিহত করবে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার একমাত্র উপায় হলো গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন করা এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিষয়ে ইরানের নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলা।
আকরামিনিয়া আরও জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোয় হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলের সব অবশিষ্ট অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। ইরানের জবাব আগের যেকোনো হামলার তুলনায় আরও কঠোর, আরও বিস্তৃত এবং আরও বিধ্বংসী হবে।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করে বিশ্বমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ করছে।
মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে ব্রিফিংকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার অটো-প্রমোশন চালু করা এবং নকলের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করার মতো বিভিন্ন প্রথার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এটি পুনর্গঠিত ও উন্নত করার জন্য কাজ করছি, যদিও এই প্রক্রিয়ার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন হবে।'
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা এবং ব্যবহারিক জ্ঞান নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের জন্য সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
ছাত্রদের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। যা গিয়ে ঘটনাবলীর উপর বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে।
এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪৮
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। তিনি নিরস্ত্র অবস্থায় উভয় হাত প্রসারিত করে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। তার এই আত্মত্যাগ সারা দেশের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। এর পরই ছাত্র-জনতা আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শহীদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এদিন সকাল ১০টায় গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক।
নুরুল হক নুর বলেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। সেই অর্জন সমুন্নত রাখা, নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য।'
চরকাজলের রাসেল, দশমিনার জিহাদসহ গলাচিপা ও দশমিনার অনেক শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'তারাই ছিলেন আন্দোলনের অগ্রসৈনিক।
দেশের স্বার্থে স্বৈরাচার হটাতে তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে।' তিনি তুরস্কের ২০১৬ সালের ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ টেনে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সবাইকে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের একতরফা ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করেছে। জনগণের ভোটাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।'
সভায় আরো বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধা গাজী নুর আলম, মো. ইমরান ওজুয়েল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাহেদ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ আতিকুরের মা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্যসচিব জাকির মুন্সি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম খান, পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এর ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানার উদ্যোগে ১৬ জুলাই উপলক্ষে ১৬টি বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এ কর্মসূচিটি বুধবার (১৬ জুলাই ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণও করা হয়।
আয়োজকগণ জানান, শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে সবুজ এবং পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি গাছ যেমন পরিবেশ রক্ষা করে, তেমনি এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবেও কাজ করে। তাই প্রতীকীভাবে ১৬ জুলাই উপলক্ষে ১৬টি গাছ রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এমন সামাজিক উদ্যোগগুলি একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ এবং বাসযোগ্য করে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচিগুলি নিয়মিত হওয়া উচিত।
আয়োজক মাসুদ রানা বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আমরা চাই, তাদের স্মৃতি যেন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবেশ রক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতের আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেইমানি করলে ইতিহাস তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবে না।
তিনি এ মন্তব্যটি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত আইডিইবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনাসভায় প্রকাশ করেছেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা আবু সাইদ, ওয়াসিমসহ অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো সকল শহিদদের স্মরণ করেন। বক্তারা সকল হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আওয়াজ তোলেন। এ সময় দলীয় নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
অতিরিক্তভাবে, জামায়াতের আমির ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে তার বক্তব্যে সীমান্তে আচরণের নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অন্য কোনো দেশের প্রেসক্রিপশনে আর চলবে না।
এদিকে, এই দিনে সকালে রায়েরবাজার গোরস্থানে জুলাই শহীদের গণকবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ