বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫৯ এম
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনার উপর ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে। এই হামলাটি বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ঘটে, যার ফলে দুইজন প্রবাসী কর্মী নিহত হন এবং আরও দুইজন আহত হন, এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তেলক্ষেত্রের একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে আসা ড্রোনটি সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তবে, হামলার সময় তেলক্ষেত্রের সীমানার বাইরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনার ফলে সৌদি আরামকোর মূল পরিচালন কার্যক্রমে কোনো প্রকার বিঘ্ন ঘটেনি।
নিহত দুই প্রবাসী কর্মীর মধ্যে একজন ফিলিপাইন এবং অপরজন নেপাল থেকে এসেছেন। এছাড়া, আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সাথে, দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
সূত্র: সৌদি গ্যাজেট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর শাইবাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই ঘটনার ফলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে সৃষ্ট আগুনে দুই বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরো দুজন আহত হয়েছেন।
বুধবার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সৌদি প্রেস এজেন্সিকে (এসপিএ) এই তথ্য প্রদান করেন।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনার দিকে এগিয়ে আসা ড্রোনটি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ভূপাতিত হয়। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ তেলক্ষেত্রে কর্মরত একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে পড়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। তবে, আগুনের এই ঘটনা স্থাপনার সীমানার বাইরে ঘটেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনার ফলে তেলক্ষেত্রটির কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি।
নিহত দুই বিদেশির মধ্যে একজন ফিলিপাইন এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। আহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তান এবং অন্যজন ভারতের নাগরিক বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং পশ্চিমাদের স্বীকৃত ইয়েমেনের সরকারের সমর্থনে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যখন শত্রুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এই ঘটনা ঘটল।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে, হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো—যার মধ্যে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি প্রদান করেছে।
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবস্থিত আম্বর আলী শাহ মাজারের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে দানবাক্স থেকে প্রায় এক লাখ টাকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, মাজার থেকে আটটি কাঁসার পাতিল এবং কিছু আসবাবপত্রও চুরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে।
মাজার কমিটির সদস্যরা জানাচ্ছেন, এখানে একটি মাদকের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং মাদকাসক্তরা নিয়মিত মাদক সেবন করে। তাদের ধারণা, এই পরিস্থিতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পর মাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ভক্তদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি এটিএম বাক্কী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি মনে করেন, মাদকসেবীরাই এ ধরনের কাজ করতে পারে।
লিখিত অভিযোগে এটিএম বাক্কী উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাতে মাজারের ভেতর ও চারপাশ দেখে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে চলে যান। বুধবার সকালে মাজারে এসে তিনি দেখেন, মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং সামনের দরজা খোলা। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে মাজারের ভেতরে ও চারপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। তখনই দানবাক্সে থাকা টাকা ও অন্যান্য মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
এটিএম বাক্কী আরও জানান, লুটেরারা দানবাক্স থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা, ২০ হাজার টাকার আটটি কাঁসার পাতিল এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকার বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
একটি ধর্মীয় স্থাপনায় এভাবে অর্থ ও মালামাল চুরির অভিযোগে মাজারের ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মাজারের ভক্ত রিয়াজ এবং স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, রাতের অন্ধকারে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কীভাবে তারা মাজারে প্রবেশ করেছে এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, পুলিশ তা দ্রুত তদন্ত করে বের করুক।
বাক্কী জানান, ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েও সন্দেহভাজন কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি বুধবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন কালের কণ্ঠকে জানান, মাজারে চুরি হওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা জোরালো ভূমিকা রাখব। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিরোধ ইসরাইলের জনগণের সঙ্গে নয়, বরং দেশের বর্তমান সরকারের নীতির সঙ্গে রয়েছে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ‘কয়েক দশকের সহযোগিতা, অভিন্ন স্বার্থ ও ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে, আমাদের উদ্বেগগুলো বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের কর্মপন্থা নিয়ে, ইসরায়েলি জনগণের সঙ্গে নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ‘টু-স্টেট সলিউশন’ বা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে। এই সমাধানের কার্যকারিতা রক্ষার লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি, যার মধ্যে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা রোধ এবং বসতি সম্প্রসারণকে লক্ষ্য করে নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
এর আগে যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রিটিশ পদক্ষেপকে ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে এর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।
ব্রিটেন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই পাল্টা পদক্ষেপ নেয় ইসরাইল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১১ জন সদস্য ও একজন আইনজীবীর ওপর দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশও দেয় ইসরাইল।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধের জেরেই সাম্প্রতিক এ উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় লোকালয়ে শেয়ালের আক্রমণের ফলে নারীসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায়, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটেছে। আহতদের চিকিৎসা বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রদান করা হয়েছে। একের পর এক শেয়ালের কামড়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত ১১ জনের মধ্যে দুজন নারী এবং ৯ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা বাগাতিপাড়া পৌরসভার ঘোরলাজ, নওশেরা, বারইপাড়া, সোনাপাতিল ও পেড়াবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে পলি নামের এক নারীও রয়েছেন, যিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলা চত্বর এলাকায় শেয়ালের কামড়ের শিকার হন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে আহত প্রথম ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন চিকিৎসা নেন। শেয়ালের কামড়ে আহত হলে ক্ষত স্থান সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধোয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
এদিকে, শেয়ালের আক্রমণের খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলাম বলেন, শেয়ালের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার বিষয়টি বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়েছে। রাজশাহী থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া, স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক ও সচেতন করা হচ্ছে।
এক ঘণ্টার ব্যবধানে বিভিন্ন এলাকায় ১১ জন শেয়ালের কামড়ের শিকার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ