মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:০৩ পি.এম
পরী বেগম মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে প্রথমে ভারত হয়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে কাটে তার জীবনের দীর্ঘ ৫০ বছর। সংসার গড়ে ওঠে, সন্তান জন্ম নেয়। তবে শৈশবের স্মৃতি, জন্মভূমি এবং আপনজনদের মুখ মুছে যায়নি। অবশেষে ৬০ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে ফিরে ভাইদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন পরী বেগম।
পাকিস্তানে দীর্ঘ পাঁচ দশক বসবাস করার ফলে বাংলা ভাষায় কথা বলার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ভাইদের সামনে বসেও বাংলায় মনের কথা বলতে পারছেন না। উর্দুতে কথা বলছেন। তবে ভাষার এই ব্যবধান ভাই-বোনের পুনর্মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর একে অপরকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরী বেগমের পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। তার বাবার নাম মমিন মাতুব্বর। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে নিখোঁজ হন পরী। পরে মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে প্রথমে ভারত এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে কয়েক দফা হাতবদলের পর নিঃসন্তান এক দম্পতির আশ্রয়ে যান পরী। ওই দম্পতি তাকে নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম হয়।
নতুন দেশ, নতুন পরিবার এবং সংসারের ব্যস্ততায় জীবনের পাঁচ দশক পার হলেও শৈশবে ফেলে আসা স্বজনদের স্মৃতি ভুলতে পারেননি পরী। বিশেষ করে বাবা-মা ও ভাইদের কথা মনে রেখেছিলেন তিনি। তবে এত বছর পর তাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এমন আশা একসময় প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
যেভাবে খোঁজ মিলল পরিবারের
পরী বেগমের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটি বেশ চমকপ্রদ। এই যোগাযোগের সূত্র তৈরি করেন রাজশাহী থেকে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়া দুই বাংলাদেশি যুবক। পরিবারের সদস্যরা জানান, পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ওই দুই যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীর নাতির। কথাবার্তার একপর্যায়ে নিজের দাদীর বাংলাদেশে হারিয়ে যাওয়া পরিবারের গল্প তাদের জানান তিনি।
বিষয়টি জানার পর ওই দুই যুবক পরীর সঙ্গে দেখা করেন। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের বাড়ির ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। এ সময় পরী বেগম জানান, তার বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। বাবার নাম মমিন মাতুব্বর। বড় ভাই নওশের আলী মাতুব্বর, মেজ ভাই সাইফুল মাতুব্বর এবং ছোট ভাই সোলেমান মাতুব্বর।
এই নাম ও ঠিকানার সূত্র ধরে বাংলাদেশে ফিরে স্বজনদের খোঁজ শুরু করেন দুই যুবক। একপর্যায়ে নগরকান্দায় পরী বেগমের পরিবারের সন্ধান পান তারা। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছর পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় হারিয়ে যাওয়া ভাই-বোনের। একে অপরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় সরাসরি দেখা করার অপেক্ষা। অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন পরী বেগম।
ভাষা বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা বদলায়নি। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর বোনকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভাইয়েরা। ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া সেই বোনকে এত বছর পর ফিরে পাবেন, তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তারা।
সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে সবার চেহারা। বয়সের ছাপ পড়েছে মুখে। শৈশবের পরিচিত পরিবেশও আর আগের মতো নেই। কিন্তু ভাই-বোনের প্রতি ভালোবাসা আগের মতোই রয়ে গেছে।
পুনর্মিলনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, পরী বেগম এখন আর বাংলায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। দীর্ঘদিন পাকিস্তানে বসবাস করায় তার দৈনন্দিন কথাবার্তার ভাষা হয়ে উঠেছে উর্দু। দেশে ফিরে গণমাধ্যমের কাছে উর্দু ভাষাতেই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
ভাইদের সামনে বসে উর্দুতেই মনের কথা বলছেন পরী বেগম। তার সব কথা বুঝতে না পারলেও আবেগ ও অনুভূতি বুঝতে পারছেন স্বজনেরা। দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ শেষে একে অপরকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট।
পরী বেগমকে ঘিরে বাড়িতে আনন্দের আমেজ। এদিকে দীর্ঘ ৫০ বছর পর পরী বেগমের ফিরে আসার খবরে নগরকান্দায় তার পৈতৃক বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে নানা আয়োজন। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি আশপাশের প্রতিবেশীরাও তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন।
কেউ জানতে চাইছেন কীভাবে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, কেউ শুনছেন পাকিস্তানে কাটানো জীবনের গল্প। আবার কেউ অবাক হচ্ছেন এত বছর পরও জন্মভূমি ও পরিবারের পরিচয় মনে রাখার ঘটনায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরী বেগমকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে মসজিদে দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া বোনকে কাছে পাওয়ায় পুরো পরিবারে যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে যে মেয়েটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অচেনা দেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই পরী বেগম জীবনের ৫০ বছর পর ফিরে এসেছেন নিজের শেকড়ে। এর মধ্যে বদলে গেছে তার জীবন, ভাষা ও চারপাশের পরিবেশ। কিন্তু মুছে যায়নি জন্মভূমির পরিচয় কিংবা আপনজনদের স্মৃতি।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের বিচ্ছেদের পর পরী বেগমের এই ফিরে আসা শুধু একটি পরিবারের পুনর্মিলন নয়; এটি শেকড়ের প্রতি টান, স্বজনদের ভালোবাসা এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন ঘটনা।
পরীর ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, "পরী আপা হারিয়ে গেছিল। ৫০ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিএনপি মণ্ডপে মণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।
তিনি উল্লেখ করেন, পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতাকর্মী, ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খায়রুল কবির খোকন।
খোকন বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বিএনপি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় দলের নেতারা এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি এলাকায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা পূজা উদযাপন কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। বিএনপি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে।’
অতীতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে খোকন বলেন, ‘এবারও যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
বৈঠকে বিএনপির দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, অপর্ণা রায় দাস, অমলেন্দু দাস অপু, জন গোমেজ, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, রমেশ দত্ত, পার্থ দে মণ্ডল, জয়দেব রায়, মিল্টন বৈদ্য ও গণেশ চন্দ্র রায় সাহস উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতির কারণে মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থা ফায়ারফ্লাই কুয়ালালামপুর-সিঙ্গাপুর রুটে বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর এবং কুয়ালালামপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছিল।
ফায়ারফ্লাই এক বিবৃতিতে জানায়, কুয়ালালামপুরের সুলতান আবদুল আজিজ শাহ বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। ধোঁয়াশা ও আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বায়ুমান সূচক ছিল ১৯৯ এবং কুয়ালালামপুরের ১৮৩। সূচকের মান ১৫০ ছাড়ালে বায়ু অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয় এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া দাবানল থেকে এই ধোঁয়ার উৎপত্তি হয়েছে। চলতি বছর দাবানলটি গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এল নিনো নামের আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি আগুনের বিস্তারকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এল নিনোর প্রভাবটি গত চার দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ারফ্লাই, মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের অধীনে রয়েছে। ধোঁয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় গত ১০ অক্টোবর প্রথম ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের মধ্যে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তবে এটি আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করবে।
ধোঁয়াশার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিঙ্গাপুর সরকারও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটি ধোঁয়াশাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় ভর্তুকি সুবিধা পুনরায় চালু করেছে, যা ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটিকে আচ্ছন্ন করে রাখার সময়ও কার্যকর ছিল।
মালয়েশিয়ায় মঙ্গলবার অধিকাংশ রাজ্যে স্কুল খুলেছে। বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি রাজ্য, একটি ফেডারেল অঞ্চল এবং কয়েকটি জেলার স্কুল এখনো বন্ধ রয়েছে।
দাবানলের ধোঁয়া মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ জোরদার করতে মালয়েশিয়া চায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান সোমবার জানান, আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই বিষয়টি তুলে ধরবেন।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার তথ্য অনুযায়ী, সেপাংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহামাদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আসিয়ানের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ধোঁয়াশাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বা শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।’
চলতি বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ফিলিপাইন জানিয়েছে, আগামী মাসের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ধোঁয়াশার বিষয়টি থাকবে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডমিনিক জেভিয়ার ইম্পেরিয়াল বলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করা হবে। ওই বৈঠকের পর ম্যানিলায় আসিয়ানের ৪৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
মোহামাদ জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৬০ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে বিমান ও হেলিকপ্টারসহ ৩৪টি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গম এলাকা ও পানির সীমিত সরবরাহও আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। উপযুক্ত বৃষ্টিবাহী মেঘ না থাকায় কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিলেও আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ধোঁয়াশার কারণে মালয়েশিয়ার সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনটি মোটেও ভালোভাবে কাটেনি। পুরো সেশনে কষ্ট করে উইকেট মিলেছে মাত্র একটি। সেটি এসেছে লিটন দাসের অসাধারণ একটি ক্যাচের মাধ্যমে। তবে, ওই এক ক্যাচের মাধ্যমে লিটন এমন একটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যা ১৪৯ বছরের ইতিহাসে আর কখনো হয়নি।
লিটন আবুধাবি টেস্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ফিফটি করে তিনি ৪ ইনিংসের রান খরার অবসান ঘটান এবং দলকে ৩০০ রানের ওপারে নিয়ে যান। এরপর উইকেটকিপিং গ্লাভস হাতে ৪টি ক্যাচ নেন, সঙ্গে একটি স্টাম্পিংও করেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও দূরে এগিয়ে যান। তার সেঞ্চুরি দলের জন্য বিশাল এক লিড এনে দেয় এবং তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় পঞ্চম স্থানে চলে আসেন।
এরপর আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংসে কিপিং করতে নেমে প্রথম তিনটি ক্যাচ গতকালই নিয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে লিটন খালেদ মাসুদ পাইলটের ২২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭টি ডিসমিসালের রেকর্ডটি এতদিন বাংলাদেশের হয়ে ছিল পাইলটের দখলে। গতকাল সেটি লিটনের হয়ে যায়।
তবে লিটন এখানেই থামেননি। তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন। আজ ইকরাম আলীখিলের ক্যাচ ডান পাশে ঝাঁপিয়ে ধরে তিনি সেই রেকর্ডটি গড়েন। এই টেস্টের দুই ইনিংসে লিটন করেছেন অন্তত পঞ্চাশোর্ধ্ব রান। উইকেটের পেছনে তার ডিসমিসালের সংখ্যা ৯টি। এক টেস্টে একজন উইকেটকিপারের এতসব কীর্তি ক্রিকেটে আগে দেখা যায়নি। সেটাই এবার দেখালেন লিটন দাস।
এখন তার সামনে রয়েছে একটি বিশ্বরেকর্ড। এক টেস্টে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্ব রেকর্ড ১১টি। এই রেকর্ডটি বর্তমানে ভাগাভাগি করছেন তিনজন। তারা হলেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ভারতের ঋষভ পন্ত। রাসেল ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ডি ভিলিয়ার্স ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং পন্ত ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েন। লিটনের সামনে এখন সেই বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার সুযোগ রয়েছে।
লিটন ব্যাট হাতেও দারুণ সময় কাটিয়েছেন এই টেস্টে। প্রথম ইনিংসে ফিফটির পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেছেন একটি দারুণ সেঞ্চুরি। তিনি ৯০০০ আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন, যা পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অর্জিত। এরপর সেঞ্চুরির তালিকায় কিংবদন্তি মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেলেছেন। শেষ দিনে লিটন এখন বিশ্বরেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা সালমান খানের প্রতি চাঁদনীর ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই রয়েছে। প্রিয় নায়কের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সালমানের হাত ধরে ছিলেন। বাড়িতে ফিরে আসার পর, সাত দিন তিনি সেই হাত ধোয়ার সাহস পাননি, এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। সম্প্রতি সালমানের সঙ্গে দেখা হওয়ার সেই আনন্দময় স্মৃতি তিনি ভাগাভাগি করেছেন।
শৈশব থেকেই সালমান খানের একজন ভক্ত হিসেবে পরিচিত চাঁদনী। তার প্রিয় তারকার ছবি তিনি ঘরের দরজায় এবং পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখতেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি সালমানের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চাঁদনী সালমানের সঙ্গে দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘আমার সাল্লুর সঙ্গে। যারা আমার সাক্ষাৎকার দেখে বলেছিলেন, ‘চাপা’, এই ছবি তাদের জন্য।’
সালমানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি চাঁদনী শেয়ার করে বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে বাংলাদেশে একটি অনুষ্ঠানে আসার কথা ছিল এই বলিউড তারকার। খবরটি শোনার পর তিনি অনুষ্ঠানের টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, কোনো কারণে অনুষ্ঠানটি আর হচ্ছে না। এতে তার মন ভীষণ খারাপ হয়েছিল।
এরপর তিনি প্রিয় নায়কের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন। একসময় জানতে পারেন, সালমান খান বাংলাদেশে এসেছেন এবং শেরাটন হোটেলে অবস্থান করছেন। বর্তমানে হোটেলটির নাম ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা।
চাঁদনী তার মা, বান্ধবী সাদিয়া ইসলাম এবং ফটোগ্রাফার মহসিন ভাইকে নিয়ে হোটেলে চলে যান। প্রথমে দেখা করার সুযোগ না পেলেও পরে নানা উপায়ে সেই সুযোগ তৈরি করেন। একপর্যায়ে সালমানের কক্ষের ঠিকানা পেয়ে যান তারা।
সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে চাঁদনী বলেন, ‘নানাভাবে সুযোগটা করে নিতে হয়েছিল। পরে রুমের ঠিকানা পাই। সঙ্গে মা, বান্ধবী সাদিয়া ইসলাম আর আমাদের ফটোগ্রাফার মহসিন ভাই ছিলেন। গিয়ে দেখি, সালমান খান একাই রুমে রয়েছেন। অনুমতি নিয়ে তখন আমি তার পাশে গিয়ে দাঁড়াই।’
সেই সময় চাঁদনী স্কুলে পড়তেন। সালমানের কাছে নিজের নাম এবং পরিচয় তুলে ধরে ছবি তোলার কথা জানান। সেই সময় প্রিয় তারকার হাত ধরে থাকার স্মৃতিটি আজও তার কাছে অমলিন রয়েছে।
চাঁদনী বলেন, ‘আমি সেদিন সালমান খানের হাত ধরে ছিলাম। যত সময় ছিলাম, পুরো সময়েই হাত ধরে ছিলাম। তিনি আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন। পরে অটোগ্রাফে লিখলেন, ‘চাঁদনী, ফর ইয়োর সালমান।’
সালমানের সেই আচরণ এবং চাহনি এখনও চাঁদনীর মনে গেঁথে আছে। তার ভাষায়, ‘এ লেখা আর তার জিজ্ঞাসা করার সময়টা এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। তিনি একটু লাজুক টাইপের ছিলেন। নাম জিজ্ঞাসা করার সময়ে তিনি আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। সেই চাহনি এখনও আমার মনে আছে।’
প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর হাত না ধোয়ার ঘটনাটি বলতে গিয়ে চাঁদনী হাসেন। তিনি বলেন, ‘আমি সালমান খানের সঙ্গে দেখা হওয়ার পুরো সময় তাকে ধরে ছিলাম। হ্যান্ডশেক করেছিলাম। পরে বাসায় এসে ৭ দিন ওই হাতই ধুইনি। এটা আসলে কিশোর মনের একটা পাগলামি ছিল। ক্রেজি ফ্যান বলতে যা বোঝায়। আমি তাকে এতটাই পছন্দ করতাম যে আমার বাসায়, আমার রুমের অনেক স্থানে তার ছবি টাঙিয়ে রাখতাম। বাচ্চাকালে কত কিছু করেছি।’
১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া সালমান খানের সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ দেখেই তার প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল বলে জানান চাঁদনী। সেই ভালো লাগা থেকেই একসময় প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ খুঁজেছিলেন তিনি। আর সেই সাক্ষাতের স্মৃতি আজও তার কাছে বিশেষ হয়ে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ