ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুনদের জন্য লাকি চার্ম তৌসিফ মাহবুব, সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি


নতুনদের জন্য লাকি চার্ম তৌসিফ মাহবুব, সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

বর্তমানে তৌসিফ মাহবুব একটি ব্যস্ত সময় পার করছেন। নাটকের পাশাপাশি, তিনি এখন ওয়েবেও কাজ করছেন। সম্প্রতি তাঁর নতুন নাটক ‘ছুঁয়ে দিলাম তোমায়’ অনলাইনে মুক্তি পেয়েছে। এই নাটক নিয়ে তিনি ইমরুল নূরের সঙ্গে কথা বলেছেন।

নাটকটি মুক্তির পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এক দিনে সাড়ে তিন মিলিয়নের মতো ভিউ হয়েছে দেখলাম। দর্শকরা বেশ পছন্দ করছে। বেশির ভাগই ইতিবাচক মন্তব্য। কেউ কেউ অভিনয় নিয়ে মন্তব্য করছে, আবার কেউ গল্পের শেষটার প্রশংসা করছে। যেহেতু একটু ফ্রি ছিলাম, গত রাতে ইউটিউবে নাটকের প্রায় দেড় হাজার কমেন্ট পড়েছি। এখন পর্যন্ত শতভাগ কমেন্টই ইতিবাচক। একটাও নেতিবাচক কমেন্ট নেই। এর মধ্যে কেউ হয়তো তটিনীর ভক্ত আবার কেউ আমার। এটা সত্যি একটা বড় পাওয়া। দিনশেষে আমরা তো দর্শকের জন্যই কাজ করি। তারা যখন কোনো কাজ দেখে প্রশংসা করে কিংবা নিজেদের মতামত জানায় সেটাই আমাদের আগামী দিনে আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। আগের কাজটার চেয়ে পরের কাজটা কিভাবে আরো ভালো করা যায়, সেটার দিকে সব সময় খেয়াল রাখি।"

নাটকটিতে তটিনী ছাড়াও একজন নবাগতাকে দেখা গেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "হ্যাঁ, নীহা চৌধুরী। মডেলিং করে, তবে অভিনয়ে নতুন। কোনো কাজে সহশিল্পী কে থাকবে, সেটা আমার সিদ্ধান্ত থাকে না, পরিচালকের সিদ্ধান্ত। গল্পের প্রয়োজনেই তার আগমন। সম্প্রতি এক ইন্টারভিউয়ে তাকে বলতে শুনলাম, ছোটবেলা থেকে আমার নাটক দেখে বড় হয়েছে। আমার সঙ্গে পর্দা শেয়ার করা নিয়ে নাকি নার্ভাস ফিল করছিল। গল্প নিয়ে যখন কথা হচ্ছিল তখন ওর চরিত্রটা নিয়ে ওর মনে অনেক প্রশ্ন ছিল, চরিত্রটি নেগেটিভ কি না! আশা করি, কাজটি করার পর সে তার উত্তর পেয়ে গেছে। দর্শকের রেসপন্সই সব বলছে।"

আরও পড়ুন: রুকাইয়া জাহান চমকের বিয়ের রহস্য, ভাইরাল ছবিতে শুভর উপস্থিতি

নতুনদের সঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ওই যে বললাম, গল্পের প্রয়োজনেই নতুনরা আসে, আর এটা একদমই পরিচালকের সিদ্ধান্ত। এখন যারা নতুন কাজ করতে আসছে বা করছে সে অনুযায়ী আমি তাদের চেয়ে ১২ থেকে ১৪ বছরের সিনিয়র। রোমান্টিক গল্পে কাজ করতে গেলে দুজনের কেমিস্ট্রির একটা ব্যাপার থাকে। সেদিক থেকে আমি কেন, সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুনদের অনেকে হয়তো নার্ভাস ফিল করে। চেষ্টা করি তাদের কমফোর্ট ফিল করানোর, যেন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারে। একসময় তটিনী নতুন ছিল, এখন পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হয়ে উঠেছে। আমি সব সময় চেষ্টা করি নতুনদের সহযোগিতা করার। আরেকটা বিষয় খেয়াল করলাম, নতুনদের জন্য আমি লাকি চার্ম। কারণ তাদের অনেকের মতে আমার সঙ্গে কাজ করলে দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করছে, সঙ্গে আলোচনায় আসছে। এটা তাদের অনেকের কাছেই শুনেছি।

এই মুহূর্তের ব্যস্ততা কী নিয়ে?

তিনি জানান, "এই মুহূর্তে ছুটিতে আছি। তা-ও মাত্র তিন-চার দিনের। টানা ৯০ দিন শুটিং করেছি। এরপর মনে হলো, একটা ছোট্ট ব্রেক নেওয়া দরকার। তারপর স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটে ঘুরতে এসেছি। আগামীকালই ঢাকায় ফিরব। ফিরেই আবার শুটিং শুরু করব।"

ভিকি জাহেদের ওয়েব ফিল্মের শুটিং কবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ঢাকায় ফিরেই ভিকির কাজটা নিয়ে বসব। দুই দিনের মতো সময় আছে, এই কাজটার প্রস্তুতি নিতে হবে, এরপর ১৫ অক্টোবর থেকেই শুটিং শুরু করব। সাত থেকে ১০ দিনের মতো লাগবে এটা শেষ করতে। এরপর আবার এই মাসের শেষের দিকে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর শুটিং করতে হবে। তিন-চার দিন শুটিং করলেই এবারের মতো সিজনের কাজ শেষ। এটা শেষ করে আবার ভিকির সঙ্গেই ফিরতে হবে, ‘চক্র ৩’-এর শুটিংয়ে। নভেম্বরে এটার শুটিং শুরু করতে হবে, যেহেতু ডিসেম্বরে রিলিজ আগেই ঘোষণা দেওয়া।"

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসব সবার হোক: বিদ্যা সিনহা মিম

নাটকের পর ওটিটিতে আসা এবং সফলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনো কিছুতে তাড়াহুড়া না করাই ভালো। সবাই যখন ওটিটিতে ব্যস্ত আমি তখনো নাটক করছিলাম। তারপর সময় নিয়ে ভালো একটা প্রজেক্টে ওয়েব করলাম। দর্শকের অভাবনীয় সাড়া পেলাম। সত্যি বলতে আমি দর্শকদের হতাশ করতে চাই না। সিনেমার ক্ষেত্রেও চাই সঠিক সময়ে একটা ভালো কোনো প্রজেক্ট নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে। সম্প্রতি নিকেতনপাড়া থেকে একটি সিনেমার প্রস্তাব এসেছিল। বেশ কয়েক দিন মিটিংও করেছি, কিন্তু শিডিউলের কারণে সেই সিনেমা করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সিনেমার প্রস্তাব আসছে, কিন্তু সেটা নিয়ে ঠিক তখনই জানাতে পারব যখন সবকিছু ব্যাটে-বলে মিলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাহাড়-গাছ কেটে রিসোর্ট, ক্ষত ঢাকতে ইকো শব্দের ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


পাহাড়-গাছ কেটে রিসোর্ট, ক্ষত ঢাকতে ইকো শব্দের ব্যবহার

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারদিকে শুধু সবুজের বিস্তৃতি দেখা যায়। দূরে পাহাড়ের সারি রয়েছে। কোথাও মেঘের ভেলা ভাসছে, কোথাও গভীর খাদ। নিচে ঝিরি-ছড়া ও ঝর্ণার কলকল শব্দ শোনা যায়। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বান্দরবানে পর্যটন ব্যবসার প্রধান সম্পদ। আর এই সম্পদকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের বুকে একের পর এক রিসোর্ট, কটেজ ও মাচাংঘর গড়ে উঠছে।

পাহাড়ের একটুকরো জায়গা পেলেই সেখানে রিসোর্ট গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাহাড়ের চূড়ায়, ঢালে, পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে এবং ন্যাড়া পাহাড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো রং-বেরঙের কটেজ গড়ে উঠেছে। এসবের নাম রাখা হচ্ছে ‘ইকো রিসোর্ট’। কিন্তু পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ধারণার সঙ্গে এসব স্থাপনার বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, অধিকাংশ স্থানে প্রাকৃতিক ঢাল কেটে সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেক স্থাপনায় পরিকল্পিত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। এর ফলে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে গিয়ে প্রকৃতির ওপর চাপ বাড়ছে।

কেউ জায়গার কাগজপত্র নিয়ে এসেছে, আবার কারো তাও নেই। জেলা প্রশাসনের কাছে নামমাত্র আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে বছরের পর বছর ধরে পর্যটন ব্যবসা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কটেজ ও রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।

এদিকে পাহাড়ের জমি ব্যবহারের ধরনেও বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। কোথাও রাবার বাগান বা হর্টিকালচারের নামে লিজ নেওয়া পাহাড়ে গড়ে উঠেছে পর্যটন স্থাপনা, আবার কোথাও দখল করা খাস পাহাড়েও নির্মাণ করা হয়েছে রিসোর্ট ও কটেজ।

স্থানীয়দের মতে, বান্দরবানে এখন যেখানে পাহাড়, সেখানেই রিসোর্ট—এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব স্থাপনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারো হাতে জেলা প্রশাসনের কাছে করা আবেদনপত্র রয়েছে, কারো ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স; কেউ আবার বছরের পর বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা করছেন। ফলে ‘কাগজ আছে, আবার কাগজ নেই’—এমন অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যেই পাহাড়ে রিসোর্ট ব্যবসা বাড়ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে পাঁচ শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও মাচাংঘর গড়ে উঠেছে। অথচ জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী অনুমোদিত হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যা ৭৯। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ৩২টির। ফলে বিপুলসংখ্যক স্থাপনার বৈধতা ও অনুমোদন নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

সম্প্রতি বান্দরবান সদর, লামা, আলীকদম, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভালো ভিউ পয়েন্ট পাওয়া যায়—পাহাড়ের এমন চূড়া বা ঢালই এখন রিসোর্ট ব্যবসার প্রধান লক্ষ্য। কোথাও পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণ মাচাংঘর, কোথাও ইট-কংক্রিট আবার বাঁশ-কাঠ-ছন দিয়ে কটেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। সামান্য জায়গা পেলেই টংঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

পর্যটকদের কাছে এসব কটেজে রাতপ্রতি ভাড়া পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে অবস্থান ও সুযোগ-সুবিধাভেদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাঁশ, ছন ও টিনের ছোট মাচাংঘরের ভাড়াও ১২০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। এভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘিরে কোটি টাকার পর্যটন বাণিজ্য চলছে।

লামার মিরিঞ্জা এলাকায় রিসোর্টের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান জানান, এলাকায় প্রায় ৮৯টি রিসোর্ট রয়েছে। এসবের অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন বা ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই অনেকের।

লামা রিসোর্ট মালিক সমিতির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন রফিক বলেন, ‘এখানে মোট কতটি রিসোর্ট বা কটেজ রয়েছে, তার হিসাব আমাদের কাছেও নেই। সমিতি থাকলেও কেউ কারো কথা শুনছে না।’

রিসোর্ট গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জমির ব্যবহার নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। রিসোর্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের তথ্যমতে, মিরিঞ্জা পাহাড় এলাকার অনেক জমি বিভিন্ন সময়ে রাবার প্লান্টেশনের জন্য লিজ নেওয়া হয়েছে। পরে কোনো কোনো জায়গায় জুমঘর বা ছোট কাঠামো নির্মাণ করে পর্যটকদের আকর্ষণ করা শুরু হয়। কোথাও খাস পাহাড় দখল করে রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

পরিবেশবিদ উয়ই সিং মন্তব্য করেন, পাহাড় কাটা, গাছ কাটা ও ঝিরি-ছড়া ভরাটের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও ধ্বংস হচ্ছে। রিসোর্টের বর্জ্য নদী-নালা ও ঝিরিতে মিশে যাওয়ায় পানি দূষিত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের বান্দরবান শাখার সভাপতি জুয়ামলিয়ান আমলাই বলেন, গত কয়েক বছরে বড় বড় পাহাড়ের চূড়ায় একের পর এক ‘ইকো’ নামের রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। অনেকেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। এভাবে চলতে থাকলে কটেজের নামে পাহাড়ি এলাকা অপরিকল্পিতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠবে। দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করা প্রয়োজন।

রিসোর্টগুলোর বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্থাপনায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও খাবারের প্যাকেট পড়ে থাকছে পাহাড়ের ঢাল, খাদ ও ঝিরির পাশে। কোথাও বর্জ্য পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

লামার ইয়াংছা পাড়ার বাসিন্দা মংচিং মার্মা জানান, রিসোর্টের বর্জ্য ঝিরি ও ছড়ায় গিয়ে পড়ায় তাদের একমাত্র পানির উৎস দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে বাধ্য হয়ে সেই পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

মিরিঞ্জাসহ নতুন পর্যটন স্পটগুলোর অনেক রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে কাঠ, বাঁশ, ছন ও টিন দিয়ে। কিন্তু এসব স্থাপনার অনেকগুলোতেই নেই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। দুর্গম পাহাড়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার মতো সড়কও নেই।

বান্দরবান জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল মান্নান আনসারী বলেন, জেলায় ঠিক কয়টি হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে, তার সঠিক তথ্য নেই। তবে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নবায়ন করেছে প্রায় ৬০টি হোটেল-রিসোর্ট।

সহকারী পরিচালক আরও জানান, কাঠ, বাঁশ, ছন ও টিনের অনেক কটেজে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। দুর্গম পাহাড়ে অগ্নিনির্বাপণ যান চলাচলের উপযোগী সড়ক না থাকায় আগুন লাগলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব জানান, জেলায় ৩২টি রিসোর্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েছে। তবে আইনি কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির আলোকে ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে স্থানীয় পর্যটন খাতকে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এক যুগ পার হলেও পর্যটন স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনায় জেলা পরিষদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এখনও নেই।

অসুস্থতার কারণে এবিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। তবে পর্যটনশিল্পের বিকাশে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করেন জেলা পরিষদ সদস্য লুসাই মং মারমা। তিনি বলেন, পর্যটনশিল্পের প্রসারে বিদ্যমান বাধা দূর করতে প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে জেলা পরিষদ।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বান্দরবানে পর্যটন করপোরেশন বা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আলাদা স্থানীয় কার্যালয় নেই। ফলে হোটেল-রিসোর্টের বিষয়গুলো জেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ দেখভাল করে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, বর্তমানে ৭৯টি হোটেল ও রিসোর্ট অনুমোদন নিয়েছে। বাকি হোটেল-রিসোর্টগুলোকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার জন্য অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজায় জবিতে ৬ দিনের ছুটি ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজায় জবিতে ৬ দিনের ছুটি ঘোষণা

শারদীয় দুর্গাপূজা এবং লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছয় দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটির মধ্যে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে ক্লাস বন্ধ থাকবে। লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ থাকবে। এছাড়া, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও দপ্তরগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ২৫ অক্টোবর (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও দপ্তর বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে যে, ছুটির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, নিরাপত্তা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ জরুরি পরিষেবাগুলো চালু থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা যুদ্ধ ইসরাইলের নির্বাচনে কট্টরপন্থিদের শক্তি বৃদ্ধি করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


গাজা যুদ্ধ ইসরাইলের নির্বাচনে কট্টরপন্থিদের শক্তি বৃদ্ধি করছে

গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ আসন্ন নির্বাচনের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, ভূখণ্ড দখল এবং তাদের উচ্ছেদের পক্ষে ইসরাইলের রাজনীতিতে সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় কট্টর ডানপন্থিদের অবস্থান হিসেবে পরিচিত এসব দাবি এখন মূলধারার রাজনীতিতেও স্থান করে নিয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলেও, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের নেতৃত্বকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।

নির্বাচনের এক মাস আগে, ২৯ সেপ্টেম্বর নেতানিয়াহু দাবি করেন, ভোটের আগে ইসরাইলের শত্রুরা দেশটিতে হামলার ষড়যন্ত্র করছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এরপর গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেখানে ১০০ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’কে হত্যা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন নেতানিয়াহু। ৭ অক্টোবরের হামলা এবং জিম্মিদের দ্রুত মুক্ত করতে ব্যর্থতার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। তবে, ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে যোগ্য—এমন ধারণা ভোটারদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পরদিন দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে গুরুতর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ককপিটে সহকারী পাইলট কুড়াল দিয়ে পাইলটের ওপর হামলা চালান। বিমানটি প্রায় দুর্ঘটনায় পড়েছিল। নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে নিজের নেতৃত্বের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটি ইসরাইলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ওই হামলায় ইসরাইলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এর পর গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর সামনে কঠিন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গাজা যুদ্ধের তিন বছরে ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের প্রভাব আরো বেড়েছে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এর স্পষ্ট উদাহরণ। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে বর্ণবাদী বক্তব্য ও নীতির জন্য পরিচিত এই কট্টর ডানপন্থি নেতার ওপর পশ্চিমা কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

গত মাসের শেষ দিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে স্মোতরিচ বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সেনাবাহিনীর ‘যুদ্ধে যাওয়া’ উচিত এবং সেখানে ‘গাজায় যা করেছি, তা-ই করা’ উচিত। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময় পর তার নির্বাচনী মিত্র মোশে ফেইগলিন আরো কঠোর বক্তব্য দেন। জেরুজালেম পোস্টকে তিনি বলেন, ‘শত্রু গাজা, হামাস নয়।’ নির্বাচনের পর গাজা দখল করে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে ফেইগলিন বলেন, ‘আগামীকাল গাজায় যে শিশুর জন্ম হবে, সেও ঠিক একই কাজ করবে।’ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের মতে, এসব বক্তব্য বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়; বরং ক্ষমতায় যেতে চাওয়া রাজনীতিকদের নির্বাচনী বার্তা। এতে ফিলিস্তিনিদের অধিকারসম্পন্ন জনগোষ্ঠী হিসেবে না দেখে নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁদের উচ্ছেদ, দখল কিংবা ধ্বংস করার পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা চলছে।

নাজ্জার বলেন, আসন্ন নির্বাচন এমন প্রতিযোগিতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং কে তাদের আরো আগ্রাসীভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন, সেটিই মুখ্য হয়ে উঠতে পারে।

ডানপন্থি রাজনীতির বিস্তার

লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তাবিশ্লেষক অ্যারন ব্রেগম্যান বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডানপন্থার প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। তবে এ প্রবণতার শুরু আরও কয়েক দশক আগে। আল-জাজিরাকে ব্রেগম্যান বলেন, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের পর ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থার দিকে ঝোঁক শুরু হয়। ৭ অক্টোবরের পর তা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

২০২২ সালে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারটি ছিল ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি। সেই সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত। বর্ণবাদে উসকানি দেওয়া এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থনের দায়ে অতীতে দণ্ডিত হয়েছিলেন তিনি।

ব্রেগম্যানের মতে, নেতানিয়াহুর বড় ভুলগুলোর একটি ছিল বেন-গভির ও স্মোতরিচের মতো নেতাদের জোট সরকারে জায়গা দেওয়া। এর মাধ্যমে তিনি তাদের ইসরাইলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বেন-গভির এখন পরবর্তী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার আশাও করছেন। ব্রেগম্যানের ভাষায়, ‘এটা পাগলামি। কিন্তু সমসাময়িক ইসরাইল এখন এমনই।’

নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাধিক দল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক এবং বিরোধী পক্ষের দলও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থার বিস্তারের বড় উদাহরণ।

প্যালথিংক ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক ওমর বাদ্দার বলেন, নির্বাচনের আগে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একধরনের ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে। গত বছরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বাদ্দারের মতে, ভোট বাড়াতে নেতারা নিরাপত্তার হুমকিকে কাজে লাগাচ্ছেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা তত বাড়ছে।

তার ভাষায়, ‘যিনি বেশি কট্টর, তার বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ ইসরাইলের ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক এহাব জাবারিনের মতে, ইসরাইলের বর্তমান রাজনীতিতে ডানপন্থি হওয়ার অর্থ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকার, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া। একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সন্দেহ, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি সমর্থন এবং ইহুদি সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা এখন ইসরাইলি রাজনীতির বড় অংশে প্রতিষ্ঠিত।

নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের কারণে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিক ও রাজনীতিক সামি আবু শাহাদেহকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। অথচ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংস বক্তব্য দেওয়া কট্টর ডানপন্থি নেতাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।

নিরাপত্তার প্রশ্নে এখনো ভরসা নেতানিয়াহু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে ইসরাইলিদের মধ্যে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। গত মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান আব্বাস কামেল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাকে সতর্ক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নেতানিয়াহুর দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এ তথ্য তুলে ধরে তাঁকে দেশ পরিচালনার জন্য ‘অযোগ্য’ বলেছেন। তবে নেতানিয়াহু আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। এসব প্রতিবেদন জনমত জরিপে তাঁর অবস্থানে বড় প্রভাব ফেলেছে বলেও মনে হচ্ছে না।

তেল আবিবভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরাইল-ফিলিস্তিন বিশ্লেষক মাইরাভ জন্সজেইন বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনা ইসরাইলিদের নিরাপত্তাবোধে গভীর আঘাত হেনেছে। তবে নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট ক্ষমতায় আসার পর বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের বিতর্কিত উদ্যোগের কারণে সরকারের প্রতি জনআস্থা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তারপরও নিরাপত্তার প্রশ্নে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন রয়েছে। জন্সজেইন আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরাইলিরা এখনো সাধারণভাবে নেতানিয়াহুকেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপযুক্ত নেতা মনে করেন। তারা তার বিকল্প কাউকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন না।

ইসরাইলি ইনস্টিটিউট ফর রিজিওনাল ফরেন পলিসিজের মিতভিমের গত জুনের এক জরিপে দেখা যায়, দেশটির জনগণ সামরিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন প্রশ্নের সমাধান এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারত্বের অবসানের বিরোধিতা করে। তবে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্লান্তি বাড়ছে ইসরাইলি সমাজে। গত কয়েক বছরে ছয়টি যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে ইসরাইলি সেনাদের। এর প্রভাব পড়ছে তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রায় ৩০ হাজার সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন। গত তিন বছরে মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগের বাজেট ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১০ বিলিয়ন শেকেলে দাঁড়িয়েছে। এর বড় অংশ মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ও যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক চাপের চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে।

‘বৃহত্তর ইসরাইল’ ভাবনা, পেছনে দুই রাষ্ট্র সমাধান। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলের নেতারা ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠার ধারণা নিয়ে আরো প্রকাশ্যে কথা বলছেন। এই ধারণার পক্ষে বাইবেলের জেনেসিস ১৫:১৮-২১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি ও সিরীয় ভূখণ্ড দখল করে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে আসছে ইসরাইল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়া ও লেবাননেও আরও ভূখণ্ড দখল করেছে দেশটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের মতে, নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিনিদের যেভাবে অমানবিক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তাতে গাজার বিপর্যয়কে কোনো অপরাধ বা জবাবদিহির বিষয় হিসেবে নয়, বরং অন্যত্রও পুনরাবৃত্তি করার মতো একটি নমুনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালানোর পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে রেখেছে ইসরাইল। সেখানকার বাসিন্দারা আল-জাজিরাকে বলেছেন, নির্বাচনে নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবে বলে তাঁরা মনে করেন না।

নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট ইয়াশার পার্টির প্রধান এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান। তিনি ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’-এর প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের পর এই নীতির বিকাশ ঘটে। এতে শত্রুপক্ষকে নিবৃত্ত করতে বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধেও ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা বলা হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে, বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে, এই নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

আইজেনকোটও সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বৈরুতে সামরিক অভিযান বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার অভিযোগ করেছেন। লেবাননের যেকোনো স্থানে হিজবুল্লাহকে আক্রমণের সুযোগ সেনাবাহিনীর থাকা উচিত বলেও তিনি দাবি করেছেন।

জন্সজেইনের মতে, ৭ অক্টোবরের ঘটনার ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে না পারা ইসরাইলিদের কাছে আইজেনকোট নিরাপত্তার প্রশ্নে বিকল্প নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারেন। ইসরাইলিরা বিশ্বকে নিজেদের প্রতি বৈরী হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা, ৭ অক্টোবর তারা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তা বিশ্ব বুঝতে পারেনি। এ কারণেই তারা লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিরাপত্তাবলয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।

এ পরিস্থিতিতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কার্যত আলোচনার বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অথচ ৩০ বছরেরও বেশি আগে অসলো চুক্তির মাধ্যমে এ ধারণার ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হয়েছিল যে, ইসরাইলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।

১৯৯৩ সালে অসলো প্রক্রিয়া শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব বসতি পশ্চিম তীরের এমন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলো একটি সংলগ্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন।

ব্রেগম্যান বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণা বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক। আগামী এক বা দুই দশক, এমনকি তারও বেশি সময় এ অবস্থা থাকতে পারে। ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর কোনো ইসরাইলি নেতার পক্ষে জনগণের কাছে এ সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া কঠিন।

তার মতে, আন্তর্জাতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে—বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে—এবং ফিলিস্তিনিরা অহিংস গণঅভ্যুত্থান বা ইন্তিফাদা শুরু করলে বিষয়টি আবার গুরুত্ব পেতে পারে।

জন্সজেইন বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সরাসরি বিরোধিতা এখন ইসরাইলের রাজনীতিতে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। একাধিক দল এ ধরনের অবস্থান সমর্থন করে। অথচ ইসরাইলের ইহুদি জায়নবাদী দলগুলোর মধ্যে একটিও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বা ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন পরিবর্তনের দাবির চেয়ে ৭ অক্টোবরের পর জোরালো হয়ে ওঠা উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে আরো সুসংহত করার প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের। নিরাপত্তাহীনতার ভয়কে পুঁজি করে আরো সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও সীমান্ত সম্প্রসারণের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে নির্বাচনে সরকার বদল হলেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুম্বাইয়ে আটক হওয়ার পর ছাড়া পেয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান ও তার প্রেমিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


মুম্বাইয়ে আটক হওয়ার পর ছাড়া পেয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান ও তার প্রেমিকা

ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার পর আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান এবং তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন ও কাজিন জায়েন মেরি। শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তির খবর জানান তারা। একই সঙ্গে, আটকের সময় পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগও তোলেন তিন অভিনেতা।

শনিবার, মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন তারা। বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছিলেন।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেসব দৃশ্যে ইমরান, লেখা ও জায়েনকে পুলিশের একটি ভ্যানে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আটকের পর তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিন অভিনেতা। শনিবার রাতে ইনস্টাগ্রামে একটি রিল প্রকাশ করে লেখা জানান, তারা মুক্তি পেয়েছেন এবং নিরাপদে আছেন। পরে একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাড়ি ফেরার পর ইমরান ও জায়েনকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় তাকে।

তবে মুক্তির পরও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন লেখা। তার দাবি, বাড়ি ফেরার জন্য তারা কোনো ক্যাব বুক করতে পারছিলেন না। তাদের নিয়ে যেতে রাজি হওয়া চালকদের মুম্বাই পুলিশ ভয় দেখাচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে আটকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জায়েন মেরি। তিনি এমন কিছু ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তিন অভিনেতাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে নিতে দেখা যায়। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশের গাড়ির ভেতরে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায় জায়েনকে। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। পরে রাস্তার কয়েকজন পথচারীকেও ওই স্লোগানে যোগ দিতে দেখা যায়।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরির আরেকটি পোস্টে জায়েন জানান, তাদের ইয়েলো গেট থানায় নেওয়ার পর আটকের কারণ জানতে চান তারা। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

জায়েনের ভাষ্য, তারা থানা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পিছু নেন। ওই কর্মকর্তার কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজেও বিষয়টি জানেন না বলে মনে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জায়েন বলেন, ‘আমি তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করছি, কেন আমাদের আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তারও এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। তিনি শুধু বলছেন,‘দুই মিনিট’, তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলছেন।’

এদিকে, অন্য বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ করা ভিডিওতেও আটকের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় ইমরান খানকে। একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, আটকের কোনো কারণ না জানিয়েই তাকে, লেখা ও জায়েনকে প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশের ভ্যানে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।

আরেকটি ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে আটকের কারণ জানতে চান ইমরান ও জায়েন। তবে কর্মকর্তারা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেলে ইমরান তাদের উদ্দেশে ‘জয় হিন্দ’ বলে বিদায় জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%