ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শি জিনপিংয়ের সফর আসছে, তবুও ভারতের হিসাব মিলছে না


শি জিনপিংয়ের সফর আসছে, তবুও ভারতের হিসাব মিলছে না

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে তার এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বরফগলা পদক্ষেপ সত্ত্বেও, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক স্তরে কিছু অগ্রগতি হলেও, দুই প্রতিবেশী দেশের ব্যবসায়িক স্তরে যে গভীর অবিশ্বাস ও বৈরী মনোভাব বিদ্যমান, তা কাটিয়ে ওঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর থেকেই বজায় রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই দূরত্ব চরম আকার ধারণ করে। ওই ঘটনায় দুই দেশের সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্কের অবক্ষয় ঘটে এবং ভারত সরকার চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসার ওপর বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। যদিও গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চীন সফর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর নীতির প্রেক্ষিতে দুই দেশই নিজেদের বরফ গলাতে আগ্রহী হয়েছে, তবে পুরোনো সংশয় এখনও কাটেনি।

বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল করার কিছু উদ্যোগ সম্প্রতি দৃশ্যমান হলেও, তা যথেষ্ট নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারত ইলেকট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগের নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে। এমনকি ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিসের সঙ্গে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভোর যৌথ উদ্যোগের মতো কিছু বড় প্রকল্প অনুমোদনও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে ২০০ লাগেজ ট্রলি হস্তান্তর

একই সময়ে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার অজুহাতে ভারতীয় প্রশাসন চীনা সংস্থাগুলোর ওপর তাদের কড়াকড়ি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আলিপে-কে ভারতের অভ্যন্তরীণ দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। তাছাড়া, চীনা মোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শাওমির বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চালানোর প্রস্তাবও খতিয়ে দেখছে ভারতের একটি তদন্তকারী সংস্থা।

অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের কঠোরতা এবং পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সুর মিলিয়ে চীন ও ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে একে অপরের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও, পর্দার আড়ালে কঠোর বার্তা প্রদান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, চীনের বেইজিং সরকারও ভারতের কাছে উচ্চপ্রযুক্তি, সৌর প্যানেল, বন্দর তৈরির সরঞ্জাম এবং বিশেষ ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল যন্ত্রপাতি বিক্রির ওপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চীন সফরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ভারতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীন থেকে আনা বিশাল বোরিং মেশিন মাসের পর মাস চীনা কাস্টমসে আটকে রাখার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব প্রশাসনিক জটিলতা কেবল আকস্মিক নয় বরং ভারতের বাণিজ্য নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং একটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে।

সূত্র: রয়টার্স

 

আরও পড়ুন: ম্যাক্রোঁ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান হুতিদের থামাতে ইরানকে কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১০ পি.এম


পাকিস্তান হুতিদের থামাতে ইরানকে কঠোর বার্তা

পাকিস্তান ইরানকে সতর্ক করেছে, যাতে সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা বন্ধে তারা নিজেদের প্রভাব খাটায়।

সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো যায়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানকে এই বার্তা দেওয়ার পেছনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপট রয়েছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইসলামাবাদ কূটনৈতিকভাবে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটে রূপ না নেয়।

মঙ্গলবার হুতিরা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত এলাকার একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের কয়েকটি শহরের তেল অবকাঠামোয় হামলা চালায়, যার ফলে ৭৩ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল সৌদি আরবে সবচেয়ে বড় হুতি হামলাগুলোর একটি।

হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে এর পাল্টা জবাবে।

হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বুধবার জানান, গত ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এসব হামলার ‘জবাব ও শাস্তি দেওয়া হবে’।

বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা

হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন দ্বিতীয় একটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন করে হুমকি সৃষ্টি করছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়ানোর ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সতর্কবার্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। তুরস্কও এই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। ফলে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপরও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, সৌদি আরবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি দেশের ওপর আগ্রাসনকে তিন দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”

আসিফ আরও বলেন, “এ বিষয়ে কোনও অস্পষ্টতা বা সন্দেহ নেই। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে উসকানিবিহীন আগ্রাসন কিংবা সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এই চুক্তি অবশ্যই কার্যকর হবে।”

তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি।

ইরানকে হুতিদের থামানোর আহ্বান

পাকিস্তানের এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দীর্ঘদিনের নীতি অনুসরণ করেও ইসলামাবাদ যে পরিস্থিতিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।

এক আঞ্চলিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ইরানের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এতে তেহরানকে হুতিদের ওপর নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মঙ্গলবার পাকিস্তান তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়। তবে তেহরানের জবাব ছিল—‘ইরান হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।’

তবে দুই ইরানি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহেই তেহরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। হামলা চালানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও অস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ইরান দিয়েছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকজন কমান্ডার ইয়েমেনে গিয়ে হামলা সমন্বয়ে সহায়তা করেছেন বলেও তাদের দাবি।

তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আঞ্চলিক ওই কূটনীতিকের ভাষ্য, পাকিস্তান এখনও কূটনৈতিক উপায়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। কারণ, সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাক—যেখানে সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইতে বাধ্য হয়—ইসলামাবাদ তা চায় না।

তিনি বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি চুক্তি রয়েছে। তবে আমি আশা করছি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে না, যেখানে পাকিস্তানকে বাস্তবে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। আপাতত তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোবে।”

সৌদি আরবকে সহায়তায় পাকিস্তানের প্রস্তুতি

এরই মধ্যে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা রিয়াদে পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ সামরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্রটির দাবি, তিন দেশ একমত হয়েছে যে তাদের সেনারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না। বরং যেকোনও প্রতিক্রিয়া সৌদি ভূখণ্ড থেকেই পরিচালিত হবে।

আরেক পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাল্টা হামলায় পাকিস্তান সরাসরি যোগ দেবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

ওই সূত্র স্পষ্ট করে বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং সৌদি ভূখণ্ড সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রয়োজনে পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবের ভেতরে সামরিক, কারিগরি, স্থল বা আকাশ সহায়তা দিতে পারে। তবে অন্য কোনও দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনায় তারা অংশ নেবে না।

ইরানের চাপ উল্টো ফল দিতে পারে

আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, সৌদি আরবের ওপর ইরান ও হুতিদের চাপ প্রয়োগের কৌশল উল্টো তেহরানের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অবরোধ ও চাপ কমাতে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করাই যদি তেহরানের লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় হামলা চালানোর ফলে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ দেশগুলো আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতায় যুক্ত হতে পারে।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরির বদলে এই হামলা তাদের পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শিগগিরই তুলে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এক আঞ্চলিক কূটনীতিকের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সময়ে কাতার নীরবে নতুন কিছু প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরেক আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সামরিক প্রতিক্রিয়া আপাতত হুতিদের লক্ষ্য করেই সীমাবদ্ধ থাকবে; সরাসরি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নেই।

রিয়াদের কর্মকর্তারাও মনে করছেন না যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা তেহরানের মূল লক্ষ্য—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার—অর্জনে সফল হবে।

ওই সূত্রের দাবি, সৌদি আরব ওয়াশিংটনের ওপর অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেবে—এমন সম্ভাবনাও কম। কারণ ট্রাম্প মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাই ইরানকে আলোচনায় বসানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্রটি বলেছে, “প্রশ্ন হলো, ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে এবং কতদিন তা সহ্য করতে পারবে। ট্রাম্প সামরিক সমাধান চান না। তিনি অবরোধের মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ বাড়াতে চান।”

এদিকে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা এবং ইয়েমেনে সৌদি পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চলতে থাকায় নতুন এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল, অধিনায়কত্বের কীর্তি অর্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল, অধিনায়কত্বের কীর্তি অর্জন

লামীণ ইয়ামাল যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একের পর এক কীর্তি গড়ে চলেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম বয়সে সর্বাধিক গোল অবদানের রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে বার্সেলোনা ফেইনুর্দকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছে।

এই ম্যাচের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ২১ এ পৌঁছেছে। এর ফলে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের পূর্ববর্তী রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছেন।

ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অপটা জো’-এর তথ্য অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের মোট গোল অবদান এখন ২১টি, যার মধ্যে ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে।

এর আগে, টুর্নামেন্টে টিনএজার হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ২০টি অবদান নিয়ে রেকর্ডটি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে ছিল। এবার ইয়ামাল তাকে ছাড়িয়ে গেছেন।

এছাড়া এই ম্যাচে ইয়ামাল আরও একটি রেকর্ড গড়েন। তবে রাতটি ইয়ামালের জন্য বিশেষ হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষভাগে। ৭১তম মিনিটে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়ার পর তার হাতে ওঠে বার্সেলোনার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এর মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।

সূত্র : গোল ডট কম

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান বিরোধী যুদ্ধে মক্কা জোট বা মুসলিম রাষ্ট্র যে-ই যাক তার ধ্বংস অনিবার্য!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৩ পি.এম


ইরান বিরোধী যুদ্ধে মক্কা জোট বা মুসলিম রাষ্ট্র যে-ই যাক তার ধ্বংস অনিবার্য!
 
মক্কা জোট: মুসলিমদের রক্ষাকবচ, নাকি ইরানবিরোধী পশ্চিমা শক্তির যুদ্ধ জোট?
===========================
 
প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়া এবং সন্দেহ আর অবিশ্বাসের মধ্যে তৈরি হওয়া এই মক্কা জোট ইতিমধ্যে তার কিছুটা পরিচয় প্রকাশ করেছে। কারণ ইতিমধ্যে ইরানপন্থী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে মক্কা জোটের সদস্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, সৌদি আরবের কোন স্বার্থে হামলা করলে তাদের দুই দেশীয় প্রতিরক্ষা জোট কিংবা ত্রিদেশীয় মক্কা জোট সক্রিয় হবে এবং প্রয়োজনে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। এবার তাহলে প্রশ্ন, এই মক্কা'র নামে মুসলিম'দের নামে কিংবা ইসলামের নামে তৈরি জোট আসলে কি ইজরাইল-আমেরিকা বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে, নাকি অপর মুসলিম রাষ্ট্রের ভাইদের ধ্বংস করার জন্য আমেরিকা ইসরাইলের দালাল বা প্রক্সি গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পাবে?
 
মুসলমানের বিরুদ্ধে মুসলমানের অস্ত্র—আর সেই অস্ত্রের পেছনে যদি থাকে আমেরিকান সামরিক ছায়া ও ইসরাইলি স্বার্থ, তাহলে সেই যুদ্ধকে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা বলা হবে কীভাবে? প্রশ্নটি সরাসরি অস্বস্তিকরও বটে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার আর সুযোগ নেই।
 
মুসলিম বিশ্বের নামে যদি কোনো জোট তৈরি হয়, মক্কার পবিত্র নাম যদি সেই জোটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র যদি তাতে যুক্ত হয়, তুরস্ক যদি তার অংশ হয় এবং সৌদি আরব যদি তার নেতৃত্বে থাকে—তাহলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত: এই জোটের শত্রু কে?
ইসরাইল?
আমেরিকা?
নাকি ইরান?
আর যদি উত্তর হয়—ইরান ও ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধশক্তি—তাহলে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে:মুসলিমদের নিরাপত্তার নামে গঠিত জোট কি শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করবে?
এই প্রশ্নই আজ মক্কা জোটের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক, নৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রশ্ন।
 
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ, আর মুসলিম বিশ্বের বিভক্তি
===============================
ইরানের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইল ও তার প্রধান মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাস অতিক্রম করেছে—এমন দাবি ও বর্ণনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই আক্রমণকারী শক্তির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশ্ন উঠছে আমেরিকার সামরিক শক্তির ক্ষয় ও ধ্বংস নিয়েও এবং ইরান তার প্রতিরোধক্ষমতা প্রদর্শন করছে এবং এমন প্রতিরোধ তৈরি করেছে যার ফলে ইহুদীবাদী ইজরাইল ও মার্কিন শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে কোনঠাসা হয়ে যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে। 
 
কিন্তু এই যুদ্ধকে কেবল ইরান-ইসরাইল বা ইরান -আমেরিকার সংঘাত হিসেবে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যের আসল চিত্রটি ধরা পড়বে না। কারণ গত কয়েক দশকের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়—জায়ানবাটি তথা ইহুদীবাদী ইসরাইল ও মুসলিম বিরোধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সম্মিলিতভাবে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, লেবানন এবং ফিলিস্তিনে যুদ্ধ করে সে সেই রাষ্ট্রগুলোকে ইতিমধ্যে ধ্বংস করেছে কোন কারণ ছাড়াই, এসব মুসলিম রাষ্ট্রে আগ্রাসন, ধ্বংস ও প্রাণহানির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এসব সংঘাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর পড়েছে। যাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে আরব রাষ্ট্রগুলো। অর্থাৎ অপর মুসলিম দেশ ধ্বংসকারী ইহুদিবাদী ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ শক্তি হয়েছে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহারাইন, আরব আমিরাত জর্ডান ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলো।
 
প্রশ্ন হলো—এই দীর্ঘ ধ্বংসযজ্ঞের সময় মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো কোথায় ছিল?
 
কেন মুসলিম রাষ্ট্রগুলো একে একে ধ্বংসের মুখে পড়ল? কেন তাদের প্রতিরোধে একটি কার্যকর মুসলিম সামরিক ঐক্য গড়ে উঠল না? আর কেন আজ, যখন ইরান পশ্চিমা ও ইসরাইলি শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে বলে তার সমর্থকেরা দাবি করছে, তখন মুসলিম বিশ্বের একাংশ ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে? মুসলিম পরিচয়, কিন্তু কার সঙ্গে সামরিক জোট?
 
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। এসব রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের সামরিক অভিযান, গাজায় বিপুল প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ এবং লেবাননসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত মুসলিম বিশ্বের সামনে এক কঠিন প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে আসলে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্র নামক রাষ্ট্রগুলো কি সত্যিই মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করছে নাকি ইহুদিবাদী ইজরাইল ও পশ্চিমা রাষ্ট্রের গোলামী করছে?
 
যারা নিজেদের মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের দাবিদার, তারা কি কেবল নিজেদের সীমান্ত ও রাজতন্ত্র রক্ষা করবে? নাকি ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লেবানন ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মুসলিম জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নেও কার্যকর অবস্থান নেবে?
 
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো সন্তোষজনক নয়।
বরং মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশের কাছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মুসলিম রাষ্ট্র পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে এমনভাবে সম্পর্কিত হয়ে পড়েছে, যেখানে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ এবং বৃহত্তর মুসলিম স্বার্থ সবসময় এক নয়।
 
এ কারণেই তাদের ভূমিকা নিয়ে ‘মুনাফিক’, ‘গাদ্দার’ কিংবা ‘পশ্চিমা শক্তির সহযোগী’—এ ধরনের তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভাষা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মহলে ব্যবহৃত হচ্ছে। মক্কার নামে জোট—কিন্তু লক্ষ্য কার দিকে? এমন এক সময়ে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে ঘিরে কথিত ‘মক্কা জোট’ বা মুসলিম প্রতিরক্ষা কাঠামোর ধারণা সামনে এসেছে।
 
নামটি মক্কা। অর্থাৎ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র নগরীর নাম। স্বাভাবিকভাবেই এর সঙ্গে মুসলিমদের নিরাপত্তা, ঐক্য ও সংহতির আবেগ জড়িত।
কিন্তু নাম দিয়ে তো ইতিহাস লেখা হয় না।
ইতিহাস লেখা হয় কর্মকাণ্ড দিয়ে।
তাই প্রশ্ন একটাই—
মক্কা জোট কাকে রক্ষা করবে?
মুসলিমদের?
নাকি সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে?
ইসরাইলি আগ্রাসনকে প্রতিহত করবে?
নাকি ইরান ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করবে?
ফিলিস্তিনকে রক্ষা করবে?
নাকি ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানো প্রতিরোধশক্তিগুলোকে দমন করবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ‘মক্কা জোট’ নিয়ে সন্দেহ দূর হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ইরান কি শত্রু, নাকি মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধের একটি কেন্দ্র?
 
ইরান গত প্রায় অর্ধশতক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে সামরিক চাপ—সবকিছুর মধ্যেও তেহরান তার নিজস্ব প্রতিরোধনীতি বজায় রেখেছে। আজ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত যখন মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন ইয়েমেনের হুতি, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সসহ বিভিন্ন প্রতিরোধশক্তি ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে বলে তাদের সমর্থকেরা দাবি করছে।
এখানেই মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।
 
যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিরোধশক্তিকে মুসলিম বিশ্বের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে সামরিকভাবে দাঁড় করানো হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—
তাহলে মুসলিম প্রতিরোধের সংজ্ঞা কী?
আর যদি ইরান সেই প্রতিরোধশক্তিগুলোর অন্যতম প্রধান সমর্থক হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে মুসলিম সামরিক জোট দাঁড় করানোর অর্থই বা কী?
সৌদি আরবকে ঘিরে প্রশ্ন আরও তীব্র
ইয়েমেনের হুতি ও সৌদি আরবের সংঘাত বহু বছরের। যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে এই সংঘাত নানা পর্যায় অতিক্রম করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের স্বার্থে পাকিস্তান বা তুরস্ক যদি সামরিকভাবে হুতিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—
এটি কি মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা, নাকি সৌদি নিরাপত্তার সামরিক গ্যারান্টি?
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের হুতিদের উদ্দেশে সতর্কবার্তার যে আলোচনা সামনে এসেছে, সেটিও এই প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
যদি সৌদি আরবের ওপর হামলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি কাঠামো সামরিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে এই জোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
কারণ একজন মুসলিমের কাছে প্রশ্নটি অত্যন্ত সরল:
যে জোট মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য তৈরি, তার সম্ভাব্য অস্ত্র কি একজন মুসলিম প্রতিরোধশক্তির দিকে তাক করা হবে?
তাহলে মুসলিমদের শত্রু কে?
এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ‘মুসলিম ঐক্য’ শব্দটি উচ্চারণ করা অর্থহীন।
ফিলিস্তিনে মুসলমান নিহত হচ্ছে।
গাজা ধ্বংস হচ্ছে।
লেবাননে হামলা হচ্ছে।
ইয়েমেন বছরের পর বছর যুদ্ধের ক্ষত বহন করছে।
ইরান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে রয়েছে।
 
এই বাস্তবতায় মুসলিম বিশ্বের সামরিক শক্তির প্রধান অগ্রাধিকার কী?
ইসরাইলি আগ্রাসন প্রতিহত করা?
ফিলিস্তিনকে রক্ষা করা?
মুসলিম ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা?
নাকি ইরানকে পরাজিত করা?
এই একটি প্রশ্নের উত্তরই মক্কা জোটের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করতে পারে।
 
পাকিস্তানের সামনে আরও বড় বিপদ
পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর।
একদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা। অভ্যন্তরে বেলুচিস্তান কেন্দ্রিক বিদ্রোহ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা। তার সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত।
এর ওপর পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।
এমন একটি রাষ্ট্র যদি ইরানবিরোধী বৃহত্তর যুদ্ধে প্রবেশ করে, তাহলে সেটি আর কেবল একটি সীমান্ত সংঘাত থাকবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে যাবে ভারত, আফগানিস্তান, ইরান, উপসাগরীয় রাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের স্বার্থ।
পাকিস্তানের জন্য তখন প্রশ্ন হবে—একসঙ্গে কতগুলো ফ্রন্ট সামলাবে?
ইরান সীমান্ত?
আফগানিস্তান?
ভারত?
বেলুচিস্তান?
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা?
আর পারমাণবিক শক্তিধর একটি মুসলিম রাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটিও পাকিস্তানকে হিসাব করতে হবে।
মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুসলিম রাষ্ট্র—কার লাভ?
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ইরান ও সৌদি আরব যদি সংঘাতে জড়ায়, কার লাভ?
ইরান ও পাকিস্তান যদি যুদ্ধে জড়ায়, কার লাভ?
তুরস্ক যদি ইরানবিরোধী সামরিক সংঘাতে নামে, কার লাভ?
আর মুসলিম প্রতিরোধশক্তিগুলো যদি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সেনাবাহিনীর হাতে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে লাভবান হবে কারা?
এই প্রশ্নের উত্তর মুসলিম বিশ্বের মানুষ জানতে চাইতেই পারে।
কারণ ইতিহাসে দেখা গেছে, মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন যখন তীব্র হয়েছে, তখন বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ আরও সহজ হয়েছে।
মুসলমানের শক্তি যখন মুসলমানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, তখন লাভবান হয়েছে তৃতীয় পক্ষ।
তাই মক্কা জোটের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—তারা মুসলিম বিশ্বের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করবে, নাকি মুসলিম বিশ্বের শক্তিকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে?
ধর্মের ভাষায়ও প্রশ্নটি গুরুতর
মুসলিম হয়ে মুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং অমুসলিম শক্তির স্বার্থ রক্ষা করা—এই অভিযোগ মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত গুরুতর।
 
ইসলামী পরিভাষায় ‘মুনাফিক’, ‘গাদ্দার’, ‘কাফের’ কিংবা ‘মুশরিক’—এসব শব্দের ধর্মীয় তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। তাই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাষ্ট্রকে চূড়ান্তভাবে এসব পরিচয়ে চিহ্নিত করার আগে ধর্মীয় ও প্রামাণ্য ভিত্তি বিবেচনা করা জরুরি।
 
কিন্তু রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নটি থেকেই যায়।
যদি কোনো মুসলিম রাষ্ট্র এমন সামরিক পদক্ষেপ নেয়, যার ফলাফল হয় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী অন্য মুসলিম শক্তিকে দুর্বল করা, তাহলে সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার মুসলিম জনগণের রয়েছে।
আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ওই রাষ্ট্রকেই।
মক্কা জোটের সামনে এখন ইতিহাসের পরীক্ষা
মক্কার নামে জোট তৈরি হয়েছে—এটি নিজেই যথেষ্ট নয়।
 
প্রশ্ন হলো, সেই জোটের অস্ত্র কোন দিকে তাক করা?
ইসরাইলের দিকে?
আমেরিকার সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে?
নাকি ইরানের দিকে?
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে?
নাকি ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিরোধশক্তির বিরুদ্ধে?
মুসলিম বিশ্বের সামনে এখন আর আবেগের জায়গা নেই। এখন দরকার জোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝা।
যদি মক্কা জোট সত্যিই মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষা জোট হয়, তাহলে তার প্রথম দায়িত্ব হবে মুসলিম ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, ফিলিস্তিনের প্রশ্নে কার্যকর অবস্থান এবং বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব রক্ষা।
কিন্তু যদি সেই জোট শেষ পর্যন্ত ইরান, হুতি, হিজবুল্লাহ, হামাস কিংবা অন্য কোনো মুসলিম প্রতিরোধশক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়, তাহলে ইতিহাসের প্রশ্ন আরও কঠিন হয়ে যাবে:
এটি কি মুসলিম প্রতিরক্ষা জোট, নাকি মুসলিমদের বিভক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর নতুন সামরিক কাঠামো?
শেষ কথা: নাম নয়, অস্ত্রের দিকই পরিচয় নির্ধারণ করবে
মক্কা মুসলিম বিশ্বের হৃদয়।
পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র।
তুরস্ক মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তি।
এই তিন শক্তির সমন্বয়ে কোনো প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে উঠলে সেটি নিঃসন্দেহে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
কিন্তু সেই শক্তি কোন দিকে ব্যবহৃত হবে—সেটিই আসল কথা।
মুসলিমদের রক্ষায়?
নাকি মুসলিমদের বিরুদ্ধে?
ইসরাইলি আগ্রাসন ঠেকাতে?
নাকি ইরানকে মোকাবিলা করতে?
ফিলিস্তিনকে রক্ষা করতে?
নাকি ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিরোধকে দমন করতে?
মক্কা জোটের ভবিষ্যৎ এখানেই নির্ধারিত হবে।
কারণ ইতিহাস শেষ পর্যন্ত জোটের নাম মনে রাখে না—মনে রাখে তার কর্মকাণ্ড।
 
যে জোট মুসলিমদের রক্ষার নামে গঠিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুসলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
আর যদি সত্যিই কোনো মুসলিম রাষ্ট্র ইরান কিংবা ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধশক্তির বিরুদ্ধে পশ্চিমা ও ইসরাইলি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সামরিক অবস্থান নেয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রকে মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে হবে। তখন আর ‘মুসলিম জোট’ শব্দটি যথেষ্ট হবে না।
তখন প্রশ্ন হবে—
কার মুসলিম জোট?
কাদের বিরুদ্ধে?
কার স্বার্থে?
আর শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি দাঁড়াবে—
মুসলমানের হাতে মুসলমানের রক্ত—এই যুদ্ধের বিজয়ী আসলে কে?
সময়ের সঙ্গে মক্কা জোটের উত্তর স্পষ্ট হবে।
তখন বোঝা যাবে—এটি মুসলিম বিশ্বের রক্ষাকবচ ছিল, নাকি মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন যুদ্ধের দরজা।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৪ পি.এম


যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে বিএনপির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ, দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দল সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তবে মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না। তিনি বলেন, ‘সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%