বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৫ পি.এম
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে তার এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বরফগলা পদক্ষেপ সত্ত্বেও, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক স্তরে কিছু অগ্রগতি হলেও, দুই প্রতিবেশী দেশের ব্যবসায়িক স্তরে যে গভীর অবিশ্বাস ও বৈরী মনোভাব বিদ্যমান, তা কাটিয়ে ওঠা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত ও চীনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধের পর থেকেই বজায় রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই দূরত্ব চরম আকার ধারণ করে। ওই ঘটনায় দুই দেশের সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্কের অবক্ষয় ঘটে এবং ভারত সরকার চীনা বিনিয়োগ ও ব্যবসার ওপর বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। যদিও গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চীন সফর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর নীতির প্রেক্ষিতে দুই দেশই নিজেদের বরফ গলাতে আগ্রহী হয়েছে, তবে পুরোনো সংশয় এখনও কাটেনি।
বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল করার কিছু উদ্যোগ সম্প্রতি দৃশ্যমান হলেও, তা যথেষ্ট নয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারত ইলেকট্রনিক্স, ক্যাপিটাল গুডস এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগের নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে। এমনকি ভারতের ডিক্সন টেকনোলজিসের সঙ্গে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভোর যৌথ উদ্যোগের মতো কিছু বড় প্রকল্প অনুমোদনও করা হয়েছে।
একই সময়ে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার অজুহাতে ভারতীয় প্রশাসন চীনা সংস্থাগুলোর ওপর তাদের কড়াকড়ি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি, চীনের অ্যান্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আলিপে-কে ভারতের অভ্যন্তরীণ দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। তাছাড়া, চীনা মোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান শাওমির বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চালানোর প্রস্তাবও খতিয়ে দেখছে ভারতের একটি তদন্তকারী সংস্থা।
অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের কঠোরতা এবং পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সুর মিলিয়ে চীন ও ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে একে অপরের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও, পর্দার আড়ালে কঠোর বার্তা প্রদান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, চীনের বেইজিং সরকারও ভারতের কাছে উচ্চপ্রযুক্তি, সৌর প্যানেল, বন্দর তৈরির সরঞ্জাম এবং বিশেষ ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল যন্ত্রপাতি বিক্রির ওপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চীন সফরের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ভারতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীন থেকে আনা বিশাল বোরিং মেশিন মাসের পর মাস চীনা কাস্টমসে আটকে রাখার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব প্রশাসনিক জটিলতা কেবল আকস্মিক নয় বরং ভারতের বাণিজ্য নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে বেইজিং একটি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান ইরানকে সতর্ক করেছে, যাতে সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা বন্ধে তারা নিজেদের প্রভাব খাটায়।
সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো যায়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইরানকে এই বার্তা দেওয়ার পেছনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপট রয়েছে। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইসলামাবাদ কূটনৈতিকভাবে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটে রূপ না নেয়।
মঙ্গলবার হুতিরা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত এলাকার একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের কয়েকটি শহরের তেল অবকাঠামোয় হামলা চালায়, যার ফলে ৭৩ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল সৌদি আরবে সবচেয়ে বড় হুতি হামলাগুলোর একটি।
হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে এর পাল্টা জবাবে।
হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বুধবার জানান, গত ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এসব হামলার ‘জবাব ও শাস্তি দেওয়া হবে’।
বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা
হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন দ্বিতীয় একটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর নতুন করে হুমকি সৃষ্টি করছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়ানোর ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সতর্কবার্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। তুরস্কও এই নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ। ফলে সৌদি ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপরও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, সৌদি আরবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি দেশের ওপর আগ্রাসনকে তিন দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”
আসিফ আরও বলেন, “এ বিষয়ে কোনও অস্পষ্টতা বা সন্দেহ নেই। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে উসকানিবিহীন আগ্রাসন কিংবা সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এই চুক্তি অবশ্যই কার্যকর হবে।”
তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনও সাড়া দেয়নি।
ইরানকে হুতিদের থামানোর আহ্বান
পাকিস্তানের এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দীর্ঘদিনের নীতি অনুসরণ করেও ইসলামাবাদ যে পরিস্থিতিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।
এক আঞ্চলিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ইরানের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এতে তেহরানকে হুতিদের ওপর নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, মঙ্গলবার পাকিস্তান তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়। তবে তেহরানের জবাব ছিল—‘ইরান হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।’
তবে দুই ইরানি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহেই তেহরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। হামলা চালানোর জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও অস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ইরান দিয়েছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকজন কমান্ডার ইয়েমেনে গিয়ে হামলা সমন্বয়ে সহায়তা করেছেন বলেও তাদের দাবি।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আঞ্চলিক ওই কূটনীতিকের ভাষ্য, পাকিস্তান এখনও কূটনৈতিক উপায়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। কারণ, সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাক—যেখানে সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছে সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইতে বাধ্য হয়—ইসলামাবাদ তা চায় না।
তিনি বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি চুক্তি রয়েছে। তবে আমি আশা করছি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে না, যেখানে পাকিস্তানকে বাস্তবে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। আপাতত তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোবে।”
সৌদি আরবকে সহায়তায় পাকিস্তানের প্রস্তুতি
এরই মধ্যে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা রিয়াদে পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ সামরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সূত্রটির দাবি, তিন দেশ একমত হয়েছে যে তাদের সেনারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না। বরং যেকোনও প্রতিক্রিয়া সৌদি ভূখণ্ড থেকেই পরিচালিত হবে।
আরেক পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের পাল্টা হামলায় পাকিস্তান সরাসরি যোগ দেবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
ওই সূত্র স্পষ্ট করে বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং সৌদি ভূখণ্ড সুরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রয়োজনে পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবের ভেতরে সামরিক, কারিগরি, স্থল বা আকাশ সহায়তা দিতে পারে। তবে অন্য কোনও দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনায় তারা অংশ নেবে না।
ইরানের চাপ উল্টো ফল দিতে পারে
আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, সৌদি আরবের ওপর ইরান ও হুতিদের চাপ প্রয়োগের কৌশল উল্টো তেহরানের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অবরোধ ও চাপ কমাতে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করাই যদি তেহরানের লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় হামলা চালানোর ফলে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ দেশগুলো আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতায় যুক্ত হতে পারে।
অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরির বদলে এই হামলা তাদের পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শিগগিরই তুলে নেওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
এক আঞ্চলিক কূটনীতিকের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সময়ে কাতার নীরবে নতুন কিছু প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরেক আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সামরিক প্রতিক্রিয়া আপাতত হুতিদের লক্ষ্য করেই সীমাবদ্ধ থাকবে; সরাসরি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নেই।
রিয়াদের কর্মকর্তারাও মনে করছেন না যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা তেহরানের মূল লক্ষ্য—ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার—অর্জনে সফল হবে।
ওই সূত্রের দাবি, সৌদি আরব ওয়াশিংটনের ওপর অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেবে—এমন সম্ভাবনাও কম। কারণ ট্রাম্প মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখাই ইরানকে আলোচনায় বসানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্রটি বলেছে, “প্রশ্ন হলো, ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে এবং কতদিন তা সহ্য করতে পারবে। ট্রাম্প সামরিক সমাধান চান না। তিনি অবরোধের মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ বাড়াতে চান।”
এদিকে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা এবং ইয়েমেনে সৌদি পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চলতে থাকায় নতুন এই উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লামীণ ইয়ামাল যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একের পর এক কীর্তি গড়ে চলেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে কম বয়সে সর্বাধিক গোল অবদানের রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে বার্সেলোনা ফেইনুর্দকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছে।
এই ম্যাচের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ২১ এ পৌঁছেছে। এর ফলে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের পূর্ববর্তী রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছেন।
ফুটবল পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অপটা জো’-এর তথ্য অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়নস লিগে ইয়ামালের মোট গোল অবদান এখন ২১টি, যার মধ্যে ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে।
এর আগে, টুর্নামেন্টে টিনএজার হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ২০টি অবদান নিয়ে রেকর্ডটি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে ছিল। এবার ইয়ামাল তাকে ছাড়িয়ে গেছেন।
এছাড়া এই ম্যাচে ইয়ামাল আরও একটি রেকর্ড গড়েন। তবে রাতটি ইয়ামালের জন্য বিশেষ হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষভাগে। ৭১তম মিনিটে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়ার পর তার হাতে ওঠে বার্সেলোনার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। এর মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন।
সূত্র : গোল ডট কম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে বিএনপির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ, দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দল সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তবে মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না। তিনি বলেন, ‘সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ