সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪০ পি.এম
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এশিয়া কাপের ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট দল, এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত বছর পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হলেও, ভারত এখনও ট্রফিটি গ্রহণ করতে পারেনি। ফাইনালের পর নাকভি ট্রফি নিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন এবং পরে সেটি এসিসির দপ্তরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি, শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে ভারত নারী এশিয়া কাপের শিরোপা অর্জন করেছে। তবে, পুরুষ দলের মতো এবারও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি জানায় ভারতীয় নারী দল। ফলে, তারা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিসিআই আগে থেকেই এসিসির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছিল যে, ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে নাকভির উপস্থিতিতে ট্রফি গ্রহণ করবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কার মঞ্চে ট্রফি আনা হয়নি।
বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, ভারত আশা করেছিল যে, এসিসির অন্য কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের ট্রফি হস্তান্তর করা হবে। এ ক্ষেত্রে, এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিল ভারতীয় নারী দল।
তবে সাইকিয়ার দাবি, নাকভি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে সাইকিয়ার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে পুরুষদের এশিয়া কাপের সময় নেওয়া অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ভারত এবারও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
সাইকিয়া বলেন, "আমরা এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যানকে ট্রফি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তা মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো উপায় ছিল না।"
তবে, সাইকিয়া আশা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রফি শেষ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের হাতে আসবে। তিনি বলেন, "কোনো এক পর্যায়ে পুরুষ ও নারী দুই দলের এশিয়া কাপের ট্রফিই বিসিসিআইয়ের হাতে ফিরে আসবে।"
এদিকে, নারী এশিয়া কাপে দারুণ সাফল্যের জন্য ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিসিসিআই। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "দেশের মানুষ ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানিতে চাকরি খোঁজার জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানকারী ‘অপরচুনিটি কার্ড’-এর আওতায় আট দেশের নাগরিকদের জন্য রয়েছে কিছু বিশেষ সুবিধা। এই সুবিধার আওতায় থাকা দেশের নাগরিকদের জন্য জার্মানিতে প্রবেশের পূর্বে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আলাদা ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশটিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে বসবাসের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এই সুবিধাটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশসহ তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
ভিসামুক্ত প্রবেশের অর্থ এই নয় যে, জার্মানিতে পৌঁছানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পাওয়া যাবে। আবেদনকারীকে জার্মান সরকারের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রথমে বাসস্থানের ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসস্থানে ওঠার দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিকানা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর জার্মানিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।
জার্মান কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পেতে দেরি হতে পারে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মটি ভিন্ন। তাদের জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ ভিসা ছাড়া জার্মানিতে গিয়ে পরে দেশটিতে বসে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ বাংলাদেশিদের নেই।
সুতরাং, জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের ভ্রমণের আগে ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
অপরচুনিটি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেওয়া। আগেই চাকরির চুক্তি না থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে যোগ্য ব্যক্তিরা জার্মানিতে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারেন।
সাধারণভাবে অপরচুনিটি কার্ড সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়। যোগ্যতা অর্জনের জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। একটি হলো জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকা। অন্যটি পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে আবেদনকারীকে অন্তত ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়।
পয়েন্ট নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, জার্মান বা অন্য ভাষায় দক্ষতা, বয়স এবং কাজের অভিজ্ঞতা সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়।
অপরচুনিটি কার্ডের জন্য শুধু শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকা যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে জার্মানিতে অবস্থানের সময় নিজের খরচ চালানোর সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হবে।
২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা থাকার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করার সুযোগ পাবেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলক কাজের সুযোগও রয়েছে।
আট দেশের নাগরিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হলেও ভিসামুক্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা রয়েছে। স্থানীয় অভিবাসন দপ্তরের নিয়ম ও আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের নির্দেশনায় বার্লিনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা ছাড়া জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন আবেদনকারীরা।
এ কারণে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করেছে দেশটি। এর মাধ্যমে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারেন। তবে ভিসামুক্ত প্রবেশের এই সুবিধা সীমিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য; বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসা নেওয়ার নিয়ম বহাল রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক আদালতে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য মুখোমুখি হচ্ছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের এই ঘটনা সর্বশেষ উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরছে।
ব্যাংকক উপসাগরে যৌথভাবে সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে একটি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর নমপেন জাতিসংঘ-সমর্থিত সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু করতে স্থায়ী সালিশি আদালতের (পিসিএ) দ্বারস্থ হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
২০০১ সালের সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিশাল ও সম্পদসমৃদ্ধ একটি এলাকার কথা, যার ওপর কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয়েই দাবি করে আসছে।
ব্যাংকক গত মে মাসে একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সময় উল্লেখ করে যে, ‘এমওইউ ৪৪’ নামে পরিচিত কাঠামোগত চুক্তিটি বাস্তবায়নে ‘কোনো অগ্রগতি হয়নি’।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চলমান সীমান্ত সংঘাতের কোনো সম্পর্ক নেই বলে অস্বীকার করেছেন। গত বছর দুই দফা সংঘর্ষে ওই বিরোধ নতুন করে জ্বলে ওঠে, যার ফলে কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরবর্তীতে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
কম্বোডিয়া গত সপ্তাহে জানায়, ‘থাইল্যান্ড একতরফাভাবে সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো বাতিল করার পর’ তারা সমঝোতা প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় দুই দেশ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের পরস্পর-অতিক্রমকারী সমুদ্রসীমার দাবি নিয়ে আলোচনা করে আসছিল।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জুনে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘কম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসীমার অধিকার রক্ষার’ জন্যও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে বিশ্বের প্রাচীনতম সালিশি আদালতের কার্যালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক আইনের পাঁচ বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত সমঝোতা প্যানেলের সামনে বক্তব্য দেবেন।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখোন প্রথম বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, এরপর বক্তব্য দেবেন তার থাই প্রতিপক্ষ সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও।
১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পিসিএ বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তঃসরকারি বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা, যা চুক্তি, বিশেষ সমঝোতা এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন (ইউএনক্লস)-এর মতো বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে দেশ ও বেসরকারি পক্ষের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
সিঙ্গাপুরে পিসিএর কার্যালয়টি হেগভিত্তিক আদালতের এশিয়ায় প্রথম কার্যালয়। কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।
-‘দীর্ঘস্থায়ী সমাধান’-
কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয়েই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দেশ দুটির সমুদ্রসীমা নিয়ে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে কম্বোডিয়ার উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় এই বৈঠক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
নমপেন বলেছে, তারা আশা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড তাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে মতপার্থক্যের ‘ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে’ পৌঁছাতে পারবে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য তেল ও গ্যাসের মজুদ অনুসন্ধানের পথও উন্মুক্ত হবে।
থাইল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের দাবির আওতাধীন ওই এলাকায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে ভবিষ্যৎ আয় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘সমঝোতা কমিশনের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত’ এবং জাতীয় স্বার্থ ‘সুরক্ষায়’ তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে একজন বিশ্লেষক বলেছেন, থাইল্যান্ডের চুক্তি থেকে সরে যাওয়া এবং কম্বোডিয়ার সমঝোতা প্রক্রিয়ার মামলা—দুটিই অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাম্প্রতিক সংঘাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
থাইল্যান্ডের মাহিদোল ইউনিভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল কলেজের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম জোন্স চলতি বিষয়ভিত্তিক সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ লিখেছেন, ‘এটি শক্ত অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদের এই বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার উত্তরাধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।’ ২০০১ সালের সমঝোতা স্মারকটি তার সরকারের সময়ই প্রথম প্রণয়ন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার মামলা হুন মানেতের একটি ‘চতুর রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ ছিল বলে জোন্স লিখেছেন।
জোন্স বলেন, ‘স্থল সীমান্তে সামরিক পরাজয়ের পর এবং থাইল্যান্ডের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থানে থেকে’ হুন মানেত এমন একটি আইনি পথ বেছে নিয়েছেন, যা ‘কম খরচে বড় সম্ভাব্য সুফল’ পাওয়ার সুযোগ দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অপরাধপ্রবণ এলাকা থেকে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মোট ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, রোববার এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মতিঝিল থানায় ৪ জন, পল্টন থানায় ৮ জন, সবুজবাগ থানায় ৭ জন, খিলগাঁও থানায় ২০ জন, রামপুরা থানায় ৩ জন, শাহজাহানপুর থানায় ১১ জন এবং মুগদা থানায় ৫ জন রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরেছেন।
তিনি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, যারা আক্রমণটা চালাচ্ছে, তারা নিজেদের একটা সমস্যার মধ্যে ফেলছে। আক্রমণকারীরা মনে করছে তারা পার পেয়ে যাবে, কিন্তু আজকে তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন নয় যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, পানি মেরেছে। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, তারা তাদের স্থানটাকে আসলে অনিরাপদ করছে।"
ভেনিসে হামলার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাঁধন বলেন, "প্রবাসী ভাইয়েরা আমার সঙ্গে বর্বরতা করেছে এবং আমাকে খুবই জঘন্যভাবে আক্রমণ করেছে। এটার কারণে আমাদের দেশের নাম আসলে বিদেশের মাটিতে কিন্তু ক্ষুণ্নই হলো। বিদেশিরা ভাববে, আমরা হয়তো জাতিগতভাবে সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানেই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সেটা তো আসলে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বাঁধন বলেন, "আমি একটা কথা বলতে চাই, যাঁরা এই দলের সাপোর্টার, তাদের জন্য আমার একটাই কথা, আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, সাপোর্ট করতে পারেন, কিন্তু আপনারা দলকানা হইয়েন না। আজকে আপনার বিচার হলে আপনার পরিবার সাফার করবে। বড় বড় নেতা যাঁরা আছেন, আরামে দেশে–বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা বিদেশের মাটিতে বসে অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে আপনাদের উসকে দিচ্ছেন, তাঁদের জীবনটা কিন্তু আপনাদের মতো নয়। আপনারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিদেশ থেকে টাকাগুলো বাংলাদেশে পাঠান। আপনারা প্লিজ এটা কইরেন না। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আপনারা যেটা করেছেন, সেটা খুবই অন্যায় হয়েছে।"
আরেক প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, "নেতাদের প্রতি একটাই অনুরোধ করব, আপনারা একটি বড় দল। সাময়িকভাবে হয়তো আপনাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা তো ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন। আপনারা কী ধরনের রাজনীতি করবেন, সেটার কিন্তু একটা রূপরেখা আপনারা তৈরি করছেন। আপনারা এমন রূপরেখা তৈরি কইরেন না, যেটার জন্য ভবিষ্যতে আপনাদের লজ্জিত হতে হবে।"
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে বাঁধন নিজের টিম নিয়েও অভিযোগ করেন। তিনি জানান, "সবাই তাতে সহযোগিতা করলেও তার টিম তাকে ‘ডিজওন’ করেছে। টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তাকে বাদ দিয়েছে।"
বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ