০৩:০৬ পি.এম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাজধানীতে শুধুমাত্র সরকারের অভিযান যথেষ্ট নয়। এ জন্য সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা আবশ্যক।
তিনি মন্তব্য করেন জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় বাধা।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস এবং ফুড সেফটি মুভমেন্টের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে শুধুই আধিপত্যের লড়াই ও চাঁদাবাজি
এসময় তিনি বলেন, ফুড সেফটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে জড়িত। তাই নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আলোচনা সীমিত পরিসরে না রেখে মসজিদভিত্তিক, মাদ্রাসাভিত্তিক এবং উন্মুক্ত পরিসরে আয়োজন করা উচিত। একই সঙ্গে ফুড কোর্ট, ফুটপাতের খাবার বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক রাজধানীতে হকার সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হকারদের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তাদের একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আনতে হবে।
আব্দুস সালাম জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে এবং সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আবারও বসে পরামর্শ নেয়া হবে। তিনি জানান, মসজিদভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে।
এছাড়া তিনি বলেন, সাধারণ ভোক্তাদেরও জানতে হবে তারা কী খাচ্ছেন এবং কোন খাদ্য গ্রহণ করা উচিত বা উচিত নয়। এজন্য ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল যুবক ইয়াছিন মিয়া
ব্যবসায় সমাজের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসক বলেন, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেবল মুনাফার ব্যবসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। সাক্ষরতা ও চিকিৎসা মূলত সামাজিক দায়িত্বের অংশ। তিনি সমাজের বিত্তবান, বড় ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকদের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা চাইলে নির্দিষ্টসংখ্যক রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন।
রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। তবে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সরকার সবসময় এককভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পারে না। তাই সমাজের সচ্ছল ও সক্ষম মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আগে সমাজে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ক্লাব ও পাঠাগারের ভূমিকা ছিল অনেক বড়। কিন্তু বর্তমানে এসব কার্যক্রম কমে যাওয়ায় সামাজিক সচেতনতা ও মানবিকতাও কমে গেছে।
সবশেষে ফুড সেফটি মুভমেন্টের উদ্দেশ্যে আব্দুস সালাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে, আমি সেই আন্দোলনের সঙ্গে শরিক হতে চাই। আপনি আন্দোলন করুন, সিটি করপোরেশন সহকর্মী হিসেবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বরেন্দ্র শিশু থিয়েটারের ৩৪তম বর্ষপূর্তি ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক সচিব ও পরিচালক ড. আনোয়ার ফারুক, ফুড সেফটি মুভমেন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহমুদুল ইসলাম সেলিমসহ ফল ব্যবসায়ী, মিল মালিক, শিক্ষক এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন