ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

তিস্তা মহাপরিকল্পনা কৃষিখাতকে সহায়তা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে: প্রধানমন্ত্রী


তিস্তা মহাপরিকল্পনা কৃষিখাতকে সহায়তা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে। আজ শনিবার বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬" আয়োজনের জন্য সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। অগ্রাধিকারগুলো হলো জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। তিনি বলেন, "আমরা এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।"

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সকল খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান। "ফ্যামিলি কার্ড" এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছাবে, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। "কৃষক কার্ড" কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। "হেলথ কার্ড" নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। চূড়ান্তভাবে, "ইউনিভার্সেল কার্ড" নাগরিকদের এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাসমূহ গ্রহণের সুযোগ দেবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে। আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে। স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারিত করা হবে।

বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি। এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান। ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করা হচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেওয়া হবে এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশন এ রূপান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন: ডেপুটি স্পিকার তরুণদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন

অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত। প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ সহজলভ্য করা হচ্ছে। মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ।

পরিবেশ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাকটরির মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে অবস্থিত। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করা হচ্ছে। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

বাংলাদেশ একই সাথে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন। সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও মিয়ানমারেই হতে হবে।

আরও পড়ুন: অর্থমন্ত্রী: চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করা সম্ভব। নতুন বাজার উন্মুক্ত করা এবং তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে। একই সাথে, সকল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করা হবে। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতি যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হবে যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসাথে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং শুভ দিন কামনা করেন। আল্লাহ হাফেজ।

আরও পড়ুন: বিএসএফ ১৪ ঘণ্টা পর দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যালন ডি’অর সম্পর্কে কুকুরেয়ার মজার মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


ব্যালন ডি’অর সম্পর্কে কুকুরেয়ার মজার মন্তব্য

স্পেনের সংবাদ সম্মেলনে ব্যালন ডি’অর নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। সম্ভাব্য বিজয়ী সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি রসিকতা করে বলেন, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে নিজেকেই ভোট দিতেন। তবে পুরস্কার জয়ের দৌড়ে থাকা সতীর্থদের সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্যও করেছেন তিনি।

কুকুরেয়া স্পেনের আসন্ন উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। এ সময় ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে প্রশ্ন আসলে তিনি জানান, "আমাকে যদি ভোট দিতে হতো, আমি নিজেকেই ভোট দিতাম।"

তবে নিজের এই রসিকতার পর তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। মনোনীতদের মধ্যে তার দুই ক্লাব সতীর্থ থাকায় বিজয়ী যে-ই হোন, তাতে তার আপত্তি নেই বলে জানান তিনি। কুকুরেয়ার ভাষায়, "সৌভাগ্যবশত, সত্যি বলতে মনোনীতদের মধ্যে দুজন আমার সতীর্থ। যে যোগ্য, সে-ই জিতুক। যেই জিতুক, আমি খুশি হব। যারা ভোট দেন, সিদ্ধান্তটা তাদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।"

সতীর্থদের প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি পুরস্কার জিতলে তাঁদের কাছ থেকে ছোটখাটো উপহার পাওয়ার আশাও মজার ছলে প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কুকুরেয়ার জনপ্রিয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। স্প্যানিশ সমর্থকদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন এই ডিফেন্ডার। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁর ব্যতিক্রমী চেহারাও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, জাতীয় দলের হয়ে ভালো পারফরম্যান্স করলেও ক্লাব ফুটবলে নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে আরও সময় প্রয়োজন বলে স্বীকার করেছেন কুকুরেয়া। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়ানোকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কুকুরেয়া বলেন, "জাতীয় দলে আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি। অন্যদিকে, মাদ্রিদ আমার জন্য নতুন একটি ক্লাব এবং আমরা প্রায় কোনো প্রাক-মৌসুমও পাইনি। আমি ১০টিরও কম ম্যাচ খেলেছি।"

তিনি আরও বলেন, "অবশ্যই এমন কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাকে উন্নত করতে হবে এবং সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তবে আমি নিজের সেরাটা দিতে ও কঠোর পরিশ্রম করতে চাই, যাতে জাতীয় দলে যে কুকুরেয়াকে দেখা যায়, রিয়াল মাদ্রিদেও যেন সেই সংস্করণটিই দেখা যায়।"

সূত্র: গোল ডটকম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প কেবল কল্পনাতেই যুদ্ধ জিততে পারেন: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


ট্রাম্প কেবল কল্পনাতেই যুদ্ধ জিততে পারেন: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, তিনি মন্তব্য করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের দাবি শুধুমাত্র কল্পনার জগতে সীমাবদ্ধ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে রেজাই উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প প্রতিদিনই তাঁর কল্পনায় জয়ী হতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা নির্ধারণ করা হচ্ছে ইরানের জনগণ, সেনাবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে।

রেজাই ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক ধারাবাহিক বিজয়ের দাবির সমালোচনা করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এখন তাঁর নিজের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হবে।

এদিকে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির অস্তিত্ব থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর মামলার আসামি শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে নোয়াখালীতে জমি দখলের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর মামলার আসামি শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে নোয়াখালীতে জমি দখলের অভিযোগ

ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর মামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং বর্তমানে কারাগারে আটক মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে এবার নিজ এলাকায় কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার সালেহপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও মুসল্লিরা এই ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঢাকা ও সারাদেশে নানা অপকর্মে বিতর্কিত মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৫০৩), দারুল উলুম হামিদিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৭৫১) এবং দক্ষিণ সালেহপুর হামিদুলিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৪২৯)।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কোনো তোয়াক্কা না করে শাহরিয়ার মাহমুদ ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, টয়লেট ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। একইভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এবং অকার্যকর কমিটির দোহাই দিয়ে ভুয়া রশিদ বইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ উত্তোলন ও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। সরকারি তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, রাজধানী ঢাকায় আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সম্প্রতি শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর এলাকার ভুক্তভোগী নিরীহ মানুষ ও মুসল্লিরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাই তাদের দাবি, শাহরিয়ার মাহমুদ বর্তমানে কারান্তরীণ থাকা অবস্থায়ই যেন তার এই দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও ভীতি প্রদর্শনের অবসান ঘটিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার এবং তাকে ভূমিদস্যুতার অপরাধেও যথাযথ আইনি আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়।

উক্ত প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের, শাহাদাত হোসেন শিপন, মো.মানিক, মো.রুহুল আমিন, রায়হান খান নান্টুসহ বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের মুসল্লি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামির মোবাইলে যা পাওয়া গেল, প্রকাশ হলো পরিচয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০২ এম


সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামির মোবাইলে যা পাওয়া গেল, প্রকাশ হলো পরিচয়

ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী বিমানে মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টা করা সেই ওমানি সহকারী পাইলটের পরিচয় এবং অতীত ইতিহাস প্রকাশ্যে এসেছে। গত বছর চরমপন্থী ও উগ্র মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার সন্দেহে তাকে ওমানের জাতীয় এয়ারলাইন্স ‘ওমান এয়ার’-এর পাইলট প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, উগ্র মতাদর্শের ওই সহকারী পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানি বাবা ও সিরীয় মায়ের সন্তান। এই ভয়াবহ ঘটনার পর বিমান সংস্থায় নিয়োগের আগে অপরাধমূলক বা সন্ত্রাসী ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই নিয়ে চরম তোলপাড় ও প্রশ্ন উঠেছে।

হামামের লিংকডইন প্রোফাইল ও আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি ওমান এয়ারে সাত বছর কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে বাদ পড়েন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে ‘রয়েল এয়ার মারোক’-এ যোগ দিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেটিও ছেড়ে দেন। মাত্র আট মাস আগে তিনি ‘ফ্লাইদুবাই’-এ যোগদান করেছিলেন। তবে লিংকডইন প্রোফাইলে এ বিষয়ে কিছু ছিল না।

বুধবার ককপিট কাণ্ডের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর হামামের মুছে ফেলা লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দুটি রোমহর্ষক ও উসকানিমূলক পোস্ট প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি তিনি নিজে নাকি পূর্ব-নির্ধারিত (শিডিউল) কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রথম পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের ককপিট থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায় ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবরের একটি ফ্লাইটে তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলের ‘এল আল’ ও ‘আরকিয়া’ এয়ারলাইন্সের একাধিক বিমানকে জুম করে দেখছেন। ভিডিওটির একদম শেষভাগে আল-কায়েদার প্রয়াত নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে সিআইএ কর্মকর্তাদের আত্মঘাতী হামলায় উড়িয়ে দেওয়া আল-কায়েদা ক্যাডার হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাবির ছবি ব্যবহার করা হয়।

দ্বিতীয় পোস্টে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ছবিতে মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন পবিত্র স্থানকে আলোর রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে এবং নেপথ্যে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মর্যাদার লড়াই করার আকুল কাসিদা ও কবিতা বাজছিল।

সিএনএন-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত অনুসন্ধান মডেলের মাধ্যমে হামামের প্রায় তিন হাজারটি মুছে ফেলা আগের বার্তা পর্যালোচনা করে তার চরম উগ্রপন্থা ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তার মধ্যে একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, তার মা তার জন্য কনে খুঁজতে গিয়ে কষ্টে পড়েছিলেন কারণ তার শর্ত ছিল স্ত্রীকে অবশ্যই নিকাব পরতে হবে এবং বিয়ের পর চাকরি ছাড়া লাগবে। প্রথমে মেয়েরা অস্বীকৃতি জানালেও যখন তার মা বলতেন ‘আমার ছেলে পাইলট’, তখন নাকি সবাই সঙ্গে সঙ্গে রাজী হয়ে যেত! এ ছাড়া নারী-পুরুষের একসঙ্গে কাজের পরিবেশ নারী সমাজকে ‘ধ্বংস ও চরিত্রহীন’ করে দিচ্ছে বলেও তিনি একাধিক পোস্ট করেছিলেন।

ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর সুরক্ষাবেষ্টিত ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি আন্তর্জাতিক বিমানের ককপিটে ওমানের একজন নাগরিক কীভাবে পাইলটের দায়িত্বে বসলেন, তা নিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েলের শিন বেত, মোসাদ, সামরিক বাহিনী এবং দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টি যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে তার কোনো পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত বা আন্তর্জাতিক সংযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল একটি আলাদা সন্ত্রাসী তদন্ত মামলা শুরু করেছেন। বিমানটি ইউএই-র রেজিস্টার্ড হওয়ায় তাদের আইনগত এখতিয়ার রয়েছে।

অন্যদিকে, জরুরি অবতরণের পর সৌদি আরবে আটকে থাকা ওই হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যেখানে ইউএই-র প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মতিক্রমে ইসরায়েলি গোয়েন্দারাও সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%