ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
পেজ নিয়ে সংশয়

‘উনি আমার বড় ভাইয়ের মতো, এক্ষুনি পোস্ট ডিলিট করো’: দেব


‘উনি আমার বড় ভাইয়ের মতো, এক্ষুনি পোস্ট ডিলিট করো’: দেব

সিনেমার হিরো হওয়ার পাশাপাশি একই ইন্ডাস্ট্রির অংশ হওয়ায় টলিউডের এই দুজনের মধ্যে রয়েছে একটি অলিখিত প্রতিযোগিতা। কিন্তু টলিউডের অভিনেতা দেব এই কটাক্ষ একেবারেই মেনে নিতে পারেননি।

‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর বক্স অফিস কালেকশন নিয়ে জিৎকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভক্তদের রীতিমতো ক্লাস নিয়েছেন দেব। বর্তমানে যে স্ক্রিনশটটি নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তা মূলত এমন একটি পোস্টের কারণে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সম্প্রতি দেবের একটি ফ্যান পেজের পোস্ট থেকে। যেখানে জিৎ এর নতুন ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর প্রথম সপ্তাহের টিকিটের বিক্রি এবং বক্স অফিসের নম্বর নিয়ে নেতিবাচক রিভিউ করা হয়। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম সপ্তাহে নাকি এটি অন্যতম সর্বোচ্চ ফুটফল! যা আদতে ভণ্ডামির চরম অবস্থায় পৌঁছেছ। এবং সবাই এখন শনি-রবিবারের জন্য অপেক্ষা করছে, কী বড় ঢপ সামনে আসবে! ছবিটি ভালো হতে পারে কিন্তু বক্স অফিস কালেকশন এতটা নেই, বানিয়ে বলছে।

আরও পড়ুন: তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে শুরু হলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা

এমন পোস্ট দেখে দেব তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। এক পেজ থেকে দেবের নাম ব্যবহার করে পাল্টা বাক্যবাণ নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে লেখা হয়, জীতের বিরুদ্ধে লেখা যাবতীয় পোস্ট এখনই ডিলিট করো। বরং উনি আমার বড় ভাইয়ের মতো। টিকিট কিনে ছবিটি দেখো এবং অন্যদেরও দেখার জন্য বলো।

দেবের এই প্রতিবাদী আচরণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিছু নেটিজেন। তবে পেজটি দেবের কিনা, নাকি কোনও অভিনেতার ফ্যানপেজ—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবুও দেবের সৌজন্য সম্পর্কে কারও কোনো দ্বিমত নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকেনস নেকে ‘তিনকোনা নিরাপত্তা গ্রিড’ বানাবে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ এম


চিকেনস নেকে ‘তিনকোনা নিরাপত্তা গ্রিড’ বানাবে ভারত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর অথবা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

গত শুক্রবার শিলিগুড়ি সফরের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

এ সময় অমিত শাহ করিডরটির নিরাপত্তায় প্রশাসনিক এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন। শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রায় ১৮৯ কোটি রুপি ব্যয়ে বিভিন্ন আবাসিক ও প্রশাসনিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তাও উপস্থিত ছিলেন।

নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থানের কারণে শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অমিত শাহ।

তিনি জানান, করিডরটির নিরাপত্তায় ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ গঠন করা হয়েছে। এই গ্রিডের আওতায় চোপড়া, কিষানগঞ্জ এবং ধুবড়ি ঘাঁটি থেকে বিভিন্ন নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো নিয়মিত সামরিক মহড়ার মাধ্যমে করিডরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গে অমিত শাহ অভিযোগ করেন যে, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন, কিন্তু সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে তা পাওয়া যায়নি।

তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ এবং এসএসবির জমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে এক হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বাকি ২৯ একর জমিও দ্রুত অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর যোগাযোগ উন্নয়নে ছয় হাজার ৮৩৯ কোটি রুপি ব্যয়ে কাজ চলছে।

এছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি রেলস্টেশন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডর চালু হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে কয়েক ঘণ্টায় শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও জানান অমিত শাহ।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমদানি সহজ হলে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ৩০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব: বাজুস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ এম


আমদানি সহজ হলে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ৩০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব: বাজুস

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানি করে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে তারা জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করতে বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকায় ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল-২০২৬’-এ লিখিত বক্তব্যে বাজুসের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এফসিএমএ, বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধি ও কূটনীতিক।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর সংগঠনটি বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও চার লাখ কারিগরের প্রতিনিধিত্ব করছে। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।

তাদের দাবি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাজুস বলেছে, এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য দেশীয় জুয়েলারি শিল্পকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও রফতানিমুখী খাতে রূপান্তরিত করা।

বাজুসের মতে, জুয়েলারি শিল্পের অন্যতম প্রধান বাধা হল নীতিমালার অস্পষ্টতা। বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির পথ সহজ করা গেলে স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি অলংকারের দাম অন্তত ৩০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব।

‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়ন হলে এ খাত থেকে সরকার বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে। এই সঙ্গে, বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে পারবে বলেও মনে করছে বাজুস। একই সঙ্গে দেশে থাকা স্বর্ণের মজুতের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে।

সংগঠনটি জানায়, দেশীয় দক্ষ কারিগরদের কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি আধুনিক জুয়েলারি কারখানা স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। এসব কারখানায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ এবং এক লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত ০.৫ শতাংশ অবদান রাখার প্রত্যাশা করছে বাজুস।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকার মধ্যে ১০ বিঘা জমির ওপর একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘স্বর্ণপল্লী’ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাজুস। সেখানে আধুনিক জুয়েলারি কারখানার পাশাপাশি ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাজুস আরও বলেছে, ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা আমদানি-রফতানি (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা যুগোপযোগী করা এবং হীরা আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা প্রয়োজন। ‘স্বর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা গেলে ৫ থেকে ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রফতানি করা সম্ভব হবে।

বাজুসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন ও আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রফতানি সম্ভব। এর মাধ্যমে সংগঠনটি আশা করছে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য নই’, মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে একাট্টা কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১১ এম


‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য নই’, মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে একাট্টা কানাডা

দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা হঠাৎ করেই ভেস্তে যাওয়ার পর, কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফায় আরোপিত শুল্ককে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বড় ধরনের ‘ভুল হিসাব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই পদক্ষেপটি কানাডাকে আঘাত করতে এবং বিভক্ত করার প্রয়াস হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দাবি করেছিল, কিন্তু বিনিময়ে দিয়েছে সম্পূর্ণ অল্প কিছু। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার ফলে দুই মিত্র দেশের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং এর ফলে কানাডা বর্তমানে কার্যত এক বাণিজ্যযুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য, কানাডা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ অর্থাৎ ‘ডলারে ডলারে’ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কানাডার পক্ষ থেকে স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপিত হবে। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার ফলে উদ্বেগ সৃষ্টির বিষয়টি বিদ্যমান থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি ইতিবাচক চুক্তির প্রত্যাশা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ তোলায় আলোচনা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়।

সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই কানাডীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এই নতুন শুল্কটি, পূর্বে বিদ্যমান থাকা অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, মোটর গাড়ি এবং কাঠপণ্যের শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে। তবে এই নতুন শুল্কের আওতা কিছুটা সীমিত; এটি কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৭ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের রফতানির ওপর প্রভাব ফেলবে, যার মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক এবং হকি খেলার সরঞ্জাম।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেছেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য কানাডা এই পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হবে।

ঐতিহাসিক এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ীর করছে। কার্নি শুক্রবার রাতে এফ-পিএন এলাকায় প্রথম জানান যে কোন চুক্তি গঠিত হচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে অনুচিত ও অর্থহীন শর্ত আরোপের অভিযোগ করেছেন। জবাবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই। তিনি দাবি করেছেন, যদি চুক্তি হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু শুল্ক কমাতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কানাডা নতুন নতুন দাবির সোচ্চার হয়ে এবং আগের মেনে নেওয়া শর্ত থেকে সরে গিয়েছে, যা পরিস্থিতি আরো জটিল করেছে।

কিন্তু কার্নি এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওয়াশিংটন এমন কিছু অন্যায্য শর্ত দিয়েছে যার কারণে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কানাডার মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত। কানাডা শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু চায়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অফারটি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছিল, যা তাদের বারবার হতাশ করেছে।

ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা যাচ্ছে। দেশের বিরোধীদলীয় কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভ্রে নতুন মার্কিন শুল্ককে সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে দেশের সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কানাডার সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। অন্যদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন দাবি মেনে নেওয়ার অর্থ হবে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক সমকক্ষে নামিয়ে আনা; যা দেশের মানুষের কাছে কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া কেবেক প্রদেশের প্রিমিয়ার ক্রিস্টিন ফ্রেচেট সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে অনেক মানুষ চাকরি হারাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ উভয়পক্ষকে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনা অবশেষে গভীর সংকটে পতিত হলো। উভয় দেশই মেক্সিকোর সঙ্গে ইউএসএমসিএ নামক উত্তর আমেরিকার ত্রিদেশীয় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির পর্যালোচনায় জড়িত ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ১৯৯৪ সালের নাফটা চুক্তির পরিবর্তে এটি স্বাক্ষর হয়, যা বর্তমানে বার্ষিক ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য পরিচালনা করছে। চলতি বছরের শুরুতে কানাডা ও মেক্সিকো এই চুক্তিটি আরও ১৬ বছরের জন্য নবায়নের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান কাঠামোতে তা নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শুক্রবারের এই আলোচনা ভঙ্গের ঘটনার ফলে ইউএসএমসিএ চুক্তির ওপর কী প্রভাব পড়বে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কার্নি মন্তব্য করেন, এটি অবশ্যই কোনো ভালো সংকেত নয়।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের জেল-জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১২ এম


ফটিকছড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনের জেল-জরিমানা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও ভূজপুর থানার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে দেশি চোলাই মদ, গাঁজা ও ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আটক ১০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভূজপুর থানা পুলিশ এবং ফটিকছড়ি থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ফটিকছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রহমত উল্যাহ। অভিযান চলাকালে মাদক সেবনরত অবস্থায় ১০ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আটক ১০ জনের মধ্যে একজনকে ১ মাস, তিনজনকে ১৫ দিন, চারজনকে ৮ দিন এবং দুজনকে ৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে মোট ২ হাজার ৬০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। অভিযানে জব্দ করা মাদকদ্রব্য পরবর্তীতে বিনষ্ট করা হয়। এই ঘটনায় মোট ১০টি মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%