ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু


কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যাচ্ছে। শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দেবিদর্শনে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পূজামণ্ডপে পদদলিত হওয়া অন্তত ৩৫ জনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (এমসিএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির মধ্যে পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে গিরিশ পার্ক থানার অধীন সারদা পার্কের (চোরবাগান) পূজামণ্ডপের বহির্গমন ফটকে পদদলনের ঘটনা ঘটে। আহত সবাইকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন: এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন জেডি ভ্যান্স

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, কন্ট্রোল রুম, দমকল বাহিনী, কলকাতা পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্য, চিকিৎসক দল ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পূজামণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হাসপাতালে পৌঁছেছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। আমি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আহত সবাইকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারকে শক্তি ও সাহস দেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, পদদলনের ঘটনায় অনেকে জ্ঞান হারান। তাদের অনেককে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রবেশপথটি খুব সংকীর্ণ ছিল, আর বের হওয়ার ফটকটিও সরু ছিল।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়লাখনিতে ‘লুকানো’ বড় অর্থনীতির স্বপ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


কয়লাখনিতে ‘লুকানো’ বড় অর্থনীতির স্বপ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আজ সম্পদশালী হয়ে উঠেছে। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব সম্পদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সম্মান করে। বাংলাদেশও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। বরং দেশের মাটির নিচে এবং সাগরের তলদেশে অর্থনীতির উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সম্পদ উত্তোলনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

দেশে পাঁচটি কয়লা খনিতে মোট ৭৮০ কোটি টন কয়লা মজুদ রয়েছে। প্রতি টন কয়লার দাম ১৩৬ ডলার ধরলে, বড়পুকুরিয়ার বর্তমান কয়লার টন হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় এক লাখ ৬ হাজার ৮০ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৩০ লাখ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাহিদা ও ব্যবহার অব্যাহত থাকলে এই মজুদ দিয়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা ২০০ থেকে ৩০০ বছর মেটানো সম্ভব। কয়লা উত্তোলন হলে দেশের অর্থনীতি ও জিডিপির আকারও বৃদ্ধি পাবে।

এ কারণে দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশীদের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তবে রাজনৈতিক দৃঢ় সিদ্ধান্তের অভাবে দিল্লির অনুগত আমলারা প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে গড়িমসি করেছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যদি আমলাদের সেই ‘দেয়াল’ ভেঙে মাটির নিচের সম্পদ উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে দেশের অর্থনীতির গতিধারা পাল্টে যাবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ইনকিলাবকে জানান, "মাটির নিচে কয়লা রেখে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে কয়লা আমদানির কোন যৌক্তিকতা নেই। এটা খুবই দুঃখজনক।" তিনি বলেন, "এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশীয় কয়লা উত্তোলন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছি। যত দ্রুত আমরা কয়লা উত্তোলন করতে পারবো, ততই দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে এবং জনগণ উপকৃত হবে।"

মাটির নিচে বিপুল কয়লা থাকার পরও সরকার কয়লা আমদানিতে বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে খরচ হয়েছে মোট ১০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কয়লা আমদানিতে খরচ হয়েছে এক দশমিক ৮৫ বিলিয়ন। এছাড়া ডিজেল আমদানিতে তিন দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার, এলএনজি আমদানিতে দুই দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, এলপিজিতে এক দশমিক ২০ বিলিয়ন ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানিতে খরচ হয়েছে এক দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার।

দেশের কয়লা খনিতে বিপুল কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও গত অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় এক দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দেশবিরোধী নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতিতে গত দেড় দশকে কয়লা আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়েছে। তবে নিজেদের সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি কমানোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে জোর দিচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

জানা গেছে, সরকার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি প্রাথমিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। খনিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ খনি থেকে উত্তোলন শুরু হলে বছরে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি টন কয়লা পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে দেশে স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লার চাহিদার ৭৫ শতাংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগে যেসব সমীক্ষা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। কয়লা উত্তোলনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও ঝুঁকি নিতে হবে। বিশেষত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কয়লা ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানী সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে। এক্ষেত্রে দেশেই মাটির নিচে থাকা কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে চায়। যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কয়লা। সেখান থেকে উত্তোলন করা হলেও ফুলবাড়ীর পার্শ্বেই পার্বতীপুরে কয়লার বিপুল মজুদ থাকলেও উত্তোলন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে বড় পুকুরিয়ার কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে মাত্র ১৮ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি কয়লা ভূগর্ভেই পড়ে থাকছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি’র সিংহভাগ কয়লা উত্তোলনের জন্য ওপেন বিড পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘন ঘন ভূগর্ভে মাইনিং বিস্ফোরণের কম্পন এবং বিস্তৃত এলাকা বিলে পরিণত হওয়ার অবস্থা দেখে একবারে পর্যাপ্ত ও বাস্তবসম্মত ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ওপেন বিড পদ্ধতির জন্য বাড়ী-ঘর ভিটেমাটি ছেড়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও বাম ঘরানার একটি পক্ষ ইতোপূর্বে তাদের জীবন মান, পরিবেশ ও বাপদাদার ভিটেমাটির মত স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে সামনে এনে স্থানীয়দের আন্দোলনে নামিয়েছিল এবং ওপেন বিড পদ্ধতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় আন্দোলন করতে গিয়ে তিনটি তাজা প্রাণও ঝড়েছিল। আজ প্রায় ত্রিশ বছর পর প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। ফুলবাড়ীর মানুষ নিজেদের জীবন-মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের জীবনমান উন্নয়নের চিত্র দেখে এবং পর্যালোচনা করে নিজেদের ভালোর দিকটা খুঁজছে ও বুঝতে শিখেছে।

এক্ষেত্রে অনেকেই পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং বাসস্থানের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে সরকার যখন খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, তখন সরকারের এই মনোভাব বুঝতে পেরে আন্দোলনকারী পক্ষরা পুনরায় খনিবিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা চালালেও দুই দশক আগের মতো আর সাড়া দিচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তাদের দাবি- ফুলবাড়ী বাসীর স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ষ্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা এবং সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিজ স্বার্থের বিষয়টি এখন পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। তারা দেখছে তাদের পাশেই বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির আংশিক কয়লা উত্তোলন হওয়াতেই এলাকাবাসী দিনান্তের খেটে খাওয়া মানুষেরা কোটি পতি হয়ে গেছে। জমির ক্ষতির পূরণ পেয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে আলিশান জীবন যাপন করছে। কয়লা খনির অধিগ্রহণ করা তাদের জমি এখন বিলে (ডেবে যাওয়ায়) পরিণত হয়েছে। সেটিও বাড়িয়েছে তাদের বাড়তি আয়ের উৎস।

এদিকে সরকার যখন নিজস্ব খনিজ সম্পদ উত্তোলনের কথা ভাবছে এবং স্থানীয়রাও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে, তখন সরকারের সেই বার্তা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন স্থানীয় মন্ত্রী-এমপি ও বিএনপি নেতারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রী-এমপি, নেতাদের স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ফুলবাড়ীবাসীর ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দিয়ে তাদের ও বংশধরদের বাসস্থান, কৃষি জমি ও চাকরিসহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করা এবং ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ফুলবাড়ীর পার্শ্বেই বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে পূর্বের ধারাবাহিকতায় ১৮৮৫ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর বড় পুকুরিয়া, ১৯৮৯ সালে রংপুরের খালাশপির, ১৯৯৫ সালে এবং ১৯৯৭ সালে বহুজাতিক কোম্পানি ফুলবাড়ীর কয়লা খনি আবিষ্কার করে। দেশী বিদেশী সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় মনোবলের ভিত্তিতে চীনের সিএমসি-এক্সএমসি কনসোটিয়ামের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন চুক্তি করে। ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ খনিজ সম্পদের যুগে প্রবেশ করে এবং কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। বড় পুকুরিয়ার কয়লার উপর ভিত্তি করে পাশেই বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়। বলা বাহুল্য ফুলবাড়ী চুক্তির মত নয়, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা চীনা কোম্পানি বিক্রি করছে পেট্রোবাংলার কাছে এবং পেট্রোবাংলা বিক্রি করছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে। অর্থাৎ দেশের কয়লা জাতীয়ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। চীনা কোম্পানি শুধু তাদের উত্তোলন খরচ পাচ্ছে। কয়লা উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবাসস্থল ও কৃষি জমি বড় পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে অধিগ্রহণ করেছে এবং পর্যায়ক্রমে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অধিগ্রহনের পরও খনি অভ্যন্তরে মাইনিংয়ের কারণে উপরিভাগের বাড়ীঘরে ফাটল এবং জমি ডেবে যাওয়ার ক্ষতিপূরণও দেয়া হচ্ছে। বড় পুকুরিয়ায় চাকরির সুযোগ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থদের। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ- স্থানীয় বাসিন্দাদের ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী চাকরি দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া কয়লা উত্তোলন বন্ধ হলেই ছাটাই করা হয় শ্রমিকদের। বড় পুকুরিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা চলমান প্রক্রিয়া। কাজ চললে শ্রমিকদের কাজে নেয় চীনা কোম্পানি। এ ক্ষেত্রে খনি কর্তৃপক্ষের কিছু করার থাকে না। প্রায় ৬৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিটি তিনটি অংশে বিভক্ত, উত্তর অংশে ২৭০, মধ্য অংশে ৩০০ হেক্টর এবং দক্ষিন অংশে ৮০ হেক্টর এলাকার নীচে কয়লার স্তর রয়েছে। যার পূরোটাই স্থানীয় জনগণের জমি। সরকার প্রয়োজন মোতাবেক অধিগ্রহণ করছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কারণে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিতে মজুদ থাকা কয়লার মাত্র ২০ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। উম্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলন করা গেলে ৮০ শতাংশের বেশী কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। যদিও দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়াতে খনির উত্তর ও দক্ষিন অংশে উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চিন্তা করছে সরকার। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের হিসাবে এই অংশ থেকে প্রায় ১৭ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩০ বছর কয়লা উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য নীতিগত অনুমোদন ও দিক নির্দেশনা চেয়ে গত ২ জুলাই পেট্রোবাংলা চিঠি দিয়েছে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগে। এলাকার হাজার হাজার মানুষের পুনর্বাসন, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি নিশ্চিত করে উম্মুক্ত পদ্ধতির কাজ শুরু করতে সময় লাগবে ৭ থেকে ৮ বছর। এর মধ্যে ২০২৭ সালে চুক্তি মেয়াদ বৃদ্ধি করে বড় পুকুরিয়ার কয়লা উত্তোলন বর্তমান পদ্ধতিতে অব্যাহতি রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে খনির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য; বর্তমান পদ্ধতিতে ভূগর্ভে থাকা কয়লার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। উম্মুক্ত পদ্ধতিতে হলে ৯০ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনির মাত্র ৫’শ থেকে ৮৫০ ফুট গভীরে কয়লা মজুদ রয়েছে এবং ১২০ থেকে ৩৫০ মিটার পর্যন্ত কয়লার বিস্তৃতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খনি থেকে প্রায় ৫৭২ টন বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুলবাড়ীর কয়লা ওপেন বিড পদ্ধতিতে উত্তোলন নিয়ে সরকারি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিরোধিতাকারীদের সোচ্চার ভূমিকা প্রশংসার দাবী রাখে। তবে প্রশ্ন এসে যায়, বিরোধীতাকারী কারা? জাতীর জন্য তাদের অবদান কি? ওপেন বিড পদ্ধতিতে কয়লা নিয়ে তারা কি কিছু বলেছে? এখন সংসদ চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে সংসদে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা আলোচনায় এসেছে? এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্ত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কি করছেন? বিষয়গুলি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ফলো করছেন। উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতাকারীদের অন্যতম এবং আবেগময় ইস্যু ছিল বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকের ফুলবাড়ীতে ৫ শতক নিজস্ব জমি নেই। আবার আন্দোলনের পর কেউ কেউ ফুলে ফেপে উঠেছেন। বিষয়গুলি নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। কত আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং বছরে কত টাকার ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিবেন সরকার। কেননা জমি অধিগ্রহনের ক্ষমতা ও দায় সরকারের। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ রাস্তা, সরকারী অফিস, কলকারখানার জন্য জমি ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম কিছু হওয়ার কথা নয়। কিন্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খনি বিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িত এক নেতা বলেন, সরকার স্থানীয় ষ্টেক হোল্ডারদের সাথে, স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের নেতাদের পর্যায়ক্রমে বসে আলোচনা করলেই এর সমাধান হতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ প্রদানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে স্থানীয় জনসাধারণ এবং প্রকৃত ভূমি মালিকরা বলছেন, পরিকল্পিত নগরায়ন, কর্মসংস্থান, বাসস্থানের ব্যবস্থা হলে মাটির নিচে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদ রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করলে ক্ষতি কি? কেউ কেউ আবার বলছেন, যাদের ফুলবাড়ীতে তিন-চার শতাংশের বেশী জমি নেই, তারাই আবার আন্দোলনের নেতা বনে গিয়ে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসেছেন। কয়লা খনি বিরোধী ইস্যুকে পুঁজি করে আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকতে চান কিছু নেতা, এখন এসব আর সুযোগ নেই। তারা ২০০৬ সাল থেকে আন্দোলনকারীদের আয়ের উৎস অনুসন্ধান করারও দাবি জানান। আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়া অনেক নিম্ন ও মধ্যম সারির মানুষ বলছেন, ২০ বছরে কি পেলাম। বাপের সম্পত্তির হিস্যা পেয়েছিলাম যা তা আবার আমার সন্তানদের মধ্যে ভাগ হয়ে কতটুকু থাকছে। বাপ-দাদার সম্পত্তির দোহাই দিয়ে আন্দোলনকারীদের পিছনে অনেকেই এখন নিঃস্ব। তাদের থাকার জায়গাটুকুও নেই। তাদের দাবী সরকারকে কেবল জমি আছে এমন নয়, যারা নিঃস্ব হয়ে গেছে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিকে অন্তভুক্ত করলে ২০০৬ সালের আন্দোলনের সাথে জড়িত অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষ আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ম. তামিম বলেন, দেশের কয়লা উত্তোলনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হলে নিরপেক্ষ সমীক্ষা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, "আমাদের কয়লা উত্তোলনের ব্যবস্থাপনাটা ভালোভাবে তৃতীয় কোনো পক্ষ, যার কোনো স্বার্থ নেই, এ রকম কাউকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।" তারা যদি বলেন যে এটার ঝুঁকি সীমিত আকারে ও সে ঝুঁকি সামলানো সম্ভব হবে, তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আর যদি বলে ঝুঁকি অনেক বেশি, তাহলে আমরা দেশীয় কয়লা উত্তোলনের চিন্তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে পারি। ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জকে ভয় পেলে চলে না। পৃথিবীর কোনো বড় প্রজেক্ট, মেগা প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ ছাড়া হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ প্রফেসর বদরূল ইমাম বলেন, "স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে যদি কয়লা উত্তোলন করতেই হয়, সেক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতেই যেতে হবে ও সেটা সীমিত কিংবা মাঝারি আকারে হতে পারে।" তিনি বলেন, "আমরা জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমানোর কথা বলছি, সেটা অবশ্যই ভালো দিক।" সেক্ষেত্রে কয়লা উত্তোলন করে যদি আমদানির চাপ কমানোর পরিকল্পনা হয়, সেক্ষেত্রে কৃষি জমি, সুপেয় পানি, পরিবেশগত জটিলতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ফলে সে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে কোন পদ্ধতিতে কয়লা তোলা যায় সেটার সব ধরনের সমীক্ষা বিবেচনায় নিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ইনকিলাবকে বলেন, "ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।" তিনি বলেন, "তার ওপর বর্তমান যুদ্ধকালীন বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমাদের জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থায় আমাদের দেশীয় সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগানোটা এখন সময়ের দাবি। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের দেশে প্রচুর কয়লা মজুত রয়েছে। তবুও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে আমাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। যেটা আমাদের অর্থনীতির ওপর অনেক বড় চাপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত

ভারতের কলকাতার উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকেই।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গিরিশ পার্ক থানার চোরে বাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এই ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রবেশপথে পদদলনের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে এমসিএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘চোরে বাগান পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও সাহসের জন্য প্রার্থনা করছি।’

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পদদলনের সময় অনেকেই জ্ঞান হারান। তাদের অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ খুব সরু ছিল। ওই এলাকায় আলোর ব্যবস্থা ছিল না। আমার মেয়ে ও নাতনি হাসপাতালে ভর্তি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, ১০ মরদেহের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, ১০ মরদেহের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

কক্সবাজারের পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওসি মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে উখিয়া থানা-পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় টুপটুপ রিসোর্টের মালিক এবং বোয়ালখালীর বাসিন্দা তানভীর সুলতানকে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে সুমনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহ, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে, মরদেহগুলো কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে।

কক্সবাজারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে, ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে প্রয়োজনীয় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ এম


শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, ‘রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, এ মামলায় এর আগে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই জলিল বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় পল্লী চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাকে মারধর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক আমিনী শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করে লোকজন জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে শামীমের একটি অডিও রেকর্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ফজলুল হক আমিনীর দাবি ছিল, শামীম বেশ কিছুদিন ধরে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে শামীমের ছোট ভাই সাগর সানা দাবি করেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কখনো স্বাভাবিক, আবার কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। তিনি চিকিৎসাধীনও ছিলেন। সাগর বলেন, শামীমের কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হতে পারত।

সাগর সানা আরও জানান, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদরাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে।

নিহতের ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময়ের কথোপকথন আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার পল্লী চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই প্রথমে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%