০১:১৯ এম
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, ‘রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, এ মামলায় এর আগে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নিহত শামীমের বড় ভাই জলিল বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় পল্লী চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাকে মারধর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজলুল হক আমিনী শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করে লোকজন জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে শামীমের একটি অডিও রেকর্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, ১৯৩৭৭ যাত্রী ভোগান্তিতে
ফজলুল হক আমিনীর দাবি ছিল, শামীম বেশ কিছুদিন ধরে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে শামীমের ছোট ভাই সাগর সানা দাবি করেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কখনো স্বাভাবিক, আবার কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। তিনি চিকিৎসাধীনও ছিলেন। সাগর বলেন, শামীমের কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হতে পারত।
সাগর সানা আরও জানান, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদরাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে।
নিহতের ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময়ের কথোপকথন আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার পল্লী চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই প্রথমে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এই দেশের সন্তান : প্রধানমন্ত্রী
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন