১১:১৫ এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।"
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, "আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করব, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিই মানুষের সেবা করবে।"
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করছে, আমরা এখনও প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন। এর জন্য অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করা প্রয়োজন। কেননা এই সমস্যা মিয়ানমারে শুরু হয়েছিল এবং মিয়ানমারেই এর শেষ হতে হবে।"
কৃষি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কৃষি আমাদের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন এবং বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার উন্নত করছি। আমরা মৎস্য, গবাদি পশু এবং গ্রামীণ উদ্যোগগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। খাদ্য নিরাপত্তাকে অবশ্যই কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি শিল্পের পরিপূরক হতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি মানেই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।"
তিনি আরও বলেন, "পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন করার পরিকল্পনা করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা একটি তিস্তা মহাপরিকল্পনা তৈরি করছি। এসব পদক্ষেপ কৃষিকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলবে।"
প্রধানমন্ত্রী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা পুনরুল্লেখ করে বলেন, "আমাদের পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো সুনির্দিষ্ট। আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) গাছ লাগাব। আমরা সৌরশক্তির সম্প্রসারণ করছি। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) এবং পরিবেশবান্ধব (সবুজ) কারখানাকে উৎসাহিত করছে, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফাইড কারখানার মধ্যে ৫৩টিই আমাদের। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহরগুলো বর্জ্য কমাতে, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে এবং আমাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে।"
আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) সভাপতি জিল্লুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী আরও বক্তব্য রাখেন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত রয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশগ্রহণ করছেন। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হবে।
আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন