ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের নিয়ে উদ্বেগ


মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য কৌশল সাজাচ্ছেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা থাকায় তিনি নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষমতা ধরে রাখার প্রস্তুতি রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হাউস নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন বলে মনে হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস বর্তমানে দুই কক্ষের (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেয়ে অন্তত সিনেট রক্ষা করাকেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। ভোটার পরিচয় এবং পোস্টাল ভোটের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশলও নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন তিনি।

লন্ডন ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউজ জানিয়েছে, অন্তত একটি কক্ষ হারানোর আশঙ্কা নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি এটি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও প্রভাবিত করতে পারে।

আরও পড়ুন: কঙ্গোতে এডিএফের হামলায় ৭৭ বেসামরিক নাগরিক নিহত

এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজে প্রার্থী নন। ফলে তার শাসন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ সরাসরি রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এজন্য ট্রাম্প এক বক্তব্যে রিপাবলিকানদের উদ্দেশে বলেছেন, 'মনে করুন আমি ব্যালটে আছি।'

রিপাবলিকানরা বিশ্বাস করছে, ট্রাম্পের প্রভাবে যদি দলের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে বেশি সংখ্যায় আসে, তাহলে ক্ষতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর

রিপাবলিকান শিবিরকে চাঙ্গা করা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে ট্রাম্প। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারে নামছেন তিনি। রিপাবলিকানদের হিসাব হলো, প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা আগের মতো না থাকলেও তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আবেদন এখনও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে টেক্সাস, আইওয়া, আলাস্কা ও ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য ট্রাম্প সমর্থকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে সিএনএনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, রিপাবলিকান প্রার্থীদের একটি অংশ জীবনযাত্রার ব্যয়, নিত্যপণ্যের দাম এবং ইরান যুদ্ধের মতো ইস্যু সামনে আনছেন। তারা এখন উল্টো ট্রাম্প থেকে নিজেদের কিছুটা দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।

মিশিগানের সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের মতো প্রার্থীরা মনে করেন, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার চেয়ে অর্থনীতি ও যুদ্ধের প্রভাব ভোটে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান

সিনেট রক্ষা চায় হোয়াইট হাউস

ট্রাম্পের এক উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচন ‘খুব কঠিন’ হতে যাচ্ছে এবং রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হতে পারে সিনেট ধরে রেখে হাউস হারানো। অর্থাৎ, হোয়াইট হাউস এখন দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেয়ে অন্তত সিনেট রক্ষা করাকেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

ব্রুকিংসের হিসাবে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিতে মাত্র কয়েকটি আসনই প্রয়োজন হতে পারে। ভোটের সম্ভাব্য হিসাবগুলো ডেমোক্র্যাটদের আসন বাড়ার দিকে ইঙ্গিত করছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন ২১৪ ও রিপাবলিকানদের আসন ২১৮। ব্যবধান মাত্র কয়েকটি আসনের।

ভোটের আগেই নির্বাচনি ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলনে ২০ জন নিহত, আহত অনেকে

নির্বাচনি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ট্রাম্পের আরেকটি কৌশল। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর থেকেই তিনি নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি সন্দেহ তৈরি করে আসছেন।

এবারও নির্বাচনি ব্যবস্থা ‘বিপজ্জনকভাবে উন্মুক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তিনি নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলেছেন।

চাথাম হাউস লিখেছে, ট্রাম্পের এই কৌশলের প্রভাব ইতোমধ্যেই জনমতের ওপর পড়ছে। মাত্র ৫৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন নভেম্বরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। অথচ চার বছর আগে এই হার ছিল ৮১ শতাংশ। ট্রাম্পের কৌশলে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থার পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

ভোটার পরিচয় ও পোস্টাল ভোটে নিয়ন্ত্রণ

আরও পড়ুন: বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা

নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ হলো 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট'। এই আইনে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ফটো আইডির মতো শর্ত আরোপের পাশাপাশি পোস্টাল ভোট সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে। বিলটি হাউসে পাস হলেও সিনেটে এখনও আটকে আছে।

চাথাম হাউস বলছে, নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত কঠোর শর্ত ভোটারদের এক অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি পোস্টাল ভোট সীমিত করার উদ্যোগও ডেমোক্র্যাটদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

পিউ রিসার্চ সেন্টার জানায়, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে বা অনুপস্থিত ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এবং ৩৮ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন করেছিলেন।

কংগ্রেস হারালেও কি থামবেন ট্রাম্প

আরও পড়ুন: সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে প্রতিবাদ, বিহারের সাংবাদিক মোঈদ আলম গ্রেপ্তার

হোয়াইট হাউসের জন্য হাউস বা সিনেট হারানো নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা হবে। ব্রুকিংসের বিশ্লেষণ বলছে, রিপাবলিকানরা যে কোনো একটি কক্ষ হারালে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পর্ব কার্যত থেমে যেতে পারে এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কংগ্রেসনাল তদন্ত শুরু হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার ক্ষমতা পাবে। প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও করপোরেট দাতাদের সম্পর্কের বিষয়টি আগে তদন্তের দাবি উঠতে পারে।

তাছাড়া কথিত ‘পে-টু-প্লে’ ব্যবস্থা এবং ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিদেশি সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের বিনিয়োগের মতো বিষয়ও আসতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় থাকতে পারে।

এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষক বিল এমটের মতে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নির্বাহী আদেশ, প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং আদালতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন। এবারও তিনি ভেটো ক্ষমতা, নির্বাহী ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে নিজের এজেন্ডা এগিয়ে নিতে চাইবেন।

সূত্র: সিএনএন, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, চাথাম হাউস ও এশিয়া টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ এম


কলকাতার পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতার একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পদদলিত হয়ে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যাচ্ছে। শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দেবিদর্শনে উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পূজামণ্ডপে পদদলিত হওয়া অন্তত ৩৫ জনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (এমসিএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শনিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির মধ্যে পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে গিরিশ পার্ক থানার অধীন সারদা পার্কের (চোরবাগান) পূজামণ্ডপের বহির্গমন ফটকে পদদলনের ঘটনা ঘটে। আহত সবাইকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, কন্ট্রোল রুম, দমকল বাহিনী, কলকাতা পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্য, চিকিৎসক দল ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পূজামণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হাসপাতালে পৌঁছেছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও দুঃখিত। আমি মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আহত সবাইকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারকে শক্তি ও সাহস দেন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, পদদলনের ঘটনায় অনেকে জ্ঞান হারান। তাদের অনেককে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রবেশপথটি খুব সংকীর্ণ ছিল, আর বের হওয়ার ফটকটিও সরু ছিল।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কয়লাখনিতে ‘লুকানো’ বড় অর্থনীতির স্বপ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


কয়লাখনিতে ‘লুকানো’ বড় অর্থনীতির স্বপ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আজ সম্পদশালী হয়ে উঠেছে। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব সম্পদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সম্মান করে। বাংলাদেশও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। বরং দেশের মাটির নিচে এবং সাগরের তলদেশে অর্থনীতির উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সম্পদ উত্তোলনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

দেশে পাঁচটি কয়লা খনিতে মোট ৭৮০ কোটি টন কয়লা মজুদ রয়েছে। প্রতি টন কয়লার দাম ১৩৬ ডলার ধরলে, বড়পুকুরিয়ার বর্তমান কয়লার টন হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় এক লাখ ৬ হাজার ৮০ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৩০ লাখ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাহিদা ও ব্যবহার অব্যাহত থাকলে এই মজুদ দিয়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা ২০০ থেকে ৩০০ বছর মেটানো সম্ভব। কয়লা উত্তোলন হলে দেশের অর্থনীতি ও জিডিপির আকারও বৃদ্ধি পাবে।

এ কারণে দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশীদের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তবে রাজনৈতিক দৃঢ় সিদ্ধান্তের অভাবে দিল্লির অনুগত আমলারা প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে গড়িমসি করেছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যদি আমলাদের সেই ‘দেয়াল’ ভেঙে মাটির নিচের সম্পদ উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে দেশের অর্থনীতির গতিধারা পাল্টে যাবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ইনকিলাবকে জানান, "মাটির নিচে কয়লা রেখে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে কয়লা আমদানির কোন যৌক্তিকতা নেই। এটা খুবই দুঃখজনক।" তিনি বলেন, "এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশীয় কয়লা উত্তোলন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছি। যত দ্রুত আমরা কয়লা উত্তোলন করতে পারবো, ততই দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে এবং জনগণ উপকৃত হবে।"

মাটির নিচে বিপুল কয়লা থাকার পরও সরকার কয়লা আমদানিতে বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে খরচ হয়েছে মোট ১০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কয়লা আমদানিতে খরচ হয়েছে এক দশমিক ৮৫ বিলিয়ন। এছাড়া ডিজেল আমদানিতে তিন দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার, এলএনজি আমদানিতে দুই দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, এলপিজিতে এক দশমিক ২০ বিলিয়ন ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েল আমদানিতে খরচ হয়েছে এক দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার।

দেশের কয়লা খনিতে বিপুল কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও গত অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় এক দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দেশবিরোধী নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতিতে গত দেড় দশকে কয়লা আমদানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়েছে। তবে নিজেদের সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি কমানোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে জোর দিচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।

জানা গেছে, সরকার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি প্রাথমিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। খনিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ খনি থেকে উত্তোলন শুরু হলে বছরে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি টন কয়লা পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে দেশে স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লার চাহিদার ৭৫ শতাংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগে যেসব সমীক্ষা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। কয়লা উত্তোলনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও ঝুঁকি নিতে হবে। বিশেষত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কয়লা ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানী সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে। এক্ষেত্রে দেশেই মাটির নিচে থাকা কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে চায়। যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কয়লা। সেখান থেকে উত্তোলন করা হলেও ফুলবাড়ীর পার্শ্বেই পার্বতীপুরে কয়লার বিপুল মজুদ থাকলেও উত্তোলন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে বড় পুকুরিয়ার কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে মাত্র ১৮ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি কয়লা ভূগর্ভেই পড়ে থাকছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি’র সিংহভাগ কয়লা উত্তোলনের জন্য ওপেন বিড পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘন ঘন ভূগর্ভে মাইনিং বিস্ফোরণের কম্পন এবং বিস্তৃত এলাকা বিলে পরিণত হওয়ার অবস্থা দেখে একবারে পর্যাপ্ত ও বাস্তবসম্মত ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ওপেন বিড পদ্ধতির জন্য বাড়ী-ঘর ভিটেমাটি ছেড়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও বাম ঘরানার একটি পক্ষ ইতোপূর্বে তাদের জীবন মান, পরিবেশ ও বাপদাদার ভিটেমাটির মত স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে সামনে এনে স্থানীয়দের আন্দোলনে নামিয়েছিল এবং ওপেন বিড পদ্ধতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় আন্দোলন করতে গিয়ে তিনটি তাজা প্রাণও ঝড়েছিল। আজ প্রায় ত্রিশ বছর পর প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। ফুলবাড়ীর মানুষ নিজেদের জীবন-মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের জীবনমান উন্নয়নের চিত্র দেখে এবং পর্যালোচনা করে নিজেদের ভালোর দিকটা খুঁজছে ও বুঝতে শিখেছে।

এক্ষেত্রে অনেকেই পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং বাসস্থানের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে সরকার যখন খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, তখন সরকারের এই মনোভাব বুঝতে পেরে আন্দোলনকারী পক্ষরা পুনরায় খনিবিরোধী আন্দোলনের চেষ্টা চালালেও দুই দশক আগের মতো আর সাড়া দিচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তাদের দাবি- ফুলবাড়ী বাসীর স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ষ্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা এবং সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিজ স্বার্থের বিষয়টি এখন পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। তারা দেখছে তাদের পাশেই বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির আংশিক কয়লা উত্তোলন হওয়াতেই এলাকাবাসী দিনান্তের খেটে খাওয়া মানুষেরা কোটি পতি হয়ে গেছে। জমির ক্ষতির পূরণ পেয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে আলিশান জীবন যাপন করছে। কয়লা খনির অধিগ্রহণ করা তাদের জমি এখন বিলে (ডেবে যাওয়ায়) পরিণত হয়েছে। সেটিও বাড়িয়েছে তাদের বাড়তি আয়ের উৎস।

এদিকে সরকার যখন নিজস্ব খনিজ সম্পদ উত্তোলনের কথা ভাবছে এবং স্থানীয়রাও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে, তখন সরকারের সেই বার্তা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন স্থানীয় মন্ত্রী-এমপি ও বিএনপি নেতারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রী-এমপি, নেতাদের স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ফুলবাড়ীবাসীর ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দিয়ে তাদের ও বংশধরদের বাসস্থান, কৃষি জমি ও চাকরিসহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করা এবং ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ফুলবাড়ীর পার্শ্বেই বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে পূর্বের ধারাবাহিকতায় ১৮৮৫ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর বড় পুকুরিয়া, ১৯৮৯ সালে রংপুরের খালাশপির, ১৯৯৫ সালে এবং ১৯৯৭ সালে বহুজাতিক কোম্পানি ফুলবাড়ীর কয়লা খনি আবিষ্কার করে। দেশী বিদেশী সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় মনোবলের ভিত্তিতে চীনের সিএমসি-এক্সএমসি কনসোটিয়ামের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন চুক্তি করে। ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ খনিজ সম্পদের যুগে প্রবেশ করে এবং কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। বড় পুকুরিয়ার কয়লার উপর ভিত্তি করে পাশেই বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হয়। বলা বাহুল্য ফুলবাড়ী চুক্তির মত নয়, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা চীনা কোম্পানি বিক্রি করছে পেট্রোবাংলার কাছে এবং পেট্রোবাংলা বিক্রি করছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে। অর্থাৎ দেশের কয়লা জাতীয়ভাবে ব্যবহার হচ্ছে। চীনা কোম্পানি শুধু তাদের উত্তোলন খরচ পাচ্ছে। কয়লা উত্তোলনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবাসস্থল ও কৃষি জমি বড় পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে অধিগ্রহণ করেছে এবং পর্যায়ক্রমে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অধিগ্রহনের পরও খনি অভ্যন্তরে মাইনিংয়ের কারণে উপরিভাগের বাড়ীঘরে ফাটল এবং জমি ডেবে যাওয়ার ক্ষতিপূরণও দেয়া হচ্ছে। বড় পুকুরিয়ায় চাকরির সুযোগ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থদের। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ- স্থানীয় বাসিন্দাদের ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী চাকরি দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া কয়লা উত্তোলন বন্ধ হলেই ছাটাই করা হয় শ্রমিকদের। বড় পুকুরিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা চলমান প্রক্রিয়া। কাজ চললে শ্রমিকদের কাজে নেয় চীনা কোম্পানি। এ ক্ষেত্রে খনি কর্তৃপক্ষের কিছু করার থাকে না। প্রায় ৬৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিটি তিনটি অংশে বিভক্ত, উত্তর অংশে ২৭০, মধ্য অংশে ৩০০ হেক্টর এবং দক্ষিন অংশে ৮০ হেক্টর এলাকার নীচে কয়লার স্তর রয়েছে। যার পূরোটাই স্থানীয় জনগণের জমি। সরকার প্রয়োজন মোতাবেক অধিগ্রহণ করছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কারণে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিতে মজুদ থাকা কয়লার মাত্র ২০ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। উম্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলন করা গেলে ৮০ শতাংশের বেশী কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। যদিও দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়াতে খনির উত্তর ও দক্ষিন অংশে উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চিন্তা করছে সরকার। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের হিসাবে এই অংশ থেকে প্রায় ১৭ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩০ বছর কয়লা উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য নীতিগত অনুমোদন ও দিক নির্দেশনা চেয়ে গত ২ জুলাই পেট্রোবাংলা চিঠি দিয়েছে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগে। এলাকার হাজার হাজার মানুষের পুনর্বাসন, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি নিশ্চিত করে উম্মুক্ত পদ্ধতির কাজ শুরু করতে সময় লাগবে ৭ থেকে ৮ বছর। এর মধ্যে ২০২৭ সালে চুক্তি মেয়াদ বৃদ্ধি করে বড় পুকুরিয়ার কয়লা উত্তোলন বর্তমান পদ্ধতিতে অব্যাহতি রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে খনির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য; বর্তমান পদ্ধতিতে ভূগর্ভে থাকা কয়লার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে। উম্মুক্ত পদ্ধতিতে হলে ৯০ শতাংশ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনির মাত্র ৫’শ থেকে ৮৫০ ফুট গভীরে কয়লা মজুদ রয়েছে এবং ১২০ থেকে ৩৫০ মিটার পর্যন্ত কয়লার বিস্তৃতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খনি থেকে প্রায় ৫৭২ টন বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুলবাড়ীর কয়লা ওপেন বিড পদ্ধতিতে উত্তোলন নিয়ে সরকারি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিরোধিতাকারীদের সোচ্চার ভূমিকা প্রশংসার দাবী রাখে। তবে প্রশ্ন এসে যায়, বিরোধীতাকারী কারা? জাতীর জন্য তাদের অবদান কি? ওপেন বিড পদ্ধতিতে কয়লা নিয়ে তারা কি কিছু বলেছে? এখন সংসদ চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে সংসদে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা আলোচনায় এসেছে? এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্ত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কি করছেন? বিষয়গুলি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ফলো করছেন। উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতাকারীদের অন্যতম এবং আবেগময় ইস্যু ছিল বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যারা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকের ফুলবাড়ীতে ৫ শতক নিজস্ব জমি নেই। আবার আন্দোলনের পর কেউ কেউ ফুলে ফেপে উঠেছেন। বিষয়গুলি নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। কত আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং বছরে কত টাকার ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিবেন সরকার। কেননা জমি অধিগ্রহনের ক্ষমতা ও দায় সরকারের। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ রাস্তা, সরকারী অফিস, কলকারখানার জন্য জমি ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম কিছু হওয়ার কথা নয়। কিন্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খনি বিরোধী আন্দোলনের সাথে জড়িত এক নেতা বলেন, সরকার স্থানীয় ষ্টেক হোল্ডারদের সাথে, স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের নেতাদের পর্যায়ক্রমে বসে আলোচনা করলেই এর সমাধান হতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণ প্রদানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে স্থানীয় জনসাধারণ এবং প্রকৃত ভূমি মালিকরা বলছেন, পরিকল্পিত নগরায়ন, কর্মসংস্থান, বাসস্থানের ব্যবস্থা হলে মাটির নিচে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদ রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করলে ক্ষতি কি? কেউ কেউ আবার বলছেন, যাদের ফুলবাড়ীতে তিন-চার শতাংশের বেশী জমি নেই, তারাই আবার আন্দোলনের নেতা বনে গিয়ে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসেছেন। কয়লা খনি বিরোধী ইস্যুকে পুঁজি করে আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকতে চান কিছু নেতা, এখন এসব আর সুযোগ নেই। তারা ২০০৬ সাল থেকে আন্দোলনকারীদের আয়ের উৎস অনুসন্ধান করারও দাবি জানান। আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়া অনেক নিম্ন ও মধ্যম সারির মানুষ বলছেন, ২০ বছরে কি পেলাম। বাপের সম্পত্তির হিস্যা পেয়েছিলাম যা তা আবার আমার সন্তানদের মধ্যে ভাগ হয়ে কতটুকু থাকছে। বাপ-দাদার সম্পত্তির দোহাই দিয়ে আন্দোলনকারীদের পিছনে অনেকেই এখন নিঃস্ব। তাদের থাকার জায়গাটুকুও নেই। তাদের দাবী সরকারকে কেবল জমি আছে এমন নয়, যারা নিঃস্ব হয়ে গেছে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিকে অন্তভুক্ত করলে ২০০৬ সালের আন্দোলনের সাথে জড়িত অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষ আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ম. তামিম বলেন, দেশের কয়লা উত্তোলনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হলে নিরপেক্ষ সমীক্ষা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, "আমাদের কয়লা উত্তোলনের ব্যবস্থাপনাটা ভালোভাবে তৃতীয় কোনো পক্ষ, যার কোনো স্বার্থ নেই, এ রকম কাউকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।" তারা যদি বলেন যে এটার ঝুঁকি সীমিত আকারে ও সে ঝুঁকি সামলানো সম্ভব হবে, তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আর যদি বলে ঝুঁকি অনেক বেশি, তাহলে আমরা দেশীয় কয়লা উত্তোলনের চিন্তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে পারি। ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জকে ভয় পেলে চলে না। পৃথিবীর কোনো বড় প্রজেক্ট, মেগা প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ ছাড়া হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ প্রফেসর বদরূল ইমাম বলেন, "স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে যদি কয়লা উত্তোলন করতেই হয়, সেক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতেই যেতে হবে ও সেটা সীমিত কিংবা মাঝারি আকারে হতে পারে।" তিনি বলেন, "আমরা জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমানোর কথা বলছি, সেটা অবশ্যই ভালো দিক।" সেক্ষেত্রে কয়লা উত্তোলন করে যদি আমদানির চাপ কমানোর পরিকল্পনা হয়, সেক্ষেত্রে কৃষি জমি, সুপেয় পানি, পরিবেশগত জটিলতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ফলে সে প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে কোন পদ্ধতিতে কয়লা তোলা যায় সেটার সব ধরনের সমীক্ষা বিবেচনায় নিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ইনকিলাবকে বলেন, "ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।" তিনি বলেন, "তার ওপর বর্তমান যুদ্ধকালীন বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমাদের জ্বালানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থায় আমাদের দেশীয় সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগানোটা এখন সময়ের দাবি। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের দেশে প্রচুর কয়লা মজুত রয়েছে। তবুও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে আমাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। যেটা আমাদের অর্থনীতির ওপর অনেক বড় চাপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন নিহত

ভারতের কলকাতার উত্তরাঞ্চলে দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকেই।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গিরিশ পার্ক থানার চোরে বাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এই ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম টিভি৯ বাংলার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্রবেশপথে পদদলনের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে এমসিএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘চোরে বাগান পূজামণ্ডপে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই কঠিন সময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও সাহসের জন্য প্রার্থনা করছি।’

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, পদদলনের সময় অনেকেই জ্ঞান হারান। তাদের অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ খুব সরু ছিল। ওই এলাকায় আলোর ব্যবস্থা ছিল না। আমার মেয়ে ও নাতনি হাসপাতালে ভর্তি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, ১০ মরদেহের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ এম


অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, ১০ মরদেহের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

কক্সবাজারের পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওসি মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে উখিয়া থানা-পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় টুপটুপ রিসোর্টের মালিক এবং বোয়ালখালীর বাসিন্দা তানভীর সুলতানকে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে সুমনকে আটক করেছে।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহ, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে, মরদেহগুলো কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে।

কক্সবাজারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে, ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারে ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে প্রয়োজনীয় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%