শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৮ এম
চীনের পর বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এর বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমনটি জানানো হয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে।
মঙ্গলবার (ঢাকা) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী সিওয়ার্ড সিওয়ার্ডসমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এই তথ্য জানান।
বৈঠকে তারেক রহমান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডস—দুই দেশই বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বিশেষ করে ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, সিওয়ার্ডসমা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো এবং সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এই অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, তিস্তা প্রকল্পটিকে পূর্বে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনা করা হয়েছিল।
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক) ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে প্রকল্পটি ভারতের নজরে রয়েছে। এই অঞ্চলে বাইরের কোনো শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি, বিশেষত চীনের উপস্থিতি, ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই করিডরের কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদের পরিকল্পনা, জলপ্রবাহের পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর করতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীন তার সামর্থ্যের মধ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। পাশাপাশি প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নয়।
ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরে নদী পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
চীনের পাশাপাশি তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জানিয়েছে, চীনের এই সহায়তা পেলে এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী সিওয়ার্ড সিওয়ার্ডসমা মন্তব্য করেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার জন্য বর্তমান সময়টি উপযুক্ত। বিশেষ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা এই দিনকে অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। ফলে, এই দিনে মুমিনদের হৃদয়ে এক অপার্থিব সুখের অনুভূতি সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক সৌহার্দ ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। মহানবী (সা.)-এর জীবনে পাওয়া বিশেষ কিছু আমল ও ইবাদত রয়েছে, যা এই দিন পালন করা উচিত। নিম্নে সেগুলোর আলোচনা করা হলো—
১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)
জুমার দিনে এই সুরাগুলো তিলাওয়াত করার কারণ হলো, এতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের বিষয় এবং কিয়ামতের দিন সমবেত হওয়ার আলোচনা রয়েছে। তাই এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।
২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিন আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।" (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
৩. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের ফরজ বিধানগুলোর মধ্যে জুমার নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। আরাফার দিবসের পর এদিন সবচেয়ে বেশি মানুষ একত্রিত হয়। যারা জুমার নামাজকে তুচ্ছ মনে করে ছেড়ে দেয়, তাদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন।
৪. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।" (তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)
৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্য দিনের তুলনায় এদিন সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, "আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)
৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।
৭. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াতে রত থাকা।
৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে একটি অনর্থক কাজ করল।" (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)
৯. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।" (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)
১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজে ও জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ সুরা দুটি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)
কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা তিলাওয়াত করতেন।
১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)
১২. সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিন দ্বিপ্রহরে সুগন্ধি লাগানোর জন্য আদেশ করেছেন।
১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এই দিনে মহান রবের পক্ষ থেকে গুনাহ মাফের বারি বর্ষিত হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, "যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)
১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিন কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, "জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)
জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার জন্য কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটি এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এ বিষয়ে নিশ্চিত নয়।
১৫. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন।" তিনি বলেন, "সে মুহূর্তটি অতি স্বল্প।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)
অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে নিয়ে মাগরিবের আগ মুহূর্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় তিন শিশুসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। নিহত শিশুদের বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর। হামলায় একজন শিক্ষকও মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সাত বছর বয়সি এক শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সি আরেক শিক্ষক। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার, বেন্ড শহরের সিলভার রেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। শহরটি পোর্টল্যান্ডের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী ১৬ বছর বয়সি এক কিশোর। সে বেন্ড শহরের বাসিন্দা। হামলার পর ওই কিশোরও নিহত হয়েছে, তবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে ক্রান্টজ বলেন, হামলাকারী তালাবদ্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, হামলাকারী আগে কখনো ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল কি না।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে জরুরি সেবাদাতা সংস্থাগুলোর কাছে প্রথম সাহায্যের ফোন আসে। পরবর্তী কয়েক মিনিটে আরো কয়েকবার ফোন আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ফোনটি করেছিলেন একটি গাড়িতে থাকা একজন ব্যক্তি। তিনি জানান, লম্বা আগ্নেয়াস্ত্রধারী একজন তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালিয়েছেন।
দুপুর ১টা ১ মিনিটে বিদ্যালয়টি অবরুদ্ধ করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ক্রান্টজ জানান, অল্প সময়ের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তা খবর দেন, বিদ্যালয়ে ঢোকা হামলাকারীকে একজন স্থানীয় ব্যক্তি গুলি করেছেন। ওই ব্যক্তি হামলাকারীকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেখে তার পিছু নেন এবং ভেতরে গিয়ে তার মুখোমুখি হন।
পুলিশ সদস্যরা ভবনে ঢুকে হামলাকারীকে মৃত অবস্থায় পান। এরপর তারা বিদ্যালয়ের সব কক্ষ তল্লাশি করেন, যাতে সেখানে আর কোনো হুমকি না থাকে। পরে আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। পরে বাসে করে তাদের কাছের একটি গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বজনদের সঙ্গে তাদের পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করা হয়।
বেন্ড পুলিশ বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক শিলা মিলার বৃহস্পতিবার বলেন, বেন্ড শহরে এমন ঘটনা কেউ দেখতে চান না। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে সংস্থাটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক শোকাহত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অঙ্গরাজ্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ক্ষতিতে সব ওরেগনবাসী শোকাহত। দিনটি অত্যন্ত ভয়াবহ। কোনো মা-বাবার এমন দিনের মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়। কোনো সম্প্রদায়েরও এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা নয়।
হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা স্থানীয় ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, আরো প্রাণহানি ঠেকাতে ওই ব্যক্তি সাহসিকতার সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেছেন। এ ঘটনার কারণে তার ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ওরেগনের প্রতিনিধিত্বকারী জেফ মার্কলিও শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বেন্ডের বাসিন্দা, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি তার সমবেদনা রয়েছে। বিদ্যালয়ে সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে কারো দিন কাটানো উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক। দেশটিতে বন্দুক হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ৩৬৯টি বড় ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ঘটনায় হামলাকারীকে বাদ দিয়ে অন্তত চারজন আহত বা নিহত হলে সেটিকে এ ধরনের হামলা হিসেবে গণ্য করা হয়।
বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠন এভরিটাউন ফর গান সেফটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল প্রাঙ্গণে প্রায় ১০০টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২৭ জন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জীবনে বরকত লাভের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় অপরিহার্য। একজন মুমিনের জন্য নামাজ আত্মিক প্রশান্তি লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর), ১ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি, ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে উপস্থাপন করা হলো–
জুমা – বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট
আসর – বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিট
মাগরিব – সন্ধ্যা ৫টা ৩৬ মিনিট
এশা – সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট
ফজর (১৭ অক্টোবর) – ভোর ৪টা ৪২ মিনিট।
বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময় পরিবর্তন
ঢাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সাথে নিচের সময়গুলো যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জানার চেষ্টা করুন:
বিয়োগ করতে হবে
চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট
সিলেট: ০৬ মিনিট
যোগ করতে হবে
খুলনা: ০৩ মিনিট
রাজশাহী: ০৭ মিনিট
রংপুর: ০৮ মিনিট
বরিশাল: ০১ মিনিট
নামাজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি দেহ ও মনের পবিত্রতা রক্ষার পাশাপাশি আত্মিক প্রশান্তি প্রদান করে। জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। আসুন, নিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করি এবং ঈমানের আলোয় জীবনকে আলোকিত করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছপালার শাখা-প্রশাখা কাটার কাজের জন্য সকাল থেকে টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নেসকো, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা, এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
নেসকোর গোবিন্দগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল জানান, পলাশবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে আসা গোবিন্দগঞ্জ ৩৩ কেভি সোর্স ফিডারের নিকটবর্তী গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তন করা হবে। এর ফলে, নেসকোর গোবিন্দগঞ্জ দপ্তরের আওতাধীন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এছাড়া, নেসকো রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার দাস জানিয়েছেন, ১১ কেভি লাইনের নিকটবর্তী গাছপালা কর্তনের জন্য শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এই সময় নর্দান মোড়, দেবিশিংপাড়া, সাধুর মোড়, মোল্লাফের মোড়, ভদ্রা, উপরভদ্রা, সাগরপাড়া, বোষপাড়া, মাছুয়াপাড়া, খুলিপাড়া, শাহ মখদুম কলেজ, শেখেরচক, পঞ্চবটি এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ