১২:৪২ পি.এম
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স নামের একটি পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা প্রকাশ করেছে।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ২০১৪ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা তাদের সার্বিক কার্যক্রমের অনুসন্ধান করছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।’
আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান
রিজভী আহমেদ জানান, মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স যেসব শর্তসাপেক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিল, তদন্তে সেসব শর্তের পরিপালনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫২৫টি যন্ত্র ওই সুবিধার আওতায় আমদানি করেছে। এর ফলে কোম্পানিটি শূন্য বা ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করেছে, অথচ ওই যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি চীন ও ভারত থেকে তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মোট ৩৭.০৮ মেট্রিক টন কাঁচামাল আমদানি করেছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট নিরূপিত শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
সরেজমিন অনুসন্ধানে বন্ড রেজিস্টার পরিদর্শনের স্থানে না পাওয়া, আমদানি-রপ্তানির তথ্য প্রদানে ব্যর্থতা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে অস্পষ্টতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন