ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি


মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স নামের একটি পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা প্রকাশ করেছে।

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ২০১৪ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা তাদের সার্বিক কার্যক্রমের অনুসন্ধান করছি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ১৩ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।’

আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

রিজভী আহমেদ জানান, মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স যেসব শর্তসাপেক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিল, তদন্তে সেসব শর্তের পরিপালনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫২৫টি যন্ত্র ওই সুবিধার আওতায় আমদানি করেছে। এর ফলে কোম্পানিটি শূন্য বা ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করেছে, অথচ ওই যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি চীন ও ভারত থেকে তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মোট ৩৭.০৮ মেট্রিক টন কাঁচামাল আমদানি করেছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট নিরূপিত শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন

সরেজমিন অনুসন্ধানে বন্ড রেজিস্টার পরিদর্শনের স্থানে না পাওয়া, আমদানি-রপ্তানির তথ্য প্রদানে ব্যর্থতা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে অস্পষ্টতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে বলে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাল সনদ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চায় এপিইউবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


জাল সনদ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চায় এপিইউবি

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র ও অন্যান্য একাডেমিক নথি তৈরি, বিক্রি এবং ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)। সংগঠনটি একই সঙ্গে জাল সনদ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান, ডিজিটাল নজরদারি এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করেছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) এপিইউবি সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি আইনবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হলেও, এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রহণযোগ্যতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

এপিইউবি মনে করছে, সংঘবদ্ধ জাল সনদ ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের কারণে বৈধ এবং অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা নিয়োগকর্তাদের সন্দেহের মুখে পড়তে পারেন। একইসঙ্গে দেশি-বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকারী সংস্থার কাছে বাংলাদেশের শিক্ষাগত সনদের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, জাল সনদ বিক্রিতে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বিজ্ঞাপন, ভুয়া যাচাইকরণ পোর্টাল ও ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সাইবার অপরাধ দমনকারী সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

এপিইউবি বলেছে, নিরপেক্ষ তদন্তে যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা প্রযুক্তিগত সহায়তাকারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংঘবদ্ধ জালিয়াতি প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর সমন্বয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এপিইউবি।

সংগঠনটির মতে, শিক্ষাগত সনদের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বার্থের বিষয় নয়; এটি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সুরক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সফরের সময় তিনি নয়াদিল্লির পরিবর্তে মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সাথে বৈঠক করবেন। এছাড়া, গুজরাটের জামনগরে একটি তেল শোধনাগার পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। জয়শঙ্করকে মুম্বাইয়ে যেতে হবে রুবিওর সাথে বৈঠকের জন্য, এই মন্তব্যের পর বিতর্কের মাত্রা বেড়ে গেছে, যা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের পক্ষ থেকে এসেছে।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নিজ দেশের মাটিতে তলব করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। বাণিজ্য, শুল্ক এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, রুবিওর ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে রোববার উজবেকিস্তানের সমরকন্দ থেকে। সেখানে তিনি মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের সঙ্গে ‘সি৫+১’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সোমবার মুম্বাইয়ে জয়শঙ্করের সাথে বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং জ্বালানি সহযোগিতাও আলোচনায় আসবে। রুবিও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

এরপর, জামনগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক স্থানের তেল শোধনাগার পরিদর্শন করবেন তিনি। এই শোধনাগারটি পরিচালনা করে ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, সেখানে আম্বানি পরিবারের আয়োজিত একটি সংবর্ধনাতেও তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রুবিও কেন নয়াদিল্লি যাচ্ছেন না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। গত মে মাসে তিনি চার দেশের জোট কোয়াডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া এই জোটের সদস্য।

এ সফরে জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জামনগর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রগুলোর একটি। ভারতের অর্থনৈতিক দৈনিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, রিলায়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। ওয়াশিংটন ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার জন্য উৎসাহিত করছে।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির তেলশিল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর মার্কিন সরকার বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাত করছে। রিলায়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণে বিনিয়োগ করছে। গত ৫০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হতে যাওয়া এটি প্রথম শোধনাগার। মার্চে প্রকল্পটির ঘোষণা দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে।

রুবিওর সফরসূচি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের বক্তব্যের পর। তিনি বলেন, রুবিও মুম্বাইয়ে ভারত সরকারের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন এবং জয়শঙ্করসহ নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে তার সাথে দেখা করবেন বলে ওয়াশিংটন ‘প্রত্যাশা’ করছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রুবিওর সফর সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। কেন তিনি নয়াদিল্লি যাচ্ছেন না, সেটিও ব্যাখ্যা করেননি। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তখন জয়সওয়াল বলেছিলেন, যথাসময়ে সরকার এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ‘বেশ অস্বাভাবিক’।

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও শুক্রবার এক্সে লেখেন, রুবিও ‘নিজের কর্মচারীকে মুম্বাইয়ে তলব করেছেন’।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পবন খেরা আরো কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘ভারতের মাটিতে একটি বিদেশি সরকারের ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তলব করা—মোদি সরকারের মানদণ্ডেও এটি নতুন এক নিম্নস্তর।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েনের বড় কারণ বাণিজ্যনীতি ও রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা। গত বছরের আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ভারতীয় অধিকাংশ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছালে শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। তবে এরপর বাণিজ্য আলোচনা আর এগোয়নি।

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ চলতি মাসে বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা এক জায়গায় এসে থেমে গেছে। তবে বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, চুক্তির প্রথম ধাপের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকলে নয়াদিল্লি চুক্তিতে সই করবে না।

বাণিজ্যের বাইরেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানান, তার দপ্তর আটটি কোম্পানিকে শ্রম সনদ দেওয়ার একটি কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে। বিদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে নিয়োগদাতাদের এ সনদ গুরুত্বপূর্ণ। বাদ পড়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো ও এইচসিএল রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শান্তি বিষয়ক কার্নেগি এনডাউমেন্টের দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ফেলো সমীর লালওয়ানি চলতি সপ্তাহে এক লেখায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ভারতের জনমত রেকর্ড পরিমাণে খারাপ হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ এ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, এসব ঘটনা ভারতকে আবার রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকতে প্রভাবিত করেছে।

তবে রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন লালওয়ানি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে।

তার ভাষায়, রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে মানুষের ধারণার অবনতি হয়েছে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত ভিত্তির অবনতির চেয়ে দ্রুত।

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে নতুন মার্কিন শুল্কের আশঙ্কাও দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করেছিল। গত মাসে ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে সই করেন। এ আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রুশ তেল ক্রেতা ভারত ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছিল, নতুন শুল্ক আরোপ করা হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর মাধ্যমে ওই নিষেধাজ্ঞাসংশ্লিষ্ট শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে চাইছে তার প্রশাসন।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহরুখের ছবিতে কাজ করতে না পেরে আজও আক্ষেপ নেহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


শাহরুখের ছবিতে কাজ করতে না পেরে আজও আক্ষেপ নেহার

চলচ্চিত্রের রঙিন দুনিয়ায় অনেক সময় একটি মাত্র সিদ্ধান্ত একজন তারকার পুরো কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বলিউড অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন কিছু সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার বেদনা। তিনি শাহরুখ খান অভিনীত সাড়াজাগানো ছবি ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’সহ দুটি বড় প্রজেক্টের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আজ আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি নেহা নিজের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘ডাবল ডেট’-এ অতীতের সেই ভুলগুলোর কথা খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ের সুবর্ণ সুযোগ সামনে এসেও কেন তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই গল্প শেয়ার করেছেন।

নেহার ইচ্ছে ছিল মূলত দুটি ভিন্ন ধারার ছবিতে কাজ করার—একটি স্পোর্টস বা খেলাধুলাভিত্তিক ছবি, অন্যটি ফৌজি বা সেনা প্রেক্ষাপটে তৈরি কোনো প্রজেক্ট। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ঠিক এই দুই বিষয়ের ওপর তৈরি দুটি দুর্দান্ত প্রস্তাবই একসময় তার কাছে এসেছিল, কিন্তু কোনো এক কারণে তিনি তা গ্রহণ করতে পারেননি।

অভিনেত্রী নিজের আক্ষেপ লুকোনোর কোনো চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় একটি ভালো স্পোর্টস ফিল্ম এবং একটি ভালো ফৌজি ফিল্মে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত আফসোস যে এই দুটি বড় সুযোগই আমি নিজে থেকে হাতছাড়া করেছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ী হামলা মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


যাত্রাবাড়ী হামলা মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ চেয়ে ঢাকার আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হলেন থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) আবুল কালাম হোসেন। তিনি আনিসুল হক ও জুনাইদ আহমেদ পলককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীরা এ হামলায় অংশগ্রহণ করে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালানো ও মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় মামলার বাদী মো. আতিকুর রহমানসহ অনেক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ওই ঘটনার সঙ্গে আনিসুল হক ও জুনাইদ আহমেদ পলকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাঁরা অন্য মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন।

মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতে দেওয়া আবেদনে আনিসুল হকের বয়স ৬৮ বছর এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বয়স ৪৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য পুলিশ অপেক্ষা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%