রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৯ পি.এম
রাজধানীর কদমতলী থানার ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের জাপানি বাজার জিয়া সরণি খালেরপাড় এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
একই অনুষ্ঠানে মাদক নির্মূল, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও ড্রেন সংস্কার এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উদ্বোধন করেন কর্মসূচিটি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেন, এলাকার সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, খাল ও ড্রেন দখল ও দূষণ বন্ধ করা, যত্রতত্র ময়লা না ফেলা, মাদক প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।
আবদুস সালাম আরো জানান, ডিএসসিসির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে ১৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে কাজ শুরু হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ড্রেনের দুই পাশে জায়গা রেখে পাড় তৈরি করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ড্রেন দখলের সুযোগ কমে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করার পর সেখানে আবার ময়লা ফেলা হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। তাই খাল ও ড্রেন দখল ও দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও নিতে হবে। তিনি অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে খাল ও ড্রেনের জায়গায় অবৈধ দোকানপাট না করার আহ্বান জানান।
মাদক প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। এ কাজে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ থাকলে অনেক সমস্যাই ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, রাস্তাঘাট ও ড্রেন উন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতৃবৃন্দ, ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ঘরের দরজা ভেঙে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আনোয়ার তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন।
এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের পেন্নই গ্রামে। বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে এবং শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। আনোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আনোয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদনগর আসনে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ আনোয়ার মেম্বার এলাকা ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় এলাকায় তিনি আধিপত্য বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আনোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অনুমতি ছাড়াই মানুষের জমিতে ড্রেজার বসিয়ে মাটি বিক্রি করতেন। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনসহ স্থানীয়রা একাধিকবার তার বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছেন বলে জানা গেছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আনোয়ার বাড়িতে ফিরতে চাইলেও এলাকাবাসীর বাধার কারণে ফিরতে পারেননি।
এছাড়া ২০২৩ সালে ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের সময় আনোয়ার ও তার সহযোগীরা মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে গোপনে গ্রামে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন আনোয়ার। গভীর রাতে একদল লোক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা আনোয়ারকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আনোয়ারের স্ত্রী মোমেনা বেগমকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের দাবি, সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টু তার স্বামীর কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিহতের জামাতা শফিকুল ইসলামের দাবি, আনোয়ার হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ভোররাতে জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর নেতৃত্বে সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িতে ঢুকে আনোয়ারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আনোয়ারের বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। রাত ৪টার দিকে আমরা খবর পাই, আনোয়ার মেম্বারকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএডিসির গোডাউন থেকে বরাদ্দ করা ৪৪০ বস্তা টিএসপি সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া সড়কের চিৎলা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে হাপানিয়া ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জব্দ করা সার ও ট্রাকটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সরকারি সার অন্যত্র সরানো হচ্ছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি আটক করেন। আটক ট্রাকের চালানে পণ্যের বিবরণ, টিএসপি সারের পরিমাণ এবং পরিবহনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য হাতে লেখা ছিল। তবে চালানে উল্লেখ করা তথ্যের সঙ্গে জব্দ করা সারের পরিমাণ, ট্রাকের গন্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যের মধ্যে কোনো মিল পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জব্দ করা সার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের মুদি ব্যবসায়ী মিনারুল ইসলামের। সার আটকের পর মিনারুল ইসলাম জানান, যশোরের নওয়াপাড়া থেকে ট্রাকে করে সারগুলো আনা হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নের কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করতে না পারায় নওয়াপাড়া থেকে সার এনে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, সার পাচারের সাথে জড়িত অভিযুক্ত মিনারুল ইসলামসহ জব্দকৃত সার এবং ট্রাক চালককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ৩৬ ঘণ্টার একটি অভিযানে কৌশলগত বন্দরনগরী মোচা এবং বাব আল-মানদাব প্রণালির প্রবেশমুখের পরিম দ্বীপ দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা ও সামরিক পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও ইয়েমেনি বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিতে ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক পরামর্শক কাজ করছিলেন। একই সময়ে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা হুতিদের বড় ধরনের হামলার বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছিলেন।
মার্কিন সহায়তা বন্ধ ও দ্বীপ দখল
বৃহস্পতিবার সকালে মোচা অভিমুখে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে হুতিরা। ইয়েমেনি সামরিক সূত্রের বরাতে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের সহায়তায় দফায় দফায় যোদ্ধা পাঠায় হুতিরা।
যখন পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তখন ইয়েমেনি সামরিক সূত্রটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেন্টকম তাদের জানায়, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিমান সহায়তা আর আসেনি।
এরপর মোচা দখলের পরদিন পরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বাহিনী। এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লোহিত সাগরের বাব আল-মানদাব প্রণালিকে দুটি নৌপথে ভাগ করেছে এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যিক করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত।
মার্কিন সহায়তার অনুরোধ সৌদির
এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানাচ্ছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার অনুরোধ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প এতে সম্মতি দেননি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় ওয়াশিংটন কাজ করছে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
শতাধিক মার্কিন উপদেষ্টা নিয়োগ
এর আগে সৌদি আরবে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার জন্য ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক পরামর্শক পাঠানোর তথ্য প্রকাশ হয়েছিল।
সব মিলিয়ে এ প্রচেষ্টার সঙ্গে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও।
দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁকি
তবে সিএনএন বলছে, শুধু গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শক দিয়ে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও এতে ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিবেদনে পশ্চিমা সূত্রের দাবি, বাহিনীর তালিকায় এমন অনেক ‘ভুয়া’ সদস্যের নাম ছিল, যারা বেতন পেলেও যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কাগজে থাকা জনবলের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাস্তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
এ ছাড়া হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও একক কমান্ড কাঠামোর অভাবও বড় দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে।
১৮ ঘণ্টায় লোহিত সাগর উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের জন্য বাব আল-মানদাব প্রণালিতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা তৈরি করেছে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই নৌপথটি ইরান যুদ্ধের মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে কিছু তেল রপ্তানি লোহিত সাগরমুখী হওয়ায় ওই নৌপথে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের অগ্রযাত্রা এখানেই থেমে নাও যেতে পারে। স্যাটেলাইট ছবি ও উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হুতি বাহিনী আরও পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকরা এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন, যেখানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে জানান, এই সরকার জনগণের সরকার, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সরকার ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। তিনি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন, যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
এছাড়া, জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ